Friday, 7 January 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। Sir George Abraham Grierson) জর্জ আহ্রাহাম গ্রিয়ার্সন।০৭.০১.২০২২.Vol -608.Sir George Abraham Grierson) The blogger in literature e-magazine

Sir George Abraham Grierson 


১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট রাজকীয় মুদ্রণশিল্পী। সেন্ট বীস ও শ্রিউয়িসবেরীর বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের পর গ্রিয়ারসন ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখানে সংস্কৃত ও হিন্দুস্থানী ভাষা শেখেন। সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে উক্ত কলেজের অধ্যাপক রবার্ট এ্যাটকিনসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা পরবর্তীকালে গ্রিয়ারসনের সাধনা ও খ্যাতি লাভের ক্ষেত্রে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

গ্রিয়ারসন ২৩ বছর বয়সে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে সিভিল সার্ভেন্টপদে যোগদান করেন। তখন সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা ছিল এ প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত। এ পদে নিযুক্ত হয়েই তিনি এ দেশিয় ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৮৭৪-৯৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গ্রিয়ারসন রংপুর, হাওড়া, গয়া ও পাটনা অঞ্চলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে পাটনা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার নিযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ১৮৯৮ সালে বিহারের আফিম বিভাগেরও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চাকরি করার সুবাদে সে অঞ্চলের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি রচনা করেন মূল্যবান প্রবন্ধসমূহ। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক লোককথার সংগ্রহ ও রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার গতি-প্রকৃতিবিষয়ক আলোচনা। পরের বছর উক্ত পত্রিকারই ২য় খন্ড ৩য় সংখ্যায় তাঁর সংগৃহীত মানিকচন্দ্রের গান ইংরেজি অনুবাদসহ দেবনাগরী লিপিতে প্রকাশিত হয়। তারপর গোপীচাঁদের গীতও উক্ত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর মৈথিলী ভাষার ব্যাকরণ An Introduction of the Maithili Language of North India এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা। বিহারে থাকাকালে গ্রিয়ারসন সেখানকার কৃষকদের সঙ্গে মিশে তাঁদের ভাষা ও জীবন সম্পর্কে অবহিত হন। ফলে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে তিনি Bihar Peasant Life নামে এক অনন্য গ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া ১৮৮৩-৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গ্রিয়ারসন রচিত বিহারের সাতটি উপভাষার ব্যাকরণ Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of Bihari Language আট খন্ডে প্রকাশিত হয়।

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপের ভিয়েনা নগরীতে আন্তর্জাতিক প্রাচ্যবিদ্যা গবেষণার যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে অংশগ্রহণ করে গ্রিয়ারসন ভারতীয় ভাষা ও উপভাষাসমূহ সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁর এ অভিমত উক্ত সম্মেলনে গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হয় এবং সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভারতের ব্রিটিশ সরকারকে এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার অনুরোধ জানান। ভারত সরকার এ অনুরোধের ভিত্তিতে ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে গ্রিয়ারসনকে সুপারিন্টেন্ডেন্ট নিযুক্ত করে উক্ত কাজের ভার দেয়। গ্রিয়ারসন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে কাজ শুরু করেন এবং ভারতের সকল ভাষার উপাদান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সংবাদদাতা ও কর্মী নিয়োগ করেন। কর্মীদের নিকট তিনি বাইবেলের একটি কাহিনী, কিছু শব্দ ও বাক্যাংশসংবলিত কাগজ সরবরাহ করেন। তাতে ভারতের প্রত্যেক ভাষার লোকদের মাধ্যমে যার যার ভাষায় ওই কাহিনীর রূপান্তর, শব্দাবলি ও বাক্যাংশের প্রতিরূপ সংগ্রহ করা হয়। এভাবে তিনি ভারতে ভাষাভিত্তিক জরিপ গবেষণার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি Linguistic Survey of India। ১৯০৩-২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ২০ খন্ডে ৮০০০ পৃষ্ঠায় এ মহাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি ভারতের ভাষা-জাত-কুল সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করেছে, তেমনি ভারতের আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সূতিকাগার হিসেবেও কাজ করেছে। তাঁর এ অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করে । ডাবলিন, অক্সফোর্ড, পাটনা ও Halle (জার্মানি) বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ভারতের তৎকালীন ভাষাতত্ত্ব সমিতি বিশ্বের বিভিন্ন পন্ডিত কর্তৃক ভারতবিদ্যা বিষয়ে লিখিত প্রবন্ধসমূহের একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁকে উৎসর্গ করে। তিনি ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানিত ফেলো মনোনীত হন।

গ্রিয়ারসন রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরী ভাষা সংক্রান্ত  অভিধান,  ব্যাকরণ ও প্রবন্ধসংগ্রহ, যেগুলি ১৯১৬-৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে Journal of the Asiatic Society of Bengal, Indian Antiquary-সহ ইউরোপের বিখ্যাত পত্রিকাসমূহে ভারতীয় সাহিত্য, সংস্কৃতি, অশোক লিপি, রাজগৃহের বুদ্ধমূর্তি ও লিপিমালা বিষয়ে প্রচুর গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ ইংল্যান্ডের সারে অঞ্চলের ক্যাম্বারলেস্থ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  

Publications :
Grierson was a prolific writer. On his 85th birthday, an article was contributed in his honour and published by the School of Oriental Studies which included a list of Grierson's publications occupying 22 pages.[14][15] The following are a few selected books and papers:

Grierson, George Abraham (1898–1928). Linguistic Survey of India. Calcutta: Government Press.
Grierson, George Abraham (1885). Bihar Peasant Life, Being a Discursive Catalogue of the Surroundings of the People of That Province, With Many Illustrations From Photographs Taken By the Author. Prepared Under Orders of the Government of Bengal. London: Trübner & Co.
Grierson, George Abraham. Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of the Bihari Language (1883–87) 3 vols. ISBN 81-7835-451-9
Grierson, Sir George Abraham (1906). The Pisaca languages of north-western India. The Royal asiatic Society, London.
Grierson George Abraham, Linguistic Survey of India, 11 Vols. in 19 Parts
Grierson, George Abraham (1916). A Dictionary of the Kashmiri Language. Calcutta: Asiatic Society of Bengal.
Grierson, George Abraham (1920). Ishkashmi, Zebaki and Yazghulami. An Account of Three Eranian Dialects. London: Royal Asiatic Society.
Grierson, Sir George; Barnett, Lionel D. Barnett (1920). Lalla-Vakyani. London: Royal Asiatic Society.
The Lay of Alha: A Saga of Rajput Chivalry as Sung by Minstrels of Northern India, SAMP early 20th-century Indian books project, Editor Sir George Abraham Grierson, Translated by William Waterfield, Oxford University Press, H. Milford, 1923
Grierson, George Abraham 1909. Gleanings from the Bhakta-Mala. Journal of the Royal Asiatic Society: 607–644.
Grierson, George Abraham 1910. Gleanings from the Bhakta-Mala. Journal of the Royal Asiatic Society: 269–306.
Grierson, George Abraham 1910. Gleanings from the Bhakta-Mala. Journal of the Royal Asiatic Society: 87–109.
Grierson, George Abraham, 2007, Kachhi Ji Bhasa VIgnanik Vadhod (ક્છી જ્ી ભાસા વ̃ગ્ નાનીક્ વાધૉડ઼્), Translated in Kachhi Language from Linguistic Survey of India, Volume 8, Part 1 (1919) by Manilal Gala, Vadhod PIrkasan: 1–122.[


****    প্রশ্ন উত্তরে :
প্র : জর্জ আহ্রাহাম গ্রিয়ার্সনের জন্ম তারিখ কত?
উ : ৭ই জানুয়ারি, ১৮৫১।
প্র : তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উ : ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।
প্র : তিনি মূলত কী?
উ : প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
প্র : তিনি কী অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন?
উ :ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে।
প্র : তিনি কোন কোন ভারতীয় ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন?
উ : সংস্কৃত, প্রাকৃত, হিন্দি, মৈথিলি, মগধি, ভোজপুরি, ছত্তিশগড়ি ও বাংলা।
প্র : রংপুরের উপভাষা সম্পর্কে তাঁর গবেষণামূলক আলোচনা কবে কোথায় প্রকাশিত হয়?
উ : ১৮৭৭-এ বঙ্গীয় এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায়।
প্র : তাঁর কোন রচনাটি ১৮৮১-৮২-তে এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়?
উ : বিদ্যাপতির পদাবলি সম্বলিত An Introduction to the Maithile Language of North Bihar.
প্র : তাঁর রচিত কোন গ্রন্থটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়?
উ : ১৮৮৩-৮৯-তে আট খন্ডে প্রকাশিত হয় Saven Grammars of the Dialects and Subdialects of the Bihar Language.
প্র : তাঁর রচিত অপর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম কী?
উ : Maithili Grammar for an Introduction to the Maithili Dialect of the Bihari Language of North Bihar.
প্র : তাঁর রচিত বিহারের জনজীবনের উপর আঞ্চলিক শব্দ সম্বলিত তথ্যবহুল গ্রন্থটি কী?
উ : Bihar Peasent Life (১৮৮৫)।
প্র : ভারতে ভাষাসমীক্ষার প্রয়োজনে তাঁর তত্ত্বাবধানে কী গঠিত হয়?
উ : Linguistic Survey of India.
প্র : এই সংস্থা কী করে?
উ : সংস্থার পক্ষে ১৮৯৯-১৯০২ পর্যন্ত ভাষার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্র : তিনি কবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?
উ : ১৯০৩ সালে।
প্র : তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি কী?
উ : তৎকালীন ভারতে প্রচলিত ১৭৯টি ভাষা ও ৫৪৪টি উপভাষার বিবরণ সম্বলিত Linguistic Survey of India নামক ভাষাসমীক্ষামূলক গবেষণাকর্ম (খন্ড ১১টি) প্রকাশ : ১৯০৩।
প্র : কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কী কী?
উ : Essays on Kashmiri Grammar (১৮৯৯), A Manual of the Kashmiri Language (১৯১১) ও চার খন্ডে প্রকাশিত A Dictionary of the Kashmiri Language (১৯১৬-১৯৩২)।
প্র : তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলো কী কী?
উ : The Kashmiri Ramayana, Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayudha Carita of Divakara Prakasa Bhatta (১৯৩০)।
প্র : তাঁর সম্পাদিত অন্য গ্রন্থ কী?
উ : হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ।
প্র : তিনি কী কী সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন?
উ : ডাবলিন, অক্সফোর্ড, পাটনা ও হালে (জার্মানি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট, ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত Order of Merit উপাধি প্রদান (১৯২৮), সিআইই উপাধি লাভ (১৮৮৪), কেসিএসআই উপাধি লাভ (১৯২২)।
প্র : তিনি কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
উ : ৭ই মার্চ, ১৯৪১।


Honour:

Grierson received an honorary Doctorate of Letters (D.Litt.) from the University of Dublin in June 1902.[12] In 1928 Grierson was appointed to the Order of Merit (OM) and was a Sir William Jones Gold Medallist (established by the Asiatic Society of Bengal) in 1929. He was appointed CIE in 1894 and knighted as a Knight Commander of the Order of the Indian Empire (KCIE) in 1912. A literary award of India, the Dr. George Grierson Award, was named in his honour. He received several other honorary degrees from the universities of Halle, Cambridge, Oxford, and Bihar; fellow of the British Academy from 1917 to 1939; and was president of the Gypsy Lore Society in 1927.[2] He was also an honorary member of the Nagari Pracharini Sabha at Benares.
======={{{{{{{{{{{{{{{{∆}}}}}}}}}}}}}}}}======

Thursday, 6 January 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য । অ্যন্টনি মিনজেলা। ০৬.০১.২০২২. Vol -607. The blogger in literature e-magazine


অ্যান্টনি মিনজেলা


তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের বোর্ড অব গভর্নরের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।১৯৫৪ সালের ৬ই জানুয়ারি আইল অব উইটের রাইডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এদোয়ার্দো মিনজেলা ইংল্যান্ডে একজন ইতালীয় অভিবাসী হিসেবে আগমন করেন। তার মাতা গ্লোরিয়া আলবার্টা আর্চারি লিডসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার মাতার পূর্বপুরুষগণ মধ্য ইতালির লাজিও অঞ্চলের ছোট গ্রাম ভালভরির অধিবাসী ছিলেন। তার পরিবারে রাইডে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত একটি ক্যাফে পরিচালনা করত এবং এর পূর্বে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত ইতালীয়-ধাঁচের আইসক্রিম প্রস্তুত ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত ছিল।মিনজেলারা পাঁচ ভাইবোন। তার এক বোন লরেট্টা মিনজেলা ও এক ভাই ডমিনিক মিনজেলা পরবর্তীকালে চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

দাম্পত্য সঙ্গী ইভোন মিলার, ক্যারোলিন চোয়া (বি. ১৯৮৫). সন্তান: ম্যাক্স মিনঘেলা, হান্নাহ মিনঘেলা।   আত্মীয় - ডমিনিক মিনজেলা (ভাই)


মিনজেলা বিবিসির স্ক্রিন টুয়ের জন্য অবনিবাস ধরনের পূর্ণদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী ট্রুলি, ম্যাডলি, ডিপলি (১৯৯০) রচনা ও পরিচালনা করেন। পরে এটি টেলিভিশনে প্রচারিত না হয়ে চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পায়। ছবিটি তিনটি বিভাগে বাফটা পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করে এবং তিনি শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে বাফটা পুরস্কার অর্জন করে। ১৯৯৬ সালে তিনি দি ইংলিশ পেশন্ট চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ছবিটি তাকে শ্রেষ্ঠ পরিচালনা ও শ্রেষ্ঠ উপযোগকৃত চিত্রনাট্য বিভাগে দুটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দেয় এবং তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি দ্য টেলেন্টেড মিস্টার রিপলি ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ উপযোগকৃত চিত্রনাট্য বিভাগে অপর একটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।



মৃত্যু- ১৮ মার্চ ২০০৮ (বয়স ৫৪)লন্ডন, ইংল্যান্ড.


===={{={{{{{{{{==========}}{==========

Tuesday, 4 January 2022

শুভ জন্মদিন। Humbert Wolfe । ০৫.০১.২০২২. Vol -606. The blogger in literature e-magazine

"You cannot hope

to bribe or twist,

thank God! the

British journalist.

But, seeing what

the man will do

unbribed, there's

no occasion to."


Humbert Wolfe

An Italian-born British poet, man of letters and civil servant.

He was born in Milan 5th January, 1885, Italy, and came from a Jewish family background,  his father, Martin Wolff, being of German descent and his mother, Consuela, née Terraccini, Italian. He was brought up in Bradford, West Riding of Yorkshire and was a pupil at Bradford Grammar School.[2] Wolfe attended Wadham College at the University of Oxford.



রচনা কর্ম। 

  • London Sonnets (1920)
  • Shylock Reasons with Mr. Chesterton and other poems (1920)
  • "Labour Ministry and Department of Labour (United Kingdom)" and "Labour Supply and Regulation (United Kingdom)" Encyclopedia Britannica, Vol. XXXI (1922)
  • Circular Saws (1923)
  • Labour Supply and Regulation (1923)
  • The Lilac (1924)
  • Lampoons (1925)
  • The Unknown Goddess (1925) poems
  • Humoresque (1926)
  • News of the Devil (1926) poems
  • Requiem (1927) poems
  • Cursory Rhymes (1927) poems
  • Others Abide (1927) translator, Ancient Greek poems
  • Kensington Gardens (1924)
  • Dialogues and Monologues (1928) criticism
  • This Blind Rose (1928) poems
  • Troy (1928) Faber & GwyerAriel poems
  • The Moon and Mrs. Misses Smith (1928)
  • The Craft of Verse (1928) essay
  • The Silver Cat and other poems (1928)
  • Notes on English Verse Satire (1929)
  • A Winter Miscellany (1930) editor, prose anthology, plus some original poems
  • Homage to Meleager (1930 Limited Edition)
  • Tennyson (1930) criticism of Maud
  • The Uncelestial City (1930) poems
  • Early Poems (1930)
  • George Moore (1931) biography
  • Snow (1931) poems
  • Signpost to Poetry (1931)
  • Reverie of Policeman: A ballet in three acts (1933)
  • Now a Stranger (1933) autobiography
  • Romantic and Unromantic Poetry (1933)
  • Truffle Eater. Pretty Stories and funny pictures An anti-Nazi parody of the famous Struwwelpeter, published under the alias "Oistros", with pictures by Archibald Louis Charles Savory (1933)
  • Portraits by Inference (1934) biographical sketches
  • Sonnets pour Helene (by Ronsard) (1934) translator
  • X at Oberammergau : A poem (1935) drama
  • The Fourth of August (1935) poems
  • Selected Lyrics of Heinrich Heine (1935) translator
  • P. L. M.: Peoples Landfalls Mountains (1936)
  • The Pilgrim's Way (1936)
  • Personalities; a selection from the writings of A. A. Baumann (1936) editor, biographical sketches by Arthur A. Baumann
  • The Silent Knight: A Romantic Comedy in Three Acts (by Eugene Heltai)(1937)
  • Others Abide: Translated Greek Epigrams (1937)
  • The Upward Anguish (1938) autobiography
  • Out of Great Tribulation (1939) poems
  • Kensington Gardens in War-Time (1940) poems
  • Cyrano de Bergerac (1941) by Edmond Rostand translator।

He was one of the most popular British authors of the 1920s. He was also a translator of Heinrich Heine, Edmond Fleg (1874–1963) and Eugene Heltai (Heltai Jenő). A Christian convert, he remained very aware of his Jewish heritage.[citation needed]

His career was in the Civil Service, beginning in the Board of Trade and then in the Ministry of Labour. By 1940 he had a position of high responsibility. His work was recognised with a CBE and then a CB.

Wolfe said in an interview with Twentieth Century Authors that he was "of no political creed, except that his general view is that money and its possessors should be abolished."

He died on his 55th birthday 1940.

Poem - 1

The grey squirrel

Like a small grey
coffee-pot,
sits the squirrel.
He is not

all he should be,
kills by dozens
trees, and eats
his red-brown cousins.

The keeper on the
other hand,
who shot him, is
a Christian, and

loves his enemies,
which shows
the squirrel was not
one of those.

Poem -2

Requiem: The Soldier

Down some cold field in a world outspoken
the young men are walking together, slim and tall,
and though they laugh to one another, silence is not broken;
there is no sound however clear they call.

They are speaking together of what they loved in vain here,
but the air is too thin to carry the things they say.
They were young and golden, but they came on pain here,
and their youth is age now, their gold is grey.

Yet their hearts are not changed, and they cry to one another,
'What have they done with the lives we laid aside?
Are they young with our youth, gold with our gold, my brother?
Do they smile in the face of death, because we died?'

Down some cold field in a world uncharted
the young seek each other with questioning eyes.
They question each other, the young, the golden hearted,
of the world that they were robbed of in their quiet paradise.

I do not ask God's purpose. He gave me the sword,
and though merely to wield it is itself the lie
against the light, at the bidding of my Lord,
where all the rest bear witness, I'll deny.
And I remember Peter's high reward,
and say of soldiers, when I hear cocks cry,
"As your dear lives ('twas all you might afford)
you laid aside, I lay my sainthood by."
There are in heaven other archangels,
bright friends of God, who build where Michael destroys,
in music, or in beauty, lute players.
I wield the sword; and though I ask nought else
of God, I pray to Him: "But these were boys,
and died. Be gentle, God, to soldiers."

Poem -3


Suddenly he sang across the trenches,
vivid in the fleeting hush
as a star-shell through the smashed black branches,
a more than English thrush.

Suddenly he sang, and those who listened
nor moved nor wondered, but
heard, all bewitched, the sweet unhastened
crystal Magnificat.

One crouched, a muddied rifle clasping,
and one filled grenade,
but little cared they, while he went lisping
the one cleat tune he had.

Paused horror, hate and Hell a moment,
(you could almost hear the sigh)
and still he sang to them, and so went
(suddenly) singing by.

Poem -4

Love is a keeper of swans!

Helen, amid what dark wherries

are you steering the silver boat

that for all the love of Paris,

and his lips against your throat,

passed out of Troy with windless vans?

And, fairest of Italians,

where do you glimmer, Beatrice?

what light of heaven stains your wings

with gold that were all fleur de lys?

And do you hear when Dante sings>

'Love is a keeper of swans.'

 

Love is a keeper of swans,

Have you left the barren plain,

and stormed a gold-eagle's eyrie?

Queen-swan of the eagle strain,

what mountain has you, Mary?

and is its name, as ever, still romance?

And you, bright cygnet of immortal Hans,

you need not join your sisters yet.

You have all time. Why should you hasten?

What though the lake with reeds be set,

one reed is murmuring, oh, listen!

'Love is a keeper of swans!

Poem -5 

All that I ask
is a desk -
with blotting paper white
changed every night;
no little but the good
company of dead wood:
a glass inkpot so clean
my pen can wade therein
up to her waist and not
be liable to blot -
also laid in her place
a crystal pencil case;
and in that glassy bed -
pencils new sharpened;
nothing to vex the soul
in the next pigeon-hole;
and finally there must
be not a speck of dust

And I would have the wall
austerely virginal,
with nothing to intervene
(above my desk) between
the thing I try to see
and me.

There let me sit
and write at it -
content with this
Slim doorway to infinities.

======{{{{{{{======={{{{{{{=======}}}}==

Monday, 3 January 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। কাও শিংচিয়েন. ০৪.০১.২০২২. Vol -606 The blogger in literature e-magazine


কাও শিংচিয়েন 

১৯৪০ সালের জানুয়ারি ৪ তারিখে চীনের চিয়াংশি প্রদেশের কানচৌ (ফিনিন Ganzhou) অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। এখানেই তার শিক্ষাজীবনের সূত্রপাত। তবে তিনি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। ১৯৭৯ সালে লেখালেখি শুরু করেন। একই সাথে তিনি চীনের সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি অ্যা প্রিলিমিনারি ডিসকাশন অফ দ্য আর্ট অফ মডার্ন ফিকশন লিখে সমসাময়িক লেখক ও সমালোচক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। ১৯৮৬ সালে তার বিখ্যাত বই দ্য আদার শোর প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমা অপসংস্কৃতির সংক্রমণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এতে তিনি চীন সরকারের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন। তাকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা দেখা দেয়।

একই সময় তার ফুসফুসের ক্যান্সার হয়েছে বলে ডাক্তারী পরীক্ষায় ইঙ্গিত করা হয় যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। একই সঙ্গে পুলিশী ঝামেলা এড়াতে এবং ক্যান্সার হয়েছে বলে জীবনের আশা একরকম ত্যাগ করেই তিনি এক অনির্দিষ্ট ও নিরুদ্দেশ যাত্রায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস ইয়াংজি নদীর কূল ধরে হেঁটে চলেন। একে তার জীবনের মহান অডিসি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে এ হেন অনিশ্চিত অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে তার পুনর্জন্ম হয়েছিল; তিনি জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞ এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষে পরিণত হন। এই অডিসিতে তিনি ১৫,০০০ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এই অভিযানে চীনের বিভিন্ন প্রত্যন্ত স্থানের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সাথে তার পরিচয় ঘটে। এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীতে তিনি একটি ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিচারণমূলক উপন্যাস রচনা করেন যার নাম সোউল মাউন্টেইন (এই উপন্যাসটির বাংলা অনুবাদ আত্মাপর্বত নামে প্রকাশিত হচ্ছে)।

একটি চাইনিজ বইয়ের প্রচ্ছদে কাও শিংচিয়েনের ছবি

ভ্রমণ শেষে তিনি আবার সক্রিয় লেখালেখি শুরু করেন।তিয়েন আনমেন স্কোয়ারে চীন সরকারের ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে তনি ফিউজিটিভ নামে একটি প্রেমের গল্প লিখেন যা ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি প্রকাশের সাথে সাথে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি (persona non grata) ঘোষণা করা হয় যার কারণে তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। চীন ছেড়ে তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি নিয়মত ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাস করছেন। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের নাগরিকত্বও লাভ করেন।

তিনি মূলত নাটক রচনাতেই বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তার আগে চীনে মূলত নৃত্যনাট্যের ঐতিহ্যগত কাঠামো অনুসরণ করা হতো। তিনিই প্রথম এ ধরনের নৃত্যনাট্যে সংলাপ সংযোজন করেন।


              নোবেল পুরস্কার: কাও শিংচিয়েনের রচনাসমূহের সুয়েডীয় অনুবাদ করেন ভাষাবিদ ইয়োরান মাল্মকুইস্ত (Göran Malmqvist)। এই অনুবাদকই মূলত তার নোবেল প্রাপ্তিতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি যে নোবেল পেয়েছেন তা জানানোর ১০ দিন আগেই শিংচিয়েন তার সুয়েডীয় প্রকাশক পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু এতেও ইয়োরান মাল্মকুইস্ত নোবেল পুরস্কার বিষয়ে কোন তথ্য ফাঁস করতে রাজি হননি। চীনের সংবাদ ও রাষ্ট্রীয় মাধ্যম তার সম্বন্ধে প্রায় নীরবই রয়েছে। অবশ্য ২০০১ সালে Yangcheng Evening News নামক একটি চীনা সংবাদ মাধ্যম তার নোবেল প্রাপ্তির সমালোচনা করেছে।
শভালিয়ে দ্য লর্দ্র দেজার এ দে লেত্র - ১৯৯২ সালে ফরাসি সরকার কর্তৃক প্রদত্ব।

একজন চীনা ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং অনুবাদক। তিনি ২০০০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।সাহিত্য রচনা ছাড়াও অনুবাদক হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি প্রধানতঃ স্যামুয়েল বেকেট এবং ইউজিন আয়নেস্কোর রচনাসমূহ চীনা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
================∆∆∆∆∆∆=========


    জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। শুভ ঠাকুর। ০৩.০১.২২. Vol -605. The blogger in literature e-magazine


    মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র ঋতেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অলকা দেবী পুত্র সুভোগেন্দ্রনাথ ঠাকুর।সুভো ঠাকুরের জন্ম ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা জানুয়ারি কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তবে ঠাকুরবাড়ির খ্যাতি ও ঐতিহ্যের বাতাবরণে জন্ম হলেও তিনি ছিলেন 'বিদ্রোহী'। ছোটবেলা থেকেই তার বিদ্রোহ ছিল নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে, উপনিষৎ পাঠরূপ ভগবৎ-ভজনা তথা সনাতন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, চলতি সাহিত্য এবং চিত্রকলার বিরুদ্ধে ‘ঠাকুর বাড়ির রক্ত’- বললেই রাগ করতেন। একবার তো লিখেই ফেললেন-

    ‘পোয়েট্‌ টেগর  হন কে তোমার,

    জোড়াসাঁকোতেই থাক?
    বাবার খুড়ো যে হন শুনিয়াছি,
    মোর কেহ হয় নাক। ....।’

    সবাই চমকে গিয়েছিল সেদিন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে বেড়িয়ে আসেন জোড়াসাঁকো থেকে। তারপর আর সে বাড়ির পানে ফিরে তাকাননি। সম্পাদক, শিল্পী, শিল্প রসিক হিসেবে সু-পরিচিত। চরিত্রে রং এবং তেজ দুই-ই ছিলো এক অসামান্য রসায়ন গুণে ভরপূর। এই সুভো ঠাকুরেরই এক অনবদ্য বই হল ‘প্যান্‌সি ও পিকো’। বলতে গেলে বাংলা সাহিত্যের এক নতুন মোচড়। সমাজকে তীব্র হানা। বই প্রকাশনের দিনক্ষণ, তারিখ, প্রকাশক পরিচিতিতে ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত অসাধারণ রসিকতাবোধ। প্রিন্টার্স লাইনে এ বই লেখার উদ্দেশ্য।
     
    “যারা আমায় গাল পাড়ে –
    তাদেরই বুকের বাট্‌ন্‌-হোলে
    পরিয়ে দিলাম ‘প্যান্‌সি ও পিকোর’ বোকে।”

    বই প্রকাশনের তথ্য দিচ্ছেন অসামান্য আত্ম জবানীতে –‘- সুভো ঠাকুরই ‘প্যান্‌সি ও পিকোর’ ছড়া কেটেছেন – আর তিনিই এর প্রথম ত্রিশ পাতা দুশো ঊনষাট নম্বর আপার চিৎপুর রোডের শ্রীকৃষ্ণ প্রিন্টিং ওয়ার্কস থেকে, আর বাকিটা এক নম্বর রমানাথ মজুমদার স্ট্রিট এর শ্রীসরস্বতী প্রেস লিমিটেড থেকে ছাপিয়ে পঁয়ত্রিশ ঈ কৈলাস বসু স্ট্রিট এর ফিউচারিস্ট পাবলিশিং হাউস থেকে বের করেছেন।’ বইটির  ঠিক তলায় বই প্রকাশের দিনক্ষণ লিখছেন একেবারে অন্য চালে। ‘প্যান্‌সি ও পিকো’ লেখা- পান্ডুয়ায়, ইংরিজি ঊনিশ্‌ শ’ তেত্রিশ ডিসেম্বরে। আর ছাপা - কোল্‌কাতায়, বাংলা তেরশ’ বেয়াল্লিশ, বৈশাখে।’

    দাম্পত্য সঙ্গী নির্মলা ঠাকুর ও আরতি ঠাকুর

    সন্তান চিত্রলেখা শুভম (কন্যা) ও সিদ্ধার্থ শুভম (পুত্র) ও সুন্দরশুভম (পুত্র)


    ছবি আঁকায় পূর্ব আর পশ্চিমের স্টাইল মিলিয়ে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বেঙ্গল স্কুল-এর শিল্পচিন্তা থেকে দূরে সরে এসে নীরদ মজুমদার প্রদোষ দাশগুপ্ত, গোপাল ঘোষ, পরিতোষ সেন, কমলা দাশগুপ্ত , রথীন মৈত্র, প্রাণকৃষ্ণ পাল প্রমুখ তরুণ শিল্পীদের নিয়ে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে গঠন করেছিলেন ক্যালকাটা গ্রুপ। দক্ষ কলাকুশলী শিল্পী বংশীচন্দ্র সেনগুপ্তকে তিনিই আবিষ্কার করেন কাশ্মীরে। আর্ট কলেজে পড়ার সময় 'চতুরঙ্গ' পত্রিকার চার-পাঁচ সংখ্যা তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ত্রিশের দশকে তার সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা 'ভবিষ্যৎ' ও সচিত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা 'অগ্রগতি' তে তার নিজস্ব ধারার দুঃসাহসিক লেখা, ছবি, পরিকল্পনা ও অঙ্গসজ্জার অভিনবত্ব ও চমকপ্রদ ছিল। তবে সাময়িকপত্রের ইতিহাসে তার শ্রেষ্ঠ অবদান শিল্পকলা সংক্রান্ত পত্রিকা " সুন্দরম"। কবি হিসাবেও পরিচিতি লাভ করেন। কবিতায় 'অগ্রমিল ছন্দ' নামে এক নতুন ছন্দ করেছিলেন। অনেক সময় নিজেকে তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে ধরে নিয়ে লেখা শুরু করতেন। কারুশিল্পে আকৃষ্ট হয়ে তিনি এক বিশিষ্ট কারুশিল্প সংগ্রাহক হয়ছিলেন। [১] অনাদরে, অবহেলায় পড়ে থাকা জিনিস ছবি, মূর্তি, পট, পাটা থেকে পুরোনো আসবাব, ঝাড় লণ্ঠন, দোয়াত-কলম, দুষ্প্রাপ্য বিরল ইঙ্ক পট, মুঘল আমলের হুকা সিগারেট, চুরুটের পাইপ, পুরোনো মানচিত্র, মনীষীদের চিঠি — এরকম অদ্ভুত সব সংগ্রহে সমৃদ্ধ ছিল তার বাড়ি। কারুশিল্পের প্রতি আকর্ষণ ও অভিজ্ঞতার জন্য তিনি ভারত সরকার তাঁকে অল ইন্ডিয়া হ্যান্ডিক্র্যাফস বোর্ডের পূর্বাঞ্চলের অধিকর্তা নিয়োগ করেন। কিন্তু তিনি তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ নিয়ে সংগ্রহশালা তৈরি করতে পারেননি। [৩] এবং এক সময় তাঁকে ও তার শিল্প নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে - 'আর্ট অব সুভো ঠাকুর' সংকলন গ্রন্থে। শান্তি চৌধুরী 'দ্য লোনলি পিলগ্রিম' নামে তার এক জীবনীচিত্র তৈরি করেন। 

     রচনা কর্ম

    মায়ামৃগ

    নীলরক্ত লাল হয়ে গেছে

    অলাতচক্র

    অতন্দ্র আলতামিরা

    প্যানসি ও পিকো । 


    সুভো ঠাকুর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ই জুলাই ৭৩ বৎসর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হন।

    সাত দশকের জীবনকালে তার পরিচয় চিত্র শিল্পী, কবি, পত্রিকা সম্পাদক ও শিল্প সংগ্রাহক হিসাবে। 

                     প্রাকৃতিক নিয়মে ঠাকুরবাড়ির দালানের থামগুলো কম্পিত না হলেও তিনি ভূমিকম্পের ন্যায় তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যের ভিত কাঁপিয়ে বিদ্রোহের পতাকা নিয়ে নেমে এসেছিলেন পঁচিশ টাকা ভাড়ার ভবানীপুরে ইঁদুরের আরামের অধম অতি সামান্য এক ব্যারাক বাড়িতে। সমীর সেনগুপ্ত তাঁর রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়স্বজন বইতে লিখেছেন সুভো ঠাকুর ‘তাঁর শেষ জীবনে লেখা স্মৃতিকথা বিস্মৃতিচারণা-য় প্রকাশ পেয়েছে ঠাকুরবাড়ির বিরুদ্ধে কুরুচিকর ক্ষোভ।’ সুভো ঠাকুরের ভাষায় ‘আত্মীয়স্বজনের দ্বারা বংশের কালাপাহাড় এই খ্যাতি চিহ্নের দাগ পড়েছিল তার শিড়দাঁড়ায়।’ সুভো ঠাকুরকে কেন ঠাকুরবাড়ির ‘কালাপাহাড়’ বা ‘ব্ল্যাকশিপ’ বলা হত তার উত্তর তাঁর বিস্মৃতিচারণা-র পাতাতে স্পষ্ট।


    সরলাদেবী চৌধুরাণী তাঁর আত্মস্মৃতি জীবনের ঝরাপাতা বইতে লিখেছেন — ‘সেজমামার ছোটো ছেলে ঋতুদার অংশ একজন মাড়োয়ারির কাছে বিক্রিত। … এগারই মাঘের উপাসনা ও গান যখন চলছে ঠিক সেইসময় সেই অংশের ছাদ ও খড়খড়ি বেয়ে মাড়োয়ারি গিন্নির উনুন জ্বালানোর ধোঁয়া ও ফোড়নের গন্ধ উঠোনে চলে আসে। আর নিচের তলায় উঠোনের গা-সংলগ্ন বাড়ির ভিতরমুখো সব অন্ধকার ঘরগুলি খোট্টা ও দেশি-বিদেশী ভাড়াটেতে ভরা।’ সুভো ঠাকুরের এই কাজের পিছনে তাঁর যুক্তি হল তিনি তাঁর প্রপিতামহ মহর্ষির পদাঙ্ক অনুসরণ করে পিতৃঋণ থেকে মুক্ত হবার পরিকল্পনায় তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তাঁর অংশ হস্তান্তরিত করেছিলেন। পিতৃঋণ থেকে মুক্ত হওয়া ছাড়া এই কাজের পিছনে সুভো ঠাকুরের একটি দার্শনিক সুনিশ্চিত মতবাদও ছিল। তাঁর মতে একটা বাড়ি কিছুতেই বাঁচতে পারে না তার বাসিন্দাদের ব্যক্তিত্ব ব্যতিরেকে। কারণ কোনো বিখ্যাত বাড়ি ইঁট চুন সুরকির সমষ্টি মাত্র নয়। তার প্রাণধর্ম অপ্রতিহত রাখতে হলে অর্থাৎ তাকে জীবন্ত করে ধরে রাখতে হলে চাই সেইরকম সব মহান ব্যক্তিত্বপূর্ণ পুরুষ, যা সুভো ঠাকুরের মতে সেই সময়ের জোড়াসাঁকোতে ছ’নম্বরে নিঃশেষিত প্রায়।

    সুভো ঠাকুরের ছবির জগতে আসার আগে তার জমি অনেক আগেই কর্ষণ করেছিলেন তাঁর পূর্বসুরীরা। সলতে পাকিয়েছিলেন এবং প্রদীপও জ্বালিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের নির্দেশিত ‘বাহুর জোরে ছবি’ এঁকেছিলেন গুণেন্দ্রনাথ, ‘ওরিন ঠাকুর ছবি লিখেছিলেন’, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ এবং সর্বশেষ রবীন্দ্রনাথ যাঁর ছবি সম্পর্কে অবনীন্দ্রনাথ বলেছিলেন — ‘ওগুলোতো ছবি নয়, যেন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎসার।’ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয় চিত্রাঙ্কণ রীতির পুনরুদ্ধারে এবং ভারতীয় চিত্রশিল্পের নব জন্মদাতারূপে গণ্য হন। গগনেন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের ছোটবোন সুনয়নী দেবী আধুনিক শিল্পকলার অন্যতম প্রধান নারী চিত্রশিল্পী। রবীন্দ্রনাথ প্রায় প্রৌঢ় বয়সে আঁকা শুরু করেছিলেন এবং সর্বোপরি কোনো প্রথাগত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে না থেকে আধুনিক ভারতীয় চিত্রাঙ্কণ ধারায় এক নতুন পথের পথিক। সুভো ঠাকুর তাঁর পূর্বসুরীদের শৈল্পিক জুতোতে পা গলায়েও তিনি ঠাকুর পরিবারের ঐতিহ্য ও পরম্পরায় এক বিদ্রোহী চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে প্রয়াসী ছিলেন। ছবি আঁকায় তাঁর নিজস্বতার স্বাক্ষর রয়েছে। পূর্ব আর পশ্চিম মিলিয়ে সম্পূর্ণ নতুন স্টাইল তাঁর। দু’বছর সরকারী আর্ট স্কুলে পড়েছেন। তাঁর মানসগুরু যামিনী রায়। আর এক গুরু ঈশ্বরীপ্রসাদ। চিত্রশিল্পী সুভো ঠাকুর শুধু ছবি আঁকেননি, পাশাপাশি শিল্পকলার ব্যবহারিক দিকেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। বস্ত্রবুননের মধ্যে চিত্রকলার রূপবন্ধনে এক অন্যমাত্রিকতায় তাঁর সৃষ্টিতে প্রকাশ পেতে থাকে। চিত্রশিল্পে এক নতুন প্রয়াসকে উপস্থাপন করেন — ‘ছোট ছোট বর্গাকার খণ্ড দিয়ে, প্রায় জ্যামিতিক শৃঙ্খলে প্রতিকৃতি রচনায় সফলকাম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় পরম্পরায় কারুকলার সমঝদার। তাঁর ছবিতে এই কারুশিল্পীর শৃঙ্খলাবোধের সঙ্গে অলঙ্করণ প্রীতিও যুক্ত রয়েছে।’


    বেঙ্গল স্কুল-এর শিল্পচিন্তা থেকে দূরে সরে এসে প্রদোষ দাশগুপ্ত, গোপাল ঘোষ, পরিতোষ সেন, কমলা দাশগুপ্ত প্রমুখ কয়েকজন তরুণ শিল্পী ১৯৪৩ সালে গঠন করেছিলেন ক্যালকাটা গ্রুপ । সুভো ঠাকুর এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। যদিও রামকিঙ্কর ছিলেন প্রধানতম, তবে তিনি ছিলেন গ্রুপের আমন্ত্রিত সদস্য। দক্ষ কলাকুশলী শিল্পী বংশীচন্দ্র সেনগুপ্তকে তিনিই আবিস্কার করেন কাশ্মীরে। এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠার পেছনে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল কলাশিল্পের ভাষাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আলোকে শক্তিশালী করা এবং তার সম্প্রসারণ ঘটানো। যে সময় এই গ্রুপটির প্রতিষ্ঠা ১৯৪৩ সালে, সেই সময় চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। পরাধীন ভারতবর্ষের অভ্যন্তরে ব্যাপক রাজনৈতিক আন্দোলন। তৎকালীন সময়ের যে ভয়ানক খরা দেখা দেয় যা গ্রামগঞ্জের হাজারো মানুষকে সর্বসান্ত করে দিয়েছিল সেই খরার ভয়ানক রূপ দেখে জন্ম ক্যালকাটা গ্রুপ অব আর্টিস্ট । এই গ্রুপের সদস্যরা মানবিক আদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। এই গ্রুপের জীবৎকাল মাত্র দশবছর। ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৩। তার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেও সুভো ঠাকুরের গ্রুপের প্রতি আকর্ষণ ও আস্থা হারানোর কারণ বোধ হয় প্রতিবাদী মানসিকতার এক শিল্পীর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র গৌণ হয়ে যাওয়া। প্রতিবাদী শিল্পী সুভো ঠাকুর চিরাচরিত পথে না হেঁটে আপন পথের সন্ধান করেছেন। তাঁর কাজ জওহরলাল, নেতাজি সুভাষ ও রবীন্দ্রনাথের সমকালীন বহু পরিচিত প্রতিকৃতিগুলিকে প্রকাশ করছিলেন বস্ত্র বুননের মাধ্যমে এক নতুন নিজস্ব আঙ্গিকে। সুভো ঠাকুরের তুলনা সুভো ঠাকুর নিজেই। শিল্প ইতিহাসবেত্তা ও. সি. গাঙ্গুলি যথার্থই বলেছেন — ‘Subho Tagore has made able attempts to recover Indian painting and to make it run on new paths. He has scrupulously avoided any imitation or repetition of the manners of Dr. Abanindra Nath Tagore. He has, therefore, been a Tagore without being a Tagorite, an Indian artist without the archaisms of old Indian art, yet without loving the aroma and flavor of it Indianness.’

    =================================

    Saturday, 1 January 2022

    জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। শিশু সাহিত্যিক খগেন্দ্র মিত্র। ০২.০১.২০২১. Vol -604. The blogger in literature e-magazine


    বাংলা শিশু- সাহিত্যের জগতে খগেন্দ্রনাথ মিত্র,  উপেন্দ্রকিশাের, যােগীন্দ্রনাথ সরকার, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    অবনীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়ের উত্তরসূরি। বাংলা শিশু সাহিত্যের বুনিয়াদ যাদের হাতে গড়ে উঠেছিল খগেন্দ্রনাথ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। সত্যিকার ছােটদের বড় লেখক। শিশুসাহিত্যের আকর গ্রন্থ রচয়িতা। জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক।

              ১৮৯৬ খ্রিঃ ২ জানুয়ারী কলকাতার শ্যামপুকুর খগেন্দ্রনাথের জন্ম হয়। তাঁর বাল্য ও শৈশবের দিনগুলাে কেটেছে দারিদ্র্য ও অভাব অনটনের মধ্যে। পিতা শৈলেন্দ্রনাথ কাজ করতেন শিলাইদহে ঠাকুর এস্টেটে.

      যৌবনে বিপ্লবী বাঘা যতীনের অনুগামী হন ও বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনে যোগ দেন। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে কলেজ পরিত্যাগ করেন। ১৯২০ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে কারাবরন করেছেন। পরবর্তী কালে বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন।

    জীবিকার প্রয়ােজনে বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। কিছুকাল রেলেও চাকরি করেন। পরে পুরােপুরিভাবে সাহিত্য সেবায় নিয়ােজিত হন।সাহিত্য রচনাই ছিল তার জীবিকার্জনের প্রধান অবলম্বন। প্রথম বড় রচনা আফ্রিকার জঙ্গলে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিঃ

    রেলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে সর্বক্ষনের জন্যে সাহিত্য সাধনায় ব্রতী হন খগেন্দ্রনাথ মিত্র। সাহিত্য সাপ্তাহিক 'বাঁশরী', ভারতবর্ষ, প্রবাসী (পত্রিকা), মহিলা, পঞ্চপুষ্প ইত্যাদি বহু পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লিখতে থাকেন। আর.এম. ব্যালেন্টাইনের বিখ্যাত বই ‘গোরিলা হান্টার’ অবলম্বনে লেখেন ‘আফ্রিকার জঙ্গলে’ যা প্রকাশিত হয় ১৯২৩-২৩ খৃষ্ঠাব্দে। বিখ্যাত রচনা 

    ভোম্বল সর্দার 

     ডাকাত অমনিবাস, 

    পাতালপুরীর কাহিনী, 

    অতীতের পৃথিবী, 

    আবিষ্কারের কাহিনী, 

    ঝিলে জংগলে, 

    বাংলার ডাকাত, 

    রবীন্দ্র শিশুপরিক্রমা ইত্যাদি

                    শতাধিক বই শিশু কিশোরদের কাছে জনপ্রিয় হয়। 


    ১৯৪৮ সালে দৈনিক পত্রিকা 'কিশোর' তাঁর সম্পাদনায় বের হয়। এছাড়া তিনি সম্পাদনা করেন 'নতুন মানুষ', 'ছোটদের মহল', সপ্তডিঙ্গা, বার্ষিক শিশুসাথী, 'মানিকমালা' ইত্যাদি পত্রিকা। 'শতাব্দীর শিশুসাহিত্য ১৮১৮-১৯৬০' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তার রচিত ভোম্বল সর্দার হিন্দি ও রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। তিনি অনুবাদ করেছেন 'বেন হুর’, ‘লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই’, ‘ব্ল্যাক অ্যারো’র মমত বিশ্বসাহিত্য। বড়দের জন্যে লিখেছেন 'গড় জঙ্গলের কাহিনী’, ‘ঠাকুরদার বুনো গল্প’, ‘ডাকাতের ডুলি’, ‘গণেশচন্দ্রের অশুভ যাত্রা’ ইত্যাদি।

    সাহিত্য কীর্তির জন্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভুবনেশ্বরী পদক ও মৌচাক সাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়া পান গিরীশ রৌপ্যপদক। ১৯৭৫ সালে জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হন কিন্তু শিশুসাহিত্যের জন্যে পাঁচ হাজার থেকে কমিয়ে পুরস্কার মূল্য এক হাজার টাকা বরাদ্দ করা হলে তিনি এই অবমাননার প্রতিবাদস্বরূপ তা প্রত্যাখ্যান করেন।


    ১৯৬০ খ্রিঃ কলকাতায় পরলােক গমন করেন।

    ======={===={{{======{{===========



    বিশেষ প্রতিবেদন। কবর কবিতা ও জসীমউদ্দিন। ০১.০১.২০২২. Vol -604. The blogger in literature e-magazine



    কবর
    এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
    তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
    এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
    পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
    এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
    সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
    সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
    লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
    যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
    এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
    এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
    ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

    বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
    আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
    শাপলার হাটে তরমুজ বেচি পয়সা করি দেড়ী,
    পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
    দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
    সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
    হেস না­ হেস না­ শোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে,
    দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
    নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
    পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
    আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
    কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
    হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
    আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।

    তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
    যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
    শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
    গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
    এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
    গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
    মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
    আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।

    এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
    কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
    সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমারে ডাকি,
    বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
    ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
    সেই শোওয়া তার শেষ শোওয়া হবে তাহা কী জানিত কেউ?
    গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
    তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
    তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
    সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!
    তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দুহাতে জঢ়ায়ে ধরি,
    তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
    গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
    ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
    পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
    চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
    আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
    হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
    গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
    চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।

    ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
    কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
    তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
    হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
    মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
    বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
    দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
    কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
    ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়ন­জলে,
    কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণ­ব্যথার ছলে।

    ক্ষণপরে মোরে ডাকিয়া কহিল­ আমার কবর গায়
    স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
    সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
    পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
    জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরু­ছায়,
    গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
    জোনকি­মেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
    ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
    হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
    ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!

    এখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
    বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
    এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
    হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
    খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
    দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
    শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
    অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
    সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
    কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
    বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
    কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণ­বীণ!
    কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
    এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে
    ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে বাসে নাই কেহ ভালো,
    কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
    বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
    পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
    হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
    আমার বু­জীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।

    হেথায় ঘুমায় তোর ছোট ফুপু, সাত বছরের মেয়ে,
    রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
    ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
    অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
    ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
    তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
    বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
    রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।

    একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
    ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
    সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
    কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
    আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
    দাদু! ধর­ধর­ বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
    এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
    কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুম­ভোলা মোর যাদু।
    আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,

    ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
    অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
    মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
    মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
    জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
    ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যু­ব্যথিত প্রাণ।
    =========২০২২==============
    বিষয়বস্তু 
    গ্রামীণ এক চিরায়ত বৃদ্ধের কষ্টের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই কবিতায়। বাংলা সাহিত্যে যেসব মর্মস্পর্শী কবিতা আছে, তার মধ্যে কবর একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের লেখা এই কবিতাটি শুধু প্রিয়জনদের জন্য শোক নিয়েই নয়, বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের একটি সুন্দর চিত্র অথচ নির্মম বটে। কবিতাটিতে গাঢ় বেদনা আর ভালবাসার রঙে আঁকা বাংলার পল্লীজীবনের এই অসাধারণ প্রতিচ্ছবি ফুঁটে উঠেছে। সর্বমোট ১১৮ পংক্তির কবিতাটির শুরুর স্তবকটি এরকম:
    এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
    তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
    এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
    পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

    কাহিনী বর্ণনাকারী এক গ্রামীণ বৃদ্ধ দাদু। আর শ্রোতা হলো তদীয় নাতি। যে পাঁচজন স্বজন হারানোর ব্যথা বৃদ্ধ দাদু এক এক করে বর্ণনা করেছেন তারা হলো: বৃদ্ধের স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনী ও মেয়ে। এরা নাতীর দাদী, পিতা, মা,তা বুজি ও ছোট ফুপু। মৃত্যুর কারণ ও অন্যান্য তথ্য:

    বুজি/নাতনি মারা যায় পচানো জ্বরে
    ছোট ফুপু/মেয়ে মারা যায় সাপের কামড়ে
    দাদির/স্ত্রীর গ্রামের নাম উজান-তলী
    জোড়মাণিক বাবা-মা/ পুত্র-পুত্রবধূ
    বুজি/নাতনির বিয়ে দিয়েছি কাজিদের বাড়ি (বনেদী পরিবার) ছোট ফুপু মারা যায় ৭ বছর বয়সে

    কবিতাটির শেষ স্তবকটি এরকম:
    ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
    অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
    মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুরে,
    মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
    জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
    ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যু­ব্যথিত প্রাণ।


    আলোচনা 

    ‘কবর’ জসীম উদদীন বিরচিত বাংলা সাহিত্যের একটি বহুল পঠিত কবিতা। এটি মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত। বাঙালির প্রাণের আবেগ অতি নিবিড়ভাবে মিশে আছে এ শোক-প্রকাশক কবিতাটির পঙক্তিতে পঙক্তিতে। এটি একটি ড্রামাটিক মনোলগ বা একাকী কথন। নাতীকে উদ্দেশ্য করে বৃদ্ধ দাদু তাঁর জীবনের সকল প্রিয়জনকে হারানোর আকুতি ক্রমে ক্রমে ব্যক্ত করেছেন। বৃদ্ধের কাছে মনে হয় জীবনের নির্মম পথ তিনি আর চলতে পারনে না। তিনি নাতীকে বলছেন: ‘‘ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে / অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে’’। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এ কবিতাতে সৃষ্ট হয়েছে বিষাদকরুণ সাঙ্গেতিকতা। ১৯৩০-রে দশকে যখন ইউরোপীয় আধুনিক কাব্যের আদলে বাংলা কাব্যে আধুনিক কবিতার সূত্রপাত হয় একই সময়ে জসীম উদদীন রচনা করেছিলেন ‘কবর’।

    কবর কবিতায় ব্যবহৃত ছন্দকে বলা হয় ষান্মাত্রিক মাত্রাবৃত্ত। এ কবিতার প্রতি চরণে ৩টি পূর্ণ পর্ব ও ১টি অপূর্ণ পর্ব আছে। পূর্ণ পর্বের মাত্রা ৬ ও অপূর্ণ পর্বের মাত্রা ২। মাত্রা বিন্যাস- ৬+৬+৬+২=২০।




    শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ।‌ একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.

    সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়   (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭)  একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ.  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...