Sunday, 25 October 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ।অনুনাটক

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
                       অনু নাটক 

     মহানবমীর প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

$$$$$$$$$$$$$$✓✓✓✓$$$$$$$$$$$$$
                 Doinik sabder methopath
                Vol -170.Dt -25.10.2020
                 ৭ কার্তিক,১৪২৭. রবিবার
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷|||||||÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷


পুজোর ভালো-মন্দ 
  গোবিন্দ মোদক 

                 (কুশীলব: দুই বন্ধু রাজু ও রবি)

রাজু : সে তুই যাই বলিস ভাই, পুজো মানেই অপচয় ! এই যে এতো টাকার প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা, বাজি-পটকা পোড়ানো --- তারপরেই তো বিসর্জন ! ব্যাস, সবকিছুর জলাঞ্জলি !
রবি : তোর ভাবনাটা ঠিক নয়, ভাই ! তুই শুধু অপচয়ের কথাই ভাবছিস, অথচ এই পুজোর কতো গুরুত্ব জানিস ! আমাদের এই আর্থ-সামাজিক পটভূমিকায় একটা পুজোয় যে লেনদেন হয় আর "এনরোলমেন্ট অফ মানি" অর্থাৎ যতোবার টাকার আবর্তন হয়, তাতে করে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ মজবুত হয় !
রাজু : আরে রাখ তোর বইয়ে পড়া ডায়লগ !
রবি : ডায়লগ নয় রে ভাই ! এই দেখ, তাহলে কথাটা ভেঙেই বলি --- একজন কুমোর ঠাকুর তৈরি করলে একজন শ্রমিক তাকে মাটির যোগান দিয়ে কিছু পয়সা পায়। কিছু বিচুলি বা খড়, বাঁশ, দড়ি, রঙ, সাজ ইত্যাদি বিক্রি হয়। শোলাশিল্পীরা সাজ তৈরি করে কিছু পয়সা পায় --- এরা সবাই সেই টাকা দিয়ে জামা-কাপড়, সাজের জিনিস, খাবার-দাবার ইত্যাদি কেনে, যানবাহন চড়ে, আমোদ-আহ্লাদ করে। পুজো প্যান্ডেলে বহু শ্রমিক কাজ করে, আলোক-শিল্পী, মণ্ডপ-শিল্পী ---- এরা সবাই দু'টো পয়সা পায়। ঢাকী, বাজনদার, পুরোহিতরাও কিছু রোজগার করে --- সেই রোজগারের অর্থ তারা খরচ করে বলে সেই টাকা অর্থনীতিতে বারবার আবর্তিত হয়।
রাজু : আর কিছু ?
রবি : আরও আছে। পুজোতে বেলুনওয়ালা, বাজি-পটকার স্টল, তেলে-ভাজা, খাবারের স্টল, ফুল-দশকর্মার দোকান থেকে শুরু করে সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরের মানুষ কিছু না কিছু রোজগার করে। আর এই রোজগার অর্থনীতিতে আবার ফিরে এসে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে। কাজেই পুজোর এই পরোক্ষ অবদানসমূহকে কিছুতেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

+++++++++++++++++++++++
অপেক্ষা 
 পার্থ সারথি চক্রবর্তী 

( কুশীলব-১৷ মিত্তির বাবু, এক পৌড়। ২৷ শোভা, মিত্তিরের পুত্রবধূ। ৩৷ ভাষ্কর, মিত্তিরের ছেলে। ৪৷ রনি, মিত্তিরের নাতি।)



মিত্তির বাবুর মেজাজ ক'দিন ধরে খ্যাপা। পুজোর কটা দিন মাইকে চিৎকার, রাস্তাঘাট বন্ধ। আড্ডাও নেই ।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে পৌছে-
' বৌমা, একটু চা দাও তো। '
'আসছি বাবা।' ব'লে শোভা এক কাপ চা আর খবরের কাগজ এগিয়ে দিল।
রিটায়ার করার পর গত পাঁচ বছর সকালে এভাবেই শুরু হয় মিত্তিরের।
' তাড়াতাড়ি দাও। আজ আবার মেট্রো কম।' জামা পড়তে পড়তে ভাস্কর তাড়া দেয়। শোভা ব্রেকফাস্ট সাজায়। 
'তোর অফিস আজই লাস্ট? ' জানতে চায় মিত্তির ।
' না বাবা। কালও আছে। এত ভীড়! তুমি আর আজ বেড়িও না।'
' না না। কোথায় আর! ভাল্লাগে না! এত আলো, গান । কিন্তু প্রাণ পাই না! আমাদের সময় ......'।
'বাবা প্লিজ ।' ভাস্কর থামায়। বিলক্ষণ জানে, নাহলে বাবা আবার শুরু হয়ে যাবে ....।
 এমন সময় ঠুসঠাস ক্যাপ ফাটাতে ফাটাতে নিচে আসে একমাত্র নাতি রনি। তার ভীষণ আনন্দ!
'আচ্ছা বাবা আজ আপনার পছন্দের ব্রেকফাস্ট। লুচি তরকারি। ' শোভা মুচকি হেসে বলে।

মিত্তিরের হাসি ফোটে। অনেক অসুবিধা হয় বই কি । ওষুধ আনা, বাইরে যাওয়া । ভীড়, চেঁচামেচি । তাও এই ক'দিন একটু নিয়মের শিথিলতা। 

পছন্দের খাওয়া। নাতির সঙ্গে খেলা। খালি একটু ভাষ্করের জন্য চিন্তা!

কত কত মানুষ তো এই ক'টা দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে সারা বছর।


++++++++++++++++++++++++
আসুরিক
ফটিক চৌধুরী

মা দুগ্গা : এবার খুব বাজে অবস্থা গনশা। বাজার খারাপ ।বেওসা একদম লাটে উঠেছে। 

গনেশ : তুমি তো বাজারের কথা বলছ, আমি কি করে যাই বলো তো ? আমি তো মাস্ক পরতেই পারব না? তাই না কেতো! খুব রিস্কি হয়ে যাবে।

কার্তিক : ঠিক বলেছিস দাদা। এবার ক্যানসেল হলে ভালো। মহালয়ার একমাস পর পুজো।সেজে গুজে যাব, মাস্ক পরে? সুন্দর মুখটাই ঢাকা!

লক্ষ্মী : আমার তো হাড় হিম করা অবস্থা। ভাঁড়ার শূন্য।

সরস্বতী : আমারও তো স্কুল কলেজ বন্ধ। সব অনলাইনে? কী জবাব দেব ওখানে গিয়ে!

মহিষাসুর : তোমাদের দিন শেষ। দশভূজার সব অস্ত্রই ভোঁতা। যা ভাইরাস ছেড়েছি না? ভালোর দিন শেষ। এখন আমাদের রাজত্ব।

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆


No comments:

শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। অশোকবিজয় রাহা । একজন ভারতীয় বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক এবং সমালোচক। তিনি রবীন্দ্র অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন বিশ্বভারতীতে দায়িত্ব পালন করেন। Dt -14.11.2024. Vol -1052. Thrusday. The blogger post in literary e magazine.

অশোকবিজয় রাহা  (১৪ নভেম্বর ১৯১০ – ১৯ অক্টোবর ১৯৯০)  সময়টা ছিল আঠারোশো উননব্বইয়ের অক্টোবর। গঁগ্যার সাথে বন্ধুত্বে তখন কেবল চাপ চাপ শূন্যতা আ...