Thursday, 24 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। অনিতা দেশাই। ২৪.০৬.২০২১. Vol -413 The blogger in literature e-magazine

 

অনিতা দেশাই

জার্মান মা টনি নাইম এবং একজন বাঙালী ড.এন মজুমদার কন্যা অনিতা মজুমদার ভারতের মুসৌরীতে জন্মগ্রহণ করেন, ২৪ জুন ১৯৩৭ সাল। তিনি বাড়িতে জার্মান ভাষা এবংবাড়িরবাইরে বাংলাউর্দুহিন্দি এবং ইংরেজি শিখে বড়ো হয়েছেন। যাইহোক, তিনি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক হিসাবে জীবনে কখনও জার্মানি ভ্রমণ করেন নি। তিনি প্রথমে স্কুলে ইংরেজিতে পড়তে এবং লিখতে শিখেছিলেন এবং এর ফলে ইংরেজি তার "সাহিত্য ভাষা" হয়ে উঠেছিল। তিনি সাত বছরের বয়সে ইংরেজিতে লিখতে শুরু করেন এবং নয় বছর বয়সে তার প্রথম গল্পটি প্রকাশ করেন।


তিনি দিল্লির কুইন মেরি এর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরান্ডা হাউস থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বি.এ ডিগ্রি পেয়েছিলেন। পরের বছর তিনি কম্পিউটার সফটওয়্যার কোম্পানীর পরিচালক এবং  ইনারেসিটিস: লাইফ অ্যান্ড দ্য কসমস এ আইডিয়াস বইটির লেখক আশভিন দেশাইকে বিবাহ করেন।

তাদের চার সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে বুকার পুরস্কার বিজয়ী উপন্যাসিক কিরণ দেশাই। তার সন্তানদের সপ্তাহান্তে থুল (আলীবাগের কাছাকাছি) নিয়ে যাওয়া হত, যেখানের উপর ভিত্তি করে অনিতা দেশাই 'দি ভিলেজ বাই দ্য সি' উপন্যাসটি লিখেছিলেন।যে কাজের জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে গার্ডিয়ান চিলড্রেন'স কথাসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন, ব্রিটিশ শিশু সাহিত্যিকদের একটি প্যানেল দ্বারা বিচারপ্রাপ্ত একটি-জীবনের একবার মাত্র বই হিসাবে।


১৯৬৩ সালে আনিতা দেশাই তার প্রথম উপন্যাস ক্রাই দ্য পিকক প্রকাশ করেন। তিনি ক্লিয়ার লাইট অব দি ডে (১৯৮০) তার সবচেয়ে আত্মজীবনীমূলক কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন কারণ এটি তার বয়সের বৃদ্ধি এবং সেই একই এলাকা যেখানে তিনি বড়ো হয়েছেন সেখানের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়।

১৯৮৪ সালে, তিনি ইন কাস্টডি প্রকাশিত করেন - তার পড়ন্ত দিনগুলিতে লেখা একটি উর্দু কবির সম্পর্কে একটি উপন্যাস- যা বুকার পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হয়েছিল।

১৯৯৯ সালে বুকার পুরস্কারে তাঁর লেখা উপন্যাস ফাস্টিং, ফেস্টিং তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে। তার উপন্যাস, দি জিগজ্যাগ ওয়ে, ২০ শতকের মেক্সিকোর বিষয়ে লিখা হয়েছে যা ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং তার সর্বশেষ সংকলনের গল্প, দ্য আর্টিস্ট অব ডিসএপিয়ারেন্স ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

আনিতা দেশাই মাউন্ট হোলুক কলেজ, বারুক কলেজ এবং স্মিথ কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি রয়্যাল সোসাইটি অব লিটারেচারের, আর্টস অ্যান্ড লেটার্সের আমেরিকান একাডেমী এবং গ্রেটন কলেজ, কেমব্রিজের ফেলো (যাকে তিনি বৌমগার্টনারের বোম্বা উত্সর্গ করেছিলেন)।


১৯৯৩ সালে, তার উপন্যাস ইন কাস্টডি মার্কেটের আইভরি প্রোডাকসন্স দ্বারা একই নামের একটি ইংরেজি চলচ্চিত্রে নির্মিত হয়, যার পরিচালক ইসমাইল মার্চেন্ট এবং শাহরুখ হুসেন  চিত্রনাট্যকার ।[৯] এটি শ্রেষ্ঠ ছবির জন্য ১৯৯৪ সালে ভারতে স্বর্ণপদক লাভ করে এবং এতে শশী কাপুরশাবানা আজমী এবং ওম পুরি অভিনয় করেন।

সম্মান -
  • ১৯৭৮ – উইনফ্রেড হোল্টবি মেমোরিয়াল প্রাইজ - ফায়ার অন দি মাউন্টেন
  • ১৯৭৮ – সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার (ন্যাশনাল একাডেমী অব লেকস অ্যাওয়ার্ড) - ফায়ার অন দি মাউন্টেন
  • ১৯৮০ – বুকার পুরস্কারের জন্য ছোটো তালিকা – ক্লিয়ার লাইট অফ দি ডে
  • ১৯৮৩ – গার্ডিয়ান চিলড্রেন ফিকশন পুরস্কার - দি ভিলেজ বাই দি সি: একটি ভারতীয় পরিবার গল্প
  • ১৯৮৪ – বুকার পুরস্কারের জন্য ছোটো তালিকা –  ইন কাস্টডি
  • ১৯৯৩ –নেইল গুন্ন পুরস্কার
  • ১৯৯৯ – বুকার পুরস্কারের জন্য ছোটো তালিকা: ফাস্টিং, ফেস্টিং
  • ২০০০ – সাহিত্যের জন্য আলবার্তো মোরাভা পুরস্কার (ইতালি)
  • ২০০৩ – সাহিত্যে রয়্যাল সোসাইটির বেনসন পদক[১০]
  • ২০০৭ – সাহিত্য একাডেমী ফেলোশিপ[১১]
  • ২০১৪ – পদ্মভূষণ।


  •  উল্লেখযোগ্য কাজকর্ম

  • দি আর্টিস্ট অফ ডিসপিরেন্স (২০১১)
  • দি জিগজ্যাগ ওয়ে (২০০৪)
  • ডায়মন্ড ডাস্ট অ্যান্ড আদার স্টোরিজ (২০০০)
  • ফাস্টিং, ফেস্টিং (১৯৯৯)
  • জার্নি টু ইথাকা (১৯৯৫)
  • বাউমগার্টেনের'স বোম্বে (১৯৮৮)
  • ইন কাস্টডি (১৯৮৪)
  • দি ভিলেজ বাই দি সি (১৯৮২)
  • ক্লিয়ার লাইট অফ ডে (১৯৮০)
  • গেমস এট টুইলাইট (১৯৭৮)
  • ফায়ার অন দি মাউন্টেন (১৯৭৭)
  • ক্যাট অন এ হাউসবোট (১৯৭৬)
  • হয়ার শ্যাল ইউ গো দিস সামার? (১৯৭৫)
  • দি পিকক গার্ডেন (১৯৭৪)
  • বায়-বায় ব্লাকবোর্ড (১৯৭১)
  • ভয়েসেস ইন দি সিটি (১৯৬৫)
  • ক্রাই, দি পিকক (১৯৬৩)

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

Wednesday, 23 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। নবারুণ ভট্টাচার্য। ২৩.০৬.২০২১. Vol - 412 The blogger in literature e-magazine





দীর্ঘদিন কাজকরেছেন‘সোভিয়েত দেশ’ পত্রিকায়। নাটক করেছেন কলকাতার মঞ্চে। ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’-র মতো কবিতা,‘যুদ্ধপরিস্থিতি’-র মতো গল্প, ‘খেলনানগর’, ‘হারবাটর্’ বা ‘কাঙাল মালসাটে’র মতো উপন্যাস এক ধরনের ". 


নবারুণ ভট্টাচার

জন্ম ২৩ জুন১৯৪৮বহরমপুর, পশ্চিমবঙ্গ
বিজন ভট্টাচার্য -পিতা, মহাশ্বেতা দেবী -মাতা.
দাম্পত্যসঙ্গী প্রণতি ভট্টাচার্য.
স্কুল জীবনে তিনি বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে ভূতত্ত্ব ও পরবর্তীতে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।] চাকরি জীবনে তিনি ১৯৭৩ সালে একটি বিদেশি সংস্থায় যোগ দেন এবং ১৯৯১ পর্যন্ত সেখানে চাকরি করেন। এরপর কিছুদিন বিষ্ণু দের ‘সাহিত্যপত্র’ সম্পাদনা করেন এবং ২০০৩ থেকে ‘ভাষাবন্ধন’ নামের একটি পত্রিকা পরিচালনা করেন। একসময় দীর্ঘদিন তিনি ‘নবান্ন’ নাট্যগোষ্ঠী পরিচালনা করেছেন।

গ্রন্থতালিকা:

কাব্যগ্রন্থ 

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না (১৯৮৩)
পুলিশ করে মানুষ শিকার (১৯৮৭)
রাতের সার্কাস

ছোটগল্প 

হালাল ঝাণ্ডা (১৯৮৭)
নবারুন ভট্টাচার্যের ছোটগল্প (১৯৯৬)
নবারুন ভট্টাচার্যের শ্রেষ্ঠ গল্প
ফ্যাতাড়ুর কুম্ভীপাক
ফ্যাতাড়ুর বোম্বাচাক
ফ্যাতাড়ু বিংশতি
উপন্যাস সম্পাদনা
হারবার্ট (১৯৯৩)[২]
যুদ্ধ পরিস্থিতি (১৯৯৬)
অটো ও ভোগী
ফ্যাতাড়ু ও চোক্তার
কাঙাল মালসাট
মবলগে নভেল
খেলনা নগর
লুব্ধক (২০০৬)
অন্যান্য সম্পাদনা
জোড়াতালি (২০১৭)

সিনেমা
নবারুণ ভট্টাচার্যের উপন্যাস হারবার্ট অবলম্বনে পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় তার হারবার্ট চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালে তার ফ্যাতাড়ু সম্পর্কিত উপন্যাস কাঙাল মালসাট চলচ্চিত্রায়িত হয়।[৩]

পুরস্কার 
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৯৩)
বঙ্কিম পুরস্কার
নরসিংহ দাস পুরস্কার।



কবি, গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক, এই তিনটি পরিচয়ের মিশেলে নবারুণ গড়ে তুলছিলেন স্বকীয় একটি ধারা। নাটক করেছেন কলকাতার মঞ্চে। বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নবারুণ দীর্ঘদিন কাজ করেছেন 'সোভিয়েত দেশ' পত্রিকায়। 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না'-এর মতো কবিতার পংক্তি কিংবা 'হার্টবার্ট', 'কাঙাল মালসাট'-এর মতো তীর্যক উপন্যাস গড়ে তুলেছে নবারুণের প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভাবমূর্তি। ব্যক্তি জীবনেও তিনি ছিলেন অনাড়ম্বর।

১৯৯৩ সালে নবারুণের 'হারবার্ট' উপন্যাসটি ভীষণ আলোড়ন তোলে। এই উপন্যাসের জন্য সে বছর সাহিত্য অকাদেমি সম্মানও পান তিনি। এছাড়াও পেয়েছেন নরসিংহ দাস (১৯৯৪), বঙ্কিম(১৯৯৬) পুরস্কার | পরবর্তী সময়ে এই উপন্যাস নিয়ে একই নামে সিনেমাও বানিয়েছেন সুমন মুখোপাধ্যায়। সুমন অবশ্য নবারুণের রচনা অবলম্বনে 'মহানগর@কলকাতা' এবং 'কাঙাল মালসাট' নামে আরও দু’টি সিনেমা নির্মাণ করেন। সুমন এবং দেবেশ চট্টোপাধ্যায়রা নবারুণের লেখা থেকে আলোচিত কয়েকটি মঞ্চনাটকও করেছেন।

মানুষের পরাজয়, দুর্ভোগ আর তারই হাত ধরে মৃত্যু এবং আত্মহত্যার একের পর এক আলেখ্য নবারুণ এঁকেছেন তাঁর কবিতায়—পাশাপাশি গল্পে বা উপন্যাসেও। দারিদ্রসীমার নীচে থাকা অগণিত মানুষ; যারা সর্বহারা মানুষ—তাদের যাপনচিত্র, তাদের টিঁকে থাকার স্বপ্ন বা বেঁচে থাকার আশ্চর্য কৌশলগুলিও তাঁর কবিতা জুড়ে। শুধু মানুষ কেন, এই প্রাণমণ্ডলের উদ্ভিদ বা প্রাণী— যারা যেভাবে যেখানে বিপন্ন, নবারুণের সাহিত্য তাদেরই পক্ষে।

'কর্পোরেট সোসাল রেসপন্সিবিলিটি'র মতো সোনার পাথরবাটিকে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর কবিতার সর্বহারা মানুষ। লুব্ধক উপন্যাসে শহরের কুকুরেরা অসহিষ্ণু মানুষদের ছেড়ে দল বেঁধে চলে যায়—যারা পরিবেশ-বান্ধব সেজে সেমিনার করে, তাদের!

এদের পাশে কি মধ্যবিত্তেরা রয়েছে? মানুষ ভুলে যাচ্ছে এদের হয়ে প্রতিবাদ করতে। বেশি সোচ্চার প্রতিবাদের ভাষাও যে এরকম সময়ে ভোঁতা মেরে যায়—নবারুণ তা জানেন। নবারুণের প্রতিবাদের কথাগুলি তাই গুপ্তঘাতকের ছুরির মতো।

নবারুণ ভট্টাচার্যের অন্যান্য রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'লুব্ধক', 'হালালঝান্ডা ও অন্যান্য', 'মহাজনের আয়না', 'ফ্যাতাড়ু', 'রাতের সার্কার্স' এবং 'আনাড়ির নারীজ্ঞান'। তাঁর মৃত্যুতে অসমাপ্ত থেকে গেছে ‘মবলগে নভেল’ উপন্যাসটি।

নবারুণ ভট্টাচার্য ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই আন্ত্রিক ক্যান্সারের কারণে কলকাতায় ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ৬৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

নবারুণের লেখা থেকে দেবেশ চট্টোপাধ্যায়-সুমন মুখোপাধ্যায়রা মঞ্চসফল নাটক করেছেন। সুমনের তিনটি ছবি ‘হারবার্ট’, ‘মহানগর@কলকাতা’ এবং ‘কাঙাল মালসাট’ও নবারুণের রচনা অবলম্বনে। সুমন বলছিলেন, “যে তির্যক রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত নবারুণের লেখায় আসত, তাঁর যে অনন্য রচনাশৈলী, সমকালে তার জোড়া ছিল না। নবারুণ নিজেই একটা ধারার জন্ম দিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুতেই সম্ভবত তার শেষ হল।”

কবিতা

১. 
কিছু একটা পুড়ছে 

 
আড়ালে, বেরেতে, তোষকের তলায়, শ্মশানে
কিছু একটা পুড়েছেই
আমি ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছি
বিড়ি ধরিয়েছে কেউ
কেউ উবু হয়ে ফুঁ দিচ্ছে উনুনে
কেউ চিতায় তুলে দিয়েছে
আন্ত্রিক রোগে মৃত শীর্ণতম শিশু
ওলট পালট খাচ্ছে জ্বলন্ত পাখি
কোথাও গ্যাসের সিলিণ্ডার ফেটেছে
কোথাও কয়লাখনিতে, বাজির কারখানায় আগুন
কিছু একটা পুড়ছে
চার কোনা ধরে গেছে
জ্বলন্ত মশারি নেমে আসছে ঘুমের মধ্যে
কিছু একটা পুড়ছে
ক্ষুধায় পুড়ছে নাড়ি, অন্ত্রেরা
ভালোবাসায় পুড়ছে যুবক
পুড়ছে কামনার শরীর, তুষ, মবিলে ভেজানো তুলো
কিছু একটা পুড়ছেই
হল্‌কা এসে লাগছে আঁচের
ইমারত, মূল্যবোধ, টাঙানো বিশাল ছবি
প্রতিশ্রুতি, টেলিভিশন, দুপ্তপ্রাপ্য বই
কিছু একটা পুড়ছে
আমি হাতড়ে হাতড়ে দেখছি কী পুড়ছে
কিছু একটা পুড়ছে
কী ছুঁয়ে হাতে ফোস্কা পড়ছে
কিছু একটা পুড়ছে, গনগন করছে
চুপ করে পুড়ছে, মুখ বুজে পুড়ছে
ঝড় যদি ওঠে তাহলে কিন্তু দপ করে জ্বলে উঠবে
কিছু একটা পুড়ছে বলছি
দমকলের গাড়ি, নাভিকুণ্ডল, সূর্য
কিছু একটা পুড়ছে
প্রকাশ্যে, চোখের ওপর
মানুষের মধ্যে
স্বদেশ!

২.কালবেলা




যুবকেরা গেছে উৎসবে
যুবতীরা গেছে ভোজসভায়
অরণ্য গেছে বনানীর খোঁজে
গরীব জুটেছে শোকসভায়।
গয়নারা গেছে নীরব লকারে
বন্যপ্রাণীরা অভয়ারণ্যে
বিমান উড়েছে আকাশের খোঁজে
গরীবরা শুধু হচ্ছে হন্যে।
পুরুষেরা গেছে নিভৃত মিনারে
গর্ভবতীরা প্রসূতিসদনে
কুমিরেরা গেছে নদীর কিনারে
গরীব জমছে নানা কোণে কোণে।
বিপ্লব গেছে নেতাদের খোঁজে
যুবকেরা গেছে উৎসবে
যুবতীরা গেছে বিশিষ্ট ভোজে
গরীবের হায় কী হবে?


∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆




Tuesday, 22 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। কালিদাস রায়। ২২.০৬.২০২১. Vol -411. the blogger in literature e-magazine

""বর্ষে-বর্ষে দলে-দলে আসে বিদ্যামঠতলে,

চলে যায় তারা কলরবে,

কৈশোরের কিশলয় পর্ণে পরিণত হয়

যৌবনের শ্যামল গৌরবে |

ভালোবাসি, কাছে ডাকি, নামও সব জেনে রাখি,

দেখাশোনা হয় নিতি-নিতি,

শাসন-তর্জন করি শিখাই প্রহর ধরি,

থাকেনাকো, হায়, কোনো স্মৃতি!

ক-দিনের এই দেখা— সাগর সৈকতে রেখা

নূতন তরঙ্গে মুছে যায় |

ছোট-ছোট দাগ পার ঘুচে যায় একাকার

নব-নব পদ-তাড়নায় |""

    (সংক্ষিপ্ত )




কালিদাস রায়।


১৮৮৯ সালের ২২ জুন বর্ধমান জেলার কড়ুই গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন চৈতন্যদেবের জীবনীকার লোচনদাসের বংশধর। কালিদাসের শৈশব কেটেছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরে। সেখান থেকে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষকতার বৃত্তি গ্রহণ করেন কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে টালিগঞ্জে 'সন্ধ্যার কুলায়' নামক নিজস্ব বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কালিদাস রায়।

১৯১৩ সালে রংপুরের উলিপুর মহারানী স্বর্ণময়ী হাইস্কুলের সহশিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন সাত বছর। তারপরে (১৯২০-৩১) দক্ষিণ চবিবশ পরগনার বড়িশা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করার ১১ বছর পর রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেনের সহায়তায় তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের ভবানীপুর শাখায় সহকারী প্রধান শিক্ষকরূপে যোগদান করেন এবং ১৯৫২ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।তিনি রবীন্দ্র-ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন। এরপরে কবিতা, ছোটগল্প, রম্য সাহিত্য ইত্যাদি রচনা করেন। 'বেতালভট্ট' ছদ্মনামে লিখিত বহু রসরচনা পাঠক সমাজে সমাদৃত ।

কাব্য

  • কুন্দ(১৯০৭),
  • পর্ণপূট (১৯১৪ প্রথম খন্ড,১৯২১ দ্বিতীয় খন্ড),
  • ব্রজবেণু(১৯১৬),
  • বল্লরী(১৯১৫),
  • ক্ষুদকুঁড়া(১৯২২),
  • লাজাঞ্জলি(১৯২৪),
  • রসকদম্ব(১৯২৩),
  • হৈমন্তী(১৯৩৫),
  • বৈকালী(১৯৪০),
  • গাথাঞ্জলি(১৯৫৮),
  • সন্ধ্যামণি(১৯৫৮),
  • পূর্ণাহুতি(১৯৬৮),
  • দিন ফুরানোরর গান(১৯৮৪),
  • তথাগত (১৯৯৪)।

প্রবন্ধ

  • পদাবলী সাহিত্য,
  • প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়,
  • সাহিত্য প্রসঙ্গ,
  • প্রাচীন বঙ্গসাহিত্য,
  • শরৎ সাহিত্য
  • চনক সংহিতা
  • চালচিত্র
  • রঙ্গচিত্র

শিশু সাহিত্য

  • গাথাঞ্জলি(১৯৬১),
  • গাথাকাহিনী(১৯৬৪),
  • তৃণদল(১৯৭০),
  • গাথামঞ্জরী(১৯৭৪),
  • মণীষী বন্দনা(১৯৭৬),
  • গাথাবলী(১৯৭৮)

             পল্লীপ্রকৃতি তাঁর কবিতায় ঘুরে ফিরে এসছে। তিনি তাঁর "স্মৃতিকথা'য় লিখেছেন,

"কেবল পল্লীর আবেষ্টনী ও পল্লীর নরনারীর আচরণই যথেষ্ট নয়, পল্লীর চোইন্যব্যথা, পাপ্তাপ, অনাচার, সরলতা সমস্তই আমার চিত্তকে বিচলিত করত। ...গ্রামের উৎসব পার্বণের মধ্যে আমি প্রাথমিক উপাদান-উপকরণ পেয়েছি।'

"পল্লীবধু' কবিতায় লিখেছেন,

উঠান ছাড়িয়া না উঠিতে রোদ ঘরের পৈঠা 'পরে,

কলস ভরিয়া জল লয়ে কেবা স্নান করে ফিরে ঘরে ?

কিংবা "আহরণ' কবিতায় লিখেছেন,

বাংলার দীঘি গভীর শীতল কবির স্বপ্নে ঘড়া

ছলছল কল জল চঞ্চল মাতৃমমতা ভরা।

রঙ্গব্যঙ্গের কবিতায়ও তিনি যথেষ্ঠ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, "নেশাখোরের অভিধান' কবিতায় তিনি লিখেছেন,

গাঁজা খেলে গেঁজেল' যদি, মদ খেলে হয় "মাতাল,

নস্যি নিলে "নেসেল' তবে, চা-খোরেরা "চাতাল'

প্রমথনাথ বিশী তাঁর কবিতার সমালোচনা করে লিখেছিলেন,

"কবিশেখর পাঠ্যপুস্তকের কবি নন, বাংলা কাব্যের একটি চিরন্তনী ধারাশ্রয়ী এ যুগের একজন Major বা প্রধান কবি, রবীন্দ্রপ্রভাব সত্বেও যিনি চিরকাল নিজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।'

রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ পড়ে "কাঁচা হাতের লেখা' বলে সমালোচনা করেছিলেন কিন্তু পরে লিখেছিলেন,

"তোমার কবিতা বাংলাদেশের মাটির মতোই স্নিগ্ধ ও শ্যামল। বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসায় তোমার মনটি কানায় কানায় ভরা।' 

সাহিত্যকর্মের অবদানের জন্য কালিদাস অনেক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি রংপুর সাহিত্য পরিষদ ‘কবিশেখর’ উপাধি (১৯২০), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ (১৯৫৩) ও ‘সরোজিনী স্বর্ণপদক’, বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৬৩) এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি (১৯৭১) প্রদান করেন।


তিনি ১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান।

কবিতা

শরতে 

ছুটির খবর এসেছে আজ নীল আকাশের পথে !

ও ভাই ছুটী – ছুটী – ছুটী,

আয়না – চোখে দেখনা – ওকে অরুণ আলোর রথে

সোনা – ছড়ায় মুঠি – মুঠি !

তরু লতায়, পাখীর নীড়ে, হর্ষে জড়াজড়ি

সারং – বাজছে বনে বনে,

নূতন নূতন পোষাক পরে’ মেঘ আকাশের পরী

কেমন – সাজছে খনে খনে |

খবর আসার আগেই এল গুপ্ত সুড়ং ধরি’

ছুটী – আজ যে মনে মনে,

কে জানালো ফুলকলিদের, ফুট্ ল কানন ভরি’

যারা-করত ফুটি-ফুটি–

ও ভাই – ছুটী – ছুটী – ছুটী |

কোণা হতে আয় বেরিয়ে সোনা কুড়াই ভাই,

আয় – গায়ে মাঠে মাঠে,

বাতাবি-বন মাতাবি-কে ? শিউলি বোঁটা চাই ?

আয়-বনের বাটে বাটে |

ঢেউয়ের তালে দুবল আজি, কলার ভেলা বাই,

আয় – নদীর ঘাটে ঘাটে,

কাশের বনে হাঁসেন সনে কণ্ঠ ছেড়ে গাই,

আয় – করব লুটোপুটি

ও ভাই – ছুটী – ছুটী – ছুটী |


চাইনা মোরা পায়ে জুতো – চাইনা মাথায় ছাতা,

বনে – ঘুরবো ছায়ে ছায়ে,

সাঁতার কেটে দীঘির জলে মুছব না আজ মাথা,

রোদে – শুকাক্ বায়ে বায়ে |

ফেলবো ছুঁড়ে আজকে শেলেট অঙ্ক কষার খাতা

তারা – লুটুক পায়ে পায়ে,

সরল-ভূগোল, নীতিকুসুম, ধারাপাতের পাতা

ছিঁড়ে – করব কুটি কুটি

ও ভাই – ছুটী – ছুটী – ছুটী |


আয়না সবাই দেখনা ও ভাই কে ওই অরুণ রথে

সোনা – ছড়ায় মুঠি – মুঠি |

ছুটির খবর পেয়েছি আজ নীল আকাশের পথে

ও ভাই – করব ছুটোছুটি —




∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆


Monday, 21 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। নির্মলেন্দু গুণ। ২১.০৬.২০২১. Vol -410 The blogger in literature e-magazine

"অনেক সময় কবিতা লেখার চেয়ে আমি গদ্যরচনায় বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি। বিশেষ করে আমার আত্মজৈবনিক রচনা বা ভ্রমণকথা লেখার সময় আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে আমি যে গদ্যটি রচনা করতে চলেছি, তা আমার কাব্য-রচনার চেয়ে কোনো অর্থেই ঊনকর্ম নয়। কাব্যকে যদি আমি আমার কন্যা বলে ভাবি, তবে গদ্যকে পুত্রবৎ। ওরা দুজন তো আমারই সন্তান। কাব্যলক্ষ্মী কন্যা যদি, গদ্যপ্রবর পুত্রবৎ।"


 ১৯৪৫ সালে ২১ জুন নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ছেলেবেলা কাটে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার কাশবনে। তাঁর পিতার নাম সুখেন্দু প্রকাশ গুণ এবং মাতা বীনাপাণি। পরিবারের তিন মেয়ে এবং দুই ছেলের মধ্যে নির্মলেন্দু ছোট। চার বছর বয়সে মাতার মৃত্যুর পর তাঁর পিতা চারুবালাকে বিয়ে করেন।

          চারুবালার কাছেই লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় তার। প্রথমে বারহাট্টার করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইন্সটিটিউটে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৬২ সালে দুই বিষয়ে লেটারসহ মেট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ পান৷ মেট্রিক পরীক্ষার আগেই নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণের প্রথম কবিতা ‘নতুন কান্ডারী’৷

মেট্রিকের পর আই.এস.সি পড়তে চলে আসেন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে৷ মেট্রিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের সুবাদে পাওয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপসহ পড়তে থাকেন এখানে৷ ১৯৬৪ সালের আই.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মাঝে তিনি ছিলেন একমাত্র নেত্রকোণা কলেজের৷

পরবর্তীকালে বাবা চাইতেন ডাক্তারী পড়া৷ কিন্তু না, তিনি চান্স পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে৷ ভর্তির প্রস্তুতি নেন নির্মলেন্দু গুণ৷ হঠাত্‍ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয় ঢাকায়৷ দাঙ্গার কারণে তিনি ফিরে আসেন গ্রামে৷ ঢাকার অবস্থার উন্নতি হলে ফিরে গিয়ে দেখেন তার নাম ভর্তি লিষ্ট থেকে লাল কালি দিয়ে কেটে দেওয়া৷ এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে আসেন গ্রামে৷

আই.এস.সি-তে ভালো রেজাল্ট করায় তিনি ফার্স্ট গ্রেড স্কলারশিপ পেয়েছিলেন৷ মাসে ৪৫ টাকা, বছর শেষে আরও ২৫০ টাকা৷ তখনকার দিনে অনেক টাকা৷ ১৯৬৯ সালে প্রাইভেটে বি.এ. পাশ করেন তিনি (যদিও বি.এ. সার্টিফিকেটটি তিনি তোলেননি)। ১৯৬৫ সালে আবার বুয়েটে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পূর্বে তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সাংবাদিকতায়ও জড়িত ছিলেন।

নির্মলেন্দু গুণের বেশিরভাগ কবিতায় অত্যাধুনিক দৃষ্টান্তবাদিতা পরিলক্ষিত। তার নারীপ্রেমার্দ্র কবিতাগুলো ভারতীয় আবেগ-অনু্ভূতি সংলগ্ন। তিনি দেশপ্রেমের যে-দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই বিরল। ৬৬’ এর ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে আত্মিকভাবে জড়িত ছিলেন তিনি; এরপর বাদ পড়েনি স্বাধীনতার পূর্বের ও পরের কোনো বিপর্যয়, যতবার এ রাষ্ট্র বিপথগামী হয়েছে- কলম ধরেছেন তিনি, লিখেছেন একের পর এক শ্রেণীসংগ্রাম এবং স্বৈরাচার-বিরোধী কবিতা। নিহত হবার পর শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে যে-ক’জন কবি ও লেখক সোচ্চার হয়েছেন, তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হবার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ-গ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কবিতার পাশাপাশি ভ্রমণ কাহিনীও লিখেছেন। নিজের লেখা কবিতা এবং গদ্য সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হলো -


কাব্যগ্রন্থ

  • মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
  • প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
  • না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
  • কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
  • দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
  • চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
  • ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
  • আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
  • বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
  • তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
  • চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
  • অচল পদাবলী (১৯৮২)
  • পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
  • দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
  • নির্বাচিতা (১৯৮৩)
  • শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
  • ইসক্রা (১৯৮৪)
  • প্রথম দিনের সূর্য (১৯৮৪)
  • আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও (১৯৮৪)
  • নেই কেন সেই পাখি (১৯৮৫)
  • নিরঞ্জনের পৃথিবী (১৯৮৬)
  • চিরকালের বাঁশি (১৯৮৬)
  • দুঃখ করো না, বাঁচো (১৯৮৭)
  • ১৯৮৭ (১৯৮৮)
  • যখন আমি বুকের পাঁজর খুলে দাঁড়াই (১৯৮৯)
  • ধাবমান হরিণের দ্যুতি (১৯৯২)
  • কাব্যসমগ্র, ১ম খণ্ড (১৯৯২, সংকলন)
  • কাব্যসমগ্র, ২য় খণ্ড (১৯৯৩, সংকলন)
  • অনন্ত বরফবীথি (১৯৯৩)
  • আনন্দউদ্যান (১৯৯৫ )
  • পঞ্চাশ সহস্র বর্ষ (১৯৯৫ )
  • প্রিয় নারী হারানো কবিতা (১৯৯৬)
  • শিয়রে বাংলাদেশ
  • ইয়াহিয়াকাল (১৯৯৮ )
  • আমি সময়কে জন্মাতে দেখেছি (২০০০)
  • বাৎস্যায়ন (২০০০) 

গল্পগ্রন্থ

  • আপন দলের মানুষ

ছড়ার বই

  • সোনার কুঠার (১৯৮৭)

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ

  • আমার ছেলেবেলা
  • আমার কণ্ঠস্বর
  • আত্মকথা ১৯৭১ (২০০৮)
  • অনুবাদ
  • রক্ত আর ফুলগুলি (১৯৮৩)
পুরস্কার

বাংলা একাডেমী পদক (১৯৮২)
একুশে পদক (২০০১)
স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৬)


 প্রচ্ছদ সাহিত্য

 

 প্রেমের কবিতায়

১. শুধু তোমার জন্য

 

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে

গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।

তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও

কতবার যে আমি সে কথা বলিনি

সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য

দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম

আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবে-

`এই ওঠো,

আমি, আ…মি…।`

আর অমি এ-কী শুনলাম

এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে

কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে

কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

আমার চুল পেকেছে তোমার জন্য,

আমার গায়ে জ্বর এসেছে তোমার জন্য,

আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য।

তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে,

আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য। শুধু তোমার জন্য।

 

 

 

২. তোমার চোখ এতো লাল কেন?

 

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই

কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,

শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।

বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই

কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে

কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না।

আমি জানি এই ইলেকট্রিকের যুগ

নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী-সেবার দায় থেকে।

আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক-

আমার জল লাগবে কিনা, আমার নুন লাগবে কিনা,

পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরোও একটা

তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কিনা।

এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই

কেউ একজন ভেতর থেকে আমার ঘরের দরোজা

খুলে দিক। কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।

কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে

জিজ্ঞেস করুক- তোমার চোখ এতো লাল কেন?

 

 

 

৩. পূর্ণিমার মধ্যে মৃত্যু

 

একদি চাঁদ উঠবে না, সকাল দুপুরগুলো

মৃতচিহ্নে স্থির হয়ে রবে;

একদিন অন্ধকার সারা বেলা প্রিয় বন্ধু হবে,

একদিন সারাদিন সূর্য উঠবে না।

 

একদি চুল কাটতে যাব না সেলুনে

একদিন নিদ্রাহীন চোখে পড়বে ধুলো।

একদিন কালো চুলগুলো খ’সে যাবে,

কিছুতেই গন্ধরাজ ফুল ফুটবে না।

 

একদিন জনসংখ্যা কম হবে এ শহরে,

ট্রেনের টিকিট কেটে

একটি মানুষ কাশবনে গ্রামে ফিরবে না।

একদিন পরাজিত হবো।

 

একদিন কোথাও যাব না, শূন্যস্থানে তুমি

কিম্বা অন্য কেউ বসে থেকে বাড়াবে বয়স।

একদিন তোমাকে শাসন করা অসম্ভব ভেবে

পূর্ণিমার রাত্রে মরে যাব।


৪. 
আবার যখনই দেখা হবে

আবার যখনই দেখা হবে, আমি প্রথম সুযোগেই
বলে দেব স্ট্রেটকাটঃ ‘ভালোবাসি’।
এরকম সত্য-ভাষণে যদি কেঁপে ওঠে,
অথবা ঠোঁটের কাছে উচ্চারিত শব্দ থেমে যায়,
আমি নখাগ্রে দেখাবো প্রেম, ভালোবাসা, বক্ষ চিরে
তোমার প্রতিমা। দেয়ালে টাঙ্গানো কোন প্রথাসিদ্ধ
দেবীচিত্র নয়, রক্তের ফ্রেমে বাঁধা হৃদয়ের কাচে
দেখবে নিজের মুখে ভালোবাসা ছায়া ফেলিয়াছে।

এরকম উন্মোচনে যদি তুমি আনুরাগে মুর্ছা যেতে চাও
মূর্ছা যাবে,জাগাবো না,নিজের শরীর দিয়ে কফিন বানাবো।

‘ভালোবাসি’ বলে দেব স্ট্রেটকাট, আবার যখনই দেখা হবে।


৫.
আসমানী প্রেম

নেই তবু যা আছের মতো দেখায়
আমরা তাকে আকাশ বলে ডাকি,
সেই আকাশে যাহারা নাম লেখায়
তাদের ভাগ্যে অনিবার্য ফাঁকি !

জেনেও ভালোবেসেছিলাম তারে ,
ধৈর্য ধরে বিরহ ভার স’বো ;
দিনের আলোয় দেখাবো নিষ্প্রভ
জ্বলবো বলে রাতের অন্ধকারে ।

আমায় তুমি যতোই ঠেলো দূরে
মহাকাশের নিয়ম কোথায় যাবে ?
আমি ফিরে আসবো ঘুরে ঘুরে
গ্রহ হলে উপগ্রহে পাবে !

মাটি হলে পাবে শস্য- বীজে
বাতাস হলে পাবে আমায় ঝড়ে !
মৃত্যু হলে বুঝবে আমি কি যে ,
ছিলেম তোমার সারাজীবন ধরে !

৬. 
মোনালিসা

চোখ বন্ধ করলে আমি দেখতে পাই
সদ্য-রজঃস্বলা এক কিশোরীরে−
যে জানে না, কী কারণে হঠাৎ এমন
তীব্র তুমুল আনন্দ-কাতরতা
ছড়িয়ে পড়েছে তার নওল শরীরে।

মনুর ভাষায় গৌরী, এইটুকুনু মেয়ে
চমকে ওঠে নিজের পানে চেয়ে−
দেখে তার অঙ্গজুড়ে ফুলের উৎসব।
মনে হয় ছড়িয়ে পড়েছে মর্ত্যে
নার্গিস আর বার্গিসের স্বর্গপুষ্পঘ্রাণ।
মাকে ডেকে মেয়েটি শুধায়−
‘আমার শরীরে ফুলের সৌরভ কেন?
মেয়েরা বুঝি ফুলের উদ্যান?’

মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে মা বলেন,
‘বোকা মেয়ে, কিচ্ছু বোঝে না,−আয়,
আজ আমি কুসুমগরমজলে
তোকে নিজ হাতে গোসল করাব।’
মা’র বুকে মাথা পেতে মেয়েটি তখন
নিজেই কখন যেন মা হয়ে যায়।

এই লাভাস্রোত, এই সঙ্গকাতরতা
তাকে শেষে কোথায় ভাসিয়ে নেবে
জানে না সে; বোঝে না সে
তার বৃক্ষপত্রে কার হাওয়া লাগে?
অগ্নিকুন্ডে বায়ুর মতন ছুটে এসে
কে তাকে জড়াবে আদরে, সোহাগে?

জানে না সে, বোঝে না সে তার চোখে,
ঠোঁটে, তলপেটে, ঘুমভাঙা স্তনে
জেগেছে যে ঢেউ তার গন্তব্য কোথায়?
আনন্দ পুরুষে? নাকি আনন্দ সন্তানে?

এইসব দেহতত্ত্ব জানার আগেই,
এইসব গূঢ় গোপন রহস্যভেদ
হওয়ার আগেই
আষাঢ়ের এক বৃষ্টিভেজা রাতে
মোনালিসার বিয়ে হয়ে গেল−
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সাথে।

লিওনার্দো অতঃপর দীর্ঘ রাত্রি জেগে
জীবনের শেষ রং দিয়ে
তাঁর প্রিয়তমা তরুণী ভার্যা
মোনালিসাকে ক্যানভাসে আঁকলেন।

শিল্পের ঔরসে মোনালিসা গর্ভবতী হলে
স্বর্গ থেকে মখলুকাতে পুষ্পবৃষ্টি হলো।
সিন্ধুর বিজয়রথ পশিল নদীতে−
শান্ত হলো ক্ষিপ্তোন্মত্ত সমুদ্রের জল।

মোনালিসা, য়ুরোপের প্রথম রমণী−
পুরুষের কান্ড দেখে হাসে।

৭.
দু’জনের ভাত

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে
মনে কি পড়ে না? পড়ে ।
ভালো কি বাসি না? বাসি ।
শ্লথ টেপ থেকে সারা দিন জল ঝরে,
সেই বেনোজলে এঁটো মুখ ধুয়ে আসি ।

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে
প্রেম কি জাগে না? জাগে ।
কিছু কি বলি না? বলি ।
তিতাস শিখায় যতটুকু তাপ লাগে,
অনুতাপে আমি তার চেয়ে বেশি গলি ।

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে
আমি কি কাঁদি না? কাঁদি ।
কাঁচা কাকরুল ভাজার কবিতা লেখি,
বড়-ডেকচিতে দু’জনের ভাত রাঁধি ।

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে-খেতে
কিছু কি ভাবি না? ভাবি ।
ভেবে কি পাই না? পাই ।
তবু কি ফুরায় তুমি-তৃষ্ণার দাবী?
ভাত বলে দেয়, তুমি নাই, তুমি নাই ।

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆



 

Sunday, 20 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। বিক্রম শেঠ ২০.০৬.২০২১. Vol -409. The blogger in literature e-magazine



বিক্রম শেঠ ।

শেঠের জন্ম ১৯৫২ সালের ২০ জুন কলকাতায়। 
তাঁর বাবা প্রেম নাথ শেঠ বাটা জুতোর নির্বাহী ছিলেন এবং প্রশিক্ষণ দ্বারা ব্যারিস্টার তাঁর মা লীলা শেঠ দিল্লী হাইকোর্টের প্রথম মহিলা বিচারক এবং ভারতের এক রাজ্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন প্রথম মহিলা। 
তিনি পাটনার সেন্ট জেভিয়ার্স উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং তার পরে দেরাদুনের দুন স্কুলে যান, সেখানে তিনি দুন স্কুল সাপ্তাহিকের সম্পাদকীয় প্রধান ছিলেন। 
দুনে, তিনি তাঁর শিক্ষক পর্বতারোহণ গুরুদয়াল সিং দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যিনি তাকে ভূগোল শেখাতেন এবং লীলা শেঠের মতে, "বিক্রমকে বিভিন্ন উপায়ে পরিচালিত করেছিলেন ... তাকে পশ্চিমা ধ্রুপদী সংগীতের প্রশংসা করতে উত্সাহিত করেছিলেন এবং তাঁর মধ্যে সাহসিক ভালবাসার জন্ম দিয়েছিলেন এবং সাহসী। " পরে সিং শেঠকে" অনিবার্য কর্মী বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং পড়াশোনায় তিনি তার স্বতন্ত্র স্তরটি অসুবিধা ছাড়াই বজায় রেখেছেন ... তিনি স্কুল জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে, নাটকীয়তায়, বিতর্কে প্রচুর পরিমাণে শক্তি রেখেছেন। 
, প্রাথমিক চিকিত্সা, সংগীত এবং দুন স্কুল সাপ্তাহিক সম্পাদনায়। " দুন থেকে স্নাতক শেষ করার পরে শেঠ তার এ-স্তরগুলি সম্পন্ন করার জন্য ইংল্যান্ডের টনব্রিজ স্কুলে গিয়েছিলেন। 
পরে তিনি কর্পাস ক্রিস্টি কলেজে দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি পড়েন.পরে তিনি করপাস ক্রিস্টি কলেজ, অক্সফোর্ডে দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি পড়েন। তারপরে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে যদিও এটি কখনও শেষ করেনি .
শেঠ কবিতার আটটি বই এবং তিনটি উপন্যাস প্রকাশ করেছেন। ১৯৮০ সালে তিনি ম্যাপিংস লিখেছিলেন, তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 1,409 পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস অ্যা সুব্যাটেবল বয় এর প্রকাশনা সেথকে জনসাধারণের আলোকে প্ররোচিত করেছিল। 
এটি ২০২০ সালে বিবিসি টেলিভিশন নাটক মাইনারিগুলিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। 
তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস, অ্যান ইক্যুয়াল মিউজিক, একজন বেহালা অভিনেতার ঝামেলা প্রেম-জীবন নিয়ে কাজ করে। 
২০০৫ সালে প্রকাশিত শেঠের কাজ টু লাইভস তাঁর বড় মামা এবং খালার বিয়ের স্মৃতিফলক।

গোল্ডেন গেট ছাড়াও শেঠ ম্যাপিংস (1980), দ্য নম্র প্রশাসকের বাগান (1985), অল ইউ হু স্লিপ টুনাইট (1990) এবং তিনটি চীনা কবি (1992) সহ অন্যান্য কবিতা রচনা করেছেন। 
তাঁর বাচ্চাদের বই, বিস্টলি টেলস ফ্রম হিয়ার অ্যান্ড ওভার (1992) এ প্রাণী সম্পর্কে 10 টি গল্প রয়েছে of 
তিনি একটি ভ্রমণ বই লিখেছেন, ফ্রম হেভেন লেক: ট্র্যাভেলস থ্রি সিঙ্কিয়াং এবং তিব্বত (১৯৮৩), তিব্বত, চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে ভ্রমণের বিবরণ। 
গ্রীক কিংবদন্তি আরিয়ন এবং ডলফিনের উপর ভিত্তি করে একটি লাইব্রেটো রচনার জন্য তাকে ইংলিশ ন্যাশনাল অপেরা দ্বারা কমিশন করা হয়েছিল। 
১৯৯৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো অপেরা পরিবেশিত হয়েছিল।


একটি উপযুক্ত ছেলে, একটি উপযুক্ত বালিকা, এর সিক্যুয়ালটি ২০০৯ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল।

শেঠের প্রাক্তন সাহিত্যের এজেন্ট গাইলস গর্ডন সেইথের জন্য শেঠের সাক্ষাত্কারের কথা স্মরণ করে বলেছিলেন, "বিক্রম লম্বা টেবিলের এক প্রান্তে বসেছিল এবং সে আমাদের গ্রিল করতে শুরু করে। এটি একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল। তিনি আমাদের সাহিত্যের স্বাদ, কবিতা সম্পর্কে আমাদের মতামত জানতে চেয়েছিলেন, 
নাটকগুলি সম্পর্কে আমাদের মতামত, যা আমরা পছন্দ করেছি ঔপন্যাসিক "
পরে শেঠ গর্ডনের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে তিনি বাণিজ্যিক বিবেচনার কারণে নয়, বরং অন্যদের বিপরীতে তিনিই ছিলেন একমাত্র এজেন্ট যিনি তাঁর অন্যান্য লেখার মতো তাঁর কবিতায় আগ্রহী বলে মনে হয়েছিল। 
সেথ "সেই বইটির জন্য হাস্যকর অগ্রিম" (একটি উপযুক্ত ছেলের জন্য 250,000 ডলার)  আন ইক্যুয়াল মিউজিকের জন্য 500,000 ডলার এবং টু লাইভের জন্য 1.4 মিলিয়ন ডলার হিসাবে বর্ণনা করেছেন সেটিকে অনুসরণ করেছিলেন ।
তিনি গর্ডনের 2005 স্মৃতিসৌধে তাঁর সম্বোধনের জন্য একটি অ্যাক্রোস্টিক কবিতা প্রস্তুত করেছিলেন ।


শেঠকে 2001 সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্ডার অফ কমান্ডার করা হয়।

ম্যাপিংস এবং বিস্টলি টেলসের মতো শেঠের কবিতা সংগ্রহগুলি ভারতীয় ইংরেজি ভাষার কাব্য ক্যাননে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে ।

Novel :
The Golden Gate (1986)
A Suitable Boy (1993)
An Equal Music (1999)

Poetry
Mappings (1980)
The Tale Of Melon City (1981)
The Humble Administrator's Garden (1985)
All You Who Sleep Tonight (1990)
Beastly Tales (1991)
Three Chinese Poets (1992)
The Frog and the Nightingale (1994)
Summer Requiem: A Book of Poems (2015)
A Doctor’s Journal Entry for August 6, 1945
Children's fiction Edit
Arion and the Dolphin (1994)
Non-fiction Edit
From Heaven Lake: Travels Through Sinkiang and Tibet (1983)
Two Lives (2005)
The Rivered Earth (2011)[18]
Appearances in poetry anthologies Edit
The Golden Treasure of Writers Workshop Poetry. Ed. Rubana Huq. Calcutta: Writers Workshop, 2008.
The Oxford India Anthology of Twelve Modern Indian Poets. Ed. Arvind Krishna Mehrotra. New Delhi: Oxford University Press, 1992..

Awards 
1983 – Thomas Cook Travel Book Award for From Heaven Lake: Travels Through Sinkiang and Tibet
1985 – Commonwealth Poetry Prize (Asia) for The Humble Administrator's Garden
1988 – Sahitya Akademi Award for The Golden Gate
1993 – Irish Times International Fiction Prize (shortlist) for A Suitable Boy
1994 – Commonwealth Writers Prize (Overall Winner, Best Book) for A Suitable Boy
1994 – WH Smith Literary Award for A Suitable Boy
1999 – Crossword Book Award for An Equal Music
2001 – Order of the British Empire, Commander
2001 – EMMA (BT Ethnic and Multicultural Media Award) for Best Book/Novel for An Equal Music
2005 – Pravasi Bharatiya Samman
2007 – Padma Shri in Literature & Education[24]
2013 – NDTV's 25 Greatest Global Living Legends In India
একজন ভারতীয় ঔপন্যাসিক এবং কবি । তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও কবিতার বই লিখেছেন।

,∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

Saturday, 19 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। সালমান রুশদি। ১৯.০৬.২০২১. Vol -408. The blogger in literature e-magazine


সালমান রুশদি

 তাঁর জন্ম ১৯ জুন, ১৯৪৭ মুম্বই । ১ম স্ত্রী পদ্মা লক্ষী (বিবাহ. ২০০৪–২০০৭) ২য় এলিজাবেথ ওয়েস্ট সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৯৭সালে ২০০৪),সন্তান - জাফর রুশদি ও মিলান রুশ।

                    ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস বিশ্বব্যাপী একটি বড় আকারের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। বইটি প্রকাশের পর বেশ কয়েকটি দেশের মুসলিমরা প্রতিবাদ জানায় যা অনেক সময় সহিংস রূপ ধারণ করে। তাকে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়। ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এই বই রচনার জন্য ১৯৮৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিল।

রুশদি ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে ফ্রান্সের Ordre des Arts et des Lettres-এর একজন কমান্ডার মনোনীত হন।২০০৭ সালের জুন মাসে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে নাইট ব্যাচেলর উপাধিতে ভূষিত করেন। ২০০৮ সালে দ্য টাইমস ১৯৪৫ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যের সেরা ৫০ জন সাহিত্যিকের তালিকায় তাকে ১৩তম স্থান প্রদান করে।

২০০০ সালের পর থেকে রুশদি মূলত নিউ ইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কোয়ার এলাকায় বাস করে আসছেন। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অবস্থিত ইমোরি ইউনিভার্সিটিতে ডিস্টিংগুইশড রাইটার ইন রেসিডেন্স হিসেবে ৫ বছরের জন্য কাজ শুরু করেন।২০০৮ সালের মে মাসে তাকে অ্যামেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস এর একজন সম্মানসূচক বিদেশী সদস্য পদ প্রদান করা হয়।

২০১০ সালের নভেম্বরে তার রুকা অ্যান্ড দ্য ফায়ার অফ লাইফ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। সে বছরেরই শুরুর দিকে তিনি আত্মজীবনী রচনা শুরু করেছেন বলে ঘোষণা দেন.

সিনেমা  

মিডনাইটস চিলড্রেন, Bridget Jones's Diary, Then She Found Me,

পুরস্কার:

 ম্যান বুকার পুরস্কার, Costa Novel Award, The Best of the Booker, 

আহমেদ সালমান রুশদি একজন ব্রিটিশ ভারতীয় ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন ১৯৮১ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার অর্জন করেছিল। তার লেখার অনেকটা অংশ জুড়েই থাকে ভারতীয় উপমহাদেশ। বলা হয়ে থাকে যে তিনি জাদু বাস্তবতার সাথে ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী একত্রিত করে লিখেন। 

প্রথম পাতাকলকাতাপশ্চিমবঙ্গদেশবিদেশসম্পাদকের পাতাখেলাবিনোদনজীবন+ধারাজীবনরেখাফোটোব্যবসাঅন্যান্য

লুকিয়ে বাঁচতে চাই না: রুশদি

সংবাদ সংস্থা 

প্যারিস ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০১:২০



এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর

কেটে গিয়েছে কয়েকটা দশক। ১৯৮৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর নামে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিলেন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনি। অপরাধ— ‘ধর্মদ্রোহ’। তাঁর কলম থেকেই যে বেরিয়েছিল ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’। খোমেইনি মারা গিয়েছেন, কিন্তু ‘ফতোয়া’ জারি থেকেছে বছরের পর বছর। সেই সময়ের সেই আতঙ্কের দিনগুলো নিয়ে প্যারিসে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন সলমন রুশদি। বললেন, ‘‘এ ভাবে লুকিয়ে বাঁচতে চাই না।’’

              ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই লেখক ১৩ বছর বেনামে কাটিয়েছেন। প্রতিনিয়ত পুলিশি পাহারায় কার্যত ‘বন্দি’ থেকেছেন। রুশদি সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘‘তখন ৪১ বছর বয়স ছিল। আর আজ আমি ৭১। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ঠিক।’’ ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ‘ছদ্মনামে’র জীবন থেকে বেরিয়ে আসেন রুশদি। তার বছর তিনেক আগেই তেহরান ঘোষণা করেছিল, লেখকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। রুশদি এ দিন বলেন, ‘‘আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বাস করি, যেখানে সব কিছু খুব দ্রুত বদলে যায়। এটা অনেক পুরনো একটা বিষয়। এখন ভয় পাওয়ার মতো আরও অনেক কারণ গজিয়ে উঠেছে। আরও অনেক লোক রয়েছেন, যাঁদের মাথার উপরে খাড়া ঝুলছে।’’ গত বিশ বছর ধরে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা রুশদি। সম্প্রতি পূর্ব ফ্রান্সে একটি বই-উৎসবে তিনি বলেছিলেন, ‘‘এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন কাটাই।’’ যদিও প্যারিসে এই সাক্ষাৎকার চলাকালীন ফরাসি প্রকাশকের দফতরের বাইরে পুলিশি পাহারা ছিল।

আমরা বাবা-মায়ের কথা শুনতাম, মসজিদে যেতে হবে বললে যেতাম। কিন্তু আমাদের একটা গোপন দ্বিতীয় জীবন ছিল। আমরা পার্টি করতাম, গাঁজা খেতাম, মেয়েদের সাথে বেড়াতে যেতাম এবং সম্ভব সবকিছুই করতাম।"

তখন আমি বাদামি চামড়ার বন্ধু চাইতাম না। আমার সব বন্ধুই ছিল শ্বেতাঙ্গ, উদার, সমাজের মূল ধারার - সেটাই ছিল আমার জগৎ।" তার ছাত্রজীবন ছিল খুবই আনন্দের, তার সঙ্গী ছিল মিউজিক, নাচ, ক্লাব ইত্যাদি

সাংবাদিক ইয়াসমিন স্যাটানিক ভার্সেস বইটি পড়লেন।


"আমি অবমাননা বোধ করিনি, আমি সে ধরণের মুসলিম নই। কিন্তু আমি ভাবলাম, সে কেন এটা করলো? আমার মনে হলো যে এটাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটা উস্কানি দেয়া হচ্ছে" - বললেন তিনি।


যখন বইটি পোড়ানো শুরু হলো, তখন ইয়াসমিনের শ্বেতাঙ্গ বন্ধুরা অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেন।


"খুব দ্রুতই এটা 'ওরা এবং আমরা' এমন একটা ব্যাপারে পরিণত হলো। কোন ডিনার পার্টিতে আমি রুশদীর ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ করলে লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে যেতো। কঠিন একটা অবস্থার সৃষ্টি হলো।"


ইয়াসমিন বলছিলেন, তার জন্য এটা একটা 'ঘুম ভেঙে জেগে ওঠার মত' ব্যাপার হলো।


"আমি একজন মুসলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলাম। আমি বললাম, আমি মুসলিম, আমার মা মুসলিম, পরিবার মুসলিম। শ্বেতাঙ্গ উদারপন্থীরা - যাদের সাথে আমি কাজ করতাম - তারা অবাক হলো। তারা কখনো আমাকে এভাবে দেখেনি। তাদের জন্য এটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠলো।"


∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

Friday, 18 June 2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। সুনয়নী দেবী। ১৮.০৬.২০২১. Vol -407. The blogger in literature e-magazine



"স্টেলা ক্রামরিশের মতে, ভারতের প্রথম আধুনিক চিত্রশিল্পী। পশ্চিমি দুনিয়ায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। তবু, ক’জন মনে রেখেছে তাঁকে? "
                      (জয়িতা বাগচি)
                   সুনয়নী দেবী

"ছবি যা দেখেছি তা আমার ছোট পিসিমার ঘরে।…কি সুন্দর ঘরটি তাঁর। কতরকমের ছবি, দেশী ধরণের অয়েল পেন্টিং, শ্রীকৃষ্ণের পায়েস ভক্ষণ…হুবহু কথক ঠাকুরের ছবি।…কেষ্টনগরের পুতুলই বা কতরকমের ছিল সেই ঘরে। ‘অন্তঃপুরের মেয়ে সুনয়নীর মনেও নিশ্চয় এই ছবিগুলো বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল।"
                      (অবনীন্দ্রনাথ )
            দুই দাদাকে দক্ষিণের বারান্দায় বসে ছবিতে মগ্ন থাকতে দেখে বড় হওয়া বালিকাটি যে কখন নিজের হাতে তুলি তুলে নিয়েছিলেন তার খবর কেউ রাখেনি। কিন্তু একদিন তাঁর আঁকা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন গগনেন্দ্রনাথ।
তখনকার দিনে অবশ্য আঁকা ছড়িয়ে পড়ছিল ঘরে ঘরে। বিশেষ করে, ঠাকুর পরিবারের মেয়েরা রীতিমতো আঁকার চর্চা করতেন। কিন্তু সেগুলো ছিল অনুকরণ। সুনয়নী সর্বপ্রথম সেখান থেকে বেরলেন। যা দেখলেন, তার সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন নিজস্ব দৃষ্টি। তাই তাঁর আঁকা প্রতিটা ছবিই হয়ে উঠল তাঁর মতো সহজ, স্নিগ্ধ, মায়াময়। সেখানে কোনো আতিশয্য নেই। আর এই ব্যাপারটাই নজর কাড়ল অবনীন্দ্রনাথেরও। ‘অর্ধনারীশ্বর’ আঁকার পর গগনেন্দ্রনাথ, দাদাকে গিয়ে বলেন সুনয়নীকে একটা সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার জন্য। উত্তরে অবনীন্দ্রনাথ বলেছিলেন -" সুনয়নীকে তিনি কি সার্টিফিকেট দেবেন, সুনয়নী তাঁর আঁকার মধ্যে দিয়ে সে সার্টিফিকেট নিজেই আদায় করে নেবেন। সেকথা সত্য হয়েছিল।"
      নিয়মিত ছবি আঁকার শুরু তাঁর ত্রিশ বছর বয়সে। সেকালের প্রথা অনুযায়ী বারো বছর বয়সে তাঁর বিবাহ হয় রাজা রামমোহন রায়ের দৌহিত্র রজনীমোহন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ৫ নম্বর বাড়ীতেই থাকতেন রজনীমোহন-সুনয়নী। শুরু দেরিতে হলেও সুনয়নীর একনিষ্ঠতা ছিল আশ্চর্যের।

১৮৭৫ সালের ১৮ই জুন সুনয়নী দেবী ভারতের সম্ভ্রান্ত ঠাকুর পরিবারের গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সৌদামিনী দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রপৌত্র এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৃতীয় ভ্রাতা গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্র। সে দিক থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পিতৃব্য ছিলেন। বারো বছর বয়সে রজনীমোহন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন। চিত্রশিল্প বা শিল্পের যে কোন আঙ্গিকেই তাঁর কোন প্রথাগত শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও তিনি একজন নারী হিসেবে যে শিল্প ক্ষেত্রে তাঁর কাজ সুসম্পাদিত করেন সে তথ্য পার্থ মিত্রের বই 'দ্য ট্রায়াম্ফ অফ মর্ডানিজম্ : ইন্ডিয়া'জ্ আর্টিস্ট অ্যান্ড দ্য অ্যাভান্ট্ গ্রেড' (১৯২২-১৯৪৭) থেকে জানতে পারি।


'বেঙ্গল আর্ট স্কুল' এর একজন প্রকৃত প্রাচীন চিত্রশিল্পী হওয়ার অনুপ্রেরণায় তিনি লোক পট আঁকেন যা ঠাকুর বাড়ির মহিলাদের মধ্যে খুবই প্রচলিত ও গৃহস্থালিসংক্রান্ত বিষয় ছিল।

সকাল আটটা বাজলেই শুরু করতেন ছবি আঁকা। চলত দুপুর পর্যন্ত। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার তিনটে থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত আঁকতেন। এই নিষ্ঠার সঙ্গে ছিল নিজস্ব এক দৃষ্টিভঙ্গি। এই দুয়ের মিলনে সুনয়নীর ছবি স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে। সেকালের অভিজাত পরিবারের অনেক মেয়েই ছবি এঁকেছেন। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেও ছবি

আঁকতেন অনেকে। কিন্তু স্বভাবত স্বতন্ত্র ছিলেন সুনয়নী। অবনীন্দ্রনাথ একবার বলেছিলেন, ‘শিল্প হচ্ছে শখ। যার সেই শখ ভিতর থেকে এল সেই পারে শিল্প সৃষ্টি করতে'। সেই অর্থে সুনয়নী ছিলেন যথার্থ শিল্পী। অবনীন্দ্রনাথের মতো জাপানি ওয়াশ পদ্ধতিতে ছবি আঁকতেন সুনয়নী দেবী। স্বতোৎসারিত প্রাকৃতিক অনাবিল আনন্দময় ছিল তাঁর ছবির জগৎ।

সুনয়নী দেবীর ছবি নিয়ে প্রথম উল্লেখযোগ্য আলোচনা করেন শিল্প ইতিহাসবিদ স্টেলা ক্র্যামরিশ। তাঁর মতে, সুনয়নী ভারতের প্রথম আধুনিক মহিলা চিত্রশিল্পী। তাঁর আঁকা ছবির বিষয়বস্তু একান্ত দেশজ। যে ‘ভারত শিল্প’-কে খুঁজেছেন অবনীন্দ্রনাথ সেই শিল্পরূপ তার সমস্ত নিজস্বতা নিয়ে সুনয়নীর আঁকায় ফুটে উঠেছে।

তিনি প্রথম যিনি পটচিত্রের আঙ্গিকে ছবি এঁকেছেন। অর্ধনিমীলিত টানা দীঘল চোখ পটের ছবির প্রধান বৈশিষ্ট্য, সুনয়নীর ছবিতেও তা আছে। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, কথকতা, রূপকথার স্বপ্নময় জগত তাঁর ছবিতে ধরা পড়েছে। শিব, কৃষ্ণ, লক্ষ্মী, হরপার্বতী, রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি, অর্ধনারীশ্বর, সতীর দেহত্যাগ ইত্যাদির সঙ্গে আত্মপ্রতিকৃতিও এঁকেছেন সুনয়নী। তাঁর ছবির সারল্য, কোমল পেলবতা, স্নিগ্ধ রঙের খেলা সেকালের অনেক সমালোচকদের মুগ্ধ করেছিল।


 
১৯০৮ ও ১৯১১ সালে এদেশে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয়। স্টেলা ক্র্যামরিশের উদ্যোগে ১৯২৫ সালে জার্মান আর্ট ম্যাগাজিন Der Cicerone-এ ছাপা হয়েছিল সুনয়নী দেবীর আঁকা ছবি। ১৯২৭ সালে লন্ডনের উইমেন্স ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ক্লাব আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে তাঁর আঁকা প্রদর্শিত হয়েছিল। তাঁর ছবিতে আধুনিকতা আর চিরকালীন ভারতসত্তা এমনভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে যে তাঁকে এক আধুনিক সমালোচক ‘ন্যাশনালিস্ট আর্টিস্ট’ বলে অভিহিত করেছেন।

সুনয়নী শিল্পচর্চা করেছেন প্রাণের আনন্দে। কোনো নতুন ধারার সৃষ্টিতে তাঁর আগ্রহ ছিল না। ছবি নিয়ে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষাও তিনি করেননি। কিন্তু তাঁর ছবিতেই প্রথম ভারতীয় লোককথা, পুরাণের নিজস্ব ঐতিহ্য এক ভারতীয় নারীর দৃষ্টিতে প্রকাশিত হল। সেখানেই তাঁর অভিনবত্ব। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতাও লিখতেন সুনয়নী।

এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন যে তাঁর বেশীরভাগ ছবির বিষয়বস্তুই স্বপ্নে পাওয়া। সেই স্বপ্নময় জগত থেকে তিনি সরে গেলেন তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর। তাঁর প্রথম ছবি থেকে শেষ ছবির মধ্যে কোনও উত্তরণ নেই। তবু অল্পদিনের শিল্পচর্চায় ভারতীয় ছবির ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র ধারা তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। 

১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারির ২৩ তারিখে প্রয়াত হন সুনয়নী দেবী।


উনবিংশ শতকের রক্ষণশীল সমাজের নানা নিষেধ সত্ত্বেও  বদল ঘটছিল সমাজের বুকে। আর এই পুরো ছবিতে প্রবলভাবে উঠে আসছিল একটি বিশেষ পরিবার। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি। দ্বারকানাথ, দেবেন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে সত্যেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ— উঠে আসতে থাকে একের পর এক ব্যক্তিত্ব।
দু’শো বছর আগের অজ্ঞাতপরিচয় বাঙালির আঁকা ছবি, জায়গা পাচ্ছে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে
তবে এ তো গেল একটি দিকের কথা। অন্যদিকে ছিলেন ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা। প্রত্যেকেই নিজের নিজের মতো করে বদল আনার কাজটি করে গেছেন। কেউ লেখায়, কেউ নারী অধিকারের লড়াইতে, কেউ গানে-আঁকায় শুনিয়েছেন বাঁধ ভাঙার গান। ঠিক এই পরিস্থিতিতে উঠে আসেন সুনয়নী দেবী। রবীন্দ্রনাথের আদরের ‘গুনো দাদা’, অর্থাৎ গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ছোট মেয়ে রং-তুলির মধ্যেই খুঁজে নিয়েছিলেন নিজের জগত। কোনো আড়ম্বর না, কোনো আতিশয্য না; প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই নিজের মতো করে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। বলা ভালো, তিনিই ছিলেন বাঙালি মহিলা চিত্রশিল্পীদের পথিকৃৎ। 

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
           

শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ।‌ একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়   (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭)  একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ.  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...