Wednesday, 9 February 2022
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। বের্টল্ট ব্রেখট (জার্মান) Bertolt Brecht, ১০.০২.২০২২ .Vol -642. . The blogger in literature e-magazine
Tuesday, 8 February 2022
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী শৈল চক্রবর্তী। ০৯.০২.২০২২. vol -641. The blogger in literature e-magazine
শৈল চক্রবর্তী
আঁকা আয়ত্ত করতে তাঁর কোনও শিক্ষাগুরুর প্রয়োজন পড়েনি অথবা পা বাড়াতে হয়নি আর্ট কলেজের পথে। যেটা না থাকলেই নয়, সেই ‘অবজারভেশন’টাই ছিল তুখোড়। তা দিয়েই ১৯৩০-এর দিকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ইলাস্ট্রেশনের কাজ শুরু করেন। শুরুর দিকে ইলাস্ট্রেশনেই জোর দিয়েছিলেন তিনি। সেসময়ে বা তার আগে কমিক ছবির ক্ষেত্রে তাঁর মতো সফল কেউ ছিলেন না।
বাংলায় ‘স্ট্রিপ’ কার্টুনের প্রবর্তকও বলা চলে তাঁকে। একদিকে প্রতুলচন্দ্র লাহিড়ীর ‘খুড়ো’, অন্যদিকে শৈল চক্রবর্তীর ‘লিটল ডাকু’ –এই দু’টিই স্ট্রিপ কার্টুনের অগ্রগামী। টানা ষোল বছর ‘লিটল ডাকু’ অমৃতবাজারে জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছিল। শোনা যায়, এই ‘ডাকু’র সঙ্গে তাঁর ছেলে অভিনেতা-সাংসদ-চিত্রশিল্পী চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী’র শৈশব-মুখাবয়বে নাকি বেশ মিল ছিল। নিজের সন্তানদের মধ্যে সুনিপুনভাবে শৈল্পিক সত্ত্বার বীজ বপন করে দিয়েছিলেন শৈশব থেকেই। সে বিষয়ে এক সংবাদপত্রের প্রবন্ধে চিরঞ্জিৎ নিজে লিখেছিলেন, এক একদিন হত আঁকার ওয়ার্কশপ। বাবা ফিঙ্গার পেন্টিং করতে দিতেন আমাদের। পেনসিল, তুলি এ সব নিয়ে আঁকা মোটেই মুখের কথা নয়, তাই বলতেন ও সব নয়, ফিঙ্গার পেন্টিং করো। এটাও ছিল মায়ের জন্য আর এক ঝামেলার দিন। সে দিন মাকে এক হাঁড়ি অ্যারারুটের আঠা বানাতে হত। প্লেটে রং থাকত। সেই রং ওই আঠার সঙ্গে মিশিয়ে, আঙুলে নিয়ে গাছ, ফুল, পাখি আঁকা চলত। সত্যি, বাবার কাছ থেকে কত কী যে শিখেছি!
জন্ম ০৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৯ পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার আন্দুল মৌরিগ্রামে। পিতা উদয়নারায়ণ চক্রবর্তী ছিলেন আন্দুল হাইস্কুলের শিক্ষক। মাতার নাম রানি চক্রবর্তী। আন্দুল হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও হাওড়ার নরসিংহ কলেজ থেকে গণিতে অনার্স সহ বি.এসসি পাশ করেন। কোন আর্ট স্কুল বা কলেজে ভর্তি না হয়ে নিজের চেষ্টায় শিল্পকলায় স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠেন তিনি।
পড়াশোনা শেষ করে বাড়িতে প্রসাধন তৈরির একটা ছোট কারখানা বানিয়ে সাবান,আলতা, সিঁদুর তৈরি করে বাড়ি-বাড়ি বিক্রি করতেন প্রথমদিকে। কিন্তু তার সে ব্যবসা চলেনি। কলেজে পড়ার সময় থেকে কলকাতার পত্রপত্রিকা এবং লেখক শিল্পীদের সাথে তার যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। বন্ধু হিসাবে পেয়েছিলেন পরিমল গোস্বামী, সমর দে এবং প্রমথ সমাদ্দারকে। তাঁদের সাহচর্যে 'সচিত্র ভারত','যষ্টি মধু','যুগান্তর' প্রভৃতি পত্রিকায় তার আঁকা চিত্র প্রকাশিত হয় এবং অল্পদিনের মধ্যেই রসিকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দৈনিক বসুমতীর রবিবারের পাতায় শিবরাম চক্রবর্তীর কলম 'বাঁকা চোখে' তে তার কার্টুন ছিল পত্রিকার বড়ো আকর্ষণ। অমৃতবাজার,যুগান্তর, অমৃতবাজার, বসুমতী প্রভৃতি পত্রিকার সাময়িকী ও বিশেষ সংখ্যাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে ইলাসট্রেশনের কাজ করেছেন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে। তিনিই একমাত্র শিল্পী যিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় তার গল্পের - "ল্যাবরেটরি" র ইলাসট্রেশন করেন। ১৩৪৭ বঙ্গাব্দের শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকায় সেটি প্রকাশিত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের আর একটি গল্প ‘প্রগতি সংহার’-এরও ইলাসট্রেশন করেছিলেন তিনি । এছাড়াও সত্যজিৎ রায়ের প্রথম মুদ্রিত গল্প - 'বর্ণান্ধ' র ছবিও এঁকেছিলেন তিনি। শিবরাম চক্রবর্তীর বিভিন্ন গ্রন্থের অজস্র চরিত্রের চিত্রকর ছিলেন তিনি। শৈল চক্রবর্তীর তুলিতে শিবরাম চক্রবর্তীর সৃষ্ট চরিত্র 'গোবর্ধন' ও 'শিবরাম' ছবিতে এসেছে। অমৃতবাজার পত্রিকায় "Alias" নামে দীর্ঘদিন রবিবারের পাতায় 'কমিক স্ট্রিপ' পরিবেশ করেছেন। এতেই দেশি গল্প নিয়ে 'কমিক স্ট্রিপ' রচনার সম্ভাবনার পথ তিনিই দেখিয়েছিলেন। তার 'লিটিল ডাক' ছাড়াও স্ট্রিপ 'ডাকু সিরিজ' বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক শিল্পের পাঠ তার না থাকলেও তিনি তার পর্যবেক্ষণ শক্তি অর্থাৎ অবজারভেশন পাওয়ারের গুণে সুদীর্ঘকাল ব্যঙ্গচিত্র এঁকে গেছেন। এরপর তিনি কাহিনি সচিত্রকরণের কাজে হাত দেন। পুস্তক অলংকরণে তিনি দক্ষ ছিলেন। মধ্য যৌবনে ভাস্কর্যে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। রীতিমতো তালিম নিয়ে মূর্তি গড়া শিখেছিলেন। পুতুল তৈরি করে তাদের নিয়ে নাটক রচনা শুরু করেন এবং গড়ে তোলেন সংস্থা 'পুতুলরঙ্গম'। এর মাধ্যমে পুতুলনাটিকা মঞ্চস্থ করা শুরু করেন। একসময় তিনি বেঙ্গল গভর্নমেন্টের ডাইরেক্টরেট অব পাবলিক ইনফরমেশন বিভাগের আর্টিস্ট হিসাবে কাজ করেছেন। লেখক হিসাবেও তিনি কৃতি ছিলেন। 'যুগান্তর' পত্রিকায় তার মজাদার লেখা সায়েন্স ফিকশন প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -
"মানুষ এল কোথা থেকে'
'গাড়িঘোড়ার গল্প'
'ছোটদের ক্রাফ্ট'
তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় পঁচিশ।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির হল -
'বেজায় হাসি’
‘চিন্তাশীল বাঘ’
‘ঘটোৎকচ বিজয়’
‘স্বর্গের সন্ধানে মানুষ’
‘কার্টুন’
‘কৌতুক’
‘যাদের বিয়ে হল’
‘যাদের বিয়ে হবে’
‘আজব বিজ্ঞান’
‘চিত্রে বুদ্ধজীবন কথা’
‘বেলুন রাজার দেশে’
'গল্পকথার দেশে'
‘কালোপাখি’
‘টুলটুলির দেশে’
‘কৃপণের পরিণাম’
শেষ বয়সে তিনি জল ও তেল রং কে নিয়ে পেন্টিংয়ের দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং এই সময় তার বিষয় ছিল প্রকৃতি। ছবি নিয়ে বিদেশে গেছেন দুবার তার একক প্রদর্শনীর জন্য। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনেরো তে এবং ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার নিউ জার্সি তে।
'ছোটদের ক্রাফট' বইটির জন্য শৈল চক্রবর্তী শিশু সাহিত্যে ভারত সরকারের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেন।
শৈল চক্রবর্তী ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে র ১৪ অক্টোবর কলকাতায় প্রয়াত হন।
সেসময় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবোধ সান্যাল, রমেন মল্লিক প্রমুখ গুণীজনদের ‘রবিবাসয়ীয়’ নামে একটি ক্লাব ছিল। তাঁরা মাঝে মাঝে সভা করতে আসতেন শৈল চক্রবর্তীর বাড়িতে। শৈলবাবু সেখানে পাপেট শো করতেন। তাঁকে সমগ্র দেশের মর্ডান পাপেট্রির অগ্রণী বলা চলে। মন্দার মল্লিক এবং তিনি এ দেশে প্রথম ‘চ্যাঙা ব্যাঙা’ নামে একটি কার্টুন ফিল্ম বানিয়েছিলেন। শুরুতে যেমন ইলাস্ট্রেশন-এ জোর দিয়েছিলেন, তেমনই শেষের দিকে মন দিয়ে কাজ করতে চাইতেন পাপেট্রি নিয়ে। নিজেই বানাতেন পেপিয়ামেশি পুতুল(কাগজের পুতুল)। বাজনার সঙ্গে তালমিলিয়ে পুতুল নাচের প্রবর্তন শৈল চক্রবর্তীর হাত ধরেই হয়। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয় তাঁর পাপেট্রি। গড়ে তোলেন নিজের দল ‘পুতুল রঙ্গম’।
চক্রবর্তী ও চক্রবর্তী
শিবরামের গল্পশৈলী আর শৈলর চিত্রশৈলী ছিল সহোদর।
দুজনের নামের শুরু ‘শ’ আর পদবি ‘চক্রবর্তী’ হওয়ায় অনেকেই ভাবতেন এই দু’জন মানুষ বুঝি দুই ভাই।
শুধু তাই নয় শিবরাম চক্রবর্তীর যে কার্টুন প্রতিকৃতি শৈল চক্রবর্তী এঁকেছিলেন, সেটাই শিবরামের পরিচিত প্রতিকৃতি। মজার কথা হল, এক সঙ্গে কাজ করতে করতে শৈল চক্রবর্তীরও শিবরামের মতো ‘পান’-এর দোষ এসে গিয়েছিল।
তেমনই এক বর্ণনা আছে এক জায়গায়।
একদিন সকালে তিনি গেছেন শিবরামের মেসে। গিয়ে দেখেন শিবরাম যথারীতি তক্তপোশো উপুড় হয়ে শুয়ে। আর ঘরে নতুন আমদানি হয়েছে একটি ইজি চেয়ার।
শৈল শিবরামকে ডেকে তুলে বললেন, ‘‘এই ইজি চেয়ার বস্তুটি কী ভাবে আমদানি হল দাদা?’’
‘‘আহা ওটা ইজি চেয়ার নয়, মোস্ট আনইজি চেয়ার।’’
শিবরামের উত্তরে সেই চেয়ারের সামনে গিয়ে শৈল দেখলেন সত্যিই তাই। চেয়ারের মাঝখানে বসার জায়গাটার কাপড় ছিঁড়ে ফর্দাফাঁই। তাই কেউ দিয়ে গেছে বোধ হয়। আর শিবরামও অম্লানবদনে নিয়ে নিয়েছেন।
শৈলর দিকে তাকিয়ে শিবরাম বললেন, ‘‘দেখলেন তো ওটার পিঠস্থানটাই শুধু সুস্থ আছে।’’
শৈল উত্তর করলেন, ‘‘হ্যাঁ তবে সিটস্থান একেবারে শূন্য।’’
শিবরামের অনেক শিবরামীয় ঘটনার সাক্ষী ছিলেন শৈল চক্রবর্তী।
একবারের ঘটনা।
সাতসকালে শিবরাম এসে হাজির শৈলর বাড়িতে। হাতে একগোছা কাগজ। কাগজের বান্ডিলটা শৈলর সামনে নামিয়ে দিলে শিবরাম বললেন, ‘‘এই নিন, আমার পরের বইয়ের পাণ্ডুলিপি। সবকটা গল্পের ছবি করে দিন।’’
শৈল বললেন, ‘‘ঠিক আছে রেখে দিন, করে রাখব।’’
‘‘না না, আমার আজই চাই। আপনি করতে থাকুন। আজ আমি আপনার বাড়িতেই থাকব,’’ বলে শিবরাম নিশ্চিন্তে শৈলর স্ত্রীকে বললেন, ‘‘কই বউদি, এখন এক বাটি তৈলচর্চিত মুড়ি দিন। আর আমার দুপুরের আহারও এখানেই।’’
বেচারা শৈল গল্প পড়ে কাজ করতে শুরু করলেন। আর শিবরাম তেল দিয়ে মুড়ি মাখা খেয়ে তারপর স্নান করে দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে শৈলরই বিছানায় টেনে ঘুম।
বিকেলে কাজ শেষ হল।
ছবিগুলো হাতে দিয়ে শৈল জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘আচ্ছা শিবরামবাবু, আপনি নিজেই গল্পগুলো নিয়ে এলেন কেন? এগুলো তো প্রকাশকের কাজ।’’
‘‘আহা বোঝেন না কেন, আমার গল্প হল ছিপ আর আপনার ছবি হল চার। এবার তো প্রকাশক টপ করে গিলবে। আর ফেরাতে পারবে না। একেবারে নগদ বিদায় নিয়ে ছাড়ব।’’
শুনে শৈল হেসে অস্থির। আর শিবরাম রওনা দিলেন প্রকাশকের দফতরে।
=================================
শুভ জন্মদিনে শ্রদ্ধা। জুল ভার্ন। ০৮.০২.২০২২. Vol -639. The blogger in literature e-magazine
জুল ভার্ন
জন্ম ১৮২৮ সালে ০৮ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের পশ্চিমে বিস্কে উপসাগরের তীরে অবস্থিত নঁত নামের বন্দর শহরে। তার বাবা পিয়েরে ভার্ন, এবং মা সোফি অ্যালো দে লা ফুয়। তার শৈশবকাল কাটে এখানকার বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। তারা গ্রীষ্মকাল কাটাতেন নঁতের কাছেই ব্রে শহরে। সেখানে ভার্ন ও তার ভাই পল প্রায়ই এক ফ্রাঁ দিয়ে এক দিনের জন্য নৌকা ভাড়া নিতেন। ভার্নের মতে, নদীতে প্রচুর জলযানের চলাচলের দৃশ্য তার কল্পনাশক্তির স্ফুরণ ঘটায়। ১২ বছর বয়সে জাহাজের কেবিনবয় হিসেবে কাজ নিয়ে বাড়ী থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে মায়ের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন এখন থেকে নিজের মনের মধ্যেই ঘুরে বেড়াবেন। বাবার ইচ্ছায় আইন বিষয়ে পড়াশুনা করে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বেশ প্রসার লাভ করেন। অভিযানপ্রিয় জুল ভার্ন খুব দ্রুত বিরক্ত হন এ পেশার প্রতি এবং আইন ব্যবসা ছেড়ে পাড়ি জমান আমেরিকাতে ১৮৬৭ সালে।
সাহিত্যাঙ্গনে ভার্নের প্রবেশ ঘটে মঞ্চনাটক লেখার মাধ্যমে। তার লেখা মঞ্চনাটক বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তার লেখা প্রথম বই বেলুনে পাঁচ সপ্তাহ অত্যন্ত অবাস্তব বলে কোন প্রকাশক ছাপতে রাজী না হওয়ায় তিনি রেগে গিয়ে এর পাণ্ডুলিপি আগুনে পুড়িয়ে ফেলার সময় তার স্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা রক্ষা পায়। পরে এ বইটি প্রকাশিত হলে রাতারাতি প্রচন্ড জনপ্রিয়তা পায়। ব্যক্তিগত জীবনে প্রচণ্ড ঘরকুনো এই লেখক তার বাড়ীর চিলেকোঠায় বসেই লিখে গেছেন বিশ্বমাতানো সব কল্পবিজ্ঞান কাহিনী। তার সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে ফিলিয়াস ফগ্, ক্যাপ্টেন নিমো, রোবার ও ক্যাপ্টেন হ্যাটেরাস উল্লেখযোগ্য। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ও নানা সাহেবের ইতিহাস আশ্রিত তার উপন্যাস টাইগার্স এন্ড ট্রেটস-এ অবিভক্ত ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়। ।
রচনা কর্ম :
উপন্যাস
১৮৫৯ : ভোয়াইয়াজ আ রকুলোঁ অনংলতের এ অনেকস (Voyage à reculons en Angleterre et en Écosse)-- ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে পশ্চাৎমুখী ভ্রমণ--
১৮৬২ : ল্য কোঁত দ্য শঁতলেন (Le Comte de Chanteleine)-- শঁতলেনের কাউন্ট—The Count of Chanteleine
১৮৬৩ : সাঁক সমেন অঁ বালোঁ (Cinq semaines en ballon)-- বেলুনে পাঁচ সপ্তাহ-- Five Weeks in a Balloon
১৮৬০ : পারি ও ভাঁতিয়েম সিয়েক্ল (Paris au XXe siècle)-- বিংশ শতকের প্যারিস-- Paris in the Twentieth Century
১৮৬৪-১৮৬৭ : লেজাভন্তুর দু কাপিতেন আতেরা (Les Aventures du capitaine Hatteras) -- ক্যাপ্টেন হ্যাটেরাসের অভিযান-- The Adventures of Captain Hatteras
১৮৬৪ : ভোয়াইয়াজ ও সঁত্র্ দ্য লা তের (Voyage au centre de la Terre)-- ভূকেন্দ্রে অভিযান-- A Journey to the center of the Earth
১৮৬৫ : দ্য লা তের আ লা লুন (De la Terre à la Lune)-- পৃথিবী থেকে চাঁদে/ চাঁদে অভিযান (সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাম)-- From the Earth to the Moon
১৮৬৬-১৮৬৮ : লেজঁফঁ দু কাপিতেন গ্রঁ (Les Enfants du Capitaine Grant)-- ক্যাপ্টেন গ্রান্টের শিশুদের খোঁজে
১৮৬৯ : ভাঁত মিল লিও সু লে মের (Vingt mille lieues sous les mers)-- সাগরের তলে বিশ হাজার লিগ/ পাতাল অভিযান (সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাম)-- Twenty Thousand Leagues Under the sea
১৮৬৯ : ওতুর দ্য লা লুন (Autours de la Lune)-- চাঁদ প্রদক্ষিণ-- Around the Moon
১৮৭০ : লোঁক্ল্ রোবাঁসোঁ (১৯৯৩ সালে প্রকাশিত) (L'oncle Robinson)
১৮৭০-১৮৭৪ : ল শঁসেলর (Le Chancellor)-- The Chancellor
১৮৭০ : আভঁতুর দ্য ত্রোয়া রুস এ দ্য ত্রোয়া জংলে দঁ লাফ্রিক ওস্ত্রাল (Aventures de trois Russes et de trois Anglais dans l'Afrique australe)-- তিন ইংরেজ ও তিন রুশের দক্ষিণ আফ্রিকা অভিযান-- The Adventures of Three Englishmen and Three Russians in South Africa
১৮৭১ : উন ভিল ফ্লোতঁত (Une ville flottante]]-- ভাসমান শহর—The Floating City
১৮৭১-৭২ : Le Pays des fourrures-- --The Fur Countr
১৮৭২ : Le Tour du monde en quatre-vingts jours—আশি দিনে বিশ্বভ্রমণ—Around the World in Eighty Day
১৮৭৩-75 : L'Île mystérieuse—রহস্যময় দ্বীপ-- The Mysterious Islan
১৮৭৪-75 : Michel Strogoff—মাইকেল স্ট্রগফ (সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাম)-- Michael Strogof
১৮৭৪-৭৬ : Hector Servadac—ধূমকেতুতে চড়ে-- Hector Sarvadac/ Off on a Come
১৮৭৬-৭৭ : Les Indes noires—গুহার শিশুরা/ পাতাল শহর—The Black Indies/ Black Diamonds/ The Underground City/ The Children of the Caver
১৮৭৭-৭৮ : Un capitaine de quinze ans—পনের বছরের ক্যাপ্টেন-- Dick Sand, A Captain at Fiftee
১৮৭৮ : Les Tribulations d'un chinois en Chine—ট্রিবিলিউশন অফ অ্যা চাইনিজ জেন্টেলম্যান (সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাম)-- Tribulations of a Chinese Gentlema
১৮৭৯ : Les Cinq Cents Millions de la Bégum—বেগমের রত্নভান্ডার (সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাম)-- The Begum's Fortun
১৮৭৯ : La Maison à vapeur—বাষ্পঘর—The Steam Hous
১৮৮০ : La Jangada—আমাজনে আট হাজার লিগ-- Eight Hundred Leagues on the Amazo
১৮৮১ : L'École des Robinsons—রবিনসনদের জন্য বিদ্যালয়/ স্কুল ফর রবিনসন্স (সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত নাম
১৮৮১ : Le Rayon vert—সবুজ রশ্মি-- The Green Ra
১৮৮২ : Kéraban-le-Têtu—অনমনীয় কিরাবান --Kéraban the Inflexibl
১৮৮৩ : Archipel en feu—অগ্নি দ্বীপপুঞ্জ—The Archipelago of Fireey)neennntfdsy
১৮৮৩ : L'Étoile du sud-- --The Vanished Diamond
১৮৮৩-৮৪ : Mathias Sandorf-
১৮৮৪ : L'Épave du «Cynthia» (André Laurie এর সহায়তায়
১৮৮৫ : Robur le conquérant—সর্বাধিকারী রোবার—Robur the Conqueror/ The Clipper of the Cloud
১৮৮৫ : Un billet de loteri
১৮৮৫-৮৬ : Nord contre Su
১৮৮৫ : Le Chemin de Franc
১৮৮৬-৮৭ : Deux ans de vacance
১৮৮৭-৮৮ : Famille-sans-nom—নামবিহীন পরিবার-- Family Without a Nam
১৮৮৮ : Sans dessus dessous—উত্তর মেরুর ক্রয়—The Purchase of the North Pol
১৮৮৯ : Le Château des Carpates—কারপাথিয়ার প্রাসাদ--The Carpathian Castl
১৮৮৯ : César Cascabe
১৮৯০ : Mistress Branica
১৮৯১ : Claudius Bombarna
১৮৯১ : P'tit-Bonhomm
১৮৯১ : La Journée d'un journaliste américain en 289
১৮৯২ : Mirifiques aventures de maître Antife
১৮৯৩ : L'Île à hélic
১৮৯৩ : Un drame en Livonie (revu en 1903 et publié en 1904
১৮৯৪ : Le Superbe Orénoqu
১৮৯৪ : Face au drapea
১৮৯৫ : Clovis Dardento
১৮৯৫ : Le Sphinx des glace
১৮৯৬ : Le Village aérien (publié en 1901 sous le titre La Grande Forêt
১৮৯৬ : Seconde patrie)srue)er0ecnleeesedes)-
১৮৯৭ : Le Testament d'un excentrique
১৮৯৭-৯৮ : En Magellanie, le fils de Jules Verne a modifié le manuscrit de son père et l'a édité sous le nom de Les Naufragés du « Jonathan »
১৮৯৮ : Le Secret de Wilhelm Storitz (revu en 1901 et publié seulement en 1985)
১৮৯৮ : Les Frères Kip
১৮৯৯ : Les Histoires de Jean-Marie Cabidoulin
১৮৯৯ : Bourses de voyage
১৮৯৯-১৯০০ : Le Volcan d'or (publié seulement en 1989)
১৯০১ : Le Beau Danube jaune
১৯০১ : Le Phare du bout du monde—পৃথিবীর শেষ সীমান্তের বাতিঘর—The Lighthouse at the End of the World
১৯০১ : La Chasse au météore—সোনালি উল্কার পশ্চাদ্ধাবন—The Chase of the Golden Meteor
১৯০১ : Le Pilote du Danube—দানিয়ূবের নাবিক-- The Danube Pilot
১৯০২ : L'Invasion de la mer—সমুদ্র আক্রমণ—Invasion of the Sea
১৯০২-০৩ : Maître du Monde—পৃথিবীর রাজা-- Master of the World
Recueils de nouvelles সম্পাদনা
১৮৭৪ : Le Docteur Ox
১৯১০ : Hier et demain
Conte fantastique সম্পাদনা
১৮৫৪ : Maître Zacharius ou l'horloger qui avait perdu son âme
ফ্রান্স সাহিত্য অ্যাকাডেমি তাকে "অর্ডার অব মেরিট" সম্মানে ভূষিত করে। জুল ভার্ন ইংল্যান্ড রয়াল অ্যাকাডেমির সম্মানসূচক সদস্যপদ লাভ করেন।
জুল ভার্ন মৃত্যুবরণ করেন ২৪ মার্চ ১৯০৫ আমেরিকায়।
=========={{{=============={{{=====
Sunday, 6 February 2022
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। চিত্রশিল্পী ও সাহিত্যিক বিনোদন বিহারী মুখোপাধ্যায়। ০৭.০২.২০২২. Vol - 638. The blogger in literature e-magazine
Thursday, 3 February 2022
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। ৪.০২.২০২২. Vol -635. The blogger in literature e-magazine
ছেলেটি সিটি কলেজের প্রাক্তনী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ‘স্যার’ হলেন তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ওরফে ‘টি.এন.জি’। ভারতীয় বৌদ্ধিক সমাজে যাঁর পরিচয় সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় হিসেবে।
প্রত্যক্ষ ছাত্র সৌমিত্র ছাড়াও বাঙালির বড় আপনজন আরও দু’জন মানুষের সঙ্গেও জড়িয়ে নারায়ণবাবু। ২২এ পটলডাঙা স্ট্রিটের (২০, পটলডাঙা নয়) বাড়িতে নারায়ণবাবু আর তাঁর স্ত্রী আশাদেবীর সংসার। ছেলে অরিজিৎ তখন বেশ ছোট।
এমনই একদিন বাড়িতে বিশেষ এক জন এসেছেন। খবরটা চাপা থাকল না। বাইরে ভিড় জমেছে। ওই আগন্তুককে ছুঁয়ে না দেখা পর্যন্ত নড়বে না জনতা। নারায়ণবাবু বাইরে এসে উপস্থিত ভিড়কে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। বিশেষ লাভ হল না। শেষমেশ পুলিশ ডাকতে হল।
আসলে বাড়িতে এসেছিলেন উত্তমকুমার। সিনেমার একটি চরিত্র বুঝতে। শুধু উত্তমই নন, এক বার নারায়ণবাবুকে যেতে হয় সুচিত্রা সেনের বাড়িতেও।
পঞ্চাননতলার বাড়ির বৈঠকখানায় বসে গল্পটা শুনিয়েছেন ছেলে অরিজিৎ। সেই সময় হরিসাধন দাশগুপ্তের ‘কমললতা’ সিনেমার শুটিং চলছে। নাম ভূমিকায় মহানায়িকা। তাই অনুরোধ নারায়ণবাবুকে, ‘যদি বাড়ি এসে কিছু খুঁটিনাটি বিষয় একটু বুঝিয়ে দেন।’ খানিক কথাবার্তার পরেই সুচিত্রার জিজ্ঞাসা, ‘দাদা, ঠিক হচ্ছে তো?’ জিজ্ঞাসাটা সুচিত্রা ঠিক মানুষকেই করেছেন। কারণ উত্তম-সুচিত্রার ওই সিনেমার কাহিনি বিন্যাস, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনার গুরুদায়িত্ব যে নারায়ণবাবুরই।
এ ছাড়া ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘ইন্দিরা’, ‘দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন’, ‘সাহারা’ প্রভৃতি অজস্র সিনেমায় নারায়ণবাবু চিত্রনাট্যকারের দায়িত্ব সামলেছেন। শুধু চিত্রনাট্যই নয়, ‘চারমূর্তি’, ‘নন্দিতা’, ‘সঞ্চারিণী’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের পরিচালনায় ‘টোপ’— বহু বার নারায়ণবাবুর লেখা ফিরে এসেছে সিনেমার পরদায়। গানও লিখেছেন ‘ঢুলি’ ছবিতে।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা) বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস বরিশালের বাসুদেব পাড়া গ্রামে। তাঁর শিক্ষাকাল কাটে দিনাজপুর, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ ও কলকাতায়। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং ডক্টরেট্ ডিগ্রি নেন ১৯৬০ সালে। এরপর তিনি জলপাইগুড়ি কলেজ, সিটি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
তিনি ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছাপা হয় মাস পয়লা শিশু মাসিকে। সন্দেশ, মুকুল, পাঠশালা, শুকতারা প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখেছেন। সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় সুনন্দর জার্নাল লিখে সুখ্যাতি অর্জন করেন। বাঙালির জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, রোজকার সমস্যা ও রাজনীতি নিয়ে লেখা নিয়মিত এই জার্নাল অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল বাঙালি পাঠকের কাছে। এ সময় তিনি বড়দের জন্য আনন্দবাজার, বিচিত্রা, শনিবারের চিঠি ও চতুরঙ্গে লেখালেখি করেন। তার সাহিত্য জীবন শুরু হয় কাব্যচর্চা দিয়ে। পরে তিনি গল্প-উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। বড়দের জন্য রচিত প্রথম প্রকাশিত ‘উপনিবেশ’ ছাপা হয় মাসিক ভারতবর্ষে। ওটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে। তার উপন্যাস-গল্প রচনার অনুপ্রেরণা যোগান উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, সুধাংশুকুমার রায় চৌধুরী, বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায়, মন্মথ সান্যাল, সজনীকান্ত দাস ও ফনীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
অমর খ্যাতি বড়দের জন্য রচিত উপন্যাস ও গল্পের জন্য। কিন্তু শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনায় তার খ্যাতি বড়দের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। টেনিদা তার অনন্য সৃষ্টি। এছাড়াও শিশুদের জন্যে অজস্র ছোটগল্প লিখেছেন। তার রচিত পদ্মপাতার দিন, পঞ্চাননের হাতি, লালমাটি, তারা ফোটার সময়, ক্যাম্বের আকাশ, বাংলা গল্প বিচিত্রা, ঘণ্টাদার কাবলু কাকা, খুশির হাওয়া, কম্বল নিরুদ্দেশ, চারমূর্তির অভিযান, ঝাউবাংলার রহস্য ও ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যে নতুন সংযোজন।
বড়দের জন্য রচিত তার উলেস্নখযোগ্য বইগুলো হলো: একতলা, কালা বদর, কৃষ্ণপক্ষ, গন্ধরাজ, পন্নন্তর, ট্রফি, তিমির তীর্থ, দুঃশাসন, গদসঞ্চার, বনজ্যোৎন্সা, বিদিশা, বীতংস, বৈতালিক, ভাঙাবন্দর, চন্দ্রমুখর, মহানন্দা, রামমোহন, শিলালিপি, শ্বেতকমল, সাগরিকা, স্বর্ণ সীতা, সূর্যসারথী, সঞ্চারিণী, সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী, সাপের মাথায় মণি, আশিধারা, ভাটিয়ালী, আগন্তুক, অমাবস্যার গান, বিদুষক, সাহিত্যে ছোটগল্প, বাংলা সাহিত্য পরিচয়, ছোটগল্পের সীমারেখা ও কথাকোবিদ রবীন্দ্রনাথ।
তিনি ছোট গল্প বিষয়ে ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন।
রচনা কর্ম ;
উপন্যাস
উপনিবেশ -১
উপনিবেশ -২
উপনিবেশ -৩
সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী
মন্দ্রামুখর
মহানন্দা
স্বর্ণসীতা
ট্রফি
লালমাটি
কৃষ্ণপক্ষ
বৈতালিক
শিলালিপি
অসিধারা
ভাটিয়ালী
পদসঞ্চার
আমাবস্যার গান
আলোকপর্ণা
নাটক
রাম মোহন
ভাড়াটে চাই
আগুন্তক
পরের উপকার করিও না
ভীম বধ
বারো ভূতে
কিশোর উপন্যাস ও ছোটগল্প সম্পাদনা
টেনিদা ও সিন্ধুঘোটক
চারমূর্তি
চারমূর্তির অভিযান
ঝাউবাংলোর রহস্য
অন্ধকারের আগন্তুক
পঞ্চাননের হাতি
রাঘবের জয়যাত্রা
জয়ধ্বজের জয়রথ
অব্যর্থ লক্ষভেদ
ছোটগল্প সংকলন
বীতংস (১৯৪৫)(প্রথম গল্প সংকলন)
দুঃশাসন (১৯৪৫)
ভোগবতী (১৯৪৭)
গবেষণা-গ্রন্থ
সাহিত্যে ছোটগল্প
মূলত ঔপন্যাসিক, সাহিত্য সমালোচক, অধ্যাপক, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশ দশকের একজন বিশিষ্ট লেখক। তাঁর ‘উপনিবেশ’, ‘সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী’, ‘মহানন্দা’, ‘লালমাটি’, ‘স্বর্ণসীতা’ প্রভৃতি উপন্যাসের তিনি সার্থক শিল্পী। ‘সাহিত্যে ছোটোগল্প 'বাংলা গল্প বিচিত্র' প্রভৃতি বিখ্যাত গ্রন্থের প্রণেতা, সবার প্রিয় টেনিদা এবং সুনন্দন জার্নালের লেখক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর যুগের একজন খ্যাত লেখক বলেই পরিচিত ছিলেন।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছদ্মনাম। তাঁর আসল নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর জন্ম হয় দিনাজপুরের বালিয়াডিঙ্গিতে ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তাঁর জন্মসাল নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করেন তিনি জন্মেছিলেন জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে। তবে ১৯১৮ই তাঁর জন্মসাল বলে বিশেষ পরিচিত। তাঁর পিতার নাম প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় আর মাতার নাম বিন্ধ্যবাসিনী দেবী। ১৯৭০-এর নভেম্বর মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন যথেষ্ট ক্রিয়াশীল।
গল্পে উপন্যাসে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের যথেষ্ট খ্যাতি হলেও তাঁর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য 'ডাক' নামে একটি কবিতা। প্রকাশিত হয়েছে ১৯২৯ সালে। তারপর তাঁর অনেক কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। 'নমস্কার' নামে নারায়ণের একটি কবিতা ‘দেশ’ পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে ১৯৩৪ সালে। এছাড়া আরও কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর প্রথম গল্প ‘নিশীথের মায়া’ও দেশ পত্রিকায় ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা ‘রহস্য রোমাঞ্ছিত' একটি উপন্যাস। সচিত্র হাতে লেখা পত্রিকা ‘চিত্র বৈচিত্র্যে’র জন্য এই উপন্যাস লেখা হয়েছিল। তাঁর প্রথম গল্পের নাম ‘পাশাপাশি’। ফুলস্ক্যাপ কাগজের তিন পৃষ্ঠা। বিষয়বস্তু পাশাপাশি দুটি বাড়ি, একটিতে বড়োলোক আর একটিতে বাস করে দীন দরিদ্র। একদিন বর্ষার সন্ধ্যায় বড়োলোকের বাড়িতে যখন টি-পার্টি চলছে তখন গরীবের ছেলেটি বিনা চিকিৎসায় মারা গেল।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম মুদ্রিত সাহিত্যসৃষ্টি প্রথমে ‘মাসপয়লা' পত্রিকায়, তারপর সাপ্তাহিক ‘দেশ’-এ। এই পত্রিকার তাগিদেই তিনি লিখতে আরম্ভ করেন গল্প। প্রথম মুদ্রিত গল্পটির নাম ‘নিশীথের মায়া'। এই গল্প সম্পর্কে নারায়ণ লিখেছেন, “বয়সুলভ রোমান্টিকতার মায়াময় স্বপ্নময় অতীতের মধ্যে তলিয়ে গিয়ে গল্প আকারে একটা ফ্যান্টাসি খাড়া করে তুলেছিলাম।” তারপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ৩৪/৩৫ বছর ধরে নারায়ণের লেখনীর স্রোেত প্রবল ধারায় বয়ে চলেছিল। বিচিত্রমুখী তাঁর প্রতিভা। অধ্যাপনা, বাগ্মিতা, কথকতা, গল্প-কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, জার্নাল, কিশোর সাহিত্য প্রভৃতি—সব বিভাগেই তাঁর স্বচ্ছন্দ গতি এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠা। আশীর ঊর্ধ্বে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা। সৃষ্টির এই ব্যাপকতা একদিকে যেমন তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম অন্যদিকে তেমনি তাঁর বিচিত্র অভিজ্ঞতা এবং অসাধারণ কল্পনা ও মনন শক্তির পরিচয়.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম ‘বীতংস'। বীতংস তার অন্যতম শ্রেষ্ঠগল্প বলে বিবেচিত। এই গল্পেই নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটোগল্পের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। গল্পটির নায়ক আসামের চা বাগানের কুলি সংগ্রহের দালাল সুন্দরলাল। সেজন্য সাঁওতাল পরগণায় তার আবির্ভাব খচ্চরবাহন সন্ন্যাসীর বেশে। সন্ন্যাসী হলেও সে গেরুয়াধারী নয়। সন্ন্যাসীর মতো তার কতকগুলো বিষয়ে অদ্ভুত দক্ষতা। সে হাত দেখতে জানে, শিকড়-বাকড় দিয়ে কঠিন রোগ নিরাময় করতে পারে, ভূত ছাড়াতে পারে, গাঁজার কলকেয় দম চড়িয়ে সুর করে সে তুলসীদাসী রামায়ণ পড়ে। সুতরাং দু মাসের মধ্যেই সাঁওতালের কাছে সুন্দরলাল মহাপুরুষ বলে পরিচিতি লাভ করল। নিরীহ সাঁওতালদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গাঁয়ে মড়ক লাগাবার ভয় দেখিয়ে সুন্দরলাল তাদের রক্ষা করবার নামে ঘরছাড়া করে নিয়ে চলল সাঁওতালদের সম্পূর্ণ অজানা এক পরদেশে—আসামের চা-বাগান। কেবল ঝড়ু সাঁওতালের মেয়ে বুধনীকে সে চা-বাগানের কুলী করতে চায় না। কারণ তার প্রতি সুন্দরলালের রোমান্টিক দুর্বলতা আছে। এই গল্পের ঘটনা অদ্ভুত। রস বীভৎস। গল্পের পটভূমি সভ্যতার আলো থেকে অনেক দূরে সাঁওতাল পরগণার শালবন ঘেরা এক অখ্যাত গ্রাম। সেখানে সাঁওতালদের বিশ্বাস অর্জন করবার জন্য সুন্দরলালের যেসব শারীরিক কসরৎ আছে তা বিস্ময়বহ। শিং বোঙার পূজোয় মুরগীর রক্ত হাতে মুখে মেখে মাতাল সুন্দরলালের মাদলের তালে তালে নাচ বীভৎস। এই গল্পের রহস্য রোমাঞ বর্ণনার মধ্যে নারায়ণের উদ্দাম রোমান্টিক কল্পনার গভীর পরিচয় আছে। পরিবেশ রচনার মধ্যে আছে কাব্যিক প্রাণতা। এই দুটিই তাঁর গল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রোমান্টিক বলেই তাঁর গল্পের ঘটনা স্বাভাবিকতার সীমা অতিক্রম করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদ্ভুতের মাত্রা স্পর্শ করেছে। এদিক থেকে নারায়ণ তারাশঙ্করের সমগোত্রীয়। উভয়ের কাল্পনিকতায় বহু অদ্ভুত ঘটনার যোগ দেখা যায়। গল্প রচনার কৌশলে উভয়ে সিদ্ধহস্ত। অজানা পরিবেশ, অদ্ভুত ঘটনা গল্পের উপাদান, কিন্তু সব মিলিয়ে অতি সহজে গল্পরসের মাদকতা সৃষ্টি হয়।
নারায়ণের গল্পগ্রন্থের সংখ্যাও বহু—‘রূপমতী’, ‘কালাবরার’, ‘গন্ধরাজ’, ‘ভাঙাবন্দর’, ‘গল্পসংগ্রহ',' ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’, ‘চারমূর্তি’, ‘দুঃশাসন’, ‘শ্বেতকমল’, ‘বীতংস’, ‘একজীবিশন’, ‘ঊর্বশী', ‘শিলাবতী’, ‘ভাটিয়ালী’, ‘জন্মান্তর’, ‘বনজোৎস্না’, ‘ভোগবতী’, ‘রাতের মুকুল’, ‘লক্ষ্মীর পা’, ‘শুভক্ষণ’, ‘সাপের মাথার মণি' ইত্যাদি।
শ্রেষ্ঠগল্পের ভূমিকায় পটভূমি, পরিবেশ এবং বিচিত্র মানুষের পরিচয় দিতে গিয়ে জগদীশ ভট্টাচার্য যথার্থই লিখেছেন, “পৃথিবীর প্রথম প্রাণশক্তির শ্যামায়িত আদিম প্রকাশ ডুয়ার্স টেরাই -আরাকানের হিংস্র অরণ্যভূমি থেকে নিম্নভূমির নদী মোহনায় সমুদ্রগর্ভ হতে সদ্যোখিত নোনামাটির চার মানুষের নতুন উপনিবেশ পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি সমভাবে প্রসারিত। কখনো পদ্মা-মেঘনা-কালাবদর-আড়িয়াল খাঁর তিমির তীর্থে জীবনতরঙ্গ উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে, কখনো আত্রাই-মহানন্দা-কাঞ্চন নদীর কূলে সম্রাট ও শ্রেষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উচ্চকিত রয়েছে জীবনচেতনা। কখনো মহাস্থান-কোটিবর্ষ-পৌন্ড্র বর্ধনের ধ্বংসস্তূপ নবজীবনের তাণ্ডবে মন্দ্রমুখর, কখনো পুরাতন তাম্রলিপ্তের মাটিতে রচিত হচ্ছে নতুন যুগের বীরমল্লদের ইতিহাস। পশ্চিম সীমান্ত থেকে মহুয়ামদির গন্ধে ভেসে এসেছে নীল পাহাড়ে ঘেরা সাঁওতাল পরগণার অপূর্ব বনশ্রী, আবার উত্তর দিকচক্রবালে পায়ের তলায় দেখা দিয়েছে সিংহবাদের হিজলবন আর বরেন্দ্রভূমির লালমাটি।
এই বিচিত্র পটভূমিতে কত বিচিত্র মানুষেরই না আবির্ভাব ঘটেছে। আসামের চা বাগানের জন্য সাঁওতাল পরগণায় কুলি রিফ্রুটার সাধু সুন্দরলাল, পঞ্চাশের মন্বন্তরে মহানগরীর বুকে বসেও সিণ্ডালাও দ্বীপের কাটাবাটুর জংলী সর্দারের নিকট পাওয়া বলি দেওয়া কুমারী মেয়ের মন্ত্রসিদ্ধ হাড়ের অলস স্বপ্নে বিহ্বল মনোহর পুকুর পার্কের রায় বাহাদুর, গোলাপোড়া হাটের মহাজন আর আড়তদার ‘তুলসীবনের বাঘ' নিশিকান্ত, সারা বাংলার কুলবধূকে যারা বিবস্ত্র করেছে এ যুগের সে সব দুঃশাসনেরই প্রতিনিধিস্থানীয়— কাপড়ের ব্যবসায়ী দেবীদাস, টেরাই-এর প্রাগৈতিহাসিক হিংস্রতার রাজত্বে মানবশিশুর টোপ দিয়ে বাঘশিকারের রাজকীয় ব্যসনে উল্লসিত রায় গঙ্গা এস্টেটের রাজাবাহাদুর এন আর চৌধুরী, বিহার-শরীফের অতিথি বৎসল্য রহস্যময়ী তরুণী নিরু, ভারতবর্ষের বিধর্মীদের মধ্যে পবিত্র খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে এসে শিবের গাজনে ভোলানাথের তাণ্ডব নৃত্যে বেসালাম লাইপজিগ ইউনিভার্সিটির ব্লু–তরুণ পাত্রী হ্যানস, নগাধিরাজের আদিম গুহায় বিশ্বাসঘাতিনী মাইলি আর প্রভুভক্ত লাল্লুর প্রণয় প্রতিহিংসা কন্টকিত জান্তব জীবন সংগ্রামে পরাজিত অমানুষিক মানুষ গুস্ফালামা, 'মুম্বাই' শহরের আশিকবাঈ এর বিশ্বাসঘাতী প্রেমে দেওয়ান মিঞা-কে-টোড়ীর ঐন্দ্রজালিক সেতার শিল্পী উস্তাদ মেহরা খাঁ, ডুয়ার্সের জলঢাকা নদীর তীরে জ্যোৎস্নাপুলকিত রজনীতে পিতমের প্রতীক্ষায় স্বপ্নাচ্ছন্ন বাণবিদ্ধ হরিণী শিউকুমারী, দেশজোড়া পুরস্কার প্রকোপ থেকে সম্পন্ন মহাজন আর তালুকদারদের রক্ষামানসে শ্মশানকালীর প্রসাদ প্রার্থনায় পঞ্চমুণ্ডী আসনে উপবিষ্ট দক্ষিণালোভী পুরোহিত তর্করত্ন, অন্যের সুখের ঘরে অকারণে আগুন লাগিয়ে নিজের বিড়ম্বিত ভাগ্যের প্রতিশোধ গ্রহণের পৈশাচিক উল্লাসে পরিতৃপ্ত-মুখপোড়া শিক্ষয়িত্রী মিস ইন্দিরা চৌধুরী, কন্ট্রোল, কালোবাজার, ইনফ্লেশন আর স্পেকুলেশনের যুগে শ্মশানীভূত পল্লীর পরিত্যক্ত শিক্ষাতীর্থে আদর্শনিষ্ঠ অপ্রকৃতিস্থ, হেডমাস্টার, দিগন্ত বিস্তৃত বনতুলসীর জঙ্গলে কালো পাথরে তৈরি ভেনাসের মতো নিরাবরণা বন বালিকা, বিয়াল্লিশের আগস্ট আন্দোলনের তাম্রলিপ্তের উদ্বেলিত জনসমুদ্রে ফলেন এঞ্জেলের মতো নিজের একমাত্র পুত্রকে হারিয়েও নীলকণ্ঠের ন্যায় অনাসক্ত ঐতিহাসিক অমরেশ”–রাজনীতি সংক্ষুব্ধ, যুদ্ধ-দুর্ভিক্ষ-মন্বন্তর-সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিধ্বস্ত চল্লিশ দশকের অত্যাশ্চর্য পরিচয়। অতি প্রত্যক্ষ দৈনন্দিন ঘটনা গল্পকারের হাতে অদ্ভুত রূপ এবং প্রকাশ লাভ করেছে।
কাল চেতনা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের মনে নানাভাবে ক্রিয়শীল। দেশের মুক্তি, সাধারণ মানুষের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি নারায়ণের শিল্পীসত্তার কাছে ছিল এক প্রধান প্রেরণা। কিন্তু তা কোনো বিশেষ পথচিহ্নিত বা আদর্শবাহী ছিল বলে মনে হয় না। তাঁর বাল্য কৈশোরের সন্ধিস্থলে তাঁর অগ্রজ শেখর গাঙ্গুলি ছিলেন তৎকালীন বিপ্লবী আন্দোলনের গোপন পথিক। তাঁর জীবনবোধের ওপর অগ্রজের স্বাভাবিক প্রভাব থাকা স্বাভাবিক। আবার, কিশোর নারায়ণের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কলেজের সহপাঠী অচ্যুত গোস্বামী লিখেছেন, নারায়ণ তখন ছিল রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের পরম অনুরাগী, গান্ধিজির নীতিতে বিশ্বাসী। যুবক সমাজের উন্নতির জন্য ঋজু কঠিন ব্রয়চর্যের আদর্শের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাসী। তারপর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতির আন্দোলনের সময় অনেকের মতো নারায়ণও কমিউনিস্ট মতাদর্শের কাছাকাছি এসেছিলেন। পরে 'পরিচয়' পত্রিকাগোষ্ঠীর পরিচালক মণ্ডলীর একজন হয়েছিলেন। তাঁর রাজনীতি জিজ্ঞাসা ছিল, সমাজতন্ত্রে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু রাজনীতি ও সাহিত্যকে তিনি সর্বত্র সমন্বিত করেননি। কারণ তিনি স্বাধীনচিত্ততায় বিশ্বাসী ছিলেন। শিল্পীর স্বাধীনতা' বলে তাঁর মনে যা প্রচ্ছন্নভাবে ছিল সেটাই পরবর্তীকালে মুখর হয়ে উঠেছিল।” (দ্রঃ বাংলার গল্প ও ছোটোগল্প—ডঃ সরোজমোহন মিত্র), যুগের হাওয়ার সঙ্গে সমতাল রক্ষা করেই তিনি সাহিত্য রচনা করেছেন। সেজন্য তাঁর জীবিতকালে সংঘটিত নানা আলোড়নের নিদর্শন আছে তাঁর গল্প উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকে।
তবে সিনেমা নয়, নারায়ণবাবুর সবচেয়ে তৃপ্তি বোধহয় পড়ানোয়। পড়িয়েছেন জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজ, সিটি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্লাস নিয়েছেন সাউথ সিটি কলেজের (বর্তমান শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজ) মর্নিং সেকশনেও। যদি সাহিত্য-অধ্যাপনার কোনও ইতিহাস রচনা করা যায়, তা হলে বোধ হয় বিশেষ একটি অধ্যায়ই ছাড়তে হবে নারায়ণবাবুর জন্য।
কেন এমনটা বলা?
বর্ণনাটা দিচ্ছেন শঙ্খ ঘোষ। এক স্পেশ্যাল ক্লাসের। অন্তত তিনশো পড়ুয়ার দাবি, স্যারের ক্লাস চাই। তা, শুরু হল ক্লাস। তিল ধারণের জায়গা নেই। এমন সময়ে ঢুকলেন অত্যন্ত গৌরবর্ণ নারায়ণবাবু। ছ’ফুট ছুঁই ছুঁই লম্বা। গায়ে ধুতি-পাঞ্জাবি। পায়ে বিদ্যাসাগরী চটি। ক্লাসে তখনও পড়ুয়াদের অনেকে বসার জায়গা পাননি। পড়ানো শুরু করলেন নারায়ণবাবু। পড়ুয়াদের কেউ দেওয়ালে, কেউ বা অন্যের পিঠে খাতা রেখে ‘নোট’ নেওয়া শুরু করলেন। আনন্দে বোধ হয় খানিক উচ্ছ্বল হয়ে উঠলেন টি.এন.জি। বললেন, ‘আগে জানলে তো রিপোর্টারদের একটা খবর দিতাম, ছবি নিয়ে যেত।’
রিপোর্টার দরকার পড়েনি এমন অধ্যাপকের। কারণ তাঁর ছাত্র বাৎসল্য তো যে সে জাতের নয়।
তার প্রমাণ অন্তত দু’টি ঘটনা।
স্থান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষাতত্ত্ব পড়াচ্ছেন এক শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক। এক ছাত্র ক্লাসের বদলে ফিসফিসিয়ে আড্ডাতেই বেশি মনোযোগী। সে দিকে তাকিয়েই অগ্নিশর্মা অধ্যাপকের নির্দেশ, ‘এমন একটি বাক্য বলো, যাতে বিদেশি ভাষা আছে।’
সাহিত্য-সংস্কৃতি-সমাজের ত্রিসঙ্গমের এই শোভাযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতেই হয়তো এল সেই দিনটা। ১৯৭০ সালের ৭ নভেম্বর। রাতের খাওয়া হয়েছে সবেমাত্র। পুত্র অরিজিৎ পাশের ঘরে বসে বাবারই দেওয়া শার্লক হোমসের গল্প পড়ছেন। এমন সময়ই মা আশাদেবীর চিৎকার, ‘বাবলু দ্যাখ, বাবা কেমন করছেন!’
বাবার ঘরে দৌড়ে গেলেন ছেলে। বাবাকে দেখেই ছুট দিলেন কাছে থাকা চিকিৎসক-সাহিত্যিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের ‘উল্কা’ বাড়িতে। গেঞ্জি গায়েই এলেন কিরীটির স্রষ্টা। পরামর্শ দিলেন, ‘এখনই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।’ বেশ কয়েকটা বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরলেন অরিজিৎ। সব জায়গাতেই এক রা, ‘বেড নেই।’ পরে ভর্তি করানো হল এসএসকেএম-এ।
মাত্র একটা দিন। ৮ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাঙালির প্রিয় সুনন্দ।
বাঙালির কাছে খবরটা হাহাকারের মতো। কিন্তু সুনন্দর কাছেও কি এটা আকস্মিক ছিল? বোধ হয় না। তা না হলে কী ভাবে ‘দেশ’ পত্রিকায় ‘সুনন্দর জার্নাল’-এর শেষ জার্নাল ‘অসুস্থ শরীরের ভাবনা’য় সুনন্দ লিখবেন, ‘অসুস্থ শরীরে জার্নাল লিখতে লিখতে ভাবছি, পরের সংখ্যায় ‘সুনন্দের পাতাটি’ যদি না থাকে, তা হলে বুঝবেন, আর একটি কমন ম্যান বাঙালির অবলুপ্তি বা আত্মবিসর্জন ঘটল।’
ফুলে ফুলে সাজানো ট্রাকে চড়ে নারায়ণ চলেছেন শেষ যাত্রায়। সঙ্গী অগণিত ছাত্রছাত্রী, সংবাদমাধ্যম, নানা পত্রিকা, সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্ট মানুষ।
এমন মেঘলা আবহাওয়ায় আচমকা শোনা গেল, ‘জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে...’ নিজেকে সামলে কখন দরাজ কণ্ঠে গেয়ে উঠেছেন সুচিত্রা মিত্র।
================{{{{{{{{{{{{{{{∆∆∆∆}}}}=
Wednesday, 2 February 2022
জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। উর্মিলা দেবী। ৩.২.২০২২. Vol -633. The blogger in literature e-magazine
উর্মিলা দেবী
১৯২১ খ্রী. অসহযোগ আন্দোলনে যে প্রথম তিনজন মহিলা আইন অমান্য করেছিলেন, ঊর্মিলা দেবী ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি কলিকাতা ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’র সভানেত্রী এবং ‘নারী-কর্মমন্দির’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাত্রী ছিলেন।
ঊর্মিলা দেবী ১৮৮৩ সালে ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের তেলিরবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ভুবনমোহন দাশ ও মাতার নাম নিস্তারিণী দেবী। স্বামীর নাম অনন্তনারায়ণ সেন। ঊর্মিলা দেবী ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ভগিনী। দাদার আদর্শে প্রভাবিত হয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন।
দেশবন্ধুর প্রেরণায় তিনি নারীদের মধ্যে কাজ গড়ে তোলেন। ১৯২১ সালে ‘নারী-কর্মমন্দির’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল চরকা ও খদর জনপ্রিয় করা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যে প্রথম তিনজন মহিলা আইন অমান্য করেছিলেন, ঊর্মিলা দেবী ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি কলিকাতা ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’র সভানেত্রী ছিলেন।
সে সময় নারায়ণ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার প্রকাশিত সাহিত্যগ্রন্থ
পুষ্পহার।
সরোজিনী নাইডু প্রমুখের
স্মৃতিকথাও রচনা করেছেন ।
ঊর্মিলা দেবী মে ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।
======={{{{{{{{{{{{{{∆∆∆∆∆}}}}}}}}}}}}}}}==
Tuesday, 1 February 2022
জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কবি কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত। ০২.০২.২০২২. Vol -633. The blogger in literature e-magazine
কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত
জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ঢাকায়। পিতা বিজয়শঙ্কর সেনগুপ্ত ছিলেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ভূগোলের শিক্ষক আর মাতা ছিলেন বঙ্কিম-সুহৃদ "সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস" লেখক, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রজনীকান্ত গুপ্তর কন্যা মায়াময়ী। স্কুলে পড়ার সময় কিছু দিন তিনি অনিল রায়ের শ্রীসংঘ নামের সন্ত্রাসবাদী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী দলে যুক্ত হয়ে ছিলেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে বি.এ ও পরে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজীতে এম.এ. পাশ করে ঢাকা প্রিয়নাথ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জে কাকার ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ছিলেন।
ছাত্রাবস্থাতেই কিরণশঙ্কর লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে তার কবিতা প্রকাশিত হয় বুদ্ধদেব বসুর "কবিতা" পত্রিকায়। ওই বছরেই 'পরিচয়' পত্রিকায় কবিতা ও ঢাকার সাপ্তাহিক 'সোনার বাংলা' য় তার প্রথম প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তার লেখা গল্প প্রকাশিত হয় 'অগ্রগতি' ও 'স্বদেশ' পত্রিকায়। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ "স্বপ্নসাধনা" য় ভূমিকা লিখেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। ঢাকা কলেজে বি.এ পড়ার সময় তিনি ঢাকা হলের পত্রিকা 'শতদল' এর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ - ৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'শান্তি' র সহ-সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া তিনি লীলা রায় (নাগ) ও অনিল রায়ের পত্রিকা 'জয়শ্রী' সহ অনেক পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাল্যবন্ধু সোমেন চন্দের) আহ্বানে 'ঢাকা প্রগতি লেখক সংঘ'-এ যোগ দেন এবং আজীবন যুক্ত থাকেন। ঢাকা প্রগতি লেখক সংঘের উদ্যোগে ঢাকা জেলা "সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি" গড়ে উঠলে তিনি তার যুগ্ম সম্পাদক হন। এই সমিতি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে আক্রান্ত সোভিয়েতের উপর সংগৃহীত ছবি, ফটো, শতাধিক পোস্টার ইত্যাদি নিয়ে এক অভিনব প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এর উদ্বোধন করেছিলেন ড. মহম্মদ শহীদুল্লাহ। এই সমিতি ঢাকায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী সম্মেলনেরও আয়োজন করে। এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য রেল শ্রমিকদের একটি শোভাযাত্রা পরিচালনার কালে প্রতিশ্রুতিবান লেখক সোমেন চন্দ বিরোধীদের নৃশংস ভাবে নিহত হন। এই ঘটনার পরে প্রকাশিত পাক্ষিক 'প্রতিরোধ' পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার সম্পাদনায় 'সাহিত্য চিন্তা' পত্রিকা তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। ১৯৪৩-৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য হন ও সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের দায়িত্ব নেন। পরে অবশ্য সদস্যপদ নবীকরণ করেন নি, তবুও তিনি আত্মগোপনকারী নেতাদের পাকিস্তান আমলে দমন পীড়নের মাঝেও আশ্রয় দিয়েছেন। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে সোমেন চন্দের মাসিমা বীণা বিশ্বাসকে রেজিস্ট্রি করে বিবাহ করেন এবং ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুনর্বাসন দপ্তরে কাজ নেন। বন্ধু সোমেন চন্দের বন্ধুত্ব, সাহিত্য ও আত্মত্যাগ কিরণশঙ্করকে আজীবন আচ্ছাদিত করে রেখেছিল। পশ্চিমবঙ্গে তারই প্রচেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে 'সোমেন চন্দ স্মৃতি পুরস্কার' প্রদান সম্ভব হয়। তার উদ্যোগে এবং পবিত্র সরকারের সম্পাদনায় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি থেকে "সোমেন চন্দ গল্প সংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে। কিরণশঙ্করের বহু কবিতা ইংরাজী ও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তিনি নিজেও ইংরাজী হতে বিভিন্ন দেশের কবিতা বাংলায় অনুবাদও করেছেন।
রচনা কর্ম :
স্বর ও অন্যান্য কবিতা (১৯৫৩)
মানুষ জীবন (১৯৫৪)
দিনযাপন
নতুন আঁচড়
ভেতরে বাইরে
সময় ও সাহিত্য
এই এক সময়
কবিতার রূপ রূপান্তর
রুক্ষদিনের কবিতা
বৃষ্টি এলে
মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরকাল
কবিতার মানবিক উচ্চারণ ও অন্যান্য ভাবনা
সোমেন চন্দের জীবনী
চল্লিশ শতকের ঢাকা (সরদার ফজলুল করিমের সঙ্গে)
এক শতাব্দী শতক (প্রেমেন্দ্র মিত্রের সঙ্গে)
রজনীকান্ত: ব্যক্তিত্ব ও মনীষা (জ্যোৎস্না সিংহরায়ের সঙ্গে)
সোমেন চন্দের সুনির্বাচিত গল্প
সোমেন চন্দ স্মারক গ্রন্থ-
আগুনের পাখি, আগুনের অক্ষর (পবিত্র সরকারের সঙ্গে)
কবি কিরণশঙ্কর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে কবিতার জন্য কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার এবং 'নির্বাচিত কবিতা' গ্রন্থের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
কবি কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের ১লা মে পরলোক গমন করেন।
কিরণ শঙ্কর সেনগুপ্ত নিয়ে জীবনানন্দ দাশের আলোচনা -==={=={{{{{{{{{{{{{{==========}{{{{{{{{====
শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় । একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭) একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ. মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...
-
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (জরাসন্ধ) "কাঁচা আর পাকার মধ্যে ব্যাবধানটা কালগত। কাল পূর্ণ হলেই কাঁচা লঙ্কায় পাক ধরে, কাঁচা মাথা পাকা...
-
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭) একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ. মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...
-
অতুল প্রসাদ সেন " শেষে ফিরব যখন সন্ধা বেলা সাঙ্গ করে ভবের খেলা জননী হয়ে তখন কোল বাড়ায়ে রবে আমার যে শূন্য ডা...