Friday, 4 March 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবি তরু দত্ত। ০৪.০৩.২০২২. Vol -664. The blogger in literature e-magazine

Our Casuarina Tree
LIKE a huge Python, winding round and round
The rugged trunk, indented deep with scars,
Up to its very summit near the stars,
A creeper climbs, in whose embraces bound
No other tree could live. But gallantly
The giant wears the scarf, and flowers are hung
In crimson clusters all the boughs among,
Whereon all day are gathered bird and bee;
And oft at nights the garden overflows
With one sweet song that seems to have no close,
Sung darkling from our tree, while men repose.
When first my casement is wide open thrown
At dawn, my eyes delighted on it rest;
Sometimes, and most in winter,—on its crest
A gray baboon sits statue-like alone
Watching the sunrise; while on lower boughs
His puny offspring leap about and play;
And far and near kokilas hail the day;
And to their pastures wend our sleepy cows;
And in the shadow, on the broad tank cast
By that hoar tree, so beautiful and vast,
The water-lilies spring, like snow enmassed.
But not because of its magnificence
Dear is the Casuarina to my soul:
Beneath it we have played; though years may roll,
O sweet companions, loved with love intense,
For your sakes, shall the tree be ever dear.
Blent with your images, it shall arise
In memory, till the hot tears blind mine eyes!
What is that dirge-like murmur that I hear
Like the sea breaking on a shingle-beach?
It is the tree’s lament, an eerie speech,
That haply to the unknown land may reach.
Unknown, yet well-known to the eye of faith!
Ah, I have heard that wail far, far away
In distant lands, by many a sheltered bay,
When slumbered in his cave the water-wraith
And the waves gently kissed the classic shore
Of France or Italy, beneath the moon,
When earth lay trancèd in a dreamless swoon:
And every time the music rose,—before
Mine inner vision rose a form sublime,
Thy form, O Tree, as in my happy prime
I saw thee, in my own loved native clime.
Therefore I fain would consecrate a lay
Unto thy honor, Tree, beloved of those
Who now in blessed sleep for aye repose,—
Dearer than life to me, alas, were they!
Mayst thou be numbered when my days are done
With deathless trees—like those in Borrowdale,
Under whose awful branches lingered pale
“Fear, trembling Hope, and Death, the skeleton,
And Time the shadow;” and though weak the verse
That would thy beauty fain, oh, fain rehearse,
May Love defend thee from Oblivion’s curse.

তরু দত্ত

প্রথম ফরাসি এবং ইংরেজি সাহিত্য রচনা করেছিলেন তিনি। বিস্তৃতির অতল থেকে ফিরে দেখা তরু দত্তকে। 

            সাহিত্যের ইতিহাসের  পৃষ্ঠা সরিয়ে একটু অতীতের দিকে ঘুরে তাকানোর  ইচ্ছে হয়েছে। আর সেই অতীতে আছেন সাহিত্যিক তরু দত্তের  কথা ।  না, আধুনিক সাহিত্য জগৎ  খুব বেশি  নাম শোনেনি তাঁর । 
আজ থেকে প্রায় ১৬৬ বছর আগে তরু দত্ত তার ২১ বছরের ছোট্ট জীবনে ইংরেজি এবং ফরাসি সাহিত্যে যে চিহ্ন  রেখে গেছেন তা অবিস্মরণীয় ।  এই বছর ছিল তরু দত্তের ১৬৬ তম জন্মবার্ষিকী। কিন্তু উনিশ শতকের সাহিত্যের জগতের দিকপালদের ভিড়ে  তরু দত্ত এবং তার  লেখনী যেন একপ্রকার হারিয়েই গেলো !
ওনার অসাধারণ লেখারগুলির সাহিত্যমূল্য যদি  বিচার করতে বসি তাহলে  যেটা মনে রাখতে হবে তা হলো তিনি শুধু একজন মহিলা সাহিত্যিকই ছিলেন না , ইংরেজি এবং ফরাসি এই দুই ভাষাতেই  ছিল ওনার অগাধ পান্ডিত্য এবং অবাধ যাতায়াত, সেই সময়কার সাহিত্যিকদের মধ্যে যা ছিল দুর্লভ - তারপরে তিনি যদি হন মহিলা সাহিত্যিক। আমাদের মনে  রাখতে হবে ইংরেজি এবং ফরাসি  সাহিত্যের অঙ্গনে  তখন প্রকাশিত হয়ে চলেছে অসংখ্য মাস্টারপিস। 

কবি হয়ে ওঠার প্রেক্ষিতে এক প্রগতিশীল পরিবারের ভূমিকা 

১৮৫৬ সাল, যা ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সূচনাকাল, তাই ভারতীয় ঐতিহাসিকেরা তাকে লিপিবদ্ধ করেছে অতীব যত্নসহকারে। তবে এই সালটা আরো এক কারণেও খুব তাৎপর্যপূর্ণ, এই ১৮৫৬ সালে ৪ মার্চ  জন্মগ্রহণ করেছিলেন তরু দত্ত, যদিও এই কাব্যিক প্রতিভার  জন্মের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রায় কোথাওই ।  এই সময়কাল এমনই যখন ভারতীয় মহিলারা পুরুষতন্ত্রের দাপট সহ্য করে যাচ্ছিলেন চুপচাপ; ছিলেন  নিরব । কিন্তু  তরুলতা দত্ত (পরে তরু দত্ত নামে পরিচিত) সত্যই ভাগ্যবান ছিলেন এই ক্ষেত্রে। 
বাংলার এক প্রগতিশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তরু দত্ত , যেখানে নারী ক্ষমতায়নের নজির পাওয়া যায়। মা ক্ষেত্রমনি মিত্র বাংলা ও ইংরেজিতে সমান দক্ষ ছিলেন এবং ‘দ্য ব্লাড অফ ক্রাইস্ট’- ''The Blood of Christ'' বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বাবা গোবিন্দ চন্দর দত্ত ছিলেন মূলত একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী। তবে এর বাইরেও তার একটি অন্য্ পরিচয়ও ছিল, তিনি ছিলেন কবি। বলাই বাহুল্য, এই পারিবারিক প্রেক্ষাপটই তার সাহিত্যে-বোধ প্রকাশের মূল ভিত্তি। আর তা হয়েছিল শৈশব থেকেই।

 এর মধ্যেই ঘটে এক দুঃখজনক ঘটনা। ১৮৬২ সালে তরুর বড়দার অকাল মৃত্যু। এইপরেই দত্ত পরিবার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। এই মৃত্যু তাদের প্রভাবিত করেছিল গভীরভাবে। এর ঠিক সাত বছর পরে, ১৮৬৯ সালে, স্ব - পরিবার ফ্রান্সে চলে গেলেন গোবিন্দ দত্ত। নতুন পরিবেশ, নতুন জীবন, নতুন করে সবকিছু শুরু হলো তাদের। কবিতার প্রতি আগ্রহ জন্মাতে শুরু করে তরুর- নতুুন পরিবেশ, নতুন মানুষজন, চারিদিকে সবুজ প্রকৃতি- ধীরে ধীরে কাব্যপ্রতিভার বিকাশ ঘটতে থাকে। তরু এবং বোন অরু দুজনেরই আগ্রহ ছিল হিন্দু পুরানে। পুরানের চরিত্র, পুরানের জটিলতা সবই ছিল তাঁদের আগ্রহের বিষয়। প্রধান উৎসাহদাত্রী ছিলেন তাঁদের মা। তরু দত্তের ঝোঁক ছিল পুরানভিত্তিক কাহিনীর প্রতি। তরুর কবিতায় এই প্রভাবটি স্পষ্টতই প্রকাশ পায়; পরবর্তীতে তার সংস্কৃত ও বাংলা কবিতা অনুসন্ধান করলেও এর স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। 
কেমব্রিজের জীবন - প্রথম কবিতা 

তরু পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে চলে আসেন, ভর্তি হন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে । শুধু ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য নয়, তার সঙ্গে সঙ্গে ফরাসী ভাষা ও সাহিত্য নিয়েও পড়াশোনা শুরু করেন তরু। এই সময়ই তরুর কাব্যপ্রতিভার উন্মেষকাল। বিশেষতঃ ১৮৭১ থেকে ১৮৭৩ সাল - এই সময়কাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ তরুর জীবনে। তাঁর সাহিত্যিক জীবনে আসে এক সত্যিকারের সাহচর্য। মেরি মার্টিনের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব। এই বন্ধুত্বই সাহিত্যিক হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছিল তাঁকে। ১৮৭৩ সালে তরুর পরিবার ভারতে ফিরে আসে, কিন্তু তরু আর মেরির বন্ধুত্বে কোনো ছেদ পড়েনি তাতে। পরস্পরকে লেখা চিঠিপত্র তাদের এই বন্ধুত্বের সাক্ষী। 
ইউরোপ থাকার পুরো সময়কালে, তরু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কবিতা লিখতে শুরু করেন, বাড়ির পাশের প্রতিবেশী ছিল কাসুয়ারিনা গাছ, তরুর কবিতায় উঠে এসেছে সেও। তার কবিতায় ফিরে ফিরে এসেছে প্রেমের এক দুর্নিবার আকুলতা।
Love Came To Flora Asking For A Flower
Love came to Flora asking for a flower
That would of flowers be undisputed queen,
The lily and the rose, long, long had been
Rivals for that high honor. Bards of power
Had sung their claims. ‘The rose can never tower
Like the pale lily with her Juno mien’ –
‘But is the lily lovelier?’ Thus between
Flower-factions rang the strife in Psyche’s bower.
‘Give me a flower delicious as the rose
And stately as the lily in her pride’ –
But of what color?’ – ‘Rose-red,’ Love first chose,
Then prayed – ‘No, lily-white – or, both provide;’
And Flora gave the lotus, ‘rose-red’ dyed,
And ‘lily-white’ – the queenliest flower that blows.
তরু দত্তের সাহিত্যকর্ম
১৮ বছর বয়সে, তরুর লেখা ফরাসি কবি লেকন্টে ডি লিসেল এবং জোসেফিন সোলারির উপর নিবন্ধগুলি বেঙ্গল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। সাহিত্যিক হিসেবে এটি ছিল একক প্রকাশিত লেখা যা তাঁর পরবর্তী সাহিত্যকর্মের পথ প্রশস্ত করেছিল। তরু প্রচুর ফরাসি কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করতে শুরু করেছিলেন, বেশ কয়েকটি খণ্ড আকারে তা প্রকাশিত হয় এবং যথেষ্ট প্রশংসা লাভ করে । '' A Sheaf Gleaned in French Fields'' - '' এ সেফ গ্লিনেড ইন ফ্রেঞ্চ ফিল্ড '' তরুর অকাল মৃত্যুর ঠিক এক বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৭৭ সালে। এখানে বিশেষ উল্লেখ্য যে , এই এনথলজির ৮টি কবিতাই আসলে অরু দত্তের রচনার অনুবাদ। তরুর মতো এতটাও পরিচিতি পাননি অরু কোনদিনই। অরু ছিলেন অসম্ভব প্রতিভাশালিনী এক চিত্রশিল্পী। অর্জন করেছিলেন বহু গুণীজনের প্রশংসা। কিন্তু অরু মারা যান খুব অল্প বয়েসে, ১৮৭৪ সালে, মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন তিনি। 
তরু দত্ত তাঁর জীবনযুদ্ধ শেষ করেছিলেন ৩০ শে অগাস্ট, ১৮৭৭ সালে। কতই বা বয়েস হয়েছিল তাঁর। মাত্র ২১ বছর। মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।তরু তার বই ছাপা অক্ষরে দেখে যেতে পারেন নি। দেখে যেতে পারেননি নিজের জন্য তুলে রাখা সাহিত্যের গৌরবময় দিনগুলিকে , নিজের লেখালেখির আলোড়ন - বিশ্লেষণকে। পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবার পর প্রকাশিত হয় তাঁর দুটি উপন্যাস- ''লে জার্নাল ডি ম্যাডেমাইসেল ডি'আরভারস (মায়াদেমাইসেল ডি'আরভার্সের ডায়েরি)'' '' Le Journal de Mademoiselle d’Arvers (The Diary of Mademoiselle d’Arvers)'' এবং এক স্প্যানিশ মেয়ের কাহিনী অবলম্বনে লেখা ''Bianca'' - ''বিয়াঙ্কা'' ফরাসি ভাষায় লেখা উপন্যাস। আক্ষরিক অর্থেই কোনও ভারতীয় মহিলার লেখা প্রথম ইংরেজি উপন্যাস। প্রাচীন ব্যালেডস, এবং হিন্দুস্তানের কিংবদন্তি কাহিনী , তরুর সংস্কৃত অনুবাদ গ্রন্থগুলিও কুড়িয়েছে অসংখ্য প্রশংসা।   
ফ্রান্সের সেলিব্রেটি লেখিকা 

তরু ফরাসি নারীবাদী লেখক ক্লারিস বদর ( Clarisse Bader) দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন। ক্লারিসের রচনাগুলি বাংলায় এবং ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তরু। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ভগ্ন স্বাস্থ্য। এসব সত্ত্বেও, তিনি বেশ কয়েকটি চিঠির মাধ্যমে বদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন। তরুর মৃত্যুর পরে, তার বাবা ''লে জার্নাল ডি ম্যাডেমাইসেল ডি'আরভারস (মায়াদেমাইসেল ডি'আরভার্সের ডায়েরি)'' '' Le Journal de Mademoiselle d’Arvers (The Diary of Mademoiselle d’Arvers)'' পাণ্ডুলিপি বদরকে পাঠিয়েছিলেন। লেখক হিসেবে ফ্রান্সে তরু দত্তের খ্যাতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন এই ক্লারিস বদর।
জীবন শেষ হয়ে আসছে বুঝতেন তরু। বন্ধু মেরি মার্টিনের কাছে তাঁর শেষ চিঠিতে নিজের মনের কথা লিখেছেন তরু। নিজের মনের কষ্ট , শারীরিক অসুবিধার কথা লিখেছেন। নিজেরই সঙ্গে তীব্র বোঝাপড়া চালাতে হচ্ছে তাকে। চলে যেতে হবে তাকে। সবাইকে ছেড়ে। তার কবিতাকে ছেড়ে। সীতার মতো। একাই পারি জমাতে হয় সেই জীবনে। নির্জন, অজানা, নিঃসঙ্গ, আরন্যক, নিরুদ্দেশের সেই জীবনে কেউ নেই। ছোট জীবন আরও ছোট হয়ে আসতে থাকে। হতাশা ভীড় করে।   
==={{{{{{{{{{{{{[[{{{[{{{{={{{{{{{}}{{}}}}{{}}}}}{}}}}
   

Wednesday, 2 March 2022

বিশ্ব ব‌ই পড়া দিবসে। । বিশেষ প্রতিবেদন। ০৩.০৩.২০২২. Vol -663. The blogger in literature e-magazine

     
ব‌ই পড়ুন। ব‌ই পড়ুন। ব‌ই পড়ুন। ব‌ই পড়ুন

আলো যেমন জাগতিক নিয়মে অন্ধকার দূর করে সব কিছু মূর্ত করে , তেমনি বই মানুষের মনের ভেতরে জ্ঞানের আলো এনে যাবতীয় অন্ধকারকে দূর করে চেতনার আলোকে সবকিছুকে উদ্ভাসিত করে দেখায়। আলো শুধু ভৌগোলিক ভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে। আর বই অতীত থেকে ভবিষ্যৎ , নিকট থেকে দূরে , প্রান্ত থেকে অন্তে এমনকি যুগ থেকে যুগান্তরে জ্ঞানের আলোকে পৌঁছে দিতে পারে । তাই দেশ কালের সীমানা অতিক্রম করে জ্ঞানের আলোকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে একমাত্র বই । শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হল আত্মশিখন । আর বই সেই আত্মশিখনের শ্রেষ্ঠ সহায়ক । বিনোদন থেকে শিক্ষা , অবসর যাপন থেকে নিঃসঙ্গতা দূর — সবেতেই বই শ্রেষ্ঠ অবলম্বন হতে পারে ।
বই হলো মানুষের বন্ধু । যে কখনই কোন ক্ষতি করতে পারে না ।  মানুষ বই থেকে অনেক ভালো ভালো শিক্ষা গ্রহন করেন । যারা বেশী করে বই পড়ে তাদের বেশী মানুষের সঙ্গ দরকার হয় না । মানুষের ভিতরের অন্ধকার দূর করে কুসংস্কারমুক্ত, প্রগতিশীল,আলোকিত সমাজ, দেশ ও জাতি গঠনে বই হলো শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। পৃথিবীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও আধুনিক বিশ্বকে উপলব্ধি করতে হলে বই পড়তে হবে । বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, জাতি , ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায় । বই মানুষের হৃদয়ের দ্বার খুলে দিয়ে চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে এবং মানুষের আত্মার প্রসার ঘটায়। প্রতিটি সফল মানুষ নিয়মিত বই পড়তেন। ওয়ারেন বাফেট তার পেশা জীবনের শুরুতে প্রতিদিন 600 থেকে 1000 পৃষ্ঠা নিয়মিত পড়তেন। বিলগ্রেটস প্রতিবছর 50 টি বই পড়েন। বই পড়লে মানুষের চিত্ত প্রফুল্ল হয়। "ব‌ইয়ের লাইব্রেরী হলো মনের হাসপাতাল". . যুগে যুগে বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে যেসব উক্তি - 
---+++++
"অনেক বই আছে তাই সময় খুব কম ”
— ফ্র্যাঙ্ক জাপা

” ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা ।”
— দেকার্তে

"বই ছাড়া ঘর, একটি আত্মা ছাড়া শরীরের মতো ”
— মার্কাস টুলিয়াস সিসেরো.

"ভাল বন্ধু, ভাল বই এবং একটি শান্ত বিবেক: এটি আদর্শ জীবন ”
— মার্ক টোয়েন

” বই এর মত এমন বিশ্বস্ত বন্ধু আর নেই । ”
— আর্নেস্ট হেমিংওয়ের

” সর্বনিম্ন ৬০ হাজার বই কাছে না থাকলে জীবন অচল । ”
— নেপোলিয়ান

একটি ভালো বই এর শেষ বলে কিছু নেই । ”
— আর ডি কামিং

” বই হলো সভ্যতার রক্ষাকবচ । ”
— ভিক্টর হুগো

বই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো প্রতিবেশী, যার সাথে কোনদিন ঝগড়া হয় না,কোনদিন মন-মালিন্য হয় না। ”
— প্রতিভা বসু

” বই হলো অতীত ও বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো । ”
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

” জীবনে ৩ টি জিনিস এর প্রয়োজন – বই, বই এবং বই। ”
— ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

” যদি আপনি এমন একটি বই পড়েন যা অন্যরা সবাই পড়ছে, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন অন্য সবাই কি ভাবছে ”
— হারুকি মুরাকামি

যে তার সাথে কোন বই আনেনি তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করবেন না ”
— লেমনির স্কিনকেট

আপনি কখনই যথেষ্ট পরিমাণে এক কাপ চা পান করতে পারবেন না বা আমার পক্ষে উপযুক্ত বইয়ের মতো দীর্ঘতর বইও পাবেন না ”
— সিএস লুইস

যদি কেউ বারবার বই পড়তে উপভোগ করতে না পারে তবে তা পড়ার কোনও লাভ নেই ”
— অস্কার ওয়াইল্ড

” বইয়ের মত এত বিশ্বস্ত বন্ধু আর নেই ”
— আর্নেস্ট হেমিংওয়ের

” যদি এমন কোনও বই থাকে যা আপনি পড়তে চান তবে এটি এখনও লেখা হয়নি তবে আপনাকে অবশ্যই এটি লিখতে হবে ”
— টনি মরিসন

” বিশ্বে যে বইগুলি অনৈতিক বলা হয়, সেগুলি হ’ল এমন বই- যা বিশ্বকে নিজের লজ্জা প্রদর্শন করে ”
— অস্কার ওয়াইল্ড

” বই একটি অনন্য সহজে বহনীয় যাদু ”
— রাজা স্টিফেন

"ব‌ই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না ."
- সৈয়দ মুজতবা আলী

"বই পড়াকে যথার্থ হিসেবে যে সঙ্গী করে নিতে পারে,তার জীবনের দুঃখ কষ্টের বোঝা অনেক কমে যায়।“
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

"একটি ভালো বইয়ের কখনোই শেষ বলতে কিছু থাকে না।“
- আর ডি কামিং।

"একটি বই পড়া মানে হলো একটি সবুজ বাগানকে পকেটে নিয়ে ঘোরা”
— চীনা প্রবাদ।

একটি বই পড়ার দুটি উদ্দেশ্য থাকা উচিত একটি হল- বইটিকে উপভোগ করা অন্যটি হল- বইটি নিয়ে গর্ব করতে পারা।“
- বার্ট্রান্ড রাসেল।

"প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না”
— জন মেকলে

 “আমি চাই যে বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়”
— নর্মান মেলর

”সেদেশ কখনো নিজেকে সভ্য বলে প্রতীয়মান করতে পারবে না যতক্ষণ না তার বেশিরভাগ অর্থ চুইংগামের পরিবর্তে বই কেনার জন্য ব্যয় হবে।” -ভলতেয়ার

 “বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে” 
- জেমস রাসেল।

"আমরা যখন বই সংগ্রহ করি, তখন আমরা আনন্দকেই সংগ্রহ করি।“
- ভিনসেন্ট স্টারেট

" বই পড়ার অভ্যাস নেই আর পড়তে জানে না এমন লোকের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।"
– মার্ক টোয়েইন

.”আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই।“- ফ্রান্ৎস কাফকা

”কতকগুলো বই সৃষ্টি হয় আমাদের শিক্ষা দেবার জন্য নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের এই কথা জানানো যে, বইগুলোর স্রষ্টারা কিছু জানতেন।“
 _ গ্যেঁটে

. "সন্তানের জীবনে বইয়ের বিকল্প নেই। 
-ম্য এলেন চেজ।

 . "গৃহের কোনো আসবাবপত্র বইয়ের মতো সুন্দর নয়।"
 সিডনি স্মিথ

.’রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে কিন্তু একখানা বই অনন্ত যৌবনা, যদি তেমন বই হয়।’
– ওমর খৈয়াম।

 “সেদেশ কখনো নিজেকে সভ্য বলে প্রতীয়মান করতে পারবে না যতক্ষণ না তার বেশিরভাগ অর্থ চুযা অন্যরা সবাই পড়ছে, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন অন্য সবাই কি ভাবছে ।” 
— হারুকি মুরাকামি

.”কতকগুলো বই সৃষ্টি হয় আমাদের শিক্ষা দেবার জন্য নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের এই কথা জানানো যে, বইগুলোর স্রষ্টারা কিছু জানতেন।“
- গ্যেঁটে

"আপনি যখন পড়া শিখবেন তখন আপনার আবার জন্ম হবে … এবং আপনি আর কখনও একা থাকবেন না। "
— রুমার গডডেন

"কেবল শিশুদের পড়তে শেখানোই যথেষ্ট নয়; আমাদের তাদের পড়ার উপযুক্ত কিছু দিতে হবে। এমন কিছু যা তাদের ধারণাগুলি প্রসারিত করবে এমন একটি জিনিস যা তাদের নিজের জীবনের অনুভূতি তৈরি করতে এবং তাদের জীবন থেকে তাদের থেকে পৃথক হওয়া মানুষের দিকে এগিয়ে যেতে উত্সাহিত করবে। "
-ক্যাথারিন প্যাটারসন.

"বই উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আসলে প্রিয়জনকে মানসিক উন্নয়নের রাস্তা দেখিয়ে দেই।“
-ফেরদৌসি মঞ্জিরা


যুগ-যুগান্তরে মানুষ তার জ্ঞান ও অনুভূতি বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাই বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ তার আপন সত্তার পরিচয় পায়। স্বশিক্ষা অর্জন বা নিজেকে নিজে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বই পড়ার কোন বিকল্প নেই । বই পড়া মানুষকে শোকে – সান্তনা, দুঃখে -দুঃখ জয়ের ব্রত , ব্যর্থতায় – ধৈর্য ধরার শক্তি জোগায়। ভালো ব‌ই , জীবনের ভালো বন্ধু। 

ব‌ই নিয়ে কিছু অজানা তথ্য :

০১. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা চারটি আইনের বই আছে।

০২. যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট প্রতিদিন একটি করে বই পড়তেন।

০৩. ভিক্টর ভুগোর লা মিজারেবল বইয়ে একটি দীর্ঘ বাক্য আছে। বেশি না, মাত্র ৮২৩ শব্দের!

০৪. সর্বাধিক দামে বিক্রিত বই হলো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির কোডেক্স লেইচেষ্টার।


০৫. যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশিবার ব্যান খাওয়া বইটি হলো- হ্যারি পটার!!

০৬ মার্ক টোয়েনের 'অ্যাডভেঞ্চার অব টম সয়ার' বইটি টাইপরাইটারে লেখা পৃথিবীর প্রথম বই।

০৭ 'বই' শব্দটি প্রথম ব্যবহার হয় আলফ্রেড দ্য গ্রেটের বইয়ে।

০৮. লর্ড অব দ্য রিং ট্রিলজির নাম শুনে থাকবেন। এটা নিয়ে একই নামে বিখ্যাত সিনেমা আছে। লেখক মহাশয় এই পুরো ট্রিলজিটি লিখেছেন শুধু দুই আঙ্গুল ব্যবহার করে (তার হাতে পাঁচ আঙ্গুলই ছিল, সম্ভবত টাইপরাইটারের কারণে...)।

০৯. আপনি যদি নরওয়েতে কোন বই প্রকাশ করেন তাহলে সরকার ১০০০ কপি কিনে নিবে। শিশুতোষ বই হলে ১৫০০ কপি। তারপর তারা বইগুলো দেশের লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে দেয়।

১০. আইসল্যান্ডের একটি নিজস্ব ঐতিহ্য আছে। ক্রিসমাসে সেখানের মানুষ নিজেদের মধ্যে বই অদলবদল করে এবং বাকি রাত সেসব বই পড়ে এবং চকলেট খেয়ে কাটায়!
==========∆∆∆∆∆∆∆∆∆===========

Tuesday, 1 March 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। শৈলবালা ঘোষ। ০২.০৩.২০২২. Vol -662. The blogger in literature e-magazine


শৈলবালা ঘোষজায়া 


"চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও যে দু: সাহসিক সাহিত্য চর্চার স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন, তার জন্য শৈলবালা ঘোষজায়াকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না। অনেকটা আড়ালে চলে গেলেও তিনি চিরজীবী হয়ে থাকবেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে।"


সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ---

"আমি নামের পরে ঘোষজায়া কেন লিখি জান? শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যেন কিছুতেই বুঝতে না পারে, আমিই ওদের নতুন বউ শৈলবালা ঘোষ। ওসব লেখাটেখার ওরা ধার ধারত না, খবরও রাখত না। এই সাক্ষাৎকার ধরেই আমরা যদি পিছনে হেঁটে যাই, দেখতে পাবো কি অসম্ভব প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে গৃহবধূ শৈলবালা ঘোষ থেকে লেখিকা শৈলবালা ঘোষজায়া'য় উত্ত‍রণ ঘটেছিল তাঁর? ফিরে যাই তাঁর সেই সংগ্রামী জীবনে। ..."



জন্ম ২ রা মার্চ ১৮৯৪. কক্সবাজার,  বাংলাদেশ।পিতার কর্মস্থল বাংলাদেশের কক্সবাজারে

জন্মগ্রহণ করেন। পরে পিতা, ডাক্তার কুঞ্জবিহারী নন্দী অবসর গ্রহণ করে বর্ধমান জেলায় চলে আসেন। তার বাল্যকাল বর্ধমানে অতিবাহিত হয়। ১৯০৭ সালে বর্ধমানের মেমারী গ্রামের নরেন্দ্রমোহন ঘোষের সাথে তার বাল্য বিবাহ হয়। তিনি বর্ধমান রাজ বালিকা বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রী ছিলেন। পিতা ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা পান। বিবাহের পরে লেখাপড়ার পরিবেশ ছিলনা কিন্তু তিনি লুকিয়ে রাত জেগে পড়তেন ও লিখতেন। সংসারের সব কাজ শেষে রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে লণ্ঠনের আলোয় চলতো শৈলবালার সাহিত্য সাধনা। এভাবেই ১৮ বছর বয়সে শৈলবালা লিখলেন তাঁর প্রথম গল্প---"বীণার সমাধি।" সে লেখার জন্য একটি পুরস্কারও পান তিনি। এরপর ২০/২১ বছর বয়সে লিখলেন আন্দু নামে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে জ‍্যোস্না নামের এক হিন্দু তরুণীর প্রেম নিয়ে প্রথম উপন্যাস---"শেখ আন্দু।" এই উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি তাঁর স্বামী নিজে পাঠিয়ে দেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত "প্রবাসী" পত্রিকার দফতরে। উপন্যাসটি মাসিক "প্রবাসী" পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ১৩২২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যা থেকে ফাল্গুন সংখ্যা প‍র্যন্ত ১১টি কিস্তিতে ৩২টি প‍রিচ্ছেদে প্রকাশিত হয়‌। প্রথমে উপন্যাসটির নামের বানান ছিল--- "সেখ আন্দু", লেখিকা---শৈলবালা ঘোষ। পরে পাল্টে হয়---"শেখ আন্দু" এবং জ‍্যৈষ্ঠ সংখ্যা থেকে লেখিকার নাম --শৈলবালা ঘোষজায়া।

 শেখ আন্দু উপন্যাসটি লিখে স্বামীর হাত দিয়ে তিনি প্রবাসী পত্রিকায় পাঠান। এই রচনাটিই তাকে খ্যাতি এনে দেয়। বাংলা নারী প্রগতিশীল সাহিত্যে শৈলবালা ঘোষজায়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।


১৩২১ বঙ্গাব্দে শৈলবালা শেখ আন্দু উপন্যাসটি লিখে প্রবাসী (পত্রিকা) তে পাঠালে সেটি পরের বছর প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যজগতে আলোড়ন তোলে। এই আধুনিক চিন্তার উপন্যাসের নায়ক দরিদ্র মুসলিম ও নায়িকা হিন্দু। এই উপন্যাসের পর তিনি রক্ষণশীল সমাজের আক্রমণ ও সমালোচনার সম্মুখীন হন। কবিকঙ্কন চন্ডীর ওপর গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখে সরস্বতী উপাধি পান তিনি। শৈলবালা ঘোষজায়ার প্রকাশিত ৩৮ টি গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন মাসিকপত্রে উপন্যাস, আত্মজীবনী ছোটগল্প ইত্যাদি প্রকাশিত ও সমাদৃত হয়েছে। শিশুদের জন্যে রহস্য উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। 

এরপর তিনি কয়েকটি গল্প-উপন্যাস লেখেন, যেগুলি "বঙ্গশ্রী" পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং পরে বই আকারে বের হয়। লেখালেখি করে তাঁর আয়ও হতে থাকে। সংসারে দু'একজন দেওর ও ভাসুরপো ছাড়া সবাই তাঁর সাহিত্য চর্চার বিরোধিতা করতে থাকে। ইতিমধ্যে উপার্জনহীন স্বামী কলকাতায় আসেন হোমিওপ্যাথি পড়তে এবং পাশাপাশি শেখেন শর্টহ‍্যাণ্ড টাইপ রাইটিং‌‌ আর লেখালেখি করে সে সবের খরচ যোগান শৈলবালা। এরপর তাঁর স্বামী রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পাগল হয়ে যান‌। শৈলবালার বয়স তখন ২৬ বছর। তবুও অদম্য উৎসাহে শৈলবালা নিজের লেখালেখি চালিয়ে যান। এই সময় শৈলবালার চরম দু: খের দিন শুরু হয়। পাগল স্বামী মারধোর করতে থাকেন।

শৈলবালার ভাষায়, ---

১৩২৭ সাল আমার জীবনের সবচেয়ে দুর্বৎসর। স্বামী ঘোর উন্মাদ---দুর্দান্ত। সেই সুযোগে আত্মীয়রা সম্পত্তির ভাগ ঠকিয়ে নিচ্ছে। আমার ওপর চলছে অমানুষিক অত‍্যাচার। আমার স্বামী মাথায় এমনকি জোরে আঘাত করলেন যে, মনে হল চোখ দুটি বুঝি ঠিকরে বেরিয়ে এল। ক্ষীণ হয়ে গেল দৃষ্টিশক্তি, উ: মাথায় কী যন্ত্রণা!

এই ঘটনার পর তাঁর দাদা মেজর অশ্বিনী কুমার নন্দী পুলিশের সাহায্যে উদ্ধার করে নিজের বর্ধমানের বাড়িতে নিয়ে আসেন‌। এরপর ১৩৩৩ সালে শাশুড়ির মারা যাবার পর তিনি ফের শ্বশুরবাড়ি মেমারিতে ফিরে যান। এর ৩ বছর পর ১৩৩৬ সালে তাঁর পাগল স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর শ্বশুরবাড়িতেও চলে অত‍্যাচার। শেষে সংসার ছেড়ে আশ্রয় নেন রামচন্দ্রপুরে বিজয়কৃষ্ণ আশ্রমে।

নানান্ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও শৈলবালা যে সব গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, তা হলো--- "শেখ আন্দু", "মঙ্গল ঘট", "আড়াই চাল", "শান্তি", "মনীষা", "নমিতা", "ইমানদার", "বিভ্রাট", অবাক", "স্নিগ্ধা", "বিনীতাদি", "চৌকো চোয়াল", "রঙিন ফানুস", "জয় পতাকা", "তেজস্বতী", "অন্তরের পথে", "বিপত্তি" ও "অভিশপ্ত সাধনা।" পেয়েছেন "সরস্বতী", "রত্নপ্রভা", "সাহিত্য-ভারতী" উপাধি।

শ্বশুরগৃহে সাহিত্যচর্চা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, তার স্বামী নরেন্দ্রমোহন তার সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নরেন্দ্রমোহন উন্মাদ রোগাক্রান্ত হয়ে যান ও তার আক্রমনে শৈলবালা নিজে এক চোখের দৃষ্টি হারান। স্বামী মারা গেলে তিনি একটি আশ্রমে থেকে লেখালিখি চালিয়ে গিয়েছিলেন দীর্ঘকাল অবধি। তার সাহিত্যসেবার জন্যে নদীয়ার মানদ মন্ডলী তাকে 'সাহিত্য ভারতী' ও 'রত্নপ্রভা' উপাধি প্রদান করে। কলকাতার স্নাতক মহিলা সংস্থা ও সাহিত্যকার যৌথ উদ্যোগে লীলা মজুমদার এবং মহাশ্বেতা দেবীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সাহিত্যিক সম্বর্ধনা সভায় তাকে সম্মানিত করা হয়।


শেষ জীবন তিনি পুরুলিয়া জেলার মুরারডির নিকট রামচন্দ্রপুর শ্মশানে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী নামাঙ্কিত আশ্রমে কাটান। বিপ্লবী অন্নদাপ্রসাদ বা স্বামী অসীমানন্দের তৈরী এই আশ্রমে তিনি থাকতেন। ১৯৭৪ সালে মারা যান শৈলবালা ঘোষজায়া।

বাংলা ১৩২২ সনে মুসলিম যুবকের সঙ্গে হিন্দু যুবতীর দু: সাহসিক প্রেম নিয়ে লেখা "শেখ আন্দু" উপন্যাসের লেখিকা শৈলবালা যে কতটা সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়! তবুও "বঙ্গ সাহিত্যে উপন্যাসের ধারা" নামক ৫৭৭ পৃষ্ঠার ভারি বইয়ের পাতায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রামতনু লাহিড়ী অধ‍্যাপক লেখক শ্রীকুমার বন্দোপাধ্যায় "স্ত্রী-ঔপন‍্যাসিক" হিসেবে প্রভাবতী দেবী সরস্বতী ও শৈলবালা ঘোষজায়া সম্পর্কে তিনটি বাক্যে মূল‍্যায়ণ করেছেন।

তিনি লিখছেন, ---

"প্রভাবতী দেবী সরস্বতী ও শৈলবালা ঘোষজায়া অনেকগুলি উপন্যাস রচনা করিয়াছেন। কিন্তু ইহাদের মধ্যে নূতন ধারা প্রবর্তনের বিশেষ কোনও পরিচয় পাওয়া যায় না। মোটের উপর ইহারা সকলেই কম বেশী পুরাতন আদর্শ-সংঘর্ষের যুগে পুরাতনেরই পোষকতা করেন।"---বঙ্গ সাহিত্যে উপন্যাসের ধারা, তৃতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা-২৮৪: শ্রীকুমার বন্দোপাধ্যায়।


======{{{{{{{{{{∆∆∆∆∆∆∆∆}}}}}}}}}}}====


Monday, 28 February 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক। ০১.০৩.২০২২. Vol -661. The blogger in literature e-magazine


"বাড়ি আমার ভাঙ্গনধরা অজয় নদীর বাঁকে,
জল সেখানে সোহাগ ভরে স্থলকে ঘিরে রাখে"


বর্ধমানে কুনুর নদীর উপর কুমুদ সেতু পার হয়ে ডান দিকে গেলে কিছু দূরেই কোগ্রামে পল্লীকবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের জন্মভিটে।

কুমুদরঞ্জনের আমবাগানকে বাঁয়ে রেখে ক্রমশ এগোলে দুদিকে রয়েছে অজয় নদ আর কুনুর নদী । ছোট্ট কুনুর কোগ্রামের দক্ষিণ ও পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অজয়ে মিশেছে। অজয়ের এ পারে বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট, ওপারে বীরভূমের নানুর। মঙ্গলকাব্যের উল্লেখিত উজানী নগর আজকের কোগ্রাম। এখানেই পল্লীকবি কুমুদ রঞ্জনের জন্ম। নদী ঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছেন কবি কুমুদ রঞ্জন।

তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য নদী এবং প্রকৃতি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন তাঁকে কবি হতে সহায়তা করেছে।

পল্লীকবির রচিত একাধিক কবিতায় রয়েছে প্রকৃতি ও গ্রাম্য পরিবেশে সৌন্দর্যের বর্ণনা। শিশু বয়সে বেশীরভাগ মানুষই পড়েছে কবি রচিত কবিতা-

আমাদের সঙ্গী

গুটি ছয় পায়রা ও গুটিকত হাঁস রে,

আমাদের ঘরে করে একসাথে বাস রে।

আসে কাক এক ঝাঁক

করে খুব হাঁক ডাক।

কোকিলের কনসার্ট শুনবি তো যাস রে।

দল বেঁধে টুনটুনি আসে হেথা চরতে

বাবুইরা তালগাছে লাগে বাসা গড়তে।

বেনেবুড়ি মারে ডুব

পুণ্যটা করে খুব,

ফিঙে আসে বেছে বছে শুয়োপোকা ধরতে।

ঝাঁক বেঁধে বনটিয়া, কভু আসে মুনিয়া

বলাকার সারি শেষ হয় নাকো গুনিয়া

উড়ে বাজপক্ষী

কত যেন লক্ষী!


কবি কুমুদ রঞ্জন ১৮৮৩ সালের ১লা মার্চ এক বৈদ্য ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা পূর্ণচন্দ্র মল্লিক ছিলেন কাশ্মীর রাজসরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মাতা ছিলেন সুরেশকুমারী দেবী। তাঁদের পূর্বপুরুষ বাংলার নবাবের থেকে মল্লিক উপাধি লাভ করেন। তাদের পদবী সেন শর্মা বা সেনগুপ্ত।

ছাত্র হিসাবে তিনি খুবই মেধাবী ছিলেন। ১৯০৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন এবং বঙ্কিম চন্দ্র স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন ।

বর্ধমান জেলার মাথরুন নবীনচন্দ্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরূপে তিনি কর্মজীবন শুরু.

বর্ধমান জেলার মাথরুন নবীনচন্দ্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরূপে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় এই স্কুলে পড়তেন বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ।

পল্লীকবির উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি হলঃ

শতদল (১৯০৬ - ০৭)

বনতুলসী (১৯১১)

উজানী (১৯১১)

একতারা (১৯১৪)

বীথি (১৯১৫)

চুন ও কালি (১৯১৬)

বীণা (১৯১৬)

বনমল্লিকা (১৯১৮)

কাব্যনাট্য দ্বারাবতী (১৯২০)

রজনীগন্ধা (১৯২১)

নূপুর (১৯২২)

অজয় (১৯২৭)

তূণীর (১৯২৮)

স্বর্ণসন্ধ্যা (১৯৪৮)

কবি হিসেবে তিনি সম্মানিত হয়েছেন সর্বত্র।

স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পল্লীকবির বিষয় উল্লেখ করে বলেছেন-কুমুদরঞ্জনের কবিতা পড়লে বাংলার গ্রামের তুলসীমঞ্চ, সন্ধ্যাপ্রদীপ, মঙ্গলশঙ্খের কথা মনে পড়ে।"

তিনি 'জগতারিণী' স্বর্ণপদক লাভ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ।

১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক 'পদ্মশ্রী' উপাধিতে ভূষিত হন।

আবার বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিষ্ঠান - 'সাহিত্যতীর্থ' এর তীর্থপতি ছিলেন কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক।

১৯৭০ সালের আজকের দিনে (১৪ ডিসেম্বর) সমস্ত সাহিত্য কবিতা অনুরাগী মানুষকে গভীর শোকের নিমজ্জিত করে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

আজও তাঁর কবিতায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক রূপ, রস, অনুভূতি, বাংলা সাহিত্যের পরোতে পরোতে তাকে চিরঞ্জীবী করে রেখেছে। অজয় নদ, কুনুর নদীর স্রোত তাঁর উপস্থিতি অনুভব করায়।


তিনি 'জগতারিণী' স্বর্ণপদক লাভ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক 'পদ্মশ্রী' উপাধিতে ভূষিত হন। ।


========={{{{{{=======}}}}}==========


Sunday, 27 February 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। রম্যরচয়িতা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। ২৮.০২.২০২২. Vol -660 The blogger in literature e-magazine


সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

" তাঁর রচনায় হাস্যরসের সাথে তীব্র শ্লেষ ও ব্যঙ্গ মেশানো থাকে। ছোটদের জন্য তার লেখাগুলিও খুবই জনপ্রিয়। তার সৃষ্ট ছোটদের চরিত্রের মধ্যে বড়মামা সিরিজ কাহিনি অন্যতম।"

জন্ম  ১৯৩৬ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায় (পিতা) তুলসী চট্টোপাধ্যায় (মাতা) । পাঁচ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যুর পর, সঞ্জীবের বাল্যকাল কাটে ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে। স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতা থেকে রসায়ন বিদ্যায় অনার্স[৩][৪] পাশ করেন তিনি। সরকারি চাকরি করেছেন বেশ কয়েক দিন। রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বিখ্যাত এক রাসায়নিক প্রতিষ্ঠানে এনালিস্টের চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় প্রথম রম্য রচনা লেখেন। সেটি প্রকাশিত হয় একটি সিনেমা পত্রিকায়। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন বেতার ও দূরদর্শনের নানা শিল্পসংক্রান্ত লেখা ও লিখতেন।

রঙ্গ ও ব্যঙ্গধর্মী লেখাই শুধু নয় নানা ধরনের লেখায় পারদর্শী সঞ্জীব। সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা সংস্থার দেশপত্রিকায় যোগ দেন। সহযোগী সম্পাদক ছিলেন একসময়। তার প্রথম প্রকাশিত লেখা ছিল একটি গল্প - 'সারি সারি মুখ'। আর প্রথম ধারাবাহিক সুদীর্ঘ লেখা 'দেশ' পত্রিকায় সঞ্জয় ছদ্মনামে 'জীবিকার সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ'। প্রথম উপন্যাস 'পায়রা' শারদীয় 'দেশ' পত্রিকাতেই প্রকাশ পায়।

গ্রন্থ :

  • আহাম্মক
  • দীনজনে
  • একা
  • বাড়িবদল
  • দ্বিধা
  • চিড়িয়াখানা
  • মিলেনিয়াম
  • দ্বিতীয় পক্ষ
  • আড়ং ধোলাই
  • যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
  • জুতো চোর হইতে সাবধান
  • বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
  • গুপ্তধনের সন্ধানে
  • শ্রীরামকৃষ্ণের গিরিশচন্দ্র
  • ফাঁস
  • বুদবুদ
  • বিকাশের বিয়ে
  • এর নাম সংসার
  • খোল কত্তাল
  • শ্রীরামকৃষ্ণ ও আমি
  • শ্বেতপাথরের টেবিল
  • পায়রা
  • সোফা-কাম-বেড
  • ক্যানসার
  • শাখা প্রশাখা
  • কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই
  • শঙ্খচিল
  • অগ্নিসঙ্কেত
  • তৃতীয় ব্যক্তি
  • ভারতের শেষ ভূখণ্ড
  • রুকুসুকু
  • কলকাতার নিশাচর
  • লোটাকম্বল
  • অবশেষ
  • দুই মামা
  • মনোময়
  • নবেন্দুর দলবল
  • জীবিকার সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ (সঞ্জয় ছদ্মনামে)
  • হালকা হাসি চোখের জল
  • দুই সাধক মুখোমুখি
  • ল্যাং মারো ল্যাং
  • গিরিশচন্দ্রের শ্রীরামকৃষ্ণ
  • শ্রীচরণকমলে
  • সেরা হাসির হাট
  • বারো ইয়ারি
  • মৃগয়া
  • আকাশ পাতাল
  • বারুদ
  • বুলেট
  • স্বপ্ন
  • কামিনী কাঞ্চন
  • ঝাড়ফুঁক
  • তুমি আর আমি
  • দুটি দরজা
  • দুটি চেয়ার
  • পেয়ালা পিরিচ (গল্প)
  • ফিরে ফিরে আসি
  • বসবাস
  • ভয়
  • ভৈরবী ও শ্রীরামকৃষ্ণ
  • মুখোমুখি
  • মুখোশের চোখে জল
  • রসেবসে
  • রাখিস মা রসেবশে
  • সাধের ময়না
  • হেঁটমুন্ড ঊর্দ্ধপদ
  • অজ্ঞাতবাস
  • ইতি তোমার মা
  • ইতি পলাশ
  • ডোরাকাটা জামা
  • শিউলি
  • হাসির আড়ালে
  • মুখোমুখি শ্রীরামকৃষ্ণ
  • গাঙচিল
  • কিচিরমিচির
  • সাপে আর নেউলে
  • রাত বারোটা
  • কাটলেট
  • হেড স্যারের কাণ্ড
  • বড়মামার কীর্তি
  • বাঘমারি
  • থ্রি এক্স
  • সপ্তকাণ্ড
  • সাত টাকা বারো আনা
  • হাসি কান্না চুনি পান্না
  • পুরনো সেই দিনের কথা
  • গাধা
  • সুখ ১
  • সুখ ২
  • সুখ ৩
  • গৃহসুখ
  • দাদুর কীর্তি
  • বাঙালীবাবু
  • উৎপাতের ধন চিৎপাতে
  • বেহালা
  • স্বামী স্ত্রী সংবাদ
  • জগৎচন্দ্র হার
  • মাপা হাসি চাপা কান্না (সাতটি খন্ড)
  • শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন
  • পরমেশ্বরী সীতা
  • এই তালিকাটি অসম্পূর্ণ

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ১৯৮১ সালে আনন্দ পুরস্কার পান। ২০১৮ সালে "শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন" ছোটগল্পের কারণে, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার  বিজয়ী হন।

==={{{{{{{{{{{∆∆∆∆∆∆∆∆}}}}}}}}}}}}}}}}=====

Saturday, 26 February 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি।জন আর্নস্ট স্টাইনবেক ।২৭.০২.২০২২. Vol -659. The blogger in literature e-magazine

জন আর্নস্ট স্টাইনবেক 

জন্ম ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯০২
স্যালিনাস, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক। 
ত্রিশের দশকের মহামন্দার প্রেক্ষাপটে তিনি এক আলোড়নসৃষ্টিকারী উপন্যাস লিখেন, যার নাম দ্য গ্রেপস অব র‍্যাথ‌। 
দাম্পত্যসঙ্গী ক্যারল হেনিং (বি. ১৯৩০; বিচ্ছেদ. ১৯৪৩) গুইন কঞ্জার (বি. ১৯৪৩; বিচ্ছেদ. ১৯৪৮)
এলাইন স্কট (বি. ১৯৫০)
সন্তান টমাস স্টাইনবেক (১৯৪৪–২০১৬)
চতুর্থ জন স্টাইনবেক (১৯৪৬–১৯৯১)

Works :

During his writing career, he authored 33 books, with one book coauthored alongside Edward Ricketts, including 16 novels, six non-fiction books, and two collections of short stories. He is widely known for the comic novels Tortilla Flat (1935) and Cannery Row (1945), the multi-generation epic East of Eden (1952), and the novellas The Red Pony (1933) and Of Mice and Men (1937). The Pulitzer Prize–winning The Grapes of Wrath (1939)[5] is considered Steinbeck's masterpiece and part of the American literary canon.[6] In the first 75 years after it was published, it sold 14 million copies.

Most of Steinbeck's work is set in central California, particularly in the Salinas Valley and the California Coast Ranges region. His works frequently explored the themes of fate and injustice, especially as applied to downtrodden or everyman protagonists.


In 1936, Steinbeck published the first of what came to be known as his Dustbowl trilogy, which included Of Mice and Men and The Grapes of Wrath. This first novel tells the story of a fruit pickers' strike in California which is both aided and damaged by the help of "the Party", generally taken to be the Communist Party, although this is never spelled out in the book.

Of Mice and Men
Main article: Of Mice and Men
Of Mice and Men is a tragedy that was written as a play in 1937. The story is about two traveling ranch workers, George and Lennie, trying to earn enough money to buy their own farm/ranch. As it is set in 1930s America, it provides an insight into The Great Depression, encompassing themes of racism, loneliness, prejudice against the mentally ill, and the struggle for personal independence. Along with The Grapes of Wrath, East of Eden, and The Pearl, Of Mice and Men is one of Steinbeck's best known works. It was made into a movie three times, in 1939 starring Burgess Meredith, Lon Chaney Jr., and Betty Field, in 1982 starring Randy Quaid, Robert Blake and Ted Neeley, and in 1992 starring Gary Sinise and John Malkovich.

The Grapes of Wrath
Main article: The Grapes of Wrath
The Grapes of Wrath is set in the Great Depression and describes a family of sharecroppers, the Joads, who were driven from their land due to the dust storms of the Dust Bowl. The title is a reference to the Battle Hymn of the Republic. Some critics found it too sympathetic to the workers' plight and too critical of capitalism,[75] but it found a large audience of its own. It won both the National Book Award and Pulitzer Prize for fiction (novels) and was adapted as a film starring Henry Fonda and Jane Darwell and directed by John Ford.

East of Eden
Main article: East of Eden (novel)
Steinbeck deals with the nature of good and evil in this Salinas Valley saga. The story follows two families: the Hamiltons – based on Steinbeck's own maternal ancestry[76] – and the Trasks, reprising stories about the Biblical Adam and his progeny. The book was published in 1952. Portions of the novel were made into a 1955 movie directed by Elia Kazan and starring James Dean.

Travels with Charley
Main article: Travels with Charley: In Search of America
In 1960, Steinbeck bought a pickup truck and had it modified with a custom-built camper top – which was rare at the time – and drove across the United States with his faithful "blue" standard poodle, Charley. Steinbeck nicknamed his truck Rocinante after Don Quixote's "noble steed". In this sometimes comical, sometimes melancholic book, Steinbeck describes what he sees from Maine to Montana to California, and from there to Texas and Louisiana and back to his home on Long Island. The restored camper truck is on exhibit in the National Steinbeck Center in Salinas.

Bibliography :
Title.             Year      Category       ISBN
Cup of Gold 1929         Novel     978-0-14-018743-4
The Pastures of Heaven 1932 Short stories 978-0-14-018748-9
The Red Pony 1933 Novella 978-0-14-017736-7
To a God Unknown 1933 Novel 978-0-14-018751-9
Tortilla Flat 1935 Novel 978-0-14-004240-5
In Dubious Battle 1936 Novel 978-0-14-303963-1
Of Mice and Men 1937 Novella 978-0-14-017739-8
The Long Valley 1938 Short stories 978-0-14-018745-8
Their Blood Is Strong 1938 Nonfiction 978-0-930588-38-0
The Grapes of Wrath 1939 Novel 978-0-14-303943-3
The Forgotten Village 1941 Film 978-0-14-311718-6
Sea of Cortez: A Leisurely Journal of Travel and Research 1941 Nonfiction 978-0-14-018744-1
The Moon Is Down 1942 Novel 978-0-14-018746-5
Bombs Away: The Story of a Bomber Team 1942 Nonfiction 978-0-14-310591-6
Cannery Row 1945 Novel 978-0-14-017738-1
The Wayward Bus 1947 Novel 978-0-14-243787-2
The Pearl 1947 Novella 978-0-14-017737-4
A Russian Journal 1948 Nonfiction 978-0-14-118019-
Burning Bright 1950 Novella 978-0-14-303944-0
The Log from the Sea of Cortez 1951 Nonfiction 978-0-14-018744-1
East of Eden 1952 Novel 978-0-14-018639-0
Sweet Thursday 1954 Novel 978-0-14-303947-1
The Short Reign of Pippin IV: A Fabrication 1957 Novel 978-0-14-303946-4
Once There Was a War 1958 Nonfiction 978-0-14-310479-7
The Winter of Our Discontent 1961 Novel 978-0-14-303948-8
Travels with Charley: In Search of America 1962 Nonfiction 978-0-14-005320-3
America and Americans 1966 Nonfiction 978-0-670-11602-7
Journal of a Novel: The East of Eden Letters 1969 Nonfiction 978-0-14-014418-5
Viva Zapata! 1975 Film 978-0-670-00579-6
Steinbeck: A Life in Letters 1975 Nonfiction 978-0-14-004288-7
The Acts of King Arthur and His Noble Knights 1976 Fiction 978-0-14-310545-9
Working Days: The Journals of The Grapes of Wrath1989  Nonfiction 978-0-14-014457-4
Steinbeck in Vietnam: Dispatches from the War 2012 Nonfiction 978-0-8139-3403-7.



উল্লেখযোগ্য পুরস্কার
কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার (১৯৪০)
১৯৬৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেন।

মৃত্যু ২০ ডিসেম্বর ১৯৬৮ (বয়স ৬৬)
নিউ ইয়র্ক সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
Filmography
1939: Of Mice and Men—directed by Lewis Milestone, featuring Burgess Meredith, Lon Chaney, Jr., and Betty Field
1940: The Grapes of Wrath—directed by John Ford, featuring Henry Fonda, Jane Darwell and John Carradine
1941: The Forgotten Village—directed by Alexander Hammid and Herbert Kline, narrated by Burgess Meredith, music by Hanns Eisler
1942: Tortilla Flat—directed by Victor Fleming, featuring Spencer Tracy, Hedy Lamarr and John Garfield
1943: The Moon is Down—directed by Irving Pichel, featuring Lee J. Cobb and Sir Cedric Hardwicke
1944: Lifeboat—directed by Alfred Hitchcock, featuring Tallulah Bankhead, Hume Cronyn, and John Hodiak
1944: A Medal for Benny—directed by Irving Pichel, featuring Dorothy Lamour and Arturo de Cordova
1947: La Perla (The Pearl, Mexico)—directed by Emilio Fernández, featuring Pedro Armendáriz and María Elena Marqués
1949: The Red Pony—directed by Lewis Milestone, featuring Myrna Loy, Robert Mitchum, and Louis Calhern
1952: Viva Zapata!—directed by Elia Kazan, featuring Marlon Brando, Anthony Quinn and Jean Peters
1955: East of Eden—directed by Elia Kazan, featuring James Dean, Julie Harris, Jo Van Fleet, and Raymond Massey
1957: The Wayward Bus—directed by Victor Vicas, featuring Rick Jason, Jayne Mansfield, and Joan Collins
1961: Flight—featuring Efrain Ramírez and Arnelia Cortez
1962: Ikimize bir dünya (Of Mice and Men, Turkey)
1972: Topoli (Of Mice and Men, Iran)
1982: Cannery Row—directed by David S. Ward, featuring Nick Nolte and Debra Winger
1992: Of Mice and Men—directed by Gary Sinise and starring John Malkovich and Gary Sinise
2016: In Dubious Battle—directed by James Franco and featuring Franco, Nat Wolff and Selena Gomez. 
====[[[[{{{=={={{{{=========={{{{{={{====

Friday, 25 February 2022

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। ভিক্টোর হুগো। ২৬.০২.২০২২. Vol -658. The blogger in literature e-magazine


ভিক্টর হুগো

সাহিত্যিক ভিক্টর হুগো আলফ্রেড নোবেলকে বলেছিলেন ‘ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ভ্যাগাবন্ড’। ডিনামাইটের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত হলেও আলফ্রেড নোবেলের সাহিত্যপ্রতিভা কিছু কম ছিল না। তাঁর নিজস্ব লাইব্রেরিতে ১৫০০র অধিক বই ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের বিভিন্ন বই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে। ইংরেজ কবি ওয়ার্ডওয়ার্থ, শেলি আর বিশেষ করে বায়রন তাঁর ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। সাহিত্য সম্বন্ধে আলফ্রেড নোবেলের নিজস্ব ধারণা আর ব্যক্তিগত আকর্ষণ ছিল প্রবল। বাবা-মা জোর করে যদি তাঁকে বিজ্ঞান আর ব্যবসায় ঢুকিয়ে না দিতেন তাহলে হয়ত আমরা একজন বড়মাপের সাহিত্যিককে পেতাম।আর তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছেও অনেকটা সেরকমই ছিল।



আলফ্রেডের প্রিয় কবি ছিলেন লর্ড বায়রণ। তাই আলফ্রেডের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বায়রণের তের খণ্ড সোনার জলে বাঁধানো বই স্থান পেয়েছিল। আলফ্রেড একা থাকতে ভালোবাসতেন। আর একাকী আলফ্রেড প্রায়শই বায়রণের কবিতা আবৃত্তি করতেন। আলফ্রেড একবার বলেছিলেন, “যে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির কাছে বই আর কালি নেই, সে জীবন্মৃত।”

বিজ্ঞান ও ব্যবসা নিয়ে নিয়ত ব্যস্ত নোবেল সময় সুযোগ পেলেই সাহিত্য রচনায় বসে যেতেন। যখনি মনের কোণায় উঁকি দিত এই বুঝি ব্যবসা লাটে উঠবে তখনি ভাবতেন ব্যবসা বন্ধ করে পুরোপুরি সাহিত্য জগতে ঢুকে পড়বেন।কিন্তু তা আর পুরোপুরিভাবে হয়ে ওঠে নি। প্যারিসে জুলিয়েট অ্যাডাম ল্যাম্বার নামে একজন একটি প্রকাশনা সংস্থা চালাতেন, নোবেল ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ। জুলিয়েটের বাড়িতে মাঝেমধ্যে একটি সাহিত্যসভা বসত। সেই সভাতেই জুলিয়েট আলফ্রেডের সাথে আলাপ করিয়ে দেন সেযুগের বিখ্যাত কবি-ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগোর সাথে। প্রথম আলাপেই হুগোর ‘ফ্যান’ হয়ে যান আলফ্রেড। হুগোর প্রতি প্রবল অনুরাগ জন্মে আলফ্রেডের। প্রকাশক জুলিয়েটের বাড়িতে কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডায় যেমন হাজির হতেন আলফ্রেড নোবেল ও ভিক্টোর হুগো তেমনি আসতেন পিয়ের লতি, পল বর্জে আর মোপাসাঁর মত সাহিত্যিকেরাও।

উনিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী রোমান্টিক লেখক ভিক্টর হুগো। ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মী। বিশ্ববিখ্যাত ‘লা মিজারেবল’ ও ‘হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’ তারই সৃষ্টি। 

পুরো নাম ভিক্টর মারি হুগো। ১৮০২ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি ফ্রান্স জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা। কবিতা, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি সাহিত্যের অনেক দিকেই ছিল তার বিচরণ। এগুলোর পাশাপাশি তিনি ৪ হাজারেরও বেশি চিত্রকর্ম এঁকেছিলেন।


হুগোর শৈশব কেটেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে। জন্মের দুই বছর পর নেপোলিয়ন ফরাসিদের সম্রাট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। যেহেতু তার বাবা নেপোলিয়নের শাসনকালে একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন, তাই পরিবার নিয়ে প্রায়ই তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতে পারতেন। হুগো এই ভ্রমণগুলো থেকে অনেক কিছু শিখেছিলেন। এই শেখাগুলো পরবর্তীতে তার সাহিত্যে ফুটে ওঠেছিল।

শৈশবেই হুগোর বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মা সোফি প্যারিসে তিন সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে হুগোর শিক্ষা ও আগ্রহকে সবসময় তিনি উৎসাহিত করেছিলেন। ফলস্বরূপ, শৈশবে রচিত তার বেশিরভাগ কবিতায় ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়।

তরুণ ভিক্টর প্রেমে পড়েছিলেন শৈশবের বন্ধু অ্যাডেলে ফাউচারের। মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গোপনে ১৮২২ সালে তাকে বিয়ে করেন। ১৮২৩ সালে তাদের প্রথম সন্তান লেওপোল্ড মারা যায়। ঐ ছেলেটির বয়স বেশ কম ছিল। ১৮২৪ সালে এই দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান লিওপোল্ডাইন জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে ১৮৪৫ সালে ১৯ বছর বয়সে এই সন্তানটিও মারা যায়। সে সময় হুগো ও তার স্ত্রী দক্ষিণ ফ্রান্সে ভ্রমণরত ছিলেন। সেখানে একটি ক্যাফেতে সংবাদপত্র মারফত মেয়ে লিওপোল্ডাইনের মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন।

মেয়ের আকস্মিক মৃত্যু কবিকে বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। কন্যার জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে অনেক কবিতা লেখেন। এক গবেষক বলছেন, হুগো সেই বিষাদ সারা জীবনেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা সম্ভবত 'ডিমেন, ডেস ল'আউব' (আগামীকাল, প্রথম প্রভাতে); এতে বর্ণিত হয়েছে তার মেয়ের কবর পরিদর্শন করার কথা।

‘ওডেস এট পয়েসেস ডাইভারসেস’ নামে তার প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয় ১৮২২। এ গ্রন্থের জন্য তিনি রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কারও পান। ১৮২৩ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘দ্য হ্যান্ড আইল্যান্ড’। ১৮২৯ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যেই তার পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। লা অরিয়েন্টালিস, লা ফিউস ডি অটোমেন, লা চ্যান্টস ডি ক্রেপসিকিউল, লা ভক্স ইন্টিরিয়রস এবং লা রিয়ন্স এট লেস ওম্ব্রেস।

এদের মাঝে ‘লা অরিয়েন্টালিস’ ও ‘লা ভক্স ইন্টেরিয়রস’ তৎকালীন ইউরোপের কাব্যজগতে আলোড়ন তোলে। ১৮২৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘ওড টু ব্যালাডস’ কাব্যগ্রন্থ। ১৮২৯ সালে রচনা করেন উপন্যাস ‘দি লাস্ট ডে অব এ কন্ডেমড ম্যান’। ১৮৩০ সালে লেখেন সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’। এরপর লেখেন বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘লা মিজারেবল’ (১৮৬২)।
অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আছে ‘টয়লার্স অব দ্য সি’ ও ‘দ্য ম্যান হু লাফস’। এছাড়া রাই ব্লাস, হারমানি, ক্রমওয়েল ও নেপোলিয়ন লা পেতিতসহ আরও কিছু কাব্যগ্রন্থও আছে। সাহিত্য সমালোচনা নিয়ে লিখেছেন ‘ফিলোসফি অব লিটারেচার’। Notre-Dame de Paris (দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম) ১৮৩১ সালে প্রকাশিত হবার পর দ্রুত ইউরোপের প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য ভাষায় বইটি অনূদিত হয়। এই উপন্যাস মানুষকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, হাজার হাজার পর্যটক ফ্রান্স শহর ঘুরতে আসে শুধু এই বই পড়ে।
তার প্রজন্মের অনেক তরুণ লেখকের মতো হুগোও উনিশ শতকের প্রথম দিকে রোমান্টিসিজম সাহিত্যের অগ্রপথিক ফ্রাঙ্কো-রেন দে চ্যাটুব্রায়েন্ড দ্বারা প্রভাবিত হন। হুগোর লেখালেখির প্রথম জীবনের ব্রত ছিল চ্যাটুব্রায়েন্ডের মতো লেখালেখির দক্ষতা অর্জন করা।

হুগো ক্রমওয়েল (১৮২৭) এবং হারনানি (১৮৩০) নাটক রচনার মধ্য দিয়ে রোম্যান্টিক সাহিত্য আন্দোলনের মূখ্য চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন। ম্যারাওন ডেলর্ম (১৮৩১), দ্য কিং আমাসেস হিমেল (১৮৩২), এবং রুয়ো ব্লাস (১৮৩৮)-এর মতো পরবর্তী নাটকেগুলো রচনার মাধ্যমে হুগো জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয় তার উপন্যাস, লেস ট্রাভাইলের্স দে লা মের (সাগরের ট্রলার)। সেখানে হুগো সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি থেকে সরে একটি ভিন্নধর্মী গল্প উপহার দিয়েছিলেন। এটি পাঠকের কাছে ‘লা মিজারেবল’-এর চেয়ে বেশি সমাদৃত হয়েছিল। 

তার বাংলা অনূদিত বইগুলোর মধ্যে ‘লা মিজারেবল’, ‘হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’, ‘দ্য ম্যান হু লাফস’ ও ‘নাইন্টি থ্রি’ অন্যতম।

সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় ছিল তার অপূর্ব দক্ষতা। সঙ্গীত নিয়ে তার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখাও আছে। চিত্রকর ও চিত্র সমালোচক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী।

সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। ১৮৪৫ সালে তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'লা মিজারেবল' লেখার সময় ফ্রান্সের রাজা তাকে উচ্চকক্ষের সদস্যপদ দেন। আইনসভার সর্বোচ্চ দলের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করা হয়। তিনি সেখানে সবার জন্য বিনা খরচে লেখাপড়া, সার্বজনীন ভোটাধিকার এবং মৃত্যুদণ্ডের বিলুপ্তির ব্যাপারে কাজ করেন।

১৮৪৮ সালে যখন রাজ্যে উন্নতির জোয়ার শুরু হয়েছিল, তিনি লা মিজারেবল লেখা বন্ধ করে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। পরে ১৮৫১ সালে ঘটনাক্রমে পরিস্থিতি বদলে যায়। হুগোর রাজনৈতিক চেতনার বিরোধিরা তাকে ব্রিটিশ চ্যানেলের একটি দ্বীপে নির্বাসিত করে। সেখান থেকে ১৮৬০ সালে তিনি আবার লা মিজারেবল লেখার কাজে হাত দেন। পরের বছরই উপন্যাসটি শেষ করেন। ফরাসি ভাষায় 'লা মিজারেবল' এর শব্দগত অর্থ দীন দুঃখীরা। এই উপন্যাসে লেখক উনিশ শতকের ফ্রান্সের সাম্রাজ্যতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের অধীনে সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষের এক সকরুণ জীবন চিত্র এঁকেছেন, যারা দুঃখ-দৈন্যের অভিশাপে বিকৃত। এ যেন কোনো উপন্যাস নয়; জীবনের জয়, পরাজয়, উত্থান-পতন, আশা-আকাঙ্খা সম্বলিত এক মহাকাব্য।
In the twentieth century war will be dead, the scaffold will be dead, hatred will be dead, frontier boundaries will be dead, dogmas will be dead; man will live.

“বিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে, ভাস্কর্য বিনষ্ট হবে, ঘৃণা অস্তিত্ব হারাবে, সীমান্তের সীমানা হারিয়ে যাবে, দেবতারা মারা যাবে; মানুষ বাঁচবে।”

১৮৭০ সালে সম্রাটের পতন হলে হুগো ফ্রান্সে ফেরত আসেন, যেখানে তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হিসেবে বিপুলভাবে সম্মানিত করা হয়।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সময়ে সময়ে পরিবর্তন আসে হুগোর। শৈশবে তিনি ছিলেন ক্যাথলিক। বিভিন্ন লেখায় তিনি চার্চের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাও জ্ঞাপন করেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ক্যাথলিক বিরোধী এবং একপর্যায়ে ধর্মীয় মতবাদ বিরোধী হয়ে উঠেন। জানা যায়, নির্বাসনকালে তিনি প্রেতচর্চা তথা আত্মার আরাধনাও করেছিলেন। সারা জীবন ধর্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি ছিলেন দ্বিধাবিভক্ত। ১৮৭২ সালে এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল তিনি ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাসী কি না, উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “না। আমি মুক্তচিন্তার অধিকারী।"


১৮৭০ সালে যখন হুগো প্যারিসে ফিরে আসেন, তখন দেশ তাকে জাতীয়ভাবে অভিবাদন জানায়। তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে তাকে একনায়কতন্ত্র দেওয়া হবে। যেমনটি তিনি সেই সময় তার কিছু নোটে লিখে গিয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালের ৩ আগস্ট তিনি জনসাধারণের সামনে তার শেষ বক্তব্যে একটি আশাবাদী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন .
১৮৭৮ সালের ১৮ জুন হুগো একটি মাইল্ড স্ট্রোক করেন। এই স্ট্রোক তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে ডাক্তার জানান, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একদমই কম। উনবিংশ শতকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে ফলাফল হিসেবে মৃত্যুকেই মেনে নিতো। তখনকার চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনকার মতো এত উন্নত ছিল না।

২২ মে ১৮৮৫ সালে ভিক্টর হুগোর মৃত্যুর পর ফ্রান্সের রাস্তায় তার কফিন বয়ে নেবার সময় লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। সেদিন ফ্রান্সের জনগণ যতভাবে সম্মান জানানো সম্ভব, জানিয়ে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। তার মৃত্যুতে জাতীয় শোক পালন করা হয়।

ভিক্টর হুগো শুধুমাত্র সাহিত্যের বিশাল ব্যক্তিত্ব হিসেবেই সম্মানিত ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, যিনি ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্র এবং গণতন্ত্র দ্বারা জনগণকে আকৃষ্ট করেছিলেন। সারা জীবন তিনি স্বাধীনতা, সমতা ও ফরাসি সংস্কৃতির প্রতি পরম আন্তরিকতা করে গেছেন।

মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি একটি নোট লিখেছিলেন, যেটির শেষ কয়টি শব্দ ছিল- "To love is to act"। এই ভালোবাসা দিয়েই তিনি তার সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করে গিয়েছেন আর জয় করেছেন হাজারো মানুষের মন।
=================================


শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ।‌ একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়   (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭)  একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ.  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...