Saturday, 26 September 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
                 জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

                   নিকুঞ্জ বিহারী মাইতি
=================================
               Doinik Sabder Methopath
                Vol -142. Dt - 26.9.2020
                ৯  আশ্বিন, ১৪২৭. শনিবার
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ  
নিকুঞ্জবিহারী মাইতি।
                                    শ্রী জয়দেব মাইতি।
                               শিক্ষক, কবি ও সম্পাদক



জন্ম -২৬ শে সেপ্টেম্বর ১৮৯২
মৃত্যু -১৯ শে মে ১৯৭০)

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজরী থানা সংগ্রামী থানা হিসাবে পরিচিত। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং তার পরবর্তী সময়েও এ জেলার নানা সংগ্রাম- ইতিহাসে স্থানলাভ করেছে। যেখানে বহু কৃতি সংগ্রামী মানুষ জন্মলাভ করেছেন।যাদের আজও খেজুরীর মানুষ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। 

এমন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং কৃতি শিক্ষক ছিলেন নিকুঞ্জবিহারী মাইতি।এ বছর তার জন্মের ১২৮ বছর পূর্ণ হল।
বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজরী থানার কলাগেছিয়া গ্রামে ১৮৯২ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বর নিকুঞ্জবিহারী মাইতি জন্মগ্রহন করেন। পিতা বিশ্বনাথ মাইতি ছিলেন স্বদেশসেবী এবং বিশিষ্ট শিক্ষক। মা সাবিত্রী দেবী ছিলেন সৎ নির্লোভী এবং পরোপকারী। ছোটবেলা থেকে পিতার পাণ্ডিত্য ও স্বদেশচেতনা - উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কিশোর নিকুঞ্জবিহারী কে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। ১৯০৮ সালে কাঁথি হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯১১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ১৯১৫ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি এ পাশ করেন।১৯১৬ সালে অহল্যা দেবীর সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।একই সময় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী এম এ তে ভর্তি হন এবং পাশ করেন। 
১৯১৮ সালে নন্দীগ্রাম হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।১৯২১ সালের ১লা মার্চ কলাগেছিয়া গ্রামে- অখণ্ড বাংলার প্রথম জাতীয় বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। উদ্বোধন করেন দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল।জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হয়ে জাতীয় আন্দোলন কে জোরদার করতে বিশেষ উদ্যোগী হন।এবং ঐ সালের ডিসেম্বর থেকে জাতীয় কংগ্রেসের সবর্ক্ষনের কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯২৪ সালে তার কন্যা আভা মাইতির জন্ম হয়( পরবর্তী কালে বিখ্যাত নেত্রী ও মন্ত্রী)।
জাতীয় কংগ্রেসে তার আত্মনিয়োগ, কর্মোদ্যম,উৎসাহ - খেজুরী থানা সহ জেলায় বিশেষ উদ্দীপনার সঞ্চার করে। 
গান্ধীজির আহ্বানে ১৯৩০ সালে লবন সত্যাগ্রহ শুরু হলে,এই মেদিনীপুরের মাটিতে নিকুঞ্জবিহারী ও তার স্ত্রী অহল্যাদেবী সক্রিয় অংশ নেন। ১৯৩০ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে তিন মাস এবং ১৯৩৩ সালের ২৬ শে জানুয়ারি ২য় বার আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহনের জন্য ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন। ৪২ এর আগষ্ট আন্দোলনে(২১ আগষ্ট) আবার কারাবরন করেন।
১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে নিকুঞ্জ বাবু উত্তর বর্ধমানের মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন ক্ষেত্রে জয় লাভ করেন। 
১৯৪৭ সালে আসে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্বাধীনতা। ডাঃ প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে প্রাদেশিক সরকার গঠিত হলে, নিকুঞ্জবাবু সেই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী হন।
১৯৪৮ এর ২৩ শে জানুয়ারি ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে নিকুঞ্জবাবু সেই মন্ত্রীসভায় উদ্বাস্তু -ত্রাণ- পূনর্বাসন মন্ত্রী হন।১৯৫২ সালে সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হলেও ১৯৫৭ সালে ঘাটাল লোকসভা থেকে নির্বাচিত হয় সাংসদ হন।এসময়ে কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাজে বিশেষ তৎপরতা দেখান।বাঁকুড়া -মেদিনীপুর- ঝাড়গ্রাম -বীরভূমের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য তুলা চাষের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন এবং উদ্যোগ গ্রহন করেন। 
এত ব্যস্ততার ধকল সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭০ সালের ১৯ শে মে প্রয়াত হন।
দেশের জন্য-স্বাধীনতার জন্য -নতুন ভারত গড়ার জন্য তিনি ৫বার জেল খেটেছেন। মন্ত্রী হয়ে দেশের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য আপ্রান চেষ্টা করেছেন।। নারীশিক্ষা কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্থাপন করেছেন দুটি বালিকা বিদ্যালয়। 
আজন্ম গান্ধীবাদী,অহিংসার পুজারী নিকুঞ্জবিহারীর যাবতীয় লক্ষ্য ছিল - দেশের মানুষ ও দেশ জননীর উন্নতি। 
দেশ ও মানুষ কে নিয়ে যে স্বপ্ন তিনি দেখতেন তার উত্তরসূরী আমরা। ১২৮ তম জন্মদিনে রইল আমাদের অন্তরের শ্রদ্ধা।
**********************************

Thursday, 24 September 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
                  জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

                           ব্রাত্য বসু
=================================
               Doinik sabder methopath
                 Vol -141. Dt- 25.9.20
                  ৮ আশ্বিন,১৪২৭. শুক্রবার
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷



ব্রাত্য বসু ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন ভারতীয় বাঙালি নাট্যকার, নাট্য পরিচালক, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ।
ব্রাত্য বসু বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিষ্ণু বসুর ছেলে। তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অধ্যয়ন করার পর কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপক রূপে যোগ দেন। গণকৃষ্টি নামে এক থিয়েটার গ্রুপে সাউন্ড অপারেটর হিসেবে তার নাট্যজীবন শুরু হয়েছিল।পরে তিনি দলের জন্য নাটক লিখতে ও পরিচালনা করতে শুরু করেন। আল্ট্রা-মডার্ন নাটক অশালীন (১৯৯৬) তার প্রথম নাটক। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকগুলি হল অরণ্যদেব, শহরইয়ার, উইঙ্কল টুইঙ্কল ও হত্যারহস্যমূলক নাটক চতুষ্কোণ। ১৯৯৮ সালে তিনি শ্যামল সেন স্মৃতি পুরস্কার ও ২০০০ সালে দিশারী পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি 'ব্রাত্যজন' নামে নিজস্ব একটি থিয়েটার গ্রুপ গঠন করেন। ২০০৯ সালে দেবব্রত বিশ্বাসের জীবন অবলম্বনে নির্মিত নাটক রুদ্ধসংগীত তার সাম্প্রতিকতম সৃষ্টি।
বর্তমানে তিনি
তথ্যপ্র‌যুক্তি মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২০ মে, ২০১৬
গভর্নর
এম কে নারায়াণান

প্রাক্তন ছিলেন -
১)পর্যটন মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কাজের মেয়াদ
২০ মে, ২০১৪ – ১২ মে, ২০১৬

২) উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কাজের মেয়াদ
২০ মে, ২০১১ – ২০ মে, ২০১৪

বিধায়ক
কলকাতা দমদম বিধানসভা।

তিনি দু'টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন: রাস্তা ও তারা। প্রথমটির বিষয়, এক যুবকের সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা, এবং দ্বিতীয়টির বিষয়, সমাজ ও প্রেমের ব্যর্থতা। তিনি কালবেলা সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। বিবাহিত জীবন পৌলোমী বসুর সঙ্গে ।

দশ বছর পর তিনি পুনরায় সিনেমা নির্দেশনার কাজ করছেন যার নাম "ডিকসেনারি"।


অভিনয় 

গ্যাংস্টার ২০১৬
ডবল ফেলুদা ২০১৬
অ্যাবি সেন ২০১৫
নাটকের মত ২০১৫
যোগাযোগ ২০১৫
পারাপার ২০১৪
এক এক্কে দুই ২০১৪
মহাপুরুষ ও কাপুরুষ ২০১৩
বালুকাবেলা ডট কম ২০১২
তিন কন্যা ২০১২
মুক্তধারা ২০১২
হেমলক সোসাইটি ২০১২
হ্যালো মেমসাহেব ২০১১
ইচ্ছে ২০১১
তারা ২০১০
কালবেলা ২০০৯
হারবার্ট‌ ২০০৬

পরিচালনা 

তারা ২০১০
রাস্তা ২০০৩
ডিকসেনারি ২০২০

রাজনীতি 
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্রাত্য বসু তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দমদম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন সিপিআই(এম) মন্ত্রী গৌতম দেবকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তাকে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে উনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।


বাঙালি মননে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছেন ব্রাত্য বসু। নাটক তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও চলচ্চিত্র ছাড়া সম্পূর্ণ নয় তাঁর শিল্পীজীবন। বিষয়টি উত্থাপন করতেই সাগ্রহ সাড়া দিয়েছিলেন ব্রাত্য। রাজনৈতিক কাজ ও অভিনয় জীবনের ব্যস্ততার মাঝে আনন্দ প্লাসের প্রতিবেদককে ডেকেছিলেন আহিরিটোলার এক বাড়িতে। সেখানেই চলছে ‘ঝরা পালক’-এর শ্যুিটং। জীবনানন্দ দাশের ভূমিকায় অভিনয় করছেন ব্রাত্য। জীবনানন্দের মতো প্রবল অন্তর্মুখী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কী ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? ‘‘এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যে প্রস্তুতি নিয়েছি, তেমনটা আগে নিইনি। একটা মানুষ তাঁর জীবন সাজাচ্ছেন শুধু লিখবেন বলে! সামাজিক প্রতিক্রিয়ার তোয়াক্কা করেননি। রবীন্দ্রনাথকে ‘ধূসর পান্ডুলিপি’ পাঠিয়ে লিখছেন, ‘বইটা আপনাকে উৎসর্গ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু করলাম না।’ এর মধ্যেও যে সাবলাইম ঔদ্ধত্য রয়েছে, সেটাও কিন্তু ব্যতিক্রমী,’’ জানালেন তিনি।

শুরুর দিকে ‘হারবার্ট’, ‘কালবেলা’ থেকে সাম্প্রতিক কালের ‘অসমাপ্ত’, ‘বারান্দা’র মতো সিংহভাগ ছবিই ব্রাত্যর কেরিয়ারে অন্য ধারার। কিন্তু একজন ভার্সেটাইল অভিনেতার কেরিয়ার কি শুধুই এক ধরনের ছবির মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায়? ব্রাত্য মেনে নিলেন, তাঁর অভিনয়জীবন অসম্পূর্ণ। ‘‘কমার্শিয়াল বলতে ‘গ্যাংস্টার’ করেছি। ‘চ্যাম্প’-এর অফারও ফিরিয়েছিলাম ব্যস্ততার কারণে। আমি বাণিজ্যিক ছবি করতে আগ্রহী। কিন্তু অফার পেতে হবে তো!’’ তবে তা নিয়ে আফসোস করতে চান না তিনি।

ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়েও উদ্বিগ্ন ব্রাত্য। সাম্প্রতিক কালে ব্যবসার নিরিখে টলিউডের হাল বেশ শোচনীয়। কয়েকটা ছবি বাদ দিলে অধিকাংশই মুখ থুবড়ে পড়েছে। জানালেন, ‘‘এই ইঙ্গিত অনেক দিন আগেই দিয়েছিলাম। আমরা বাজারটা ক্রমশ ছোট করে ফেলেছি। দেশভাগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছিল বাংলা ও প়ঞ্জাবি ছবির উপরে। অবিভক্ত বাংলা থাকলে বাজারটা বাড়ত। ছবির নামে আমরা গ্রাম-শহর, সিঙ্গল স্ক্রিন-মাল্টিপ্লেক্স এমন সব বিভাজন করে ফেলেছি। এটা চলতে থাকলে একদিন হয়তো ফ্ল্যাটের বা কলোনির ছবিও তৈরি হবে! শুধু নির্মাতাদের দোষ দিলেই চলবে না। দর্শকরাও প্রস্তুত নয়। মুম্বইয়ে ‘দিলওয়ালে’র পাশাপাশি ‘মাসান’ বা ‘নিউটন’-এর মতো ছবির স্পেস রয়েছে। এখানে ‘সহজ পাঠের গপ্পো’র মতো ছবি তৈরি হচ্ছে, কিন্তু সেই স্পেসটার জন্য দর্শকের আরও প্রস্তুত হওয়া জরুরি। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন, সিরিয়াল পিছু পে করার ব্যবস্থা চালু হোক। আমেরিকার মতো এখানেও সিরিয়াল দেখার জন্য দিনে পাঁচশো টাকা ধার্য হলে বোঝা যাবে দর্শক কী চায়। সিরিয়ালের জন্য ভাল ছবি, সাহিত্য, থিয়েটার বিপন্ন হচ্ছে। লগ্নীকৃত টাকা ফেরত পেলে প্রযোজকরা ভাল ছবি করতে উৎসাহী হবেন।’’ উঠে এল স্যাটেলাইট রাইটসের প্রসঙ্গও। একটা সময়ে নির্মাতাদের কেউ কেউ ছবি হিট দেখানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সঙ্গে স্যাটেলাইট রাইটসকেও জুড়ে দিতেন। এই ধারা নিয়েও বিরক্ত তিনি, ‘‘স্যাটেলাইট রাইটস যে একদিন বন্ধ হবে, সেটা জানতাম। কারণ চ্যানেল যে টাকা বিনিয়োগ করছে, সেটা যদি বাজার থেকে তুলতে না পারে, তা হলে আর্থিক মডেলটাই বিপন্ন হবে। অচিরেই দেখবেন, সিনেমার স্বত্ব কেনা বন্ধ হবে।’’ আরও বলছেন, ‘‘ যে টাকা লগ্নি করছেন, সেটা ফেরত পাচ্ছেন কি না এবং তার বিপণনের দিকে কতটা জোর দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েই প্রযোজকরা মেতে থাকেন। এর বাইরে দর্শক সমাগম যে কমছে, তা নিয়ে মাথা ঘামাতেই চান না। বিষয়টাকে এড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। ভাঁড়ারে টান পড়লেই তো ভাবতে হবে।’’

সমসাময়িক ছবির কনটেন্ট নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকলেও কেবল মাত্র পুরনো প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ নিয়ে দর্শকদের মুগ্ধতাকে কটাক্ষ করে ব্রাত্য বলেন, ‘‘প্রকৃত শিল্পীর জন্মদিন তাঁর মৃত্যুর পর থেকে। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকদেরও জীবদ্দশায় স্ট্রাগল করতে হয়েছে।’’ দর্শকদের এই মনোভাবে সমকালীন শিল্পীরা হতাশও হতে পারেন, মানছেন তাও। তবে ব্রাত্য মনে করেন, এর জন্য দায়ী ‘কলোনিয়াল লিগ্যাসি’। তাঁর মতে, ‘‘হিন্দি প্রধান ভাষার জায়গা দখল করায় বলিউড অত্যধিক গুরুত্ব পায়। অথচ দিলীপকুমারের চেয়ে উত্তমকুমার বা অমিতাভ বচ্চনের চেয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কোনও অংশে কম যান না। দক্ষিণে বলিউডের এই আগ্রাসনকে প্রতিরোধ করতে নায়কদের ১৬ ফুট কাটআউট লাগানো হয়, যা আসলে দক্ষিণী ভাষাকেই ১৬ ফুট উচ্চতায় তুলে দিয়েছে। এখানে তেমনটা হলে লোকে হাসাহাসি করবে। এখানে মানসিকতাই নেতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

ব্রাত্য নিজেও পরিচালক হিসেবে তিনটি ছবি করেছেন। সাত বছর আগে শেষ তাঁকে ক্যামেরার পিছনে দেখা গিয়েছে ‘তারা’ ছবিতে। তার পরে আর ছবি পরিচালনা করলেন না কেন? ‘‘সংসদীয় রাজনীতিতে আসার পরে সময় পাইনি। তবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বেশি দিন থিয়েটার করব না। স্থায়ী মঞ্চ না পেলে এ ভাবে ঘুরে ঘুরে থিয়েটার আর ভাল লাগছে না। মনে রাখবেন, যোদ্ধারও ক্লান্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। শিগগিরই পরিচালক হিসেবে সিনেমায় ফিরব,’’ জানালেন ব্রাত্য। তবে রাজনীতিকে সৃজনশীলতার অন্তরায় মনে করেন না। ‘‘শিল্প শেখায়, কী বলা উচিত। কিন্তু রাজনীতি শেখায়, কী বলা উচিত নয়,’’ বলছেন ব্রাত্য।
সাক্ষাৎকার শেষ হতেই প্রস্তুতি নিলেন শ্যুটিংয়ের। সঙ্গে স্পষ্ট হল, নাটক তাঁর জীবনের একটা অংশ মাত্র। কারণ, চলচ্চিত্রও যে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জুড়ে রয়েছে ব্রাত্যর জীবনে। পরিচালনায় ফেরার ঘোষণা যেন তারই ইঙ্গিত দেয়।
                              (সংক্ষিপ্ত)
সংগৃহীত তথ্য -
উইকিপিডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆



Wednesday, 23 September 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ। অনু

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
                       অনুগল্প সংখ্যা

"ভালোবাসার দিগন্তে"
(পর্ব - ৪)
################################
                   Doinik Sabder Methopath
                   Vol -140. Dt - 24.9.2020
                    ৭ আশ্বিন,১৪২৭. বৃহস্পতিবার
===============√√√√√√============


আমি

অঞ্জনকুমার দাস

কি ভবেশবাবু অমন গম্ভীর মুখে বসে আছেন কেন?
এত দিনে বুঝলাম যাদের নিয়ে এতদিন বেঁচে থাকলাম তারা তো আমাকে আপন ভাবতে পারেনি।
আপনার অমন ধারণা হবার কারণ কি?
কাল আমার শরীর টা একটু খারাপ ছিল । না না সেবা শুশ্রূষার অভাব হয়নি । কিন্তু একটা ফলন্ত গাছ পাছে মরে যায় তাঁর ই চেষ্টা ।
ওটা আপনার মনের বিকার।
হতে পারে। তবে এটা আমার কাছে নিজেকে চেনার একটা উপায় । তাই সযত্নে ওটা বাঁচিয়ে রাখা ভালো।

********************

আদিত্য- ইজম 
আশিস মিশ্র 

-- দাদা, কী সব লেখেন, বোঝা যায় না।
--তোমার জন্য লিখিনি। আমার ম্যাওটির জন্যই লেখা। 
না, আর কথা বাড়াবার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। মঞ্চ ছেড়ে আদিত্য প্রকাশ বাসে উঠে পড়লো। প্রশ্ন কর্তার সঙ্গে আট বছর পরে দেখা। বললো, দাদা আদিত্য- ইজমের তুলনা নেই। 
আদিত্য ভাবলো, গান্ডু। কোনো ইজমই সে লেখেইনি।

*********************

ঠিক ঠাক 

নন্দিনী সরকার

"কি গো??কোথায় গেলে? আরে শুনতে পাচ্ছ না?বাজার টা ধরবে তো না কি?
দরজা খুলে রেখেছ? এখানে ফোন গুলো চুরি হলে তোমার শান্তি।
এদিকে লাইট জ্বলছে,দেখতে পাওনি? ঘরে আছো অথচ আলোটা নেবাতে পারো নি?
কথার কোনো উত্তর নেই কেনো? কানটা কি একেবারে গেলো? ""

"মা এদিকের দরজা বন্ধ করো নি কেনো? তোমরা কোন যুগে থাকো বলো তো??চোখ পাকাচ্ছ কাকে? তোমার ইচ্ছায় তো আমি চলব না!! পড়েছো তো ঐ বালি বৃন্দাবন স্কুলে আর পড়াও ধ্যাড়ধেড়ে গ্রামে। তুমি আর কবে ঠিক ঠাক হবে??"

""মা, ওমা, সবসময় মোবাইলটা স্ক্রিন অন করে রাখো কেনো?? এর পর নষ্ট হলে আমাকে ধরবে, কবে যে শিখবে ঠিকমতো মোবাইল ব্যবহার করতে কে জানে?""

সব কিছু শোনার পরেও মা কিছু উত্তর দেয় না। সে মনে হয় নীলকন্ঠ হয়ে গেছে। 

********************

 লাটিম
সুকান্ত আচার্য্য

মিস্টার এবং মিসেস বোসের আদরের মেয়ে লিসা। একটি নামী স্কুলে ক্লাস থ্রি তে পড়ে। মেয়ের কোনও কিছুতেই উনারা কোনও অভাব রাখেননি। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আঁকার স্যারও আসেন নিয়মিত। এই তো সেদিন জন্মদিনে বাবা ওকে একটি দামি ভিডিও গেম গিফ্ট করলেন। 
       একদিন জানলা দিয়ে কি যেন দেখে লিসা সিঁড়ি দিয়ে নেমে পাশের গলির দিকে ছুটলো। পেছন থেকে ওর মা কিছু বুঝতে না পেরে ওর পিছু পিছু ছুটে গেলেন। গিয়ে দেখলেন, বস্তির একটি ছেলেকে ও বলছে, " তুমি যে লাটিম টা ঘোরাচ্ছিলে ওটা আমায় দাওনা, আমি তোমাকে এই ভিডিও গেম টা দেব"। মিসেস বোস অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন, শুধু ওর চোখের কোন থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো।

***********************
বৈচিত্র্য

    পার্থ সারথি চক্রবর্তী 

করিমের মাথায় হাত। যেভাবে বামনগোলায় এবার গঙ্গা ভাঙছে, কি হবে কে জানে! চাষের জমি যেতে বসেছে। খোকার স্কুলও প্রায় যায় যায় নদীগর্ভে।

পাশের বাড়ির টিভির আওয়াজ আসছে। ক্রিকেট খেলার। সব দলকে কোথায় যেন উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে খেলা হচ্ছে!

মানুষ হাতে বা ভাতে, কোন না কোন ভাবে মরছে! আর ভুলিয়ে রাখার, ঘুমপাড়ানির উৎসব চলছে।

বিচিত্র ..........

**************************
 নীল সাদা

     সুবীর ঘোষ

 মা কী যেন ঘাঁটছেন আর বালতির জল নীল হয়ে যাচ্ছে । খুকু দেখতে দেখতে জিগ্যেস করে -- মা ওটা কী ? মা বলেন—এটা নীল । বড় হলে পড়বে নীলকর সায়েবরা আমাদের ওপর খুব অত্যাচার করেছিলেন এই নীলচাষ নিয়ে । খুকু আবার জিগ্যেস করে--নীল কী করে মা ?

মা বললেন—নীল সাদা করে ।

**********************
পোড়া রুটি।


ফটিক চৌধুরী

শিবুর চাকরীজীবনটাই ট্রেনে ডেলিপেসেঞ্জারী।রিষড়ার এক কারখানায়। সকালে হাওয়াই চটি পরে দে দৌড়।আর একবছর বাকি। ইতিমধ্যেই লকডাউন। চোখে ভেসে ওঠে ট্রেনলাইন।কবে ট্রেন ও কারখানা খুলবে জানা নেই। শিবু ঘরে বসে টিভি দেখছিল।দেখছিল পরিযায়ী শ্রমিকের দুর্দশার কথা।ট্রেনলাইন, হাওয়াই চটি,পোড়ারুটি। 
হঠাৎ বউ ডাকল খাওয়ার জন্য।দেরি হয়ে গেছে।বউ বলে,আজ রুটিগুলো একটু পুড়ে গেছে।
শিবু বলে: আজ খিদে নেই।

*************************
চরৈবেতি

অজিত জানা

সততার পুরস্কার এভাবে মিলতে পারে মন্টু কল্পনাও করতে পারেনি।এবছরই সে উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছে। বিশ্বাস ভালো ফল হবে।গত মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় টেষ্ট পরীক্ষার দু'মাস আগে তার জীবনে একটা ঘটনা তাকে আমূল পাল্টে দেয়।
"তাসপাশা,জুয়া নেশা সর্বনাশা"। কিন্তু সেই তাস কিংবা জুয়ার আসর যে কারো জীবনে আলোর দিশারী হয়ে উঠতে পারে, তার ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।
জেলা হাসপাতাল চত্বরে একটা মস্ত বট গাছ ছিল।তার চারদিকে শানবাঁধানো বৃত্তাকার চাতাল রয়েছে। সেই চাতালে বেশ কয়েকজন যুবক রোজকার মতো তাসের আড্ডায় মশগুল। রাতের অন্ধকারে জুয়ার আসরে তাদের দেখা যায়। পুলিশ কয়েকবার রেট্ করেও তাদের নাগাল পায়নি কিংবা টিকিটাও ছুঁতে পারেনি।তারা পেশায় অটো -ট্যাক্সি -রিক্সা চালক।আসলে বিপদে রোগী, রোগীর পরিবার-পরিজনদের নিরাপদে গন্তব্যস্হানে পৌঁছে দেন।
একদিন দিনমজুর বাবা এবং পরিচারিকা মায়ের একমাত্র খঞ্জ সন্তান মন্টু ঠিক পরীক্ষার আগে পা ও কাঁধের ভারী স্কুল ব্যাগটা মাটিতে ঘষটাতে ঘষটাতে তাসুড়েদের কাছে গিয়ে দু'হাত কচলে মাথা নিচু করে বলল, বাবুরা, একটা কথা বলবো।তারা তখন তাসের নেশায় মত্ত। একজন বলে উঠল-কে রে ব্যাটা?কী চাই?দেখছিস্ না আমরা এখন ইন্টারন্যাশন্যাল গেম খেলছি।-না বাবু মানে লেখা পড়ার জন্য একটু সাহায্য করুন। এই নেয় একশ টাকা। যা ব্যাটা যা।
ঘন্টা খানেক পরে মন্টু আবার এসে হাজির। আবার জ্বালাতে এসেছিস্। আমি এই বইটা কিনেছি, বাকি টাকা ফেরৎ দিতে এসেছি। শুনে তো তাস পার্টি একেবারে থ। খেলা বন্ধ করে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল -ভবিষ্যৎ জীবনে মন্টুর প্রতিষ্ঠার জন্য সমূহ খরচ তারাই বহন করবে। দুঃস্থ,অনাথ, প্রতিবন্ধী (সি,ডব্লিউ,এস,এন-Child with special needs)-দের জন্য তারা "চরৈবেতি" নামক একটি সংস্থার সূর্যোদয় ঘটালো।

************"********
দুগ্গা

কোয়েলী বসু

নীল আকাশ,সাদা মেঘ,সবুজ ক্ষেত, মাঠে কাশ ফুলের ঢেউ সব কিছুই আছে আগের মতো।দুগ্গা এইভবেই সময়ে অসময়ে গ্রামের বুকে ছুটে বেড়ায়,চোখ বোলায়,ভাবে এখন চারিদিক টা আরো বেশী নতুন নতুন,ঝকঝকে।ছুটে যায় বাঁধানো সেই বেদির দিকে,আট বছর ধরে যেখানে বাবাকে দেখছে ঢাক বাজিয়ে নাচতে।কিন্তু এবার কোথায় গেল? দুগ্গার চোখ খুঁজে বেড়ায় প্রতিবছরের মতো একটি রঙিন ঝকঝকে নতুন লাল জামা আর শূন্য বেদিতে মতি কাকার তৈরী মা দুগ্গার সেই লাল টুকটুকে রং এর শাড়িটা ।

**********************
মানবিক

দেবাশিস চক্রবর্ত্তী

অম্লান প্রায় দৌড়ে এসে বাসটা ধরার জন্য হাতল ধরে পাদানিতে একটা পা রাখতেই খেলো এক রামধাক্কা । তড়িঘড়ি নামতে থাকা এক সুন্দরী রমণীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ । ফল , ফুটপাতের গর্তে জমে থাকা জলকাদার মধ্যে অম্লান আপাতত চিৎপটাং ! চারিদিক থেকে হাসির শব্দে রাগে আর লজ্জায় তখন তার কানের পাতা লালে লাল ।
          চোখ বন্ধ করে একবার জোরে মাথা ঝাড়া মেরে তাকাতেই দেখলো , তাকে তোলার জন্য হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই সুন্দরী মহিলা । বললো সরি ! অম্লানের ভালো লাগলো । মুহুর্তে ভুলে গেলো সব কষ্ট , হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে উঠে দাঁড়ালো সে ।
  মেয়েটি সকলকে বললো - হাসি থামান । প্লিজ, আপনারা একটু মানবিক হোন ।

**********************
 হাওয়া

দুর্গাদাস মিদ্যা

          রমেন আমার পরিচিত। ব্যবহার সদাশয়। দিল খোলা মানুষ । কথা বলতে শুরু করলে থামত না। একসময় উগ্র রাজনীতি করত। সে কথা ওই বলেছিল না হলে আমি আর কী করে জানবো! সমাজ সংসার নিয়ে খুব ভাবত এটা আমি লক্ষ্য করেছি। আমার বাড়িতে কবিতার আড্ডায় নিয়মিত হাজির থাকত। ভালো কবিতা ও লিখত । সব মিলিয়ে জমা টি মানুষ। করোনায় আক্রান্ত হল! ভর্তি হল। সব হঠাৎ। জানলাম সেদিন যে
দিন ওর ডেডবডি টা হাওয়া হয়ে গেল। করোনার কারসাজিতে।

***********************
কম্পিউটার 


 গোবিন্দ মোদক 
 
          আট বন্ধু --- চিত্রা, অলি, মমতাজ, প্রিয়াঙ্কা, উর্বশী, তাথৈ, এষা এবং রাবেয়া। ওরা ঠিক করলো আট বন্ধু মিলে একটা ক্লাব তৈরি করবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ --- ক্লাব গঠিত হলো। কিন্তু নামকরণ নিয়ে বড্ড সমস্যা হলো --- শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে ক্লাবের নাম হলো 'COMPUTER' ! বলোতো নামকরণের রহস্যটা কি ? একটু ভাবলেই বলতে পারবে। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো --- সবার নামের আদ্যক্ষর দিয়ে !

****************************
সাপোর্ট

বিষ্ণু পদ জানা

বর্ষণক্লান্ত শরতের সকাল মুখ ভারি । গোমড়া মুখো চিররুগী বীণা ও। ছ'মাস শরীর ও মনে, বিমল সঙ্গে থেকে সব.... সব‌ই করেছে। সাপোর্ট করেছে ... বেঁচে থাকার অর্থটাই ...
  রিংটোন - " আমার গর্ব শুধু এই ..আমার চেয়ে সুখী কেউ নেই .....

                 চাকুরী সূত্রে বিদেশ বিভূঁই সে । দু'মেরু দাম্পত্য জীবন ,....

     মৃত্যুর মহামিছিলে দাম্পত্য জীবন যখন বিরহ - একা । বীণার জীবনে সুখ ও স্বস্তি ....

        আবার সবকিছু ঠিকঠাক হলে , 
                  এমন করে সাপোর্ট করবে কে ! 
 
 রিংটোন - " যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে গো ....."
                
*************************

আলোছায়া

জয়দেব মাইতি 

পড়াশোনায় মোটামুটি হলেও মেয়েটা যে একটু বখাটে তা পরিবার থেকে বিদ্যালয়ের সকলে - একবাক্যে স্বীকার করত।
নাইনে কয়েকদিন ক্লাস করার পর একদিন হঠাৎই উধাও হয়ে গেল।নানান কানাঘুষো চলতেই থাকলো।  
F.I.R করার মাস খানেক পর, বাবাকে ফোন - বাড়ি ফিরছি।ফিরিয়ে দিও না-
আবার সে স্কুলমুখী।মেয়েদের আদর্শ।এখন জেলা নারী কল্যান দপ্তরের মুখ। স্কুলে স্কুলে সে মোবাইলের অপব্যবহার আর Early Marriage নিয়ে তার অভিঞ্জতা বলে।

*****-**--*****©©©©©©*******************




Tuesday, 22 September 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ।

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
             জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

কবি অজিত দত্ত

নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী
==========∆∆∆∆∆∆∆∆============
             Doinik Sabder Methopath
             Vol -139. Dt - 23.9.2020
               ৬ আশ্বিন,১৪২৭. বুধবার
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷||||||||||||÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

                      অজিত কুমার দত্ত বাঙালি সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক। অজিত দত্ত ১৯০৭ সালের ২৩নভেম্বর ঢাকার বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা) এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র চার বছর বয়সে তার পিতা অতুল কুমার দত্ত মারা যান। তাাঁর মা হেমালিনীদেবী ছিলেন সাহিত্য অনুরাগী।

শিক্ষাজীবন -

১৯২৪ সালে ঢাকার কিশোরীলাল জুবিলী স্কুল থেকে অজিত দত্ত প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করেন এবং জগন্নাথ কলেজে বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ১৯২৬ সালে তিনি কলকাতা চলে যান এবং বিদ্যাসাগর কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার বড় ভাই মারা গেলো ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে ভর্তি হন। অজিত দত্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৮ সালে বি.এ এবং ১৯৩০ সালে এম.এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

কর্মজীবন-

অজিত দত্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী পদে যোগদান করে তার কর্মজীবন শুরু করেন। কিছুদিন পরেই তিনি কলকাতায় রিপন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে স্কুল ছেড়ে তিনি রিপন কলেজে যোগদান করেন। ১৯৩৬ সালে রিপন কলেজ ছেড়ে দিয়ে ইন্ডিয়ান টি মার্কেট এক্সপানশন বোর্ডে এসিস্ট্যান্ট পাবলিসিটি অফিসার পদে যোগ দেন এবং সেখানে তিনি ১০ বছর চাকরি করেন। এখানে পদোন্নতি না হওয়ায় চাকরি ছেড়ে ক্যালকাটা ন্যাশনাল ব্যাংকের অধিকর্তা শচীন ভট্টাচার্যের ১২/১৪টি কনসার্নের পাবলিসিটি অফিসার হন। এখানেও ১০ বছর চাকরি করে ১৯৫৬ সালের ২১শে আগস্ট তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপনায় যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।

সাহিত্যজীবন-

১৯৩০ সালে অজিত দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কুসুমের মাস প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন বুদ্ধদেব বসু সতীর্থ। তিনি বুদ্ধদেব বসুর সাথে যৌথভাবে প্রগতি নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। পরে কল্লোল সাহিত্য গোষ্ঠী তে যোগ দেন। অজিত দত্ত নিয়মিত কল্লোল পত্রিকায় লেখালেখি করতেন, তিরিশের দশকে কল্লোল অন্যতম জনপ্রিয় বাংলা সাহিত্য পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তার নষ্ট চাঁদ প্রকাশের পরের বছর দেশ পত্রিকায় রৈবত ছন্দ নামে ধারাবাহিকভাবে তার মন পবনের নাও প্রকাশিত হয়। অজিত দত্ত সমসাময়িক বাংলা কবিতা, ছন্দ চিন্তা, রবীন্দ্র বিষয়ক ভাবনা, বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকের রচনার মূল্যায়ন, শিল্পসাহিত্য ভাবনা এবং শিশুসাহিত্য সম্পর্কিত ৫০টি প্রবন্ধ লেখেন। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকা কবিতা গোড়াপত্তনেও অজিত দত্তের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

রচিত গ্রন্থ :

অজিত দত্তের প্রকাশিত গ্রন্থ,

কাব্য গ্রন্থ
কুসুমের মাস (১৯৩০)
পাতাল কন্যা (১৯৩৮)
নষ্ট চাঁদ (১৯৪৫)
পূর্ণনবা (১৯৪৬)
ছড়ার বই (১৯৫০)
ছায়ার আলপনা (১৯৫১)
জানালা (১৯৫৯)
কবিতা-সংগ্রহ (১৯৫৯)
শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৭০)
সাদা মেঘ কালো পাহাড় (১৯৭১)
প্রবন্ধগ্রন্থ
জনান্তিকে (১৯৪৯)
মন পবনের নাও (১৯৫০)
সরস প্রবন্ধ (১৯৬৮)
বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস (প্রবন্ধ, ১৯৬০)
কথা-ভারতী (অনুবাদ)
দুর্গাপূজার গল্প (অনুবাদ)

মৃত্যু 

১৯৭৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর তিনি তার কলকাতার ২০ রাসবিহারী এভিনিউ এর বাড়িতে পরলোক গমন করেন।
                     (সংগৃহীত )

==============*!!!!!!!!!!!!*======≠====
কিংবদন্তী নাট্যপ্রতিভা বিভাস চক্রবর্তী
       
                                                 গৌর চাঁদ পাত্র

                          বাংলা নাট্যজগতের খ্যাতনামা অভিনেতা, গবেষণানিষ্ঠ পরিচালক ও বহুমাত্রিক নাট্যকার। বাংলা নাটকে যুক্ত করেছেন তাঁর গবেষণালব্ধ নতুন শৈলী ও ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা।এই অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৯ খ্রীষ্টাব্দে তিনি সংগীত নাটক অ্যাকাডেমী পুরস্কারে সম্মানিত।
          এই নাট্যপ্রতিভার জন্ম বাংলাদেশের সিলেটে ১৯৩৭ খ্রী ২৩ শে সেপ্টেম্বর।তাই তিনি বলতেন - "সিলেটের ফোক মিউজিকের গৌরবময় ঐতিহ্য আছে।ঐ সুর আমার রক্তে।নাটকে মিউজিক বা আবহ গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলায় বলতাম -যাত্রা নাটক নয়, ঐ বাড়িতে গান শুনতে যাচ্ছি।গান নাটকের প্রাণ " ।
    " বহুরূপী" নাট্যদলে অভিনয় দিয়ে শুরু।তারপর " নান্দীকার" গ্রুপে(১৯৬০-১৯৬৬) । তারপর নিজের হাতে গড়া " থিয়েটার ওয়ার্কশপ " (১৯৬৬-১৯৮৫) । পরে তৈরি করেছেন " অন্য থিয়েটার" গ্রুপ (১৯৮৫- অদ্যাবধি) । বিখ্যাত নাট্যাভিনয় ও কোনক্ষেত্রে পরিচালনা করেছেন - ছায়া আলো (১৯৬৬),রাজরক্ত (১৯৭১), নরকগুলজার (১৯৭২), চাকভাঙা মধু (১৯৭২), বিসর্জন (১৯৮৪) ও মৃত্যু না হত্যা (১৯৯৯) ।
         পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অকাডেমীর সঙ্গে প্রথমাবধি দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে তৈরী করেছেন অনেক নতুন নাট্যশিল্পী।তাঁর থিয়েটারঋদ্ধ পরিমিত  অভিনয়ে সিনেমার ছোট চরিত্রগুলো হয়েছে প্রাণবন্ত । উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হল- ছেঁড়া তমসুক (১৯৭৪), পরশুরাম (১৯৭৯), অমর পৃথিবী (১৯৯৫), পথ ও প্রাসাদ (১৯৯১) এবং আমার ভুবন (২০১৮) ইত্যাদি।

 
  নতুনত্বের সন্ধানী বিভাস চক্রবর্তী বলতে পারেন-"উন্নাসিকতা হয়তো ভালো নয়, কিন্তু তা না থাকলে বর্তমানকে অতিক্রম করে ভবিষ্যতের দিকে এগুনো যায় না" ।তাঁর সংযোজিত নতুন নাট্যভাবনা-
         ক) অন্তরঙ্গ পরিসর :-কোন আলাদা পেন্ট, পোশাক ও মঞ্চসজ্জা ছাড়াই নাটক উপস্থাপনা।কারন অভিনয়টাই আসল।এই ভাবনা থেকেই পথনাটকের সূত্রপাত।
        খ) দীর্ঘসময় ধরে মঞ্চে পূর্ণাঙ্গ নাটকের পরিবর্তে একাধিক ভিন্ন স্বাদের একাঙ্ক নাটক পরিচালনা।এইভাবে একাঙ্ক নাটকের জয়যাত্রা শুরু।
         গ) এলিয়েশান:-নাটকের বিশেষ পরিস্থিতি দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হঠাৎ মিউজিক ও অভিনয় বন্ধ করা। কিছুক্ষণ পরে আবার শুরু করা।
         ঘ)  নাটকের সব উপাদানকে হতে হবে কৃত্রিমতাবর্জিত ও বাস্তব।তাই " চাকভাঙা মধু" র আবহ তৈরীর জন্য ছুটে গেছেন গ্রামের চড়কের মেলায়।রেকর্ড করে এনে কাঁচা ( র) অবস্থায় নাটকে প্রয়োগ করেছেন। এখানেই তাঁর বিশেষত্ব।
         ১৯৮৮ খ্রীষ্টাব্দে বাংলা নাট্যজগত আলোড়িত হল ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে তাঁর নাট্যরূপ দেওয়া ও পরিচালিত ৩০০ রজনী অতিক্রমী  মঞ্চসফল নাটক -" মাধব মালঞ্চী কইন্যা" । যেন "নাট্য আবহাওয়ার গুমোট গরমে দখিনা বাতাস" ।প্রখ্যাত কবি শংখ ঘোষ যথার্থ বলেছেন - " এই নাটক দেখে মনে হল অনেকদিন পর আমরা আমাদের সনাতন দেশটার মাঝে চলে এসেছি। --- বাস্তব বিন্যাস ও অবাস্তব কল্পলোক কী ছন্দময় ক্ষিপ্রতায় মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।"
          নাট্যজগতের এই অলোকসামান্য ব্যক্তিত্বকে তাঁর জন্মদিনে জানাই বিনম্র প্রণতি। নাট্য বিবর্তনের ইতিহাসে তাঁর কীর্তি অমর হয়ে থাকবে।

l
      

==============!!!!!!!!!!!!!=============




Monday, 21 September 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
                   আলোচনা পর্ব
    
বিদ্যাসাগর মহাশয় ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
===============!!!!!!!!!!=============
            Doinik Sabder Methopath
            Vol- 138 . Dt -22.9.2020
               ৫ আশ্বিন,১৪২৭. মঙ্গলবার
===============!!!!¡!!!!!!========≠===

                       ১৮৮২ সালের ৫ অগস্ট (শনিবার) বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রথম ও শেষ সাক্ষাৎ হয়। শ্রীম রচিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
কথামৃতের বিবরণে আছে এই সাক্ষাৎকারের সময় রামকৃষ্ণ পরমহংসের সঙ্গে ছিলেন ভবনাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রতাপ হাজরা এবং মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত ওরফে মাস্টার ওরফে শ্রীম, যিনি লেখক। এই বিবরণ অনুযায়ী ওই সাক্ষাৎকার ৫ ঘন্টা ধরে চলেছিল। কিন্তু বিবরণ পড়লে তা মনে হয় না। একথা অনীস্বকার্য যে সাক্ষাৎকারের বর্ণনার Detailing সত্যিই প্রশংসনীয়। শ্রীম অর্থাৎ মহেন্দ্রনাথ গুপ্তর মধ্যস্ততায় বাদুড়বাগানের বিদ্যাসাগরের বাড়িতে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেখা করতে যান।
 (১) বিদ্যাসাগরের সাথে রামকৃষ্ণর আগ্রহী বেশি ছিলেন, বিদ্যাসাগরের যে এই সাক্ষাতে বিশেষ আগ্রহ ছিল না তা এই বিবরণী পড়লেই বোঝা যায়। রামকৃষ্ণ পরমহংস যখন বাদুড় বাগানের বাড়িতে পৌঁছান তখন বিদ্যাসাগর দোতলার ঘরে ছিলেন। এই আগমনে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের অভ্যর্থনা ছিল নেহাতই সাদামাটা। বিদ্যাসাগরের বাড়িতে পৌঁছে রামকৃষ্ণদেবেরা একতলার বাইরের ঘরে অপেক্ষা করছিলেন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণকথামৃতে প্রথম দিকেই এই বাইরে ঘরে তার বর্ণনা আছে।
“টেবিলের উপর যে পত্রগুলি রহিয়াছে – তাহাতে কি লেখা রহিয়াছে? কোন বিধবা হয়ত লিখিয়াছে আমার অপগোন্ড শিশু অনাথ, দেখিবার কেহ নাই, আপনাকে দেখিতে হবে। কেহ লিখিয়াছেন আপনি খরমাতায় চলিয়া গিয়াছেন তাই আমরা মাসোহার ঠিক মত পাই নাই, বড় কষ্ট হইয়াছে। কোন গরীব লিখিয়াছে, আপনার স্কুলে ফ্রী ভর্তি হইয়াছি, কিন্তু আমার বই কিনিবার পয়সা নাই। কেহ লিখিয়াছেন আমার পরিবারবর্গ খেতে পারছেন না – আমাকে একটা চাকরি করিয়া দিতে হবে। ...”
 (২)আর এই প্রশংসনীয় বিবরণী থেকে যে সন্দেহ জাগে তা হলো বিদ্যাসাগরের বিনা অনুমতিতে ও কারো অনুপস্থিতিতে রামকৃষ্ণদেবের ভক্তরা ওই ঘরে বিদ্যাসাগরের কাজের টেবিলে রাখা কাগজপত্র নেড়ে ঘেঁটে দেখেছিলেন। যা অনৈতিক, একথা নিশ্চয় পাঠকেরা স্বীকার করবেন।
আমরা সবাই জানি রামকৃষ্ণ পরমহংস বিদ্যাসাগরকে সাক্ষাতেই বলেছিলেন। “আজ সাগরে এসে মিললাম। এতদিন খাল বিল হ্রদ নদী দেখেছি, এইবার সাগর দেখছি”। (৩)
সম্ভবত বাকপটু রামকৃষ্ণদেব বিদ্যাসাগরকে একটু তোল্লা দেবার জন্যই বলেছিলেন। বিদ্যাসাগর এটা বুঝতে পেরেছিলেন। আসলে রামকৃষ্ণদেবের আসল উদ্দ্যেশ্য ছিল বিদ্যাসাগরকে তার ভক্ত বানানোর জন্য। তাই তিনি একটু কৌতুক করে রামকৃষ্ণদেবকে উত্তর দেন,
“তবে খানিকটা নোনা জল নিয়ে যান”। (৪)
রামকৃষ্ণদেব এই শ্লেষ গায়ে না মেখে চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন,
“না গো। তুমি তো অবিদ্যার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর। তুমি ক্ষীর সাগর”। (৫)

বিদ্যাসাগর এই প্রসঙ্গে আর তেমন কথা বলেন নি। তেমন কিছু শ্রীমর লেখায় নেই। কিন্তু এরপরও রামকৃষ্ণদেব আরো কিছুটা তোল্লা দেবার বিদ্যাসাগরকে সিদ্ধ পুরুষ বানিয়ে ছাড়েন। বিদ্যাসাগর জিগেস করেন কেমন করে? এইখানেই রামকৃষ্ণদেব অনান্য ভক্তদের সাথে বিদ্যাসাগরকে গুলিয়ে এক কাঁচা উত্তর দিয়ে ফেলেন। তিনি উত্তর দেন,
“আলু, পটল, সিদ্ধ হলে নরম হয়ে নরম হয়, তা তুমি তো খুব নরম, তোমার এত দয়া”। (৬)
এই শুনে বিদ্যাসাগর উত্তর দেয়,
“কলাই বাটা সিদ্ধ হলে তো শক্তই হয়”। (৭)
এই জবাবে রামকৃষ্ণদেব একটু দিশেহারা হয়ে বলেন,
“তুমি তা নয় গো, শুধু পণ্ডিতগুলো দরকাচা পড়া। না এদিক ওদিক। শকুনি খুব উঁচুতে ওঠে, তার নজরে ভাগাড়ে। যারা শুধু পণ্ডিত শুনতেই, কিন্তু তাদের কামিনী-কাঞ্চনে আসক্তি। শকুনের মতো মড়া খুঁজছে। আসক্তি অবিদ্যার সংসারে। দয়া, ভক্তি, বৈরাগ্য বিদ্যার ঐশ্বর্য”। (৮)।
যদি এইটুকু পড়ি তাহলে বা জানি তাহলে তার মানে একরকম দাঁড়াবে। কিন্তু এই বিষয়ে যদি আমরা একটু তত্ত্বতলাশ করি, তবে চিত্রটা আমূল বদলে যাবে। এইজন্য অন্য কোন সমালোচকের লেখা পড়ার প্রয়োজন নেই, শ্রীম-র শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃতই যথেষ্ট।
রামকৃষ্ণদেবের সাথে বিদ্যাসাগরের এই একবারই সাক্ষাৎ হয়েছিল। রামকৃষ্ণদেবের আরো কয়েকবার সাক্ষাতের ইচ্ছে থাকলেও তা হয় নি। আর তখন বিদ্যাসাগরের বিদ্যে বুদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করতে কসুর করেন নি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। ধীরে ধীরে তা প্রকাশে আনবো।
এই সাক্ষাৎকারে বিদ্যাসাগর মোট ১০টি বাক্য বলেছেন। যার বেশির ভাগই নেহাতই সাদামাটা। প্রাথমিক কিছু কথার পর রামকৃষ্ণদেব বিদ্যাসাগরকে ব্রহ্ম সম্পর্কে বলতে থাকেন। বিদ্যাসাগর চুপ করে তা শুনতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ বলার পর রামকৃষ্ণদেব এক মজার উক্তি করেন। তিনি বলেন,
“ব্রহ্ম যে কি মুখে বলা যায় না। সব জিনিষ উছিষ্ট হয়ে গেছে। বেদ, পুরাণ, তন্ত্র, ষড় দর্শণ সব এঁটো হয়ে গেছে। মুখে পড়া হয়েছে, মুখে উচ্চারণ হয়েছে, তাই এঁটো হয়েছে। কিন্তু একটি জিনিস কেবল উচ্ছিষ্ট হয় নাই, সে জিনিসটি ব্রহ্ম। ব্রহ্ম যে কি, আজ পর্যন্ত কেহ মুখে বলতে পারেন নাই”। (৯)
স্বাভাবিক কারণেই তাঁর এই কথায় মজা পান কৌতুকপ্রিয় বিদ্যাসাগর। তাই উনার ঘরে থাকা বন্ধুদের বলেন,
“বা! এটি তো বেশ কথা। আজ একটা নতুন কথা শিখলাম”। (১০)
একথা নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে, বিদ্যাসাগরের এই রসিকতা রামকৃষ্ণদেব বুঝতে পারেন নি। তাই এই কথার পরও রামকৃষ্ণদেব ব্রহ্ম সম্পর্কে বলে চলেন। আর কোন কথা না বলে বিদ্যাসাগরও শুনতে থাকেন।
দীর্ঘক্ষণ রামকৃষ্ণদেবের কথা শোনার পর বিদ্যাসাগর মহাশয় প্রশ্ন করেন,
“তিনি (ঈশ্বর কি কাউকে বেশি শক্তি, কারুকে কম শক্তি দিয়েছেন”? (১১)
রামকৃষ্ণদেব এর উত্তরে বলেন,
“তিনি বিভূরূপে সর্বভূতে আছেন। পিঁপড়েতে পর্যন্ত। কিন্তু শক্তি বিশেষ। তা না হলে একজন লোকে দশজনকে হারিয়ে দেয়, আবার কেউ একজনের কাছ থেকে পালায়, আর তা না হলে তোমাকেই বা সবাই মানে কেন? তোমার কি শিং বেরিয়েছে দুটো? তোমার দয়া, তোমার বিদ্যা আছে অন্যের চেয়ে বেশি তাই তোমাকে মানে, দেখতে আসে। তুমি একথা মানো কিনা”? (১২)
এর পালটা কোন কথা বিদ্যাসারর দেন নি। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণকথামৃতেই এই ধরণের বর্ণনা আছে। (১৩)
রামকৃষ্ণদেব যখন বুঝতে পেরেছিলেন উনার কথায় বিদ্যাসাগর বশীভূত হচ্ছেন না। তখনই তাঁর বিদ্বেষ তাঁর কথায় প্রকাশ পেয়েছে। বিদ্যাসাগরের ওই প্রশ্নকে অত্যন্ত কাঁচা বলে অভিহিত করেছেন এবং বিদ্যাসাগরের বিদ্যার দৌড় বা পাণ্ডিত্য নেহাতই ফাঁপা বোঝাতেও দ্বিধা করেন নি। (১৪) আবার শশধর তর্কচূড়ামণির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রামকৃষ্ণদেব বিদ্যাসাগর সম্পর্কে বলেন, “যে পণ্ডিতের বিবেক নাই, সে পণ্ডিতের বিবেক নাই। সে পণ্ডিতই নয়”। (১৫)

দক্ষিণেশ্বরে ভক্তদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রামকৃষ্ণদেব বিদ্যাসাগর সম্পর্কে বলেন,
“বিদ্যাসাগরের পাণ্ডিত্য আছে, দয়া আছে, কিন্তু অন্তদৃষ্টি নাই। অন্তরে সোনা চাপা আছে, যদি সেই সোনার সন্ধান পেত, এত বাহিরের কাজ যা কচ্ছে সে-সব কম পড়ে যেত, শেষে একেবারে ত্যাগ হয়ে যেত। (১৬)
মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন, শুধু বলা যেতে পারে রামকৃষ্ণের ‘ঈশ্বর’ এই কাজটা ভালোই করেছেন, নইলে বিদ্যাসাগরকে আমরা অন্যভাবে পেতাম।
“ঈশ্বর কি কাউকে বেশি শক্তি, কারুকে কম শক্তি দিয়েছেন” এই প্রশ্নের সম্মুখীন রামকৃষ্ণদেব শুধুমাত্র বিদ্যাসাগরের থেকে নন ভক্তদের কাছ থেকেও হয়েছেন। এইখানেও তিনি ভক্তদের কাছে যথাযথ যুক্তির উত্তর না দিতে পেরে মিথ্যাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি প্রশনকারী ভক্তদের কাছে যুক্তি হিসেবে হাজির করেছেন এইভাবে যে বিদ্যাসাগর পর্যন্ত মেনে নিয়েছেন অর্থাৎ বিদ্যাসাগরের মতো জ্ঞানী মেনে নিয়েছেন যখন তখন তাঁড় বক্তব্য সর্বৈব সত্য। (১৭)। তাঁর যুক্তি স্থাপনের জন্য বিদ্যাসাগরের মুখে ‘হ্যাঁ মানি’ বলিয়ে ছেড়েছন। (১৮) কিন্তু কথামৃতের সাক্ষাৎকার পর্বে বিদ্যাসাগর এমন বলেছেন তার কোন হদিশ নেই। বরঞ্চ যা আছে তা এইরকম। রামকৃষ্ণদেব যখন দ্বিতীয়বারের জন্য বিদ্যাসাগরকে জিজ্ঞাসা করেন ঈশ্বর বা ব্রহ্ম সম্পর্কে তার ধারণা কী? (১৯) বিদ্যাসাগর সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আচ্ছা, সেকথা আপনাকে একলা একলা বলব”। (২০) আশা করবো এই নিয়ে পাঠকদের বিশদে ব্যাখা দিতে হবে না। ঈশ্বর সম্পর্কে বিদ্যাসাগরের ধারণা কিরূপ ছিল তা নিয়ে নানা ধারণা আছে। তবুও শ্রীমর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণকথামৃতর পাতা ওলটালেই একটা ধারণা তৈরি হতে বাধ্য। বিদ্যাসাগর মাস্টার অর্থাৎ শ্রীমকে প্রশ্ন করেছিলেন,
“ঈশ্বরকে ডাকবার আর কি দরকার? দেখ চেঙ্গিস খাঁ যখন লুঠপাঠ আরম্ভ করলেন তখন অনেক লোককে বন্দি করলেন ক্রমে ক্রমে প্রায় এক লক্ষ বন্দি জমে গেল। তখন সেনাপতিরা এসে বললেন মহাশয় এদের খাওয়াবে কে? সঙ্গে এদের রাখলে আমাদের বিপদ। কি করা যায়? ছেড়ে দিলেও বিপদ। তখন চেঙ্গিস খাঁ বললেন, তাহলে কি করা যায়; ওদের সব বধ কর। তাই কচাকচ করে কাটাবার হুকুম হয়ে গেল। এই হত্যাকান্ড ঈশ্বর দেখলেন, কই একটু নিবারণ তো করলেন না। তা তিনি থাকেন থাকুন, আমার দরকার বোধ হচ্ছে না। আমার তো কোনও উপকার হল না”। (২১)
কিন্তু শ্রীমর কাছে রামকৃষ্ণদেব এই কথা শুনে বলেছিলেন,
“ঈশ্বরের কার্য কি বুঝা যায়, তিনি উদ্দেশ্যে কি করেন? তিনি সৃষ্টি, পালন সংহার, সবই করেছেন আমরা কি বুঝতে পারি? আমি বলি, মা, আমার বোঝাবারও দরকার নেই, তোমার পাদপদ্মে ভক্তি দিও। মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য এই ভক্তিলাভ। আর মা সব জানেন। বাগানে আম খেতে এসেছি, কত গাছ, কত ডাল, কত কোটি পাতা –এসব বসে বসে হিসেব করবার আমার কি দরকার। আমি খাই, গাছ-পাতার হিসেবে আমার দরকার নেই”।
সত্যিই কি অদ্ভুত উত্তর। বাবা-মার সামনে তার মেয়ে ধর্ষিতা হয়, তবে ধর্ষিতার বাবা-মা আম খাবেন আর বলবেন, সবই তেনার কর্ম আমার কাম নাই। তাই তো? আশা রাখি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
একথা বলতে কোনও সংকোচ নেই যে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও দর্শনে গভীর জ্ঞানী বিদ্যাসাগরের কোনও স্পৃহা ছিল না রামকৃষ্ণর ওই অসাড় ধর্মতত্ত্ব শোনার। তাই তিনি ভদ্রতার খাতিরে সাক্ষাতের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রয়োজন মনে করেন নি।
এই সাক্ষাৎকার নিয়ে নানাধরণের গালগপ্প চালু আছে। বিদ্যাসাগরকে রামকৃষ্ণর ভাবশিষ্যও বানিয়ে ছাড়িয়েছেন। সাক্ষাৎকার পর্বটি একটু ভালো করে পড়লেই এটা স্পষ্ট হয় যে রামকৃষ্ণদেব বিদ্যাসাগর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলেও বিদ্যাসাগর রামকৃষ্ণ সম্পর্কে কোন খোঁজই রাখতেন না। তাই, মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত অর্থাৎ শ্রীম যখন বিদ্যাসাগরকে জানান রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব উনার সাথে দেখা করতে চান, তখন বিদ্যাসাগর শ্রীমকে বলেন, “কি রকম ‘পরমহংস’ গেরুয়া পরে থাকেন”? (২৩)
এটাই সত্যি যে সেই সময় রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের খ্যাতি বাড়ানোর জন্য কিছু গণমান্য ভক্তের প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি ভক্তদের কাছ থেকে বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্রসহ সমাজের তৎকালীন বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের খোঁজ রাখতেন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণকথামৃতে বঙ্কিমচন্দ্র সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়েও একই কথা খাটে। বঙ্কিমচন্দ্রের সাথেও রামকৃষ্ণদেবেরও একবারই সাক্ষাৎ হয়, কলিকাতা বিনিয়াটোলা নিবাসী রামকৃষ্ণভক্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীঅধরলাল সেনের বাড়িতে। রামকৃষ্ণদেব এই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ভক্তদের বলেন,
“বঙ্কিম তোমাদের একজন পণ্ডিত। বঙ্কিম সঙ্গে দেখা হয়েছিল – আমি জিজ্ঞাসা করলুম মানুষের কর্তব্য কি? তা বলে, ‘আহার, নিদ্রা আর মৈথুন’। এই সকল কথা শুনে আমার ঘৃণা হল। বললুম যে তোমার এ কিরকম কথা! তুমি তো বড় ছ্যাঁচড়া। যা রাতদিন চিন্তা করছো, তাই আবার মুখ দিয়ে বেরুচ্চে। মূলো খেলেই মূলোর ঢেঁকুর ওঠে। ...” (২৪) এর কোন উত্তর বঙ্কিমচন্দ্র দিয়েছেন কিনা তা লেখা নেই।
পরিশেষে, একটা মর্মান্তিক সত্যি কথা জানাই যে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণকথামৃতের কথা কতদূর সত্যি তাই নিয়েই প্রশ্ন আছে। না, এই প্রশ্ন আমার নয়। প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং নরেন্দ্রনাথ দত্ত তথা স্বামী বিবেকানন্দর ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। উনার লেখা ‘স্বামী বিবেকানন্দ’ (নবভারত পাবলিশার্স) পড়লেই পাবেন।
                (সংগৃহীত )
----------------&&&&&&&-----_----------_------_--------
(

Sunday, 20 September 2020

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

$$$$$$$$$$$$$$ ∆∆∆∆∆ $$$$$$$$$$$$
                         অনু নাটক সংখ্যা
                           পর্ব -৪

££££££££££££££££££££££££££££££££
                Doinik Sabder Methopath
              Vol-137. Dt - 21.9.2020
              ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭, সোমবার
=============πππππ==============


মোবাইল


 দুর্গাদাস মিদ্যা
 চরিত্র:----মোবাইল, বিষ্ণু ও আমি।

 মোবাইল----দাদা, আমার চার্জ হয়ে গেছে। এবার তুমি ফোন করতে পারো। তুমি বলছিলে না একটা ইম্পট্যান্ট একটা ফোন ছিল। আর সেই সময়েই আমার দম শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে তুমি রাগে ছুঁড়ে দিলে বিছানার উপর, একটু এদিক ওদিক হলেই প্রাণবায়ু বেরিয়ে যেত। 
 আমি:---হ্যাঁ, আমি সাহিত্যিক ও শব্দের মেঠো পথের সম্পাদক বিষ্ণুকে ফোন করবো বলেছিলাম এমন সময় তোর দম আটকে গেল।
 বিষ্ণু:---হ্যালো! কি হল দাদা, ফোন করলেন না তো? বলছিলেন কী একটা দরকার? 
 আমি:----আরে ভাই! তোমার সাথে কথা বলতে যাবো এমন সময় মোবাইল বাবার দম শেষ!
 বিষ্ণু:----যন্ত্র তো হতেই পারে। যা দিনকাল পড়েছে মানুষের ই দম শেষ হবার জোগাড়! তা বলুন কি বলছিলেন?
 আমি:----বলছিলাম তুমি তো বেশ মজায় আছো এই লকডাউনে। একটার পর একটা ইস্যু নিয়ে আছো। কখনো ঘুড়ি, কখনো মুড়ি, কখনো বিদ্যাসাগর, কখনো শরৎচন্দ্র, এবারে আবার অণু নাটক! তাও ১০০শব্দের মধ্যে। সত্যি ভাই তোমার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়। ভালো থেকো একটা অণূনাটক পাঠালাম। 
 বিষ্ণু, :--ঠিক আছে দাদা আপনিও ভালো থাকবেন। সাবধানে থাকবেন। ছাড়াও।
-----------------////----------------


স্বপ্নফেরি

ফটিক চৌধুরী

বিচারক কবি-- হ্যাঁ। এককালীন টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারো। দারুণ লেখা। বাজারে চলবে।
ব্যাবসায়ী--- বলছ?
(কবিকে বাড়িতে ডেকে পাঠালেন)
ব্যাবসায়ী-- তোমার পান্ডুলিপি দেখলাম, তোমার সাংসারিক দুরাবস্থার কথা ভেবেই ছাপব।
কবি-- দাম দিতে পারবে? আমার সৃষ্টি, স্বপ্নফেরি। অমূল্য।
ব্যাবসায়ী-- হা হা, যাও। কবিতার বই ক'জন ছাপবে? বল, কত চাও? তোমার তো সংসার ঠিকমতো চলে না। এককালীন দেব, কোন রয়্যালিটি নয়। তোমার মত কবিরা নিজের পয়সায় বই ছাপে। সেখানে এত নাম করা পাবলিকেশন? কি, কত দেব বলো?
কবি-- না না, আমার পান্ডুলিপি ফিরিয়ে দাও। আমার টাকার দরকার নেই।
ব্যাবসায়ী-- এই নাও খামটা। ওতে পান্ডুলিপি নয়, আছে দশহাজার টাকা। রাজি?
(কবি দ্বিধান্বিত, একটু ভেবে)
কবি--দাও।
(বেশ কিছুদিন পর বিচারক কবি ব্যাবসায়ীকে বলল)
বিচারক কবি-- দেখলে তো? কি বলেছিলাম। " স্বপ্নফেরি" শেষ পর্যন্ত আকাদেমি পেলো তো!

-------------------////---------------

প্রাপ্তি 


নন্দিনী সরকার 

বিষয়---উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান।
স্থান--- স্কুলের মাঠ প্রাঙ্গন।
চরিত্র - শিক্ষিকা তনয়া ও
 ছাত্র কুমার( ভলেন্টিয়ার, 12 এ পড়ে)

কুমার - দিদি আর কটা প্রোগ্রাম বাকি আছে? অনেক বেলা হয়ে গেল তো। দরজা দিয়ে সব পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। কিছুতেই আটকে রাখতে পারছি না। যতো বোলছি দাঁড়া, টিফিন আছে, আর একটু পরেই দেওয়া হবে, কিছুতেই শুনছে না। আপনি একটু বলুন না দিদি মাইকে।তবে সবাই শুনবে।

তনয়া- ঠিক আছে, আমি বলে দিচ্ছি মাইকে। আর দরজায় তালাও দেওয়া হচ্ছে। আর মাত্র একটা নাচ আছে,
 তার পরেই হেড স্যার অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। 

কুমার -- ঠিক আছে দিদি। আমি ওদিকটায় সামলাচ্ছি। 
স্যারেরা ওদিকে সব টিফিন দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। 

কিছুক্ষণ পরে,

তনয়া-- হা, রে কুমার সবাই টিফিন পেয়েছে?? তোরা যারা ভলেন্টিয়ার ছিলি তোরা বেশি করে টিফিন খেয়েছিস তো? মুখ গুলো তো সব শুকিয়ে গেছে তোদের।


কুমার তবু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।


তনয়া-- কি রে আমার কাছে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কি হলো বল? আমার এখনো কাজ বাকি আছে রে। তবলা, হারমোনিয়াম সব ঠিক করে রাখা হলো কি না দেখি। নাচের মেয়েরা সব সাজ পোষাক ছাড়ল কি না কে জানে?

কুমার- দিদি একটা কথা বলবো, শুনবেন তো? আমরা সবাই খেয়েছি। আপনি সেই কখন থেকে সব কিছু করে যাচ্ছেন।কিচ্ছু খান নি। আপনার জন্য এই প্যাকেট টা নিয়ে এলাম। আপনি আগে খেয়ে নিন। না হলে----

তনয়া-- ( কিছুক্ষণ চুপ করে, চোখে জল নিয়ে) এই যে তুই আমার কথা ভেবে খাবারটা নিয়ে এলি এতেই আমার মন ভরে গেলো রে। পেট টাও ভরে গেলো বুঝলি??এটুকুই তো প্রাপ্তি। এর জন্য আরো অনেক কষ্ট করতে পারবো আমি তোদেরকে নিয়ে।

---------------/////---------------
প্রেম ও পণ
 (কৌতুক নাটিকা)

সমরেশ সুবোধ পড়িয়া

চরিত্র: ভোম্বল ও এক মর্ত্যবাসী, 
স্থান: কৈলাশ ধাম,  সময়: সকাল

ভোম্বল: শুনলাম মেদিনীপুরেই নাকি বেশি বধু নির্যাতন হচ্ছে ?
মর্ত্যবাসী : কে বলছে এসব ? ধরে নিয়ে এস এমন ধোলাই দেব না! আর জন্ম নেওয়ার বায়না করবে না৷ যত্তসব পেপার বাজি আর রংবাজ টেলিভিশন! 
ভোম্বল : কাকে তুমি ধোলাই দেবে? আর কাকে নিয়ে আসবো। 
মর্ত্যবাসী : কেন ? তুমি যে বললে; আমরা বধু নির্যাতন করি। বেশ করেছি! আবার করব৷ স্বাধীনতা লাভ করেছি। আর লাভ করব না, সে কি হয়? প্রথমে আমরা টোপ দিয়ে কচি ফুটফুটে মেয়ে দেখে প্রেম করি। ভালো ভালো কথা বলি। সিনেমা দেখাই। ফুচকা খাওয়াই। দীঘা নিয়ে যাই। এসবে কত খরচ জানো ? এগুলো ইনভেস্টমেন্ট ! ভায়া ইনভেস্টমেন্ট! তারপর খালি হাতে নিয়ে চলে আসি, তাওএক কাপড়ে ! পরে একটু একটু যন্ত্রণা দেই - বাবার মাল কে খাবে? 
ভোম্বল: এ মা! এসব কি গো!
মর্ত্যবাসী: বেশতো দিনরাত টেলিভিশনে বকর বকর করো আর এটা জানো না ! ন্যাকা! ব্যাটা জ্ঞান দিচ্ছে রে ! বের করতো ১০ টাকা, পান খাই !
~~~~~~~~~~~~

ম্যাসাকার

দেবাশিস চক্রবর্ত্তী
চরিত্র :- মহেশ্বর, ব্রহ্মা , বিষ্ণু, বিশ্বকর্মা, পার্বতী ।

মহেশ্বর : কৈ হে বিষ্ণু দেব, এইভাবে অনন্ত সজ্জায় কাত হয়ে শুয়ে থাকলে হবে ? ওদিকে মর্তে যে মহামারি লেগেছে, সে খবর জানো কি ?
বিষ্ণু :- সে কি মহাদেব !
মহেশ্বর :- তবে আর বলছি কি ? কদিন পর পার্বতীর ওখানে পাঁচ দিনের ভিজিট আছে । কি যে করি !
বিষ্ণু :- চলো মহাদেব, ব্রহ্মা কি বলে দেখি ।
মহেশ্বর :- বেশ, চলো তবে -
(ব্রহ্মার সাথে বিশ্বকর্মার প্রবেশ)
ব্রহ্মা :- থাক আর যেতে হবে না, আমিই সব শুনে দৌড়ে এলুম । 
মহেশ্বর :- এখন আর বুড়ো বয়সে দৌড়াদৌড়ি করে কি লাভ ? তোমার আস্কারা পেয়ে যত গোল বাধিয়ে রেখেছে তো বিশ্বকর্মা ।
ব্রহ্মা :- কৈ রে বাবা বিশ্ব , ঘুরে তো এলি, সব ঠিক করতে আর কদিন নিবি ? 
বিশ্বকর্মা :- হয়ে যাবে ।
মহেশ্বর :- কি হয়েযাবে ?
বিষ্ণু :- আর মাত্র কদিন পরেই
শাশুড়ি মা দূর্গার সাথে আমার মিসেস লক্ষী যাবে মর্তে । ফিরে এসে যদি সংক্রমণ ছড়ায় তবে তোমায় আমি দেখে নেবো বিশ্বকর্মা ।
(দূর্গা মায়ের প্রবেশ)
দূর্গা :- বাবাজীবন বিষ্ণু নারায়ন - ,
বিষ্ণু :- মা -- !
দূর্গা :- চিন্তা কোরো না , যা করার আমিই করে দিয়ে আসবো । 
মহেশ্বর :- পারো - এ বছর কি না গেলেই নয় ?
দূর্গা : - চিন্তা করোনা দেব দা , 
এ বছর আমার শ্লোগান হলো - 'ভয়ে মরোনা,যাবে করোনা' ।
মহেশ্বর :- এ্যাঁ --- !
দূর্গা :- হ্যা গো দেবাদীদেব দা,
একবার আমি মর্তে নামার পর জানি সব ঘেঁটে 'ঘ' হয়ে যাবে , তবু আমি আউটিং এ যাবই । 
বিষ্ণু :- এ বছর তবে লক্ষী কে রেখে যাও মা । 
দূর্গা :- না বাবাজীবন বিষ্ণু, এমনিতেই মর্তবাসী এবছর লক্ষী ছাড়া অবস্থায় আছে, 
লক্ষী না গেলে যে ওরা সর্বহারা হবে ।
ব্রহ্মা :- ঠিক - ঠিক ।
বিশ্বকর্মা :- কিচ্ছু চিন্তা করবেন না মা , নির্ভয়ে যান , আমি সব ঠিক করে রেখেছি । উপর নিচ সব জায়গা থেকে শুধু স্যানিটাইজার মারবো ।
 মর্তে এবারের দূর্গা পূজা হবে ,হয় বারবার - নয় ম্যাসাকার ।
-------------***--------------

সদাচার

অজিত জানা

(চরিত্র-ছাত্র, শিক্ষক।স্হান-পথ।সময়-সকালবেলা)

ছাত্র-স্যার ভালো আছেন? অনেক দিন পর দেখা হয়নি,একটু প্রণাম করবো স্যার।
শিক্ষক-আরে না ,না। করোনা, করোনা।প্রণামে কাজ নেই।
ছাত্র-কেন স্যার?
শিক্ষক-করোনা করোনা, দেখছিস না চারদিকে করোনা। সামাজিক দূরত্ব মেনে চল্।
ছাত্র-আমাদের লেখা পড়া।
শিক্ষক - আগে তো বাঁচ, তারপর তো লেখা পড়া।
ছাত্র- করোনা তো শুনছি মহামারি।
শিক্ষক-করোনার চেয়ে ও আরো ভয়ঙ্কর মহামারি সমাজ ছেয়ে গেছে।
ছাত্র-কী স্যার?
শিক্ষক-তবে শোন। আত্মহত্যা, নেশা- ভাণগ্রস্ততা,ব্যাভিচারপ্রিয়তা, অপরাধ প্রবণতা, মানসিক অবসাদগ্রস্থতা কি কম ভয়ঙ্কর মহামারি!
ছাত্র-উপায় কী স্যার?
শিক্ষক-সদাচারপ্রিয়তা,বুঝলি সদাচারপ্রিয়তা।

-----------------------/////--------------
ধান শুনতে কান
 সুবীর ঘোষ

 দৃশ্য-১ (ডোরবেলা)

--বোবোমামা ! কোত্থেকে ?
--মাশাইমারা ।
--মাশাইমারা না গরুমারা ? যা ঢপ দাও ।
--চান না করে কোনো কথা নয় ।

 দৃশ্য-২
--বোবোমামা , রাতে কী খাবে ?
-- মুরগিই কর ।

দৃশ্য-৩
(রান্নাঘর)

 --মামা এসেছে । জিজ্ঞেস করতে গেলাম রাতে কী খাবে, ভাত না রুটি ।

বলল চিকেন খাবে । মাসি চিকেনটা করে দিয়ে যাও ।
-- মুরগি ফ্রিজে আছে ?
--আনতে পাঠাচ্ছি ।
এখন রাত ন”টা । আরো দু’ঘণ্টার ধাক্কা !
দৃশ্য-৪
( স্বামী তমাল ও স্ত্রী রিমা )
--শোনো বোবোমামা এসেছে । রাতে মুরগি খেতে চাইছে ।
নিয়ে এসো তো ।
(তমাল বেরুচ্ছে )

--হ্যাঁ গো ঠিকমতন শুনেছ তো ? তোমার কানে তো হিয়ারিংএডটা নেই ।
দৃশ্য-৫

 তমালকে এক প্যাকেট মুড়ি হাতে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে ।

--------------///-----+----+-
সময় 

জয়দেব মাইতি 


গ্রামের রাস্তা।কোন এক কাকভোরে হঠাৎ দুজনের দেখা -
বল্টু - -আরে পলাশ না? কেমন আছিস! 
পলাশ-- আরে বল্টু তুই। কেমন আছিস! 
বল্টু- আমার তো ভাই বিন্দাস চলে যাচ্ছে। সব ঠিকঠাক
পলাশ--আমিও মোটামুটি। কিন্তু কি করছিস এখন? এত খুশ লাগছে।
বল্টু - -ঐ আর কি।তোদের মতো তো পড়াশোনা করতে পারে নি--বখাটে ছেলেদের যা হয় আর কি---
পলাশ- -বলবি তো কি করছিস?
বল্টু - -আরে যাকে বলে-Loading and unloading labour.একেবারে Full time 
পলাশ -- মানে!!!
বল্টু- -মানে খালাসি! আমাদের এ অঞ্চলে যত লরী টেম্পো বালী মোরাম স্টোন চিপ নিয়ে আসে - সবটাই আমরা আনলোড করি।আমাদের ইউনিয়ন আছে। 
পলাশ- -প্রচুর পরিশ্রম হয় না রে?
বল্টু -- তা তো হয় বইকি। তোদের মতো পড়াশোনা করলে কি আর এগুলো করতে হতো? এই দেখনা রাতে গাড়ি লেগেছে - ভোর ভোর যেতে হচ্ছে। 
পলাশ- -কি রকম পাস? মানে সংসার ---
বল্টু - -তোদের মতো বেতন পাইনা। তবে যা পাই- ঔ ধর গড়ে ৫০০ তো থাকেই--
পলাশ - -পাঁ চ শ......
বল্টু - -কি রে চমকে উঠলি যে।তা ঠিক তোদের মাসিক বেতনের কাছে এ তো কিছুই নয়!
হ্যাঁ রে তুই কত পাস? মানে মাসে কত------
পলাশ - -(দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) ---- আর মাসে!! 
বল্টু-- কি রে!!! কিছু বললি---
পলাশ -- আরে না না। যেখানে কাজ নেই সেখানে বেতন ---
বল্টু - -মানে!!! 
পলাশ-- মানেটা হল -এখন আমার কাজ নেই। 
সেই করনার পর থেকে কোম্পানি দুমাস বেতন দিচ্ছিল। তারপর সাফ জানিয়ে দিয়েছে - আর কোন বেতন নয়।মানে এখনও পুরোপুরি বেকার -সংসার চালাতে অপারগ হয়ে যাচ্ছি 
বল্টু -- তাহলে এখন? 
পলাশ - -এখন আর কি-সারদিন কাজের খোঁজ করা। ব্যবসা যে করব সে মূলধন ও নেই। 
এই বল্টু দেখনা তোদের ওখানে - ইউনিয়নে বলে টলে
বল্টু -- তুই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে - এই কাজ করবি????
পলাশ -- না হলে যে আমাকে --------
(তৃতীয় জন আসে) 
রামু-- কি রে বল্টু তুই এখনও যাসনি? অনেক বেলা হলো যে-
বল্টু - -সত্যি তো, অনেক বেলা হয়ে গেল। আসি ভাই ---
আজ আবার তিনটে গাড়ি আনলোড আছে ----
(পলাশ বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকে) 

************************************
মুখাগ্নি

কোয়েলী বসু

 বিমান - কিরে সুজয় কেমন আছিস?মেয়ে কত বড় হলো,বাবা ডাকছে ?
 সুজয়- ও বিমান দা,আর করোনার দাপটে ভালো থাকা যায়? মেয়ে ভালো আছে , খুব দুষ্টু হয়েছে।বাবা বলতে অস্থির।সামনের মাসে মুখেভাত দেবো ভাবছি। ঘটা করে করার ইচ্ছে থাকলেও করোনার উপদ্রপে উপায় নেই।
বিমান- ঠিক বলেছিস,তবে মেয়ে তো অত খরচা করবি কেন?ছেলে হলে করিস।মরলে মেয়ে মুখাগ্নি করবে কি করে?তোর ছেলেই করবে, স্বর্গে যেতে পারবি রে বুঝলি?

দশদিন পর পাড়ায় খবর এলো বিমান করোনার বলি হয়েছে ।দেহ বাড়িতে আসে নি।কিন্তু সুজয়ের মনে প্রশ্ন জাগে "বিমান দার মুখাগ্নি তো তার ছেলে করতে পারল না,তবে তার স্বর্গ প্রাপ্তি ঘটবে কি করে?"
------------------///----------------


ঠাকুমা কোথায় ? জবাব চাই !

                          গোবিন্দ মোদক 

( কুশীলব : খোকা ও বাবা )

--- বাবা, তুমি আজই ঠাকুমাকে নিয়ে এসো ! 
--- কেন ?
--- আমি অনেকদিন ঠাকুমার কোলে বসিনা, আদর খাইনা ! অনেকদিন ঠাকুমার কাছে রাজা-রানির গল্প শুনিনা ! 
--- তাই বুঝি ? ঠিক আছে বাবা, আর একটু সবুর করো ।
--- কেন সবুর করবো ? তোমরা সেদিন ঠাকুমাকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিয়ে গেলে --- বললে ঠাকুমা বাপের বাড়ি যাচ্ছে ! এতোদিন হয়ে গেলো, এখনও আসছে না !
--- আসবে ।
--- আসবে বললে শুনবো না ! এক্ষুনি আমার ঠাকুমাকে চাই, ব্যস ! আর তুমি জামা-প্যান্ট না প'রে এই ধুতিটা প'রে থাকো কেন ? দাড়ি কামাও না কেন ? যাও, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ঠাকুমাকে নিয়ে এসো।
--- ওরে, ঠাকুমা যে ঈশ্বরের কাছে চলে গেছেন !
--- তা হোক বাবা ! তুমি এক্ষুনি ঈশ্বরকে ফোন করে বলে দাও, আজই যেন ঠাকুমাকে পাঠিয়ে দেয় !
(খোকাকে কোলে জড়িয়ে হু-হু করে কেঁদে ওঠে বাবা)

-------------------/////--------------

সুদ 

পার্থ সারথি চক্রবর্তী 

হন্তদন্ত হয়ে পোস্ট অফিস পৌছল দাসবাবু। ছাতাটা গুটিয়ে কাউন্টারের দিকে যাচ্ছে। প্রথম সপ্তাহের শেষেও বেশ ভীড়। ইতিমধ্যেই অনেকগুলো বই জমা পড়ে গেছে। তিনিও জমা দিয়ে বসলেন বেঞ্চে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি, বসেই ঢুলছিলেন। নাম শুনে ধড়ফড়িয়ে কাউন্টারের সামনে দাঁড়ালেন।
' সই মিলছে না '' বললেন কর্মী ছেলেটি ।
' না, একই তো আছে। '
'উঁহু, আরেকটা করুন তো দেখি ' ছেলেটি স্লিপটি এগিয়ে দিল।
'MIS টি করার পর থেকে ক'বার সুদ বদলে কমেছে, তার ঠিক নেই! আর.....' গজগজ করছেন দাসবাবু।
ছেলেটি মুচকি হেসে টাকাটা দেয়। গুণে পকেটে পুরে বেরোল দাসবাবু।
সিঁড়ি দিয়ে নেমে ছাতাটা খুলবে, তখনই সামনে চোখ যায় তার। আরে ওই ঠগবাজ ছেলেটা না! কি যেন নাম.....এর ফাঁদে পড়েই অবসরকালীন পাওয়া তিন লক্ষ টাকা হারিয়েছিল ।
ভাবতেই ছাতাটা হাতে নিয়ে দৌড় ' ধর ব্যাটাকে......'।
---------------/--------------

অনলাইন ক্লাস 

বিমল মণ্ডল 

চরিত্রচিত্রন-
মঞ্জু -স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী 
স্কুলের হেডমাস্টার 
অনুপ- স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র


মঞ্জু- হ্যালো । হ্যালো স্যার। শুনতে পাচ্ছেন? 
(ফোন টা বেজে যায়)

অনুপ- হ্যালো স্যার । হ্যালো । হ্যালো 
হেডমাস্টার - আজ অনলাইন ক্লাস । কিন্তু ফোনেও নেট নেই। (বলতে বলতে পায়চারি করতে থাকেন) 
হেড়মাস্টার - হ্যালো । হ্যালো মঞ্জু, অনুপ শুনতে পাচ্ছিস। গুগুল মিটে? 
অঞ্জু- হ্যাঁ স্যার। অনেকে তো ঢুকতে পারেনি স্যার। 
অনুপ- এবার পড়ান স্যার। আপনা কে দেখতে পাচ্ছি।
হেডমাস্টার - শুরু তো করবো। তবে কেউ কেউ তো ক্লাসে না ঢুকে ফোনে গেম খেলছে। 

মঞ্জু,অনুপ(এক সাথে)- স্যার এটাই তো অনলাইন ক্লাস স্যার । 
(হেডমাস্টার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। আর ফোন কেটে যায়)

----------/------------------

দহন

বিষ্ণুপদ জানা
     চরিত্র - গরাই, রমা ও বকু । সময় -মধ্যাহ্নবেলা
      স্খান - বাড়ির উঠোনে অস্থায়ী রান্নাঘর।

বকু - (নীল সমুদ্রের অযুত ঢেউ ভাঙা দেখতে দেখতে বলে ) মা ,আর একটা ইলিশের ভাজা
 হবে ? বেশ মুচমুচে ও টেস্টি ...
        রিংটোনে ......ও নদী রে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে.
রমা -( উনুন থেকে গরম কড়াই নামিয়ে, তেল বিহীন মাছ এপিঠ-ওপিঠ করতে করতে বলে) দ্যখো, ছেলের কান্ড। বাবাকে দেবো যে .
 গরাই - (আজ তিন দিন হল বাড়িতে এক টুকরো মাছের .....….। বছরের প্রতিদিন মাছ দিয়ে ভাত মাকে .....। ছোট্ট ডিঙি নৌকোটা ভেঙ্গে দুমড়ে-মুচড়ে উঠোনের এক কোণে...... পড়ে)
      আরে, দাও না। ছেলেটা ভাত মেখে বসে ...
রমা - ( বুকের ভেতর যেন ঢেউ ভাঙে, দু চোখ গড়িয়ে নোনা জল ) 
    ধীরে ধীরে এগিয়ে দেয়.…. ছেলের দিকে
(জোগাড় করা শাক সবজি দিয়ে, ত্রাণের চাল ডালে আর ক'দিন চলবে ..… এভাবে)
গরাই - (৫৫ বছর বয়সে এমন ঝড়.… ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি .. স্ত্রী-পুত্রকে বুকে আগলে.... লড়াই ...দোচালা খড়ের ঘরসহ রান্নাঘর .. উপায়ের ডিঙি নৌকো .…সব.. সব ই..... মনটা বিষাদে ভরে যায়)
    - ত্রাণের ত্রিপলটা পেয়েছিলাম বলে। কত লাইন দিয়ে ছবি তুলে পঞ্চায়েতের কাছে জমা দিলাম।
ঘরটা মেরামত করার আশায় ...
রমা - হ্যাঁ,গো । আজ যে গিয়েছিলে.. ওরা কি বলল.
গরাই - আর বলো না। সর্ষের মধ্যে ভূত। রাজনীতি ..রাজনীতি... বলে কিনা, তোরা ভোট দিস নে....যা।
রমা - সে কি গো ! যাদের কিছুই হয়নি, একাউন্টে টাকা ঢুকে গেল। আমাদের বেলা যত সব !
 (শেষ আশাটুকু নিভে যাওয়ার কথা ভেবে, আনমনে বসে থাকে, মুখে আর ভাত ওঠেন)
       রিংটোনে ---আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে....
        --------------০---------------
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆






শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ।‌ একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়   (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭)  একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ.  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...