Sunday, 7 March 2021

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

জন্ম  দিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় ১৯০৪ সালের ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার খয়রাশোলের নাকড়াকোন্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হেতমপুর কলেজে আই.এ. পড়ার সময়ই রাজরোষে পড়েন। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। তাঁর নামে ২০০৭ সালে এই গ্রামের একটি পাড়ার নামকরণ করা হয় 'ফাল্গুনী পল্লি'।


তিনি ছিলেন বঙ্গলক্ষ্মী মাসিকপত্রের সম্পাদক। সেখান থেকেই তার সাহিত্য জীবন শুরু হয়। তার রচিত অন্যতম এবং বহুপঠিত দুটি উপন্যাস চিতা বহ্নিমান ও শাপমোচন।১৯৫৫ সালে শাপমোচন উপন্যাস অবলম্বনে কোলকাতার পরিচালক সুধীর মুখার্জি উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন জুটিকে নিয়ে একই নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।এছাড়া ২০০৯ সালে দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশী নাট্য নির্মাতা এসএম দুলাল একই নামে একটি টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। আহসান হাবীব নাসিম ও মেহবুবা মাহনুর চাঁদনী অভিনীত টেলিফিল্মটি এনটিভিতে প্রচারিত হয়। তার অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে আকাশ বনানী জাগে, আশার ছলনে ভুলি, বহ্নিকন্যা, ভাগীরথী বহে ধীরে, মন ও ময়ূরী, জলে জাগে ঢেউ, মীরার বধূয়া, স্বাক্ষর, চরণ দিলাম রাঙায়ে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রকাশিত হয় তার রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হিঙ্গুল নদীর কূলে ও কাশবনের কন্যা।

ফাল্গুনীর ‘জীবন ও সাহিত্য’ নিয়ে গবেষণা করছেন বীরভূমের বড়শাল হাইস্কুলের শিক্ষক প্রভাত সিকদার। তিনি এবং তাঁর গাইড হেতমপুর কলেজের অধ্যাপক তপন গোস্বামী জানান, ফাল্গুনীর একমাত্র মেয়ে অচিরার নাম রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর বিয়ে হয়েছিল কলকাতায়। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। অচিরাদেবীর এক মেয়ে আছেন। কিন্তু তঁর নাম-ঠিকানা এলাকার কেউ-ই জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফাল্গুনীর শেষ জীবনটা কেটেছে নাকড়াকোন্দা গ্রামে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও জোতিষ চর্চা করে।

অনুগামীদের দাবি, ফাল্গুনীর স্কুলে কিংবা এলাকার কোনও জায়গায় তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করা হোক। প্রতি বছর প্রশাসনিক ভাবে তাঁর জন্মদিনে একটি অনুষ্ঠানও হোক। এলাকার বিডিও তারকনাথ চন্দ্র অবশ্য বলেন, ‘‘ওঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগ নিলে নিশ্চয় সাহায্য করবো।’’

উপন্যাস

  • চিতা বহ্নিমান,  সন্ধ্যাতারা,  আকাশ বনানী জাগে (১৯৪৩) আশার ছলনে ভুলি (১৯৫০)
  • বহ্নিকন্যা (১৯৫১) ভাগীরথী বহে ধীরে (১৯৫১) মন ও ময়ূরী (১৯৫২)
  • জলে জাগে ঢেউ (১৯৫৪) মীরার বধূয়া (১৯৫৬) স্বাক্ষর (১৯৫৭)
  • চরণ দিলাম রাঙায়ে (১৯৬৬) বধূ
  • ফুলশয্যার রাত ফাল্গুনী অমনিবাস
  • শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সমগ্র

কাব্যগ্রন্থ

  • হিঙ্গুল নদীর কূলে (১৯৩৫) কাশবনের কন্যা (১৯৩৮)

শিশু সাহিত্য/গোয়েন্দা উপন্যাস 

  • পাতালের পাকচক্র গুপ্তধনের সন্ধানে
  • কালো রুমাল

মৃত্যু - ২৫ এপ্রিল, ১৯৭৫।
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
দৈনিক শব্দের মেঠোপথ
Doinik Sabder Methopath
Vol - 305. Dt -07.03.2021
gghhhhhhhkkkkkkkkkkkkkkkkgghhhhhhh


Friday, 5 March 2021

                      জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
              কবি ও সাংবাদিক ঈশ্বর গুপ্ত।  
         
"এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ 
তবু রঙ্গে ভরা".
বা 
"রসভরা রসময়  রসের ছাগল
তোমার কারনে আমি হয়েছি পাগল।"
বা 
"জননী জন্মভূমি আর কেন থাকো তুমি
ধর্মরূপ ভূষাহীন হয়ে"
বা 
"মিছা মণিমুক্তা হেম স্বদেশের প্রিয় প্রেম
তারচেয়ে রত্ন নাই আর।"
বা 
"অগাধ বিদ্যার বিদ্যাসাগর তরঙ্গ তায় রঙ্গনানা
তাতে বিধবাদের কূলতরী 
অকূলেতে কুল পেল না।"
বা 
"সোনার বাংলা করে কাঙাল ইয়ং বাঙাল মত জনা
সদা কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে কানে লাগায় ফোঁস ফোঁস না"
বা
"শয্যায় ভার্যার প্রায় ছারপোকা ওঠে গায়।"
বা 
"ধর্মতলা ধর্মহীন গোহত্যার ধাম।"
বা 
"কসাই অনেক ভালো গোঁসাই এর চেয়ে।"
 বা 
"তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি স বাঁকানো
কেবল খাব খোল বিচিলি ঘাস।"
বা
"আগে মেয়েগুলো ছিল ভাল ব্রতধর্ম করতে হবে
একা বেথুন এসে শেষ করেছে আর কি তাদের তেমন পাবে। "

                          ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবি ও সাংবাদিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।  তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল যুগসন্ধিক্ষণের প্রতিভাস। মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্রের সাহিত্যাদর্শ যখন লুপ্ত হয়ে আসছিল, তখন তিনি বিভিন্ন বিষয় অবলম্বনে খন্ড খন্ডকবিতা রচনার আদর্শ প্রবর্তন করেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। মুখ্যত তিনি ছিলেন কবিয়াল। উপরে প্রদত্ত তাঁর সরস উদ্ধৃতিগুলি সম্যক প্রতিভার পরিচায়ক।
        


১৮১২ সালের ৬ মার্চ  তাঁর জন্ম উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী (বর্তমানে কাঁচড়াপাড়া) গ্রামে। এক সম্ভ্রান্ত বৈদ্য পরিবারে, যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। তাঁর প্রপিতামহ নিধিরাম গুপ্ত ছিলেন নামকরা কবিরাজ এবং তার পিতা হরিনারায়ণ দাশগুপ্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ছিলেন। মায়ের নাম শ্রীমতী দেবী। তার বয়স যখন দশ তখন তার মা পরলোকগমন করেন। পিতা ২য় বিয়ে করলে এর পর থেকে তিনি কোলকাতার জোড়াসাঁকোতে মামার বাড়িতে বাস করতে শুরু করেন। মাত্র ১৫ বৎসর বয়সে তার বিয়ে হয় গৌরহরি মল্লিকের কন্যা দুর্গামণি দেবী রেবার সঙ্গে।তাঁর যখন মাত্র দশ বছর বয়স, তখন হঠাৎই তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। অকালেই প্রয়াণ ঘটে মা শ্রীমতী দেবীর। মাতৃবিয়োগের পর ঈশ্বরচন্দ্রকে কলকাতায় চলে আসতে হয়। আশ্রয় নেন জোড়াসাঁকোয় মামারবাড়িতে। শৈশবকালে লেখাপড়ার প্রতি অমনোযোগিতার কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশিদূর না অগ্রসর না হলেও, অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তির জোরে ঈশ্বরচন্দ্র নিজ চেষ্টায় বাংলা,সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষা শেখেন এবং বেদান্তদর্শনে যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেন।তিনি গ্রাম গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন এবং কবিগান বাঁধতেন। প্রায় বারো বৎসর গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে তিনি প্রাচীন কবিদের তথ্য সংগ্রহ ক'রে জীবনী রচনা করেছেন। 

                               ঈশ্বচন্দ্র গুপ্ত ছোটবেলা থেকেই মুখে মুখে কবিতা রচনা করতেন এবং কবিয়ালদের গান বেঁধে দিতেন। সমসাময়িক ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে তিনি অসংখ্য খন্ডকবিতা সংবাদ প্রভাকরে প্রকাশ করেন। উনিশ শতকের প্রথম ভাগের এ কবি স্বদেশমূলক যেসব কবিতা রচনা করেছেন তার জন্যও তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

                               ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা। পরবর্তীকালের বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ লেখকের জন্য একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করার কৃতিত্বও তাঁর। যদিও ঈশ্বরচন্দ্রের কাব্যরীতি পরবর্তীকালের বাংলা সাহিত্যে আর অনুসৃত হয়নি, তথাপি এ কথা স্বীকার্য যে, ভবিষ্যৎ বাংলা সাহিত্যের জন্য তাঁর গঠনমূলক চিন্তাভাবনা ও আদর্শ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি সাপ্তাহিক সংবাদ প্রভাকর প্রকাশ করেন। অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তর কবিতা সংগ্রহ (১৮৮৫) এবং সত্যনারায়ণ ব্রতকথা (১৯১৩)। 
সাংবাদিক রূপে ঊনবিংশ শতকের এই আধুনিক মানুষটি যথাযোগ্য কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন খন্ড খন্ড কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে মধ্যযুগীয় দেবো ভাবনার অবহিত সময় পড়বে সামান্য বিষয় নিয়ে তাঁর কবিতাগুলি - পাঁঠা ,আনারস ,তপসে মাছ  । সাহিত্য অঙ্গনে তার আবির্ভাব মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিক যুগের শুরুর সন্ধিক্ষণে। তাই তিনি যুগের কবি  নাকি যুগসন্ধিক্ষণের কবির , এনিয়ে সমালোচক মহলে আজও ঝড় ওঠে।  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাাঁকে "খাঁটি বাঙালি কবি" বলে অবহিত করেছেন । আবার অনেকে তাঁকে গুপ্ত কবি বলেও সম্বোধন করেছেন।
তাঁর প্রতিভা প্রসঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন -"ঈশ্বরচন্দ্রের এই মহৎ গুণ ছিল যে তিনি খাঁটি জিনিস বড় ভালবাসিতেন, মেকির বড় শত্রু ."

                            বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন -"ঈশ্বর গুপ্তের কাব্য চালের কাঁটায়, রান্নাঘরের ধোঁয়ায়, নাটুরে মাঝির ধ্বজির ঠেলায়, নীলের দাদনে, হোটেলের খানায় , পাঁঠার অস্থিস্থিত মজ্জায়। তিনি আনারসে মধুর রস ছাড়া কাব্যরস পান , তাপসে মাছে মৎস্যাভাব ছাড়া তপস্বী ভাব দেখেন , পাঁঠার বোকাগন্ধ ছাড়া একটু দধীচির গায়ের গন্ধ পান ."

আধুনিকতা ও প্রাচীনতা তাঁর কাব্যে যে বর্তমান সেই অনুসন্ধান করে সমালোচক তারাপদ মুখোপাধ্যায় বলেছেন -"ঈশ্বরচন্দ্র যুগের সৃষ্টি তিনি যুগস্রষ্টা নন। যে কবি যুগস্রষ্টা,  জগৎ জীবন সম্বন্ধে তাঁর নিজস্ব একটি দর্শন থাকে ।ইহা দ্বারাই তিনি প্রাচীন যুগের কবি গোষ্ঠী হইতে আপন স্বাতন্ত্র্য সূচিত করিয়া নতুন যুগের প্রবর্তন করেন । কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্রের কবিতায় কোন 'message of life ' নাই. তাঁহার মধ্যে আধুনিকতার যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পাইয়াছে, তাহা ঐ যুগের‌ই লক্ষণ , ঈশ্বরচন্দ্রের নিজস্ব সৃষ্টি নয়."

১২৬৫ বঙ্গাব্দের ১০ মাঘ (২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯) তাঁর মৃত্যু হয়.
=============∆∆∆∆∆=============
দৈনিক শব্দের মেঠোপথ
Doinik Sabder Methopath
Vol -302. Dt -06.03.2021
২১ ফাল্গুন, ১৪২৭. শনিবার
################################

Thursday, 4 March 2021

শুভ জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
"তোমরা পবিত্র হবে বলে
আমি যজ্ঞাগ্নি বুকে করে এনেছি।
তোমরা তৃপ্ত হবে বলে
আমি আমার রক্তের রং বদলেছি।
তোমরা খুঁজেছিলে বলে
আমার চোখে মৃত্যুর ছায়া।
এখন দেখতে দাও -
রৌদ্রের ভেতর দিয়ে তোমরা চলেছ
যেখানে মন্দির। "
        ( তোমরা পবিত্র হবে বলে )

"আজ আবার আমরা বেরিয়েছি একসঙ্গে
অনেকদিন পরে
আমার সঙ্গে আমার স্ত্রী
আমার স্ত্রীর পাশে যে লোকটি
সে যথাযোগ্যভাবে হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে
আমার স্ত্রীর স্বামী।"
     (আমরা)
"এতদুর বৃষ্টিতে পাগল
আকাশ কাকে যে দেখে নেবে।
ভেবে ওই আপাত -পাগল
লোকটা একলা ভিজে গিয়ে
টের পায় মেঠো ইঁদুরের।
গন্ধে ভরে গেছে কলকাতা!
পাশে তার সদ্য নির্জনতা
একটিপ নস্যি দিয়ে নাকে
বলে কী হে, যাবে না অফিসে
এই নিয়ে যেন কতবার!
প্রশ্ন ছুঁয়ে গেল প্রশ্নকে
বিস্ময় ও বিপন্ন বোধ করে।"
            (পৃথিবীতে নেই কোন বিশুদ্ধ চাকুরী)
শব্দের পর শব্দ সাজালেই কবিতা হয়ে ওঠে, এমন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কবিতা শরীর যারা বিচার করেন , তাদের ক্ষেত্রে কবি দিব্যেন্দু পালিত সরব হয়ে বলেছেন -" এও বুঝি কবিতা শুধু শব্দ নিয়ে; ছন্দ নিয়ে; লেখা নয়, ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়া নয়, স্লোগান বা সংঘ সমিতি নয় রক্ত ক্লেদ সুখে অস্পষ্ট কবিতা অত্যন্ত দূরের বিষয় ।"
        অর্থাৎ কবিতা হতে গেলে শুধু ছন্দ শব্দ এর কচকচানি নয় যার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র বিষয় ও বক্তব্য সুন্দর ভাবে ফুটে উঠবে, মা একান্ত কবির  দৃষ্টিভঙ্গির ক্যানভাস। কবি দিব্যেন্দু পালিত মনে করেন কবিতা শুধু শব্দের  নির্ণয় নয় এর একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আছে , এর একটি আত্তীকরণ এর অনুষঙ্গ আছে , যা পাঠক ও স্রষ্টার মধ্যে একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

১৯৩৯ সালের ৫ মার্চ তিনি বিহারের ভাগলপুর শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।প্রাথমিক থেকে স্কুল-কলেজের পাঠ সবই সেখানে। স্কুলজীবনের শেষ দিক থেকেই লেখালেখির শুরু। ১৯৫৮-য় বাবা বগলাচরণের মৃত্যু। তার পর আক্ষরিক অর্থেই ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় চলে এসেছিলেন স্নাতক পরীক্ষায় সদ্য উত্তীর্ণ দিব্যেন্দু। কলকাতায় আসার পর অভাব যেন আরও জেঁকে বসল তাঁর জীবনে। হাতে পয়সাকড়ি প্রায় কিছুই নেই। নিজের পাশাপাশি মা-ভাইবোনদের জন্য ভাবনা। ঘনিষ্ঠ জনদের কাছে পরে দিব্যেন্দু পালিত সে সব দিনের গল্প বলেওছেন। শিয়ালদহ স্টেশনে রাতের পর রাত না খেয়ে কাটিয়েছেন। কিন্তু, লেখালেখি ছাড়েননি।এরই মধ্যে ভর্তি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে এমএ পাশ করলেন। সেটা ১৯৬১ সাল। কর্মজীবনের শুরুও ওই বছর। 
             কর্ম জীবন শুরু হয় হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ডে উপ-সম্পাদক হিসেবে। ১৯৬৫-তে যোগ দেন বিপণন ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত পেশায়। সেই সুত্রে দীর্ঘকাল যুক্ত ছিলেন ক্লারিয়ন-ম্যাকান এডভারটাইসিং সার্ভিসেস ,আনন্দবাজার এবং দ্য স্টেটসম্যান-এ।
         ভাগলপুর কলেজে পড়বার সময় থেকেই গল্প লেখা শুরু। প্রথম গল্প ‘ছন্দপতন’ প্রকাশিত হয় আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় ক্রোড়পত্রে। সেটা ১৯৫৫ সালের ৩০ জানুয়ারি। দিব্যেন্দু পালিতের বয়স তখন মাত্র ১৬। পরের বছর সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় গল্প ‘নিয়ম’। ভাগলপুর থেকে সব গল্পই তিনি ডাকে পাঠাতেন। ২০ বছর বয়সেই তাঁর প্রথম বই তথা প্রথম উপন্যাস ‘সিন্ধু বারোয়াঁ’ প্রকাশিত হয়। সেটা ১৯৫৯ সাল। ওই উপন্যাস সম্পর্কে পরে দিব্যেন্দু বলেছিলেন, ‘‘লেখক হওয়ার জন্য সেই আঠেরো-উনিশ বয়সে আমি এতই ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম যে, পাণ্ডুলিপিটি পরিমার্জনা করার ও আদ্যন্ত ফিরে লেখার কথা ভাবিনি। সমালোচকহীন সেই মফস্সল শহরে এমন কেউ ছিল না, যে আমাকে দ্বিতীয় মত গ্রহণে সাহায্য করবে। আমি লেখক, আমিই তার পাঠক, ইতিমধ্যেই পিঠে পড়ে গেছে পরিচয়ের ছাপ, সুতরাং তর যে সইবে না, তাতে আর আশ্চর্য কী!’’ তাঁর পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠরা জানতেন, দিব্যেন্দু খুব মিতভাষী ছিলেন। খুব উঁচু স্বরে কথাও বলতেন না।

উল্লেখযোগ্য রচনা :

ঘরবাড়ি’, ‘সোনালী জীবন’, ‘ঢেউ’, ‘সহযোদ্ধা’, ‘আমরা’, ‘অনুভব’-এ। পাশাপাশি তাঁর একাধিক ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। যেমন— ‘জেটল্যাগ’, ‘গাভাসকার’, ‘হিন্দু’, ‘জাতীয় পতাকা’, ‘ত্রাতা’, ‘ব্রাজিল’...।



১৯৮৪-তে আনন্দ পুরস্কার, ১৯৮৬-তে রামকুমার ভুয়ালকা পুরস্কার, ১৯৯০-এ বঙ্কিম পুরস্কার, ১৯৯৮-এ সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন দিব্যেন্দুবাবু। ইংরেজি ও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর অনেক লেখা। চলচ্চিত্র, দূরদর্শন এবং রেডিয়োতেও রূপায়িত হয়েছে অনেক কাহিনি।

২০১৯ সালের ৩ রা জানুয়ারি  বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব দিব্যেন্দু পালিতের। মৃত্যুর সময়ে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।  দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে  নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিশুদ্ধ কবিতা পাঠ -

,আত্মীয়

         "কাল রাতে ঝড় এসে ঢুকেছিল পরিচিত ঘরে।লোকেন ছিল না। তার জার্নালের পাতা কটি উড়ছে হাওয়ায়;
 সেলফে যে সব বই ব্যবহৃত, ব্যবহার হবে বলে এসেছিল, সব,
দেয়ালে যৌবন: তিনটি পেরেকের মাতন দেখেছে; চিবুকের কাছে এসে কম্পিত অধর যেন শঙ্কিত নীরব।
লোকেন ছিল না।তার স্বরলিপিলেখা খাতাখানি রবীন্দ্রনাথের দিকে চোখ চেয়ে খাঁ -খাঁ শূন্যতাকে ঢাকবার ব্যর্থতায় একবার শুধু কেঁপেছিল।
 ধূর্ত টিকটিকি তার বান্ধবীর কাছাকাছি গিয়ে জ্যোৎস্নার আলোয় কিছু ভয় পেয়ে দূরত্বে পালাল।
পর্দার কাঁপন দেখে মনে হয় যেন কেউ এইমাত্র আসবে এই ঘরে:
 মহাশ্বেতা কিংবা আরো অনায়াস, পরিচিত নাম।লোকেন ছিল না। তার একপাটি জুতো,
 কিংবা পাঞ্জাবির ঝুল একপাশে বেশি কাত হয়ে-স্থির থেকে স্থিরতর হয়ে-
সময়ের কাছে গিয়ে অবশেষে নির্জনতা হল।
গায়ের চাদর ফেলে পা টিপে পা টিপে
মন্দিরের গদি থেকে একটি গভীর পাপ আস্তে উঠে এল।"

তাঁর কবিতাগুলি, মূলত গল্পের বা উপন্যাসের প্রাথমিক খসড়া, বলে মনে হয়।
===============////////==============
        দৈনিক শব্দের মেঠোপথ
         Doinik Sabder Methopath
         ২০ ফাল্গুন,১৪২৭. শুক্রবার
          Vol -301. Dt -05.03.2021
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆



Wednesday, 3 March 2021

                  প্রথম বাঙালি মহিলা।

ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় রচনা করেছেন।

মাত্র ২১ বসন্ত বাহারে পলাশবীথি সবুজমন।

১৮৫৬ সালের ৪ মার্চ রামবাগানের দত্ত পরিবারে তরু দত্তের জন্ম। পিতা গোভিন চন্দ্র দত্ত। মা ক্ষেত্রমোহিনী। গোভিন চন্দ্রের তিন সন্তান, অরু, তরু ও পুত্র অব্জু। সবাই ছিলেন স্বল্পায়ু। অব্জু বেঁচে ছিলেন মাত্র চোদ্দ বছর। অরু দত্ত মারা যান কুড়ি বছর বয়সে। আর তরু ৩০ আগস্ট ১৮৭৭, একুশ বছর বয়সে।

সেযুগে রামবাগানের দত্ত পরিবার ছিল শিক্ষিত ও ধনী। এই পরিবারের রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন ঐতিহাসিক, ভাষাবিদ, রাজনীতিজ্ঞ এবং আইএএস হয়ে আলিপুর কোর্টে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদানসীন। তাঁরই নামানুসারে তরু দত্তের বাসভবনের সামনের মানিকতলা স্ট্রিট আজ রমেশ দত্ত স্ট্রিট।

তরুর পরিবার ডেভিড হেয়ার, আলেকজান্ডার ডাফ, উইলিয়াম কেরী প্রমুখ তৎকালীন খ্রীষ্টধর্মের পৃষ্ঠপোষকদের সংস্পর্শে এসে ১৮৬২ সালে সপরিবারে খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজের উল্টোদিকে যে গির্জা, সেখানেই তাঁদের ধর্মান্তরণ ঘটেছিল।

একমাত্র পুত্র অব্জুর মৃত্যুর পর তরুর বাবা ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৮৬৯ সালে ফ্রান্সে আসেন, তরু এবং অরুকে ভর্তি করেন দক্ষিণ ফ্রান্সের এক আবাসিক স্কুলে। সেখানে দুই বোন ফরাসি ভাষায় বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করেন। শুরু হয় দুজনের কবিতা লেখা। ১৮৭১ সালে তাঁরা চলে আসেন কেমব্রিজে। সেখানে শুরু ইংরেজি ভাষার চর্চা। সেখানে তাঁরা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হায়ার লেকচারস ফর উইমেন’-এ যোগদান করেন। ১৮৭৩ সালে তাঁরা দেশে ফিরে আসেন মূলত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে। ১৮৭৪ সালে অরু মারা যান। তরু দত্ত বোনের মৃত্যুতে ভীষণ আঘাত পান, কারণ সর্বদা দুই বোন মিলেমিশে সাহিত্যচর্চা করে গেছেন। দুজনে যুগ্মভাবে অনুবাদ করেছিলেন বেশ কিছু ফরাসি কবিতা। আবার বেশ কিছু কবিতা তরু লিখেছেন, অরু অলংকরণ করেছেন।


জীবনের অধিকাংশ সময় ইউরোপে কাটালেও তরুর অন্তরে গভীর ভালোবাসা ছিল দেশের প্রকৃতি, গাছপালা, পুরান, মহাকাব্যের ওপর। নদী মাঠ ক্ষেত ছিল তাঁর প্রকৃতিপ্রেম সম্পর্কিত কবিতার বিষয়। তিনি যেমন লিখেছেন ফরাসি কৃষিজমির কথা, তেমনই লিখেছেন দেশের পুকুর, বড় বড় ছায়াভরা গাছের কথা। তাঁর কবিতায় ভিড় করেছে তাল, তমাল তরু, শিমুল ফুল, বাঁশ বাগান। চাঁদের জ্যোৎস্না খেলা করেছে তাঁর কবিতার ছন্দে। ঝাউবন তাঁর মনে, কবিতায় অনুরণন তুলতো অনুক্ষণ। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাটি ‘Our Casurina Tree’। পদ্মফুলও ধরা দিয়েছে তাঁর কবিতায়, কবিতার নাম ‘Lotus’। তরু দত্তের লেখায় মানবজীবনের সমস্যা যেমন উঠে এসেছে, পুরান, রামায়ণ, মহাভারতও ছুঁয়ে গেছে তাঁর সৃষ্টি। তৈরি হয়েছে সাবিত্রী, একলব্য, সীতা। মৃত্যুর এক বছর আগে ১৮৭৬-এ ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করা তাঁর ১৫০টি কবিতার সংকলন ‘A Sheaf Gleaned in French Field’ (ফরাসি ক্ষেতে কুড়ানো এক আঁটি ফসল) প্রকাশিত হয়। তাঁর বাবা মৃত্যুপথযাত্রী মেয়ের প্রতি ভালোবাসায় নিজ ব্যয়ে কবিতা সংকলনটি প্রকাশ করেন ভবানীপুরের সাপ্তাহিক সংবাদ প্রেস থেকে। এর মধ্যে চারটি কবিতা দিদি অরু দত্তের অনুবাদ। ১৮৭৭ এ সমালোচক এডমন্ড গুজ এটি পড়েন এবং ভূয়সী প্রশংসা করে রিভিউ প্রকাশ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বইটির আরো সংস্করণ বের হয়। কিগান পল লন্ডন থেকে এর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন।সংস্কৃত সাহিত্য থেকে নেওয়া ‘Ancient Ballads and Legends of Hindustan’ তাঁর মৃত্যুর পর ছাপা হয়। ১৮৭৭ এ তাঁর বাবা এর পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় তাঁর ফরাসি ভাষায় ডায়রির আকারে লেখা উপন্যাস ‘মাদমোয়াজেল দ্যারভারের দিনপঞ্জী’ (La Journal de Mademoiselle d’Arvers). এটি কোনো ভারতীয় লেখকের ফরাসি ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসটি অনুবাদ করে বসুমতী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এই উপন্যাস এতটাই প্রাসঙ্গিক যে বহু বছর পর ১৯৫৬ সালে এটি বই আকারে বের হয়, যার ভূমিকা লেখেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্র। তেমনি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘Bianka’ বা ‘Young Spanish Maiden’ ও প্রথম ভারতীয় মহিলা লেখিকার ইংরেজিতে লেখা উপন্যাস।


তরু দত্তের চিঠির সংকলনও প্রকাশ পায়। তাতে আছে তাঁর বিদেশি বন্ধুদের লেখা চিঠি এবং বিদেশ থেকে দেশে আত্মীয়দের লেখা চিঠি। চিঠিগুলো থেকে তৎকালীন জীবনযাত্রা, তরুর প্রকৃতিপ্রেম, মানবচেতনা, তাঁর ভাবনা জানা যায়। এই সব লেখা থেকে তাঁর ভাষার দক্ষতা প্রকাশ পায়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন ঘটেছে তাঁর লেখনীতে। মনেপ্রাণে ভারতীয় হয়েও এক হাতে ফরাসি অন্য হাতে ইংরেজি সাহিত্যকে ছুঁয়েছিলেন। প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য, ফরাসি কোমলতা ও ইংরেজি আভিজাত্য – এই তিন নিয়েই তরু দত্ত।

তরুর মৃত্যুর পর কলকাতার বাস উঠিয়ে যে বাড়ি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে বিদেশে চলে যান গোভিন চন্দ্র দত্ত, সে বাড়ি কেনেন জনৈক বসু পরিবার। সেই বিশাল বাড়ি, ক্যাসুরিনা গাছঅলা সেই বাগান আজ ১২এ, বি ও সি তিনটি আলাদা নম্বরে বিভক্ত। রমেশ দত্তের বাড়ি প্রোমোটারের হাতে পড়ে এখন মধ্যবিত্তের বাক্সবাড়ি। ১২বি ও ১২সি’র বাসিন্দা এ বাড়ি হেরিটেজ ঘোষনার দাবী জানিয়েও পরবর্তীকালে নিজেদের অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। ১২এ অংশের মালিকানা দেবকুমার বসু এবং তাঁর স্ত্রী শোভাবাজার রাজপরিবারের কন্যা শ্রীমতী অপর্ণা দেবীর। তাঁরা জানান, তরু দত্তের কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বা ছবি নেই আর এখানে। কিন্তু দত্ত পরিবারের ব্যবহৃত কাঠের সিঁড়িটি তাঁরা রেখে দিয়েছেন অবিকল.

একুশ বছরের মেয়েকে স্নেহময় পিতা সমাহিত করেন মানিকতলার খ্রীষ্টান সিমেটারিতে। পরিবারের অনেকেই সমাধিস্থ হয়েছেন ওখানে। সমাধি ক্ষেত্রের উত্তরপশ্চিম প্রান্তে রয়েছে সপরিবার তরু দত্তের সমাধি। ছোট কালো পাঁচিলের ঘেরাটোপে একে একে অব্জু দত্ত, অরু দত্তের পাশে সমাধিস্থ তরু দত্ত।


তরু দত্তের সমাধি

তরুর ওপরের দিকে চিরনিদ্রায় শায়িত বাবা ও মা। প্রত্যেক কবরের ওপর একটি মার্বেল স্ল্যাব ও তার ওপর একটি ক্রশ। তরুর কবরও একই রকম দেখতে, তাতে লেখা -

TORU DUTT

YOUNGEST DAUGHTER OF

GOVIN CHUNDER DUTT

BORN 4 MARCH 1856

DIED 30 AUGUST 1877

ET THOU FAITHFUL UNTO DEATH AND

WILL GIVE THEE CROWN OF LIFE.

           ১৫০ তম  জন্মবর্ষে স্থাপিত ফলক


রমেশচন্দ্র দত্ত স্ট্রিটে অবস্থিত দত্ত পরিবারের সেই সিঁড়ি। বাঙালি প্রথম মহিলা তরু দত্তের স্মৃতিবিজড়িত আজও পথের সাথী হয়ে টিকে আছে।

তরু দত্তের 

SONNET

A sea of foliage girds our garden round,

But not a sea of dull unvaried green,

Sharp contrasts of all colors here are seen;

The light-green graceful tamarinds abound

Amid the mango clumps of green profound,

And palms arise, like pillars gray, between;

And o’er the quiet pools the seemuls lean,

Red–red, and startling like a trumpet’s sound.

But nothing can be lovelier than the ranges

Of bamboos to the eastward, when the moon

Looks through their gaps, and the white lotus changes

Into a cup of silver. One might swoon

Drunken with beauty then, or gaze and gaze

On a primeval Eden, in amaze.


চতুর্দশপদী

আমাদের বাগানকে ঘনিষ্ঠ বাঁধনে জড়িয়েছে পত্রপল্লবের অবাধ পাথার,

তবে সে সাগর নয় বৈচিত্র্যবিহীন সবুজের রাজ, একঘেয়ে নীরস বিস্তার,

সকল রঙের তীব্র বৈপরীত্য দেখতে তুমি পাবে এ-বাগানে;

গভীর সবুজ আম্রকুঞ্জগুলোর এখানে ওখানে

হালকা সবুজ লাবণ্যময় তিন্তিড়ী তরুদের ভিড়,

আর তার মধ্যে মধ্যে ধূসর থামের মতো তাল গাছ উচ্চশির;

পুকুরের শান্ত জলে নুয়ে আছে শিমুল গাছেরা ফুলে ভরা

লালে লাল, যেন চমক জাগানো তুর্যধ্বনি উঠেছে নিঃস্বরা।

সবচেয়ে মনোরম কিন্তু সারিবদ্ধ বাঁশবন পূর্বদিক জুড়ে

যার ফাঁকে ফাঁকে বিহ্বলের মতো মরে ঘুরে ঘুরে

আর থেকে থেকে উঁকি মারে চাঁদ, আর শ্বেতকমলেরা

রঙ পাল্টে হয়ে যায় রুপোর পেয়ালা। যে-কেউ লাগাম ছেঁড়া

বেহেড মাতাল হবে এ-সৌন্দর্য পানে, কিম্বা শুধু বাক্যহীন হয়ে

দেখবে আর দেখবে এক 

আদিম স্বর্গোদ্যান বিপুল বিস্ময়ে।

----------------////////----------------///////-----------------


দৈনিক শব্দের মেঠোপথ পত্রিকার আজ ৩০০ দিন। সাহিত্যের অনন্ত পথে ..... পা ফেলতে ফেলতে আজ ৩০০ টি সংখ্যা প্রকাশিত হলো। আপনাদের নিরন্তর শুভেচ্ছা, সহযোগিতা ও আন্তরিকতায়। বসন্তের পলাশ প্রেমে কৃতজ্ঞতা জানাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে। সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

             দৈনিক শব্দের মেঠোপথ পরিবার।

                ১৯ ফাল্গুন, ১৪২৭. বৃহস্পতিবার।

=================================

      Doinik Sabder Methopath.

       Vol -300. Dt -04.03.2021.

÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

Krishnanagar. Khejuri. Purba Medinipur.

Cont. 9679450245.

Mail - janabishnupada99@gmail.com

------------------------------------------------

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
     আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চা 
                 পর্ব ৬
ডেবরা থানার লৌকিক দেব দেবী
==============√√√√√√=============
     Doinik Sabder Methopath
      Vol -299. Dt -03.03.2021
        ১৮ ফাল্গুন,১৪২৭. বুধবার
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷√√√√√√√÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
    পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত ডেবরা থানা। ৪৭৭ টি মৌজা এবং ১৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। মোট লোকসংখ্যার বেশিরভাগ তপশিলি জাতি উপজাতি ও সংখ্যালঘু মুসলমান। এছাড়া কিছু ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করে আসছে। ‌এই ব্লকের ধর্মভাবনা বা ধর্মীয় বিশ্বাস নির্ভর করে আছে লোকজীবন ও জাতি সম্প্রদায়গত নানান বিষয়ে নির্ভর করে মন্দির-মসজিদ উপাসনা গৃহ নির্মিত হয়েছে নানা স্থানে হিন্দু মুসলমান বৈষ্ণব শিয়া-সুন্নি সম্প্রদায়ের লোকই এখানকার  উৎসব অনুষ্ঠানের প্রচার করেন। হিন্দুদের মন্দির গুলি প্রধানত শিব কৃষ্ণ শীতলার অধিষ্ঠান এই মন্দিরের স্থাপত্য ও কারুকার্য অনেকটাই শিল্পিত প্রাচীন এলাকার জমিদার যোদ্ধাদের অর্থানুকূল্যে পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছে এবং আজও মেরামতের কাজ চলছে এছাড়া বিভিন্ন স্থানে স্থানে খোলা আকাশের নিচে বটতল অশ্বত্থ তলা নিমতলা প্রভৃতি স্থানে স্থানে রাস্তার ধারে  লৌকিক দেব দেবীদের অবস্থান কোথাও শিলা মুর্তি
 মাটির প্রতিমা প্রভৃতি অঞ্চলে লক্ষ্য করা যায় দীর্ঘদিন এলাকার মানুষজন তাদের ধর্মীয় ভাব ও ভাবনার বিকাশে নিয়মিত কোন কোন জায়গায় পূজা-অর্চনা করে আসছেন আবার কোন কোন জায়গায় বছরান্তে কয়েক ঘণ্টার মেলা পার্বণ উৎসবকে কেন্দ্র করে জমায়েত হচ্ছেন ওইভাবে লৌকিক দেব দেবী লৌকিক ও শাস্ত্রীয় মতে পূজা-অর্চনা প্রভৃতি সাঙ্গ করে জনজীবনে কৃপা প্রদর্শন করছেন বলে ভক্তদের দীর্ঘ বিশ্বাস।।    
অঞ্চলভিত্তিক নিম্নে একটি তালিকা দেওয়া হলো 

   
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

Tuesday, 2 March 2021

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চা 
পর্ব -৫
সুতাহাটা অঞ্চলের লৌকিক দেব দেবী
============∆∆∆∆∆∆∆============
Doinik Sabder Methopath
Vol -298. Dt -02.03.2021
১৭ ফাল্গুন। ১৪২৭ ।
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷¶¶¶¶¶¶¶¶÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার ধারা ধরে আজকের আলোচনার বিষয় হুগলি নদী ও হলদি নদী বেষ্টিত 218 টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হলদিয়া অন্যতম থানা সুতাহাটা। যার উত্তর-পশ্চিম কোণে লটপটিয়া ,উত্তর-পূর্ব কোণে রূপনারায়ন চক ,শালুক খালি ঝিকুরখালি , দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দত্তর চক যামিনী চক এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে আনন্দপুর ঈশ্বর দহ জলপাই প্রভৃতি মৌজা।
এই থানাটি আগে সুতাহাটা পরগনা নামে পরিচিত তারও আগের নাম ছিল দুরোদুবনান। দরিয়া অর্থে মাছ সমুদ্র এমনই শব্দ যা ভূখণ্ডটির উদ্ভব কথায় ছিল।  ডুবছিল কথাটির আঞ্চলিক শব্দ দুবনান। 
সেই থেকে এই ভূখণ্ডটির নাম এমন।
প্রাচীন মাজনামুঠা পরগনার একটি অন্যতম অংশ দোরোদুবনান। এই মাজনামুঠা জমিদারি ছিল কাঁথির কাছে কিশোরনগরে। এই বংশের অন্যতম শেষ জমিদার ছিলেন যাদব রাম রায়চৌধুরী। অষ্টাদশ শতাব্দীর সময়কাল থেকেই পরগনায় লোকজন আসা যাওয়া শুরু করেন তিনদিকে নদীপথ লবণ উৎপাদন সহ নানান কৃষিকাজ ও অন্যান্য কাজের সঙ্গে মানুষজন যুক্ত ছিলেন মহাপ্রভু চৈতন্যদেব জলপথে হাজীপুর থেকে তমলুক গিয়েছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দশকে হাজিপুর এখন ডায়মন হারবার যদি ষোড়শ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে আলোচ্য ভূখণ্ডটি জেগে ওঠে তাহলে বুঝতে হবে চৈতন্যদেবের তমলুক যাওয়ার সময় খণ্ডট জলের তলায় ছিল এরকম বহু পরগনা জলের তলায়
 খেজুরির কিয়দংশ জলের তলায় ছিল পরে সেগুলো জড়ো হয়ে স্থলভাগ বসতিস্থাপন মানুষজনের বসবাস জীবিকা জীববৈচিত্র্য পেশা নানান কাজকর্ম প্রভৃতিকে ঘিরে আজকে জমজমাট এইসব মানুষজনের লৌকিক নানান ধর্ম বিশ্বাসকে মেনে দেবদেবীর উদ্ভব যাদেরকে ঘিরে সারাবছর নানান উৎসব-অনুষ্ঠান পূজো পার্বণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে মানুষের মিলন পর্ব গড়ে তুলেছে জীবন-জীবিকার প্রশ্নে জীবনধারণের প্রশ্নে নানান ঐতিহ্য কৃষ্টি সংস্কৃতি সাহিত্য প্রকাশের লক্ষ্যে বিকাশের লক্ষ্যে এই সম্মেলন জনসমাগম জনসংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই এই সব অঞ্চলের লোক দেবদেবীদের প্রতি ভক্তি ভাবনার যে বিকাশ ঘটেছিল লৌকিক ও শাস্ত্র মেনে তা আঞ্চলিক সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ উপাদান হয়ে আছে আজ। নিম্নে এই অঞ্চলের লৌকিক দেব দেবীদের একটি তালিকা তুলে ধরলাম।

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

দৈনিক শব্দের মেঠোপথ

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

     জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য 

কুমুদ রঞ্জন মল্লিক

==========={=====∆∆¶¶============

Doinik sabder methopath

Vol -297. Dt -01.03.2021

১৬ ফাল্গুন। ১৪২৭. সোমবার

÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷¶¶¶¶÷÷÷÷÷÷÷÷÷¶¶¶÷÷÷÷÷÷÷÷


রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন-

"কুমুদরঞ্জনের কবিতা পড়লে বাংলার গ্রামের তুলসীমঞ্চ, সন্ধ্যাপ্রদীপ, মঙ্গলশঙ্খের কথা মনে পড়ে।"

উনবিংশ শতকে সমগ্র বাংলা সাহিত্য জগত যখন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের কাব্যগাথার ছটায় উদ্ভাসিত , ঠিক সেই সময় নিজের স্বতন্ত্র লেখনী প্রতিভা নিয়ে কাব্য জগতে আবির্ভূত হলেন কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক। 

তিনি ১৮৮৩ সনের ১রা মার্চ বর্ধমান জেলার কোগ্রাম নামক গ্রামে এক বৈদ্য ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র হিসাবে তিনি খুবই মেধাবী ছিলেন। ১৯০৫ সনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন এবং বঙ্কিম চন্দ্র স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন |

 কথিত আছে তাঁর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া অজয় ও কুনুর নদীই তাঁর কবিতার মুখ্য প্রেরণা। তাঁর কবিতা মুখ্যত বৈষ্ণব ভাবনায় সম্পৃক্ত হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রাম বাংলার প্রতি ভালবাসা তাঁর কবিতাগুলিকে করেছে এক অনবদ্য সৃষ্টির আধার। তাঁর কবিতায় ধর্মের উপস্থিতি থাকলেও তা ছিল ধর্মীয় সংকীর্ণতার উরদ্ধে। তাঁর রচিতউল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল উজানী (১৯১১), বনতুলসী (১৯১১), অজয়(১৯২৭), স্বর্ণ সন্ধ্যা (১৯৪৮) প্রভৃতি। তবে তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মকে কাব্য জগতে আবদ্ধ না রেখে নাট্য রচনার দিকেও প্রসারিত করেছিলেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক হল দ্বারাবতী (১৯২০)। তিনি জগত্তারিণী স্বর্ণ পদক এবং স্বাধীনতার পর ভারত সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন |

কুমুদরঞ্জন ১৯০১ সালে এন্ট্রান্স, ১৯০৩ সালে রিপন কলেজ থেকে এফএ এবং ১৯০৫ সালে বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরে বর্ধমানের মাথরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন এবং সেখান থেকেই ১৯৩৮ সালে প্রধান শিক্ষকরূপে অবসর গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে,  কাজী নজরুল ইসলাম ওই স্কুলে তাঁর ছাত্র ছিলেন।

তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার শ্রীখন্ড গ্রামে। পিতা পূর্ণচন্দ্র মল্লিক ছিলেন কাশ্মীর রাজসরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

কুমুদরঞ্জনের কবিত্বশক্তির বিকাশ ঘটে বাল্যকালেই। পল্লীর মানুষ ও প্রকৃতি তাঁর কাব্যের প্রধান বিষয়।দাম্পত্যসঙ্গী সিন্ধুবালা দেবী ও সন্তান  জ্যোৎস্নানাথ মল্লিক।

তাঁর কবিতায় নির্জন গ্রামজীবনের সহজ-সরল রূপ চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। পল্লী-প্রবণতার সঙ্গে বৈষ্ণবভাবুকতা যুক্ত হয়ে তাঁর কবিতার ভাব ও ভাষাকে স্নিগ্ধতা ও মাধুর্য দান করেছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘কুমুদরঞ্জনের কবিতা পড়লে বাঙলার গ্রামের তুলসীমঞ্চ, সন্ধ্যাপ্রদীপ, মঙ্গলশঙ্খের কথা মনে পড়ে।’


তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা: উজানী (১৯১১), বনতুলসী (১৯১১), শতদল (১৯১১), একতারা (১৯১৪), বনমল্লিকা (১৯১৮), নূপুর (১৯২০), রজনীগন্ধা (১৯২১), অজয় (১৯২৭), তূণীর (১৯২৮), স্বর্ণসন্ধ্যা (১৯৪৮) ইত্যাদি।

মৃত্যু - ১৪ ই ডিসেম্বর,১৯৭০।

কবিশেখর কালিদাস রায় বলেছেন -            ‌‌‌‌‌‌ "কুমুদ রঞ্জন এর কবিতা যেন দেবার্চণার মতো ."

      তিনি মূলত গ্রাম বাংলার কবি গ্রাম্য প্রকৃতির সহজ-সরল নিরাভরণ উদাস সৌন্দর্যের স্বরূপ তিনি এসেছেন তাঁর কবিতার পরোতে পরোতে উদাসী বাউল এর প্রেমে তিনি যেমন পাগল তেমনি প্রেম সাধনার পথে কবিতার কাব্যগ্রন্থের জৌলুস বাড়িয়েছেন গ্রামের মাটির গন্ধ ফুলের সুবাস তার কবিতায় একান্ত অনুভূতি কুমুদ রঞ্জন এর উপলব্ধিজাত কবিতা অনন্যতম কাব্যসৌন্দর্য ।তিনি শাক্ত কবি বৈষ্ণব কবি বাউল কবি ও পল্লীকবি,  নানানা ভাবনা তাঁর গুণমুগ্ধ পাঠকেরা এমন মৌলিক প্রতিভার মূল্যায়ন করেছেন।

∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆



শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ।‌ একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়   (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭)  একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ.  মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...