Sunday, 7 November 2021
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। আলবেয়ার ক্যামু। ০৭.১১.২১. Vol -549. The blogger in literature e-magazine.
Saturday, 6 November 2021
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। সাহিত্যিক অতীন বন্দোপাধ্যায় ০৬ .১১.২১. Vol -548. The blogger in literature e-magazine
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।
জন্ম ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৬ ই নভেম্বর,(২২ শে কার্তিক ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশের ঢাকা জেলার আড়াই হাজার থানার রাইনাদি গ্রামে। (কিন্তু সার্টিফিকেট অনুসারে জন্ম তারিখ - ১লা মার্চ,১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ। এটি সঠিক ছিল না। তার সাক্ষাৎকার দ্রষ্টব্য) তাঁর পিতা অভিমন্যু বন্দ্যোপাধ্যায় মুড়াগাছা জমিদারের অধীনে কাজ করতেন। মাতার নাম লাবণ্যপ্রভা দেবী। তাঁর শৈশব কৈশোর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে যৌথ পরিবারে। স্কুলের পড়াশোনা সোনারগাঁও এর পানাম স্কুলে। কিন্তু দেশভাগের পর ছিন্নমূল হয়ে তারা চলে আসেন ভারতে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বানজেটিয়া গ্রামে গড়ে ওঠা মণীন্দ্র কলোনিতে পিতার বাড়িতে কিছুকাল থিতু হয়ে থাকেন। এখান থেকেই প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন। তারপর যাযাবরের ন্যায় কেটেছে তার যৌবন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি.কম.পাশ করেন ও পরে বি.টি. পাশ করেন। বি.টি.পড়ার সময়ই আলাপ হয় সহপাঠী 'মমতা'র সাথে। পরে তাকে বিবাহ করেন.
রচনা কর্ম।
অতীন্দ্রিয় অলৌকিকের অন্তরালে
অন্তর্গত খেলা (১৯৮৬)
অন্নভোগ (১৯৯০)
অপহরণ
অমৃতা
অমৃত্যু
অরণ্য
অলৌকিক জলযান (১৩৯৩ ব)
আজব দেশে বুমবাই
আবাদ (১৯৮৭)
ঈশ্বরের বাগান (১৯৯৫)
উত্তাপ
উপেক্ষা
ঋতু-সংহার
একজন দৈত্য একটি লাল গোলাপ (১৯৭৪)
একটি জলের রেখা (১৩৭২ ব)
এ কালের বাংলা গল্প (১৩৮১ ব)
কবির স্ত্রী
কাপালি
কালো ভ্রমর
খাদান
গম্বুজে হাতের স্পর্শ(১৩৭৯ ব)
চারু ইন্দ্র এবং কলকাতা(১৩৮২ ব)
জনগণ(২০০৬)
জীবন বড়ো ভারবাহী জন্তু
জীবন মহিমা (১৯৮৫)
ঝিনুকের নৌকা
টুকুনের অসুখ
তখন হেমন্তকাল(১৩৭৯ ব)
তুষার কুমারী
দুই ভারতবর্ষ (১৯৯৫)
দুঃখিনী বর্ণমালা মা আমার
দুঃস্বপ্ন (১৩৮০ ব)
দেবী মহিমা(১৯৮৪)
দ্বিতীয় পুরুষ (১৯৯৪)
ধ্বনি-প্রতিধ্বনি
নগ্ন ঈশ্বর (১৩৭৪ ব)
নদীর সঙ্গে দেখা(১৯৯৪)
নারী ও পুরুষ
নারী ও নদীর পাড়ে বাড়ী
নায়কের মত
নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে (১৯৭১)
পঞ্চযোগিনী
পাগলিনী রাধা
পালকের টুপি
পিপাসা (১৩৭৯ ব)
পুতুল
প্রেসে-অপ্রেসে
পৃথিবীর এক কোণে(১৩৮৫ ব)
ফোটা পদ্মের গভীরে
বলিদান (১৩৮৭ ব)
বিদেশিনী (১৩৭৬ ব )
বিভ্রম(১৩৮৫ ব )
মধ্য যামিনী
মনোরম বনভূমি
মানগানু উপত্যকার বেড়াল (১৯৭৭)
মানুষের ঘরবাড়ি (১৩৯০ ব)
মানুষের মামুলি কেচ্ছা( ১৩৮২ ব)
মানুষের হাহাকার (১৩৮৮ ব)
মামার বাড়ি ভূতের বাড়ি (১৯৮৪)
মৃত্যুপথের যাত্রী
মৃন্ময়ী
যদি রাধা না হতে' '
যুবতী পরম রূপবতী (১৯৭৬)
রাজা যায় বনবাসে
রূপকথার আংটি
রোদ্দুরে জ্যোৎস্নায়
লাঞ্ছিতা (২০০০)
শঙ্খচিলের ডানা
শামুকখোল
শূণ্যের মাঝখানে বানাইল
শেষ দৃশ্য (১৯৭৮)
শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯৪)
সবুজ শ্যাওলার নিচে
সমুদ্র মানুষ (১৯৬০)
সমুদ্রে বুনোফুলের গন্ধ( ১৩৯৯ ব )
সাগর জলে (২০০৮)
সাগরে মহাসাগরে
সাদা জ্যোৎস্না (১৩৭৮ ব)
সুখী রাজপুত্র
সুন্দর অপমান
সোহাগপুর
স্বর্গ খেলনা
কিশোর উপন্যাস -
অরণ্যরাজ্যে ম্যান্ডেলা
উড়ন্ত তরবারি
একটি জলের রেখা ও ওরা তিন জন
গিনি রহস্য
ফেনতুর সাদা ঘোড়া (১৩৮৭ ব)
দুষ্টু হাতিটি
নীল তিমি (১৯৯৪)
বিন্নির খই লাল লাল বাতাসা
রাজার বাড়ি
হীরের চেয়েও দামি
পুরস্কার তালিকা
মানিক স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৫৮ সালে 'সমুদ্র মানুষ' এর জন্য।
বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৯১ সালে।
ভুয়াল্কা পুরস্কার - ১৯৯৩ সালে পঞ্চযোগিনী এর জন্য।
বঙ্কিম পুরস্কার - ১৯৯৮ সালে দুই ভারতবর্ষ এর জন্য।
মতিলাল পুরস্কার
তারাশঙ্কর স্মৃতি পুরস্কার
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও সুধা পুরস্কার - কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার - ২০০১ সালে পঞ্চাশটি গল্প-এর জন্য
শরৎ পুরস্কার- ২০০৫ সালে
সুরমা চৌধুরী আন্তর্জাতিক স্মৃতি পুরস্কার (আই.আই.পি.এম প্রবর্তিত) - ২০০৮ সালে
সাম্মানিক মূল্য দশ লক্ষ টাকা 'নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে'-র জন্য
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ দিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই জানুয়ারি শুক্রবার বাথরুমে পড়ে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। কলকাতার পোর্ট ট্রাস্টের সেন্টিনারি হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু পরদিন শনিবার ১৯ শে জানুয়ারি বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে ৮৫ বৎসর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আলোচনা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমগ্র লিখন স্বাতন্ত্র্যের কথা বলতে গিয়ে প্রায়ই যে কথাটি উচ্চারিত হয়, সেটি হ’ল তাঁর totality সম্পর্কে দ্বিধাহীন ধারণা। কথা হচ্ছে, কীসের টোটালিটি? তাঁর লেখা নিয়ে বিদগ্ধ সমালোচকদের আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। টোটালিটি বলতে জীবনের সমগ্রতার সন্ধানের কথাই তাঁরা বলেছেন। যে কালে, যে মাটিতে লেখকের অবস্থান, সেই কাল এবং মাটি থেকে, মানুষের বেঁচে থাকার সঙ্গে উপাদানের সংঘাতের ফলে লেখকের যে জীবনবোধ ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, কাহিনির বিস্তারে সেই দর্শন সার্থক ভাবে, শৈল্পিক দক্ষতায় প্রকাশ করার ক্ষমতাকেই বলা হয়েছে টোটালিটি। জীবনের এই সমগ্র রূপ একজন লেখক তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাপনের অভিজ্ঞতায় বোধে সঞ্জাত করেন। তারপর এক একজন লেখক স্বতন্ত্র শৈলী দিয়ে সেই অনুভবকে কথামালায় রূপ দেন। একটি উপন্যাস গড়ে ওঠে।
যাপিত অভিজ্ঞতা যত বিচিত্র এবং বহুমুখী হয়, লেখকের মনোজগতে মানবজীবন সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা ততই বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। এ যেন সেই যত বেশি নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা যায়, ততই বেশি করে সত্যের কাছে পৌঁছনো যায় – সেই তত্ত্বের প্রয়োগ। সেই লিখনমালা পাঠকের কাছেও বিশ্বস্ত হয়। বাংলা গদ্যসাহিত্যে সমরেশ বসু, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বা শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখায় এই জীবননির্যাস লক্ষণীয়। বাংলাসাহিত্যের আগ্রহী পাঠককুল জানেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের বিচিত্রগামিতার কথা। মানুষকে তার বহিরঙ্গে ও অন্তরঙ্গে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের অসাধারণ চোখ ছিল অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। উদ্বাস্তু মানুষের কথা, সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের কথা, যৌনতা, ডাঙা ছেড়ে অতলান্ত অসীম সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো মানুষের কথা, তাদের কাম-ক্রোধ, লোভ, ভালোবাসার কথা অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত বাংলা সাহিত্যে আর কেউ লিখতে পারেননি – অনায়াসে বলা যায়। আরও বেশি মানুষের জীবনকে দেখা, আর সেই জীবনের গূঢ় কথাগুলো দিয়ে গল্পপ্রতিমা নির্মাণ তাঁকে বাংলা সাহিত্যে অনন্য একটি স্থান দিয়েছে। বিভূতিভূষণে যেমন শাশ্বত জীবনবোধের উপলব্ধি হয় আমাদের, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার টোটালিটিতেও সেই শাশ্বত জীবনবোধ পাঠক বুঝতে পারেন।
বিচিত্র পরিবেশে বিচিত্রতর মানুষ এবং তাঁদের বেঁচে থাকার কৌশল লক্ষ করে যাওয়া তো মানুষের বহিরঙ্গের পরিচয়টুকু দেয় মাত্র। লেখক নয়, যে কোনও দ্রষ্টাই এই লক্ষণগুলো দেখতে পান, বুঝতে পারেন। কিন্তু স্রষ্টা খোঁজেন মানুষের অন্তরঙ্গ রূপ। সেখান থেকেই সৃষ্টির রসায়ন কাজ করতে শুরু করে। পরিবেশ, প্রকৃতি এবং সমাজের সঙ্গে মানুষের যে অবিরত সংঘর্ষ ঘটে চলেছে এবং তার ফলে মানুষের মনোজগতে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বা হতে পারে, লেখক সেই আড়ালের কথাটুকু খোঁজেন তাকে শিল্পসম্মত ভাবে প্রকাশ করবেন বলে। এখানেই একজন সাধারণ দ্রষ্টা আর একজন স্রষ্টার ভূমিকা আলাদা হয়ে যায়।
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ এক আশ্চর্য উপন্যাস। মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত এই উপন্যাস পাঠ শেষে সেই বহুকথিত শাশ্বত জীবনবোধের আভাস পাঠক অস্পষ্ট টের পান। অসংখ্য চরিত্রের পারস্পরিক ঘন বুনোটে গড়ে উঠেছে রহস্যময় মানবজীবনের বিশ্বস্ত দলিল। একটি একান্নবর্তী পরিবারের দেশ ছেড়ে চলে আসা, উদ্বাস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা, তারই মাঝে প্রকৃতির অনুপুঙ্খ বর্ণনা, লোভী এবং কামুক মানুষের কথা – সব লিখেছেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত বিশ্বস্ত ভঙ্গিতে। মানুষের সঙ্গে মানুষের, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির, মানুষের সঙ্গে সমাজের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, কখনও গরল উঠে আসে, কখনও সুধা – সেই কাহিনি মহাকাব্যিক দার্ঢ্যে বর্ণিত হয় এই উপন্যাসে।
আরও একটি কথা বলার থাকে। কোথায় এই উপন্যাস মহৎ শিল্প হয়ে উঠেছে, আগাগোড়া উপন্যাসের কোথায় সেই রূপের আড়ালে অরূপ বীণাটি বেজেছে, সেই সত্য আবিষ্কার না হ’লে কেন ধ্রুপদী হবে এই লেখা। সে কথা এই উপন্যাসের নামকরণ থেকেই শুরু হয়। উপন্যাসের মাঝেও কয়েকবার নীলকণ্ঠ পাখির কথা এসেছে। এসেছে রূপক হিসেবেই। মানুষের চিরকালের না-পাওয়ার আর্তি ওই পাখি। যে অধরা মাধুরীর জন্য সৌন্দর্যপিপাসু স্রষ্টার কান্না, যে রহস্যময় নারীকে খুঁজে ফেরে চিরকালের প্রেমিক, জীবন ও মরণের মাঝে উড়ে বেড়ায় সেই নীল পাখি। ব্যথার দ্যোতক এই রং। “তারপর জলে অদ্ভুত একটা পাখি, নীলবর্ণের পাখি। নীলকণ্ঠ নামেই পবিত্র কিছু। ওর মনে হল জলে যে পাখিটা বসে আছে, সেটাই ঠাকুরদার আত্মা। ওটাই ওর কামনাবাসনার ঘর। পাগল মানুষ দেখলে বলতেন, ওটাই হচ্ছে নীলকণ্ঠ পাখি। সারাজীবন ঘুরিয়ে মারে।” ঠাকুরদার মৃত্যুর সময় নীলকণ্ঠ পাখি সম্পর্কে এই কথা এই উপন্যাসের একটি মূল সূত্র বলা যায়। সারাজীবন ঘুরিয়ে মারে … এই একটি বাক্যেই যেন পৃথিবীর সমস্ত শিল্পসাহিত্যের মূল কথাটি লুকিয়ে আছে। যে থাকে আড়ালে, যে আছে নিষিদ্ধ সীমানায়, যাকে পাবে বলে, যাকে স্পর্শ করবে বলে লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিকের বাসনা, যাকে পরম করে পাওয়ার জন্য সাধকের সাধনা – সে তো কোনও অলীক বস্তু নয়। অথচ তাকে ধরাছোঁয়া কত কঠিন। নিত্যদিনের আচরণে, কখনও সমুদ্রের অসীম নীলে, কখনও উদ্বাস্তু কলোনির বাঁশঝাড়ে, পুকুর পারে ক্ষণিকের জন্য উদ্ভাসিত হয় মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসায়, হয়তো দু’জন ভিন্নধর্মী মানুষের গোপন চুম্বনে। আমাদের সামান্য ধারণা হয় মাত্র। লেখক এক বিশাল পটভূমিতে কখনও নিসর্গ বর্ণনায়, কখনও চরিত্রের সংলাপে তার ছবি আঁকার চেষ্টা করেন। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ছবি-আঁকিয়েদের মাঝে এক নিপুন চিত্রকর। আমাদের মনের গোপন কামনাবাসনা, আরও কত না-পাওয়া দুঃখ-সুখে গড়া এক নীলবর্ণ পাখির জন্য সারাজীবন ঘুরে মরে মানুষ। কেউ তার আভাসটুকু পায় শুধু। “ আশ্চর্য সোনা দেখছে সেই নীল রঙের পাখিটা আবার এসে অর্জুন গাছটায় বসেছে। সেই ঘরটা নীল, যেখানে অমলা তাকে নিয়ে গিয়েছিল। মায়ের মুখ ব্যথায় নীল, ছোট্ট ছেলেটা তার তখন জন্ম নিচ্ছে। … এই পাখিটাও নীল। সে দেখল আকাশ নীল, স্বচ্ছ জল নীল রঙের। এ পাখি ঠাকুরদার আত্মা না হয়ে যায় না”। বিষাদের এই নীল, প্রকৃতির মাঝে এই রহস্যময় নীল, আত্মার অন্তর্গত বিষাদময় এই নীল ছড়িয়ে আছে এই মহতী উপন্যাসের মাঝে জলে গোলা নীল রঙের মত। তাকে উপন্যাস থেকে ছেঁকে আলাদা করার উপায় নেই। অনুভবী পাঠক শুধু ‘নীল’ সত্যকে উপলব্ধি করতে পারেন শুধু।
যৌনতা বিষয়ে তার কথা উঠে এসেছে চরিত্রের মুখে। স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি জীবনে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাপন চিত্রের যে পালাবদল বেশ দ্রুত এবং লক্ষণীয়ভাবে ঘটতে শুরু করে, তার লেখনসমগ্রের মধ্যে সেই বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। যৌনতা বিষয়ে তার কোনও ছুঁতমার্গিতা লেখায় নেই। তার লেখায় পাই “ যৌনতা না থাকলে মানুষ কোথায়? মানুষ না থাকলে ঈশ্বর কোথায়? এবং সব নারী পুরুষের ক্ষেত্রেই এই যৌনতা উষ্ণতার জন্ম দেয়, সন্তান হয়। সন্তান বড় হয়, আবার যৌনতার জনন হয়, চক্র”। খুব স্বাভাবিক এবং অতি প্রয়োজনীয় একটি ধর্ম হিসেবেই তিনি যথার্থ আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপারটা দেখেছেন।
=={{{{{{{{{{{∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆}}}}}}}}}}}}}==
Friday, 5 November 2021
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। আশুতোষ চৌধুরী। ০৫.১১.২১. Vol -547 . The blogger in literature e-magazine
আশুতোষ চৌধুরী
জন্ম- ৫ ই নভেম্বর,১৮৮৮। একজন বাঙালী কবি এবং লোকগীতি সংগ্রাহক। তিনি চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল গ্রামে ১৮৮৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার রচিত ছেলেদের চট্টলাভূমি গ্রন্থটি পড়ে রায়াবাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন মুগ্ধ হয়ে তাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১৯২৫ সালে লোকগীতি সংগ্রাহক নিযুক্ত করেন।চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে তিনি বহু বিচিত্র ও মর্মস্পর্শী পালাগান সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগৃহীত পালাগানগুলি: নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, ভেলুয়া, হাতী খেদার গান, কমল সদাগরের পালা, সুজা তনয়ার বিলাপ, নছর মালুম, নুরুন্নেহা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা, দেওয়ান মনুহর ও মজুনা ইত্যাদি। এসব পালাগান দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় সংকলিত হয়েছে।
স্বভাবকবি ও গীতিকার হিসেবেও আশুতোষের খ্যাতি ছিল। গীতিকা নামে তাঁর একটি গানের সংকলন আছে। আদম আশক (কাহিনীকাব্য), ব্যথার বাণী ও স্বপ্নের জয় (গাথাকাব্য) তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। তিনি চট্টগ্রামী ভাষা ও সংস্কৃতি নামে একটি অভিধানও প্রণয়ন করেন। ওহীদুল আলমের সঙ্গে যুগ্মভাবে তিনি কিছুদিন পূরবী (১৯৩৬) নামে একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, ভেলুয়া, হাতি খেদার গান, কমল সদাগরের পালা, সুজা তনয়ার বিলাপ, নছর মালুম, নুরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হঁলা, দেওয়ান মনোহর ও মজুনা ইত্যাদি। এসব পালাগান পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
- গীতিকা (গানের সংকলন)
- আদম আশক (কাহিনিকাব্য)
- ব্যথার বাণী ও স্বপ্নের জয় (গাঁথাকাব্য)
- চট্টগ্রামী ভাষা ও সংস্কৃতি (অভিধান)
Wednesday, 3 November 2021
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। কাজী ইমদাদুল হক। ০৪.১১.২০২১.Vol -546. The blogger in literature e-magazine
বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে যেসব বাঙালি মুসলমান মননশীল গদ্য লেখক বিশিষ্টতা অর্জন করেন, কাজী ইমদাদুল হক তার মধ্যে অন্যতম। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর তৎকালীন মুসলমান সমাজে তিনি এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিভার অধিকারী হয়ে সাহিত্য অঙ্গন আবির্ভূত হন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, প্রবন্ধকার, উপন্যাসিক, ছোট গল্পকার ও শিশু সাহিত্যিক।
১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা কাজী আতাউল হক প্রথমে আসামে জরিপ বিভাগে চাকরি করতেন, পরে খুলনার ফৌজদারি আদালতে মোক্তার হন। ইমদাদুল হক ১৯০০ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর দীর্ঘকাল পরে ১৯১৪ সালে তিনি বিটি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন।
ইমদাদুল হক ১৯০৪ সালে কলকাতা মাদ্রাসায় অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯০৬ সালে তিনি আসামের শিলং-এ শিক্ষা বিভাগের উচ্চমান সহকারী হন। পরের বছর তিনি ঢাকা মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৯১১ সালে ঢাকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে ভূগোলের অধ্যাপক, ১৯১৪ সালে ঢাকা বিভাগের মুসলিম শিক্ষার সহকারী স্কুল-পরিদর্শক এবং ১৯১৭ সালে কলকাতা ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৯২১ সালে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রথম কর্মাধ্যক্ষ হয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল ছিলেন।
১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল। তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
আঁখিজল (১৯০০)
মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা (১৯০৪)
ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু'খণ্ড, ১৯১৩, ১৯১৬)
নবীকাহিনী (১৯১৭)
প্রবন্ধমালা (১৯১৮)
কামারের কাণ্ড" (১৯১৯)
আবদুল্লাহ (১৯৩২)
আলেক্সান্দ্রিয়ার প্রাচীন পুস্তকাগার
আবদুর রহমানের কীর্তি
ফ্রান্সে মুসলিম অধিকার
আলহামরা
পাগল খলিফা
‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসটি লেখকের জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ বা প্রকাশ হয়নি। তিনি এ উপন্যাসটি জীবনের শেষান্তে শুরু করলেও শেষ করে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তার খসড়ার ভিত্তিতে উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করা হয় এবং তা ১৯৩২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
১৯৬৮ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (আজকের বাংলা একাডেমি) আবদুল কাদিরের সম্পাদনায় প্রকাশ করে 'কাজী ইমদাদুল হকের রচনাবলি'।
অধুনা সৈয়দ আবুল মকসুদের সম্পাদনায় 'শুদ্ধস্বর' প্রকাশনী তার রচনাবলী প্রকাশ করেছে।
বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য। তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। [
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। অরবিন্দ পোদ্দার। ০৩.১১.২০২১. Vol -545. The blogger in literature e-magazine
Tuesday, 2 November 2021
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। কবি অরুন মিত্র। ০২.১১.২১. Vol -544. The blogger in literature e-magazine
Monday, 1 November 2021
জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। সাহিত্যিক আবু ইসহাক। ০১.১১.২০২১. Vol -543. The blogger in literature e-magazine.
আবু ইসহাক
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৌলভী মোহাম্মদ এবাদুল্লা ও আতহারুন্নিসা দম্পত্তির ছয় সন্তানের মধ্যে আবু ইসহাক ছিলেন পঞ্চম । ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের খণ্ডচিত্র যেমন স্থান পেয়েছে তার লেখনিতে তেমনি বাংলার স্বাধীনতা পরবর্তী চিত্রও তুলে ধরেছেন তাঁর সাহিত্যকর্মে । আবু ইসহাক বাংলা ভাষার নতুন ধরনের অভিধান প্রণেতা হিসেবেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ।
জন্ম: ১ নভেম্বর, ১৯২৬ ইংরেজি; ১৫ কার্তিক, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ নড়িয়া থানার শিরঙ্গল গ্রামে,। পরে উপসী বিজারি তারাপ্রসন্ন ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ নিয়ে মেট্রিক এবং ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে আই.এ পাশ করেন। ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি আমলা পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং বিদেশে কূটনৈতিক পদে নিয়োজিত ছিলেন।
আবু ইসহাক প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শক পদে যোগদান করেন। দেশবিভাগের পরে ১৯৪৯ সালে তিনি পুলিশ বিভাগে সহকারি পরিদর্শক হন এবং ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকায় এসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক হন। পরের বছর বার্মার আকিয়াবে বাংলাদেশ সরকারের দূতাবাসে ভাইস-কনসাল এবং ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারি পদে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৭৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার খুলনা বিভাগের প্রধান হয়ে ১৯৮৪ সালে অবসার গ্রহণ করেন।[২]
অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন। তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান। তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে।
গ্রন্থ
শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধাঞ্জলি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় । একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। Dt -26.11.2024. Vol -1059. Tuesday. The blogger post in literary e magazine.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭) একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ. মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...
-
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (জরাসন্ধ) "কাঁচা আর পাকার মধ্যে ব্যাবধানটা কালগত। কাল পূর্ণ হলেই কাঁচা লঙ্কায় পাক ধরে, কাঁচা মাথা পাকা...
-
অতুল প্রসাদ সেন " শেষে ফিরব যখন সন্ধা বেলা সাঙ্গ করে ভবের খেলা জননী হয়ে তখন কোল বাড়ায়ে রবে আমার যে শূন্য ডা...
-
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ — ২৯ মে ১৯৭৭) একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ. মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্...